12/06/2026
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। 🤍
গতরাত আনুমানিক ৩:৩০ মিনিটে ছোট্ট আয়শা আমাদের ছেড়ে আল্লাহর কাছে ফিরে গেছে।
আজ এই পোস্ট লিখতে বসে বারবার থেমে যাচ্ছি। Abruan Foundation-এর একজন মডারেটর হিসেবে আমাদের বিভিন্ন প্রজেক্ট নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করতে হয়। অসংখ্য মানুষের গল্প, কষ্ট আর সংগ্রামের সাথে পরিচয় হয়। প্রথমে বেবি আয়শার বিষয়টিও আমার কাছে এমনই একটি সাধারণ কেস ছিল।
কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, আয়শা ততটাই নিজের অজান্তে হৃদয়ের খুব কাছের একজন হয়ে উঠেছে।
তার প্রথম হার্ট অপারেশনের কথা যখন শুনি, তখনও বিষয়টিকে একটি চিকিৎসা-সংক্রান্ত সংগ্রাম হিসেবেই দেখেছিলাম। কিন্তু অপারেশনের দিন থেকে সবকিছু বদলে যেতে শুরু করে। যখন খবর পেলাম প্রায় ৪ ঘণ্টার অপারেশন সফল হয়েছে, তখন আমরা সবাই অনেক খুশি হয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, হয়তো ছোট্ট মেয়েটার কষ্টের দিন শেষ হতে চলেছে।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরই জানতে পারলাম, আয়শা ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছে।
সেদিন যেন সবকিছু এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল।
এরপর শুরু হয় আরেকটি যুদ্ধ। এমন একটি যুদ্ধ, যেখানে প্রতিটি নিঃশ্বাস ছিল সংগ্রাম, প্রতিটি দিন ছিল অনিশ্চয়তার।
আয়শার জন্য আমরা কত মানুষের কাছে সাহায্য চেয়েছি, কত জায়গায় যোগাযোগ করেছি, কতভাবে চেষ্টা করেছি—সেটা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। সেই সময় আমি প্রায় ২১-২২ দিন ঢাকার বাইরে ছিলাম। কিন্তু দিনের কাজ শেষ হওয়ার পর রাতের বেলা একবার হলেও খোঁজ নিতাম—"আয়শা কেমন আছে?"
তারপর একসময় জানতে পারলাম, তাকে বাঁচানোর জন্য মাথার খুলির একটি অংশ অপসারণ করে সংরক্ষণ করতে হয়েছে। পরে তাকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল থেকে শিশু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী তার পাশে ছিলেন। অনেক চিকিৎসকের মুখেই একটি কথা বারবার শুনেছি—এত ছোট একটি শিশু, অথচ বেঁচে থাকার জন্য এমন অসাধারণ লড়াই তারা খুব কমই দেখেছেন।
আয়শা যেন তার সমস্ত শক্তি দিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছিল।
যখন শুনলাম তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়েছে, তখন মনে হয়েছিল হয়তো সে ফিরে আসছে। মনে হয়েছিল, এতদিনের কষ্টের পর হয়তো আল্লাহ তাকে আমাদের মাঝে রেখে দেবেন।
সে চোখ খুলেছে, মায়ের দিকে তাকিয়েছে, হাত-পা নড়িয়েছে, নিজের মতো করে লড়াই চালিয়ে গেছে।
কিন্তু নিয়তি ছিল ভিন্ন।
পরবর্তীতে নিউমোনিয়া ও রক্তে সংক্রমণ তার শরীরকে আবারও দুর্বল করে দেয়। ধীরে ধীরে সে আবার লাইফ সাপোর্টে চলে যায়।
দীর্ঘ প্রায় ৫০ দিনের এই যুদ্ধের শেষে, অবশেষে এক মা তার ফুলের মতো শিশুকে কোলে নিতে পেরেছিলেন। কিন্তু সেই কোলে ছিল না জীবনের উষ্ণতা, ছিল বিদায়ের নীরবতা।
আজ আয়শা নেই।
কিন্তু তার লড়াই, তার ধৈর্য, তার বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছা আমাদের সবার মনে চিরদিন বেঁচে থাকবে।
আমরা বিনীতভাবে সবার কাছে অনুরোধ করছি, ছোট্ট আয়শার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং তার শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দিন। আমীন।
দীর্ঘ চিকিৎসার কারণে আয়শার পরিবারের ওপর এখনও উল্লেখযোগ্য ঋণের বোঝা রয়ে গেছে। যারা পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চান, তাদের দোয়া ও সহযোগিতা এখনও অত্যন্ত মূল্যবান।
📱 সহযোগিতা পাঠানোর মাধ্যম:
✅ মোবাইল ব্যাংকিং (মার্চেন্ট)
📌 Bkash: 01958394684
📌 Rocket: 019583946840
✅ ব্যাংক ট্রান্সফার
🏦 A/C Name: Abruan Foundation
🏦 Bank: Rupali Bank
🏦 Branch: Rokeya Sarani
🏦 Account Number: 5520020000236
🏦 Routing Number: 185264008
🏦 Swift Code: RUPBBDH
📞 যোগাযোগ: +8801904118229
আল্লাহ ছোট্ট আয়শাকে তাঁর অসীম রহমতের ছায়ায় স্থান দিন।
আমীন। 🤍