30/06/2026
যারা নতুন বিয়ে করবেন...
বাংলাদেশে প্রচলিত মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯৭৪ইং অনুযায়ী প্রতিটি বিবাহ নিবন্ধন করা আবশ্যক। উক্ত আইনে বিবাহ নিবন্ধন না করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সরকার নির্ধারিত কাজীকে দিয়ে নির্ধারিত ফরমে বিবাহের নিবন্ধন করতে হয়। যে ফরমে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন করা হয় সেটিকে ‘নিকাহনামা’ বলা হয়, যা ‘কাবিননামা’ নামেই সমধিক পরিচিত।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিয়ের সময় ছেলেরা একটা ভুল করে থাকে। আর তা হলো বিয়ের সময় কাবিননামা চেক না করা। অর্থাৎ কাজী যখন কাবিন লেখা শুরু করে তখন ছেলেটা এতই লজ্জায় থাকে যে চোখ দিয়ে একটু কাবিনটা পড়ে দেখে না। ফলে কন্যা পক্ষ থেকে নিযুক্ত কাজী কন্যার সুবিধা অনুযায়ী কলাম গুলো পূরন করে থাকে। কিন্তু এ কাবিনেই আপনার ভবিষ্যতের অনেক বিষয় লুকিয়ে আছে। কাবিন লেখার সময় কাবিনের ১৭, ১৮, ১৯ নং কলাম গুলো ভালো করে দেখে নিবেন। বিশেষ করে ১৮ নং কলাম। বিস্তারিত নিচে।
ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী স্ত্রী কখনো স্বামীকে সেচ্ছায় তালাক দিতে পারে না। কিন্তু এ সত্যটা বেশিরভাগ ছেলেরা জানে না। স্ত্রী যদি বিবাহ বিচ্ছেদ করতে চায় তাহলে তাকে পারিবারিক আদালত থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রী নিতে হবে। কিন্তু এই গ্রাউন্ড ছাড়াও আরেকটি গ্রাউন্ডে স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে তালাক নিতে পারে। আর সেটাকে বলে তালাক-ই-তৌফিজ। অর্থাৎ কাবিনের ১৮ নং কলামে যদি আপনি স্ত্রীকে এই ক্ষমতা দেন যে স্ত্রীও আপনার কাছ থেকে তালাক নিতে পারবে, তাহলে পরবর্তীতে স্ত্রী যে কোনো সময়, যে কোনো কারণ ছাড়াই আপনার থেকে তালাক নেয়ার ক্ষমতা রাখে। ফলে দেখা যায় অনেক দুশ্চরিত্রা নারী (সবাই না) নিজের অপছন্দে বিয়ে হলে অল্প কিছুদিন পরই কোনো কারণ ছাড়া স্বামীর কাছ থেকে তালাক নেয় কিংবা পুরোনো প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যায়। সেই সাথে দেনমোহর মামলা দায়ের করে। এতে ছেলেটার মান সম্মান আর্থিক অনেক দিকে ক্ষতি সাধন হয়।
কথা গুলো বলছিলাম এই জন্য যে, ইদানিং নারীদের পক্ষ থেকে তালাকের হার বেড়ে যায় অধিক হারে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সালিশী বোর্ডের তথ্য মতে, ২০২০ সালে প্রতি মাসে গড়ে ১ হাজার ১৯৪টি তালাকের ঘটনা ঘটেছে। আর ২০১৯ সালে প্রতি মাসে গড়ে তালাক হয়েছিল ৯২০টি। প্রায় ৭০শতাংশ স্ত্রীর পক্ষে থেকে।
প্রকাশ থাকে যে, আমাদের দেশের কাবিননামার উক্ত ধারার ভাষ্যটিও সঠিক নয়। কেননা তাতে লেখা আছে, ‘স্বামী স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করিয়াছে কি না? করিয়া থাকিলে কি কি শর্তে? সম্ভবত এখান থেকেই উক্ত ভুল ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, স্বামী স্ত্রীকে তালাক গ্রহণের ক্ষমতা দিলে স্ত্রী স্বামীকেই তালাক দিতে পারে। এখানে কথাটা এভাবে লেখা উচিত ছিল যে, ‘স্বামী স্ত্রীকে নিজ নফসের উপর তালাক গ্রহণের ক্ষমতা অপর্ণ করিয়াছে কি না? অথবা এভাবেও লেখা যেতো, ‘স্বামী স্ত্রীকে তালাক গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান করিয়াছে কি না?’ পারিবারিক আদালতের এ বিষয়টি আমলে নেওয়া উচিত।
এবিষয়ে বিস্তারিত লিখলে সবার বুঝা সম্ভব নয় তাই সংক্ষেপে তুলে ধরলাম, এখন আপনার করণীয় কি এই ধারার ক্ষেত্রে তা বলে শেষ করবো।
সহজ কথা হলো- প্রথমত আপনি ১৮ নং ধারাতে 'না' দিবেন অর্থাৎ স্ত্রী নিজে নিজের উপর তালাক নেয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। কাজী হয়তো বলতে পারে যে এখানে 'হ্যাঁ' দিতে হবে বা এটি নিয়ম এরকম বললে তার কথা সঠিক হবে না ১৮ নং ধারা পড়লে বুঝবেন এখানে স্বামীর ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়ত আপনি এই ধারা খালি রাখবেন না, কারণ পরে কাজী তার মনমতো বসিয়ে দিতে পারে। অনেকে কাবিননামার ধারাগুলো পূরণ করার আগেই সাদা ফরমে দস্তখত করে দেয়। সাধারণত বিবাহের রেজিস্ট্রার বা কাজীরা বরকনে থেকে এভাবে আগেই স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। এরপর তারা ধারাগুলো, বিশেষ করে ১৮ নং ধারাটি নিজেদের মত করে পূরণ করে। এটিও একটি বড় ভুল। এতে ঐ কাবিননামায় বরের স্বাক্ষর করা সত্ত্বেও স্ত্রীকে তালাক গ্রহণের ক্ষমতা অর্পণের বিষয়টি শরীয়তের দৃষ্টিতে অনেক ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য হয় না। তাই এ ধারার শর্ত ও তালাক প্রয়োগের ক্ষমতা লেখার সময় বা পরে পাত্রকে অবহিত করেই তার স্বাক্ষর নিবে। এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য রাখা উচিত।
আর হ্যাঁ, সর্বশেষ আরেকটি কাজ করবেন, স্বাক্ষর করা হয়ে গেলে ফর্মটির দুটো ছবি তুলে নিবেন এবং সেটা সযত্নে সংগ্রহ করে রাখবেন। আর সবচেয়ে ভালো হবে সেটা গুগল ড্রাইভে আপলোড দিয়ে রাখলে, যাতে করে পরে কেউ জালিয়াতি করতে না পারে! শুধু এটুকু করেই বসে থাকবেন না, যত দ্রুত সম্ভব কাবিনের এক কপি কাগজ সংগ্রহ করে নিবেন।
وَمَا عَلَيْنَا إِلَّا الْبَلَاغ
- সংগৃহিত
(আংশিক সম্পাদিত এবং পরিমার্জিত)