03/02/2024
মা,
এমন একটা ইমোশন যা মুখে বয়ান করা মুশকিল। মা ছোট থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটা ভালবাসার যায়গা। ছোটকালে যখন কেউ কিছু বলত তখন মা সবার আগে প্রোটেস্ট করত। নিজে বকা দিত, নিজে মারত কিন্তুওন্য কেউ কিছু বলতে গেলেই সেই মানুষটা কে পারলে জিন্দা কবর দিয়ে দিত যদি ক্ষমতা থাকত। কতই না ভালবাসত তাদের সন্তানদের। আসলে সারা জীবনই ভালবাসেন তারা। কিন্তু সন্তান বড় হয় ধীরে ধীরে। পৃথিবীর নতুন অনেক কিছু দেখে, নতুন নতুন সম্পর্ক তৈরি করে তারা। যেমন, বন্ধু, বান্ধুবী, এলাকার বড় ভাই, ভালবাসার মানুষ ইত্যাদি। এই পর্যন্ত সবই ঠিক আছে। কিন্তু যখনই সেই সন্তান কারও স্বামী হয় বা কারও স্ত্রী হয় তখনই যেন সম্পর্কটা হুট করে পরিবর্তন হতে থাকে। মায়ের সাথে সন্তানদের সম্পর্ক।
একটা মেয়ে যখন বিয়ে করে বাবার বাড়ি ছেড়ে শশুড় বাড়ি যায় তখন মা সারাটা সময় এইটাই ভাবে যে তার মেয়ের জামাই তাদের মেয়ে কে কিভাবে রাখবে। মেয়েটা সুখে থাকবে তো। মেয়েটা খুশি থাকবে তো? কতই না চিন্তা মায়েদের। তারপর যখন দেখে যে মেয়ের স্বামী মেয়েকে খুব ভালবাসে, যত্ন করে তখন মায়ের খুশির আর শেষ থাকে না। সত্যি বলতে এমনটাই তো হওয়া উচিত।
কিন্তু একই মা যখন তার ছেলেকে বিয়ে দেয় তখন ভাবে যে তার ছেলে পর হয়ে যাচ্ছে। ছেলে আগে হাজার বায়না করলেও কোন সমস্যা হত না, কিন্তু বিয়ের পর ছোট থেকে ছোট কথা তেও যেন মা দের মনে হয় এই মেয়েটা আমার ছেলের জীবনে আসার পর আমার ছেলেটা কেমন যেন হয়ে গেছে। একবারও ভাবে না বা ভাবতে চায় না তার ছেলে কি ভাবে? হতে পারে সেই তো তার ছেলেকে এই শিক্ষা দিয়েছে যে, বাবা তুই যখ৷ বিয়ে করবি তখন অন্য কারো মেয়ে তোর বাসায় আসবে, তোর সাথে থাকবে, সে তার নিজের বাবা মা কে ছেড়ে আসবে তোর কাছে। এই শিক্ষাটাতো মা ই দিয়ে থাকে তার ছেলেদের। কিন্তু একটা ছেলে যখন বঊ এর কেয়ার করে তখন মা ভাবে ছেলে হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। একটা ছেলে বা পুরুষ মানুষ বাহিরে কষ্ট করে কার জন্য? নিজের বাবা মা, নিজের ভাই বোন, নিজের স্ত্রী সন্তান দের জন্য। মা রা কেন এইটা বুঝতে চায় না যে তারা যখন মানুষের কাছে উদাহরণ দেয় যে আজকে বিয়ের পর থেকে আমার জামাই আমাকে সাপোর্ট দিয়েছে বিধায় আমি এখনো টিকে আছি, ঠিক তেমন না হলেও তার কিছুটা পরিমান করলেও ছেলেটা খারাপ হয়ে যায়। একটা ছেলে তার কর্ম জীবনের টেনশন, তার উন্নতির টেনশন, টাকা পয়সার টেনশন, জীবনে এগিয়ে যাওয়ার চিন্তা, নিজের আগে নিজের বাবা মা কে সুখ দেয়ার চিন্তা, তাদের হজ্জ করানোর চিন্তা, ধারদেনা শোধ করার চিন্তা, মা বাবার ঋন শোধ করার চিন্তা, সংসারে দুইটা পয়সা বেশি খরচ ক্ক্রার চিন্তা, মা এর আরাম এর জন্য কিছু করার চিন্তা থাকে। এসবের পরে ছেলেটা কি চায়। একটু মানসিক শান্তি। মুখে একটু হাসি। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস এই যে, উনিশ থেকে বিশ হলে ছেলে খারাপ, কখনো সঠিক কথা বলে দিলে ছেলে খারাপ, বউ ভিতরে ভিতরে কষ্ট সহ্য করতেসে এইটা দেখে ছেলেটা তার বউ কে বুঝায় ধৈর্য্য ধর, আল্লাহের কাছে চাও তার পরও ছেলে খারাপ, বউ ছেলে কে পরিবর্তন করে ফেলছে।
কেন? সবসময় কেন?
ছেলেটা আগে যা অপছন্দ করত সেই জিনিসটা বিয়ের পর অপছন্দ করলে বউয়ের দোষ। কিন্তু সেই বউয়ের যায়গায় যখন নিজের মেয়ে হয় আর মেয়ের জামাই মেয়েকে আগলে রাখে তখন তো মেয়ের জামাই অনেক ভাল হয় তো নিজের ছেলে কেন খারাপ হয়। তাহলে কেন ছোট থেকে নিজের ছেলেকে এই শিক্ষা দেয়া হয় যে বিয়ে করে অন্যের মেয়ে কে তখনই আনবি যখন বুঝতে পারবি যে তাকে তুই কষ্ট দিবি না। কেন তখন এই শিক্ষা দেয়। নিজের মেয়ে শশুর বাড়িতে কষ্ট পেলে তখন মা এর কলিজাটা ফেটে যায় আর নিজের ছেলে যাকে ছোট থেকে আগলে রেখেছে সব সময়, যে মা সেই ছেলের গর্ব, সেই মা কেন নিজের ঘরে নিজের ছেলেকে এভাবে মানসিকভাবে কষ্ট দেয়? কেন আল্লাহ পাক ছেলে দের এমন বানিয়েছে যে তারা সহ্যও করবে আর মুখ ফুটে বল্কতেও পারবে না। তাদেরও তো মন আছে। ছেলেদের ও চোখ দিয়ে পানি বের হয়। কিন্তু তা কেউ দেখে না। কেউ দেখতে চায় না। কারন এই পৃথিবীতে কষ্ট কমানোর মানুষ খুবই কম, খুবই খুবই খুবই কম।
আল্লাহ পৃথিবিতে ছেলে মানুষ তৈরি করেছে হয়তো শুধুমাত্র সহ্য করার জন্য। রাস্তায় হাটার সময় হাজারো চিন্তা, কষ্ট মাথায় নিয়ে চোখের পানি ফেলার জন্য, ভিতর ভেংগে চুরমার হয়ে গেলেও হাসি মুখে সবার সামনে থাকার জন্য। মানুষ একটা বিড়ালকে আদর করলে তার বিনিময়ে কিছুই চায় না, একটা বাচ্চা কে আদর করলেও তার বিনিময়ে কিছুই চায় না, মেয়ে মানুষ যত বড়ই হোক না কেন তাদেরও আনকন্ডিশনালি আদর করে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষি কোন ছেলে কেউ আনকন্ডিশনালি ভালবাসে না, ভালবাসতে পারে না।
একটা সময় ছিল যখন মেয়ে দেরকে মানুষ অভিশাপ ভাবত। জীবিত মাটিতে পুতে দিত। আমাদের নবীজি এসব পরিবর্তন করেছিলেন। কিন্তু এই পৃথিবীতে বর্তমানে ছেলে হয়ে জন্য নেয়াটা একটা অভিশাপে পরিনত হয়েছে। একটা ছেলের বুক ফাটা চিৎকার যদি শুনা যেত তবে কবরের আজাবের পর এইটাই হয়ত ভয়াবহ চিৎকারে পরিনত হত।
কথাগুলো নির্দিষ্ট কিছু ছেলেদের জন্য যারা নিজের আগে নিজের পরিবারের জন্য ভাবে, কথা গুলো লেখকের নিজের জীবনের সাথে ঘটে যাওয়া প্রতিনিয়ত ঘটনার সাথে জড়িত, কথাগুলো সেই ছেলের পরিবারের উদ্দেশে যে ছেলেদের বুক ফাটে, চোখ দিয়ে অগনিত জলের ফোটা পরে কিন্তু মুখ ফাটা না। আল্লাহ হয়ত এইসব ছেলেদের একটু মানসিক শান্তি দান করুক অথবা পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে তাদের উঠিয়ে নেক।
#আমায় ক্ষমা করবেন। আমি কোন লেখক নই, ভুল অনেক হতে পারে কিন্তু কিছু বাস্তব জীবনের কষ্ট থেকে বলছি কথা গুলো। দোয়া করবেন সেই সব ছেলেদের জন্য যারা প্রতিনিয়ত এভাবেই জীবন পার করে দিচ্ছে।