31/08/2026
মিডিয়ার হেডলাইন বা ফটোকার্ড দেখে আমরা কত সহজেই বিভ্রান্ত হই, তার একটা দারুণ উদাহরণ দিই। একটু খেয়াল না করলে যে কেউ এই নিউজ দেখে বর্তমান বিএনপি সরকারকে গালি দিয়ে বসবেন!
ঘটনাটা শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নিয়ে। মিডিয়া তাদের ফটোকার্ডে লিখেছে— "২১০ কোটি ডলারের প্রকল্পে আরও ৯০২ কোটি টাকা লাগছে।"
খেয়াল করুন, প্রথমে লিখেছে 'ডলার' আর পরে 'টাকা'। সাধারণ মানুষ স্ক্রল করার সময় শুধু সংখ্যা দুটো দেখবে (২১০ আর ৯০২) এবং ভাববে, ২১০ কোটির কাজে অতিরিক্ত ৯০২ কোটি কেন? এখানেই ধোঁকা!
একটু হিসাব করলেই বুঝবেন, ২১০ কোটি ডলার মানে বর্তমান বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৬,০১৪ কোটি টাকা!
নিউজটা তো খুব সহজেই এভাবে লেখা যেত— "২৬,০১৪ কোটি টাকার বিশাল সম্পদ সচল করতে অতিরিক্ত মাত্র ৯০২ কোটি টাকা বরাদ্দ।" কিন্তু মিডিয়া সেটা করবে না। এর আগে চীন থেকে ২৫ টাকা ইউনিটে বিদ্যুৎ কেনার খবরের ক্ষেত্রেও তারা ঠিক একই চালাকি করেছিল।
আসল ঘটনা হলো, বিগত সরকার কাজ শেষ না করেই তড়িঘড়ি করে শুধু ভবন উদ্বোধন করে চমক দেখিয়েছিল। ভেতরে মেশিনারিজ, সিগন্যালিং ও সংযোজনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজই তারা অসম্পূর্ণ ফেলে রেখে যায়। এখন এই ৯০২ কোটি টাকা বরাদ্দ না দিলে ২৬ হাজার কোটি টাকার পুরো প্রজেক্টটাই অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকত! কোনো আয়ই আসতো না।
বিমানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই কাজটুকু শেষ হলে থার্ড টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হবে। বর্তমানে যেখানে ১২ লাখ যাত্রী সেবা পান, সেখানে দ্বিগুণ যাত্রীকে সেবা দেওয়া যাবে। আর টার্মিনালের আয় থেকেই জাইকার ঋণ সহজেই শোধ করা যাবে।
একটি সরকারের সফল ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে মিডিয়া কীভাবে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে পারে, এটা তার ক্লাসিক উদাহরণ।
তাই সরকারের উচিত মিডিয়ার এসব অপকৌশলের বিষয়ে সতর্ক হওয়া। অবিলম্বে একটি শক্তিশালী 'মিডিয়া মনিটরিং সেল' গঠন করা প্রয়োজন। মিডিয়া কোথায় ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে, তা দ্রুত চিহ্নিত করে সঠিক তথ্যটি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। নাহলে এই 'ফটোকার্ড সাংবাদিকতা'র কাছে সরকারের ভালো কাজগুলোও আড়ালেই থেকে যাবে। তৈরি হবে অসন্তোষ।