True News BD

True News BD দেশের সত্য সংবাদ প্রকাশ

26/06/2026

দাড়ি-টুপি থাকায় জামাত চরমোনাই হিসেবে চালিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু না সত্য হলো পিছনের ব্যানারে,,,

পাহাড়ে ভোট দেয় বাঙালিরা, সুবিধা নেয় উপজাতিরা।উপজাতিদের আয়কর মওকুফ করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাহাড়ের ৪ সাংসদের বৈষম্যমূলক যৌথ...
24/06/2026

পাহাড়ে ভোট দেয় বাঙালিরা, সুবিধা নেয় উপজাতিরা।

উপজাতিদের আয়কর মওকুফ করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাহাড়ের ৪ সাংসদের বৈষম্যমূলক যৌথ চিঠির তীব্র প্রতিবাদ ও রাষ্ট্রীয় সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি উঠেছে।

পার্বত্যবাসীর পক্ষে আমরা অত্যন্ত উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং বিস্ময়ের সাথে এক ঐতিহাসিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইলিংয়ের চিত্র আপনাদের সামনে তুলে ধরতে হাজির হয়েছি। আপনারা জানেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ সময় ধরে তথাকথিত বিশেষ শাসনব্যবস্থা এবং ১৯৯৭ সালের বিতর্কিত 'পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি'র দোহাই দিয়ে এখানকার একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রের মূল ধারার চেয়েও অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর সর্বশেষ ও নিকৃষ্টতম উদাহরণ আমরা দেখতে পেয়েছি গত ২১ জুন। বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রীর নিকট পার্বত্য অঞ্চলের দু'জন উপজাতি সংসদ সদস্য (দীপেন দেওয়ান ও সাচিং প্রু), একজন সংরক্ষিত নারী উপজাতি সদস্য (মাধবী মার্মা) এবং অত্যন্ত বিস্ময়কর ও দুঃখজনকভাবে খাগড়াছড়ির বাঙালি সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞাসহ মোট ৪ জন যৌথ স্বাক্ষরে একটি চিঠি প্রেরণ করেছেন।

চিঠির মূল উদ্দেশ্য আয়কর আইন ২০২৩-এর ষষ্ঠ তফসিলের প্রস্তাবিত সংশোধনী বাতিল করে উপজাতিদের জন্য পূর্বের ন্যায় পূর্ণাঙ্গ আয়কর অব্যাহতি বহাল রাখা।

প্রিয় দেশবাসী,
এই চিঠিতে যে চরম বৈষম্যমূলক মানসিকতা, ঐতিহাসিক তথ্যের বিকৃতি এবং সস্তা রাজনৈতিক ব্ল‍্যাকমেইলিংয়ের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, তার একটি বস্তুনিষ্ঠ ও কঠোর বিশ্লেষণ আমরা আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে পেশ করছি:

চিঠিতে সাংসদরা ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের দোহাই দিয়ে উপজাতিদের পূর্ণাঙ্গ করমুক্ত সুবিধা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন। অথচ বাস্তবতা হলো, বিগত ৪২ বছর ধরে এই করমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার করে উপজাতিদের একটি বিশাল অংশ আজ ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি-বেসরকারি চাকরি এবং ঠিকাদারি খাতের সিংহভাগ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তারা আজ অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও কোটিপতি। যেখানে একই অঞ্চলের বাঙালি বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত ট্যাক্স বা কর দিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার সচল রাখছেন, সেখানে সমান বা তার চেয়ে বেশি আয় করেও উপজাতিদের করের বাইরে রাখা সুস্পষ্টভাবে সংবিধানে বর্ণিত 'নাগরিকদের সমঅধিকার' নীতির পরিপন্থী। অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হয়ে যাওয়ার পরও 'মূল স্রোতধারায় আত্মীকরণ'-এর দোহাই দিয়ে অনন্তকাল কর মওকুফ চাওয়ার দাবি কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। নতুন সরকার যে এই বৈষম্য দূর করতে কর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই।

গত ১০ জুন উপস্থাপিত অর্থবিলের সংশোধনীতে উপজাতিদের বেতন খাতের আয় ও আর্থিক পরিসম্পদ হতে আয় করযোগ্য করার যে প্রস্তাব আনা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে গত ১৮ জুন জাতীয় সংসদে রাঙামাটির সংসদ সদস্য এডভোকেট দীপেন দেওয়ান তীব্র বিরোধিতা করেছেন। মজার বিষয় হলো, দীপেন দেওয়ানের এই বক্তব্যের পর আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ তাকে নিয়ে ট্রল বা উপহাস করেছে। কারণ দীপেন দেওয়ান সংসদে বারবার 'উপজাতি' শব্দ ব্যবহার করেছেন। আঞ্চলিক দলগুলোর দাবি অনুযায়ী উপজাতি শব্দটি নাকি অবমাননাকর, তারা নিজেদের 'আদিবাসী' দাবি করতে পছন্দ করে। অথচ সংসদ সদস্যরা যখনই কোনো নতুন রাষ্ট্রীয় সুবিধা বা কর মওকুফ চান, তখনই আবার নিজেদের সরকারি গেজেট ও চুক্তি অনুযায়ী 'উপজাতি' হিসেবে নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করেন। এটি তাদের চরম দ্বিচারিতা এবং সুবিধাবাদী রাজনীতির বড় প্রমাণ।
সুবিধা নিতে উপজাতি আর বাহিরে আদিবাসী দাবি।

চিঠির ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে পাহাড়ি এলাকার জুমচাষী, কাপ্তাই বাঁধের ক্ষতি, খাবার পানির সংকট ও বিদ্যুতহীনতার এক বিশাল খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে। আমরা বলতে চাই, এই তথ্যগুলো অত্যন্ত একপেশে। পাহাড়ে অনগ্রসরতা যদি থেকে থাকে, তবে তা শুধু উপজাতিদের জন্য নয়, ওখানকার ৫০ শতাংশের বেশি বাঙালি জনসংখ্যার জন্যও সমভাবে প্রযোজ্য। কিন্তু চিঠিতে বাঙালিদের দুঃখ-কষ্ট সম্পূর্ণ চেপে যাওয়া হয়েছে।

বাস্তবতা হলো, পার্বত্য চুক্তির একচেটিয়া সুবিধা, উপজাতি কোটা, সরকারি চাকরিতে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ নিয়োগ, দেশী-বিদেশী এনজিওর বিপুল অনুদান এবং জাতিসংঘের ফান্ডিংয়ের সুবিধা শুধুমাত্র উপজাতিরাই পায়। করমুক্ত সুবিধার কারণে উপজাতি কোটিপতি ব্যবসায়ীরা ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবসা করে ঘরে বসে লাখ লাখ টাকা মুনাফা লুটছে, আর বাঙালি ব্যবসায়ীরা করের বোঝা মাথায় নিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। অতএব, সাধারণ জুমচাষীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে উপজাতি ধনী চাকরিজীবী ও কোটিপতি ঠিকাদারদের কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার এই চক্রান্ত মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

চিঠির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে সরাসরি সরকারকে রাজনৈতিক হুমকি দিয়ে লেখা হয়েছে যে ২০২৬ সালের নির্বাচনে উপজাতি ভোটাররা ব্যাপকভাবে বিএনপিকে সমর্থন করে জয়ী করেছে, তাই কর আরোপ করলে আগামী নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই বক্তব্যটি সম্পূর্ণ অসত্য এবং রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শামিল। উপজাতিরা সর্বদা তাদের সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস বা ইউপিডিএফ-এর নির্দেশিত পথে চলে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে রাঙামাটিতে জেএসএস কোণঠাসা হয়ে পড়ায় এবং আওয়ামী লীগ সরাসরি অংশ না নেওয়ায়, তারা কৌশলে সাময়িক স্বার্থে দীপেন দেওয়ানকে তথা বিএনপিকে সমর্থন দেয়। এটি কোনো আদর্শিক ভোট ব্যাংক নয়।
সবচেয়ে দুঃখজনক ও লজ্জাজনক বিষয় হলো, খাগড়াছড়ির বাঙালি সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা এই বৈষম্যমূলক চিঠিতে স্বাক্ষর করে পাহাড়ি বাঙালিদের পিঠে ছুরি মেরেছেন। যার ওপর পাহাড়ের শোষিত বাঙালিদের ভরসা ছিল, তিনি শেষ পর্যন্ত বাঙালির পাশে না থেকে উপজাতিদের পাতা ফাঁদে পা দিলেন। তিনি যদি নিরপেক্ষ হতেন, তবে কর অব্যাহতি চাইলে পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতি-বাঙালি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য চাইতেন। শুধু উপজাতিদের জন্য কর মওকুফ চেয়ে তিনি নিজেই পাহাড়ের জাতিগত বৈষম্যকে আরও উস্কে দিয়েছেন।

চিঠির শেষ অংশে সাংসদরা উপজাতিদের দ্বারা গঠিত সকল প্রতিষ্ঠান, ফার্ম বা কোম্পানিকেও করমুক্ত ঘোষণা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে বড় বড় ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট গড়ে উঠবে, যা দেশের মূল অর্থনৈতিক রাজস্ব নীতিকে পঙ্গু করে দেবে। এটি পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালি ব্যবসায়ীদের চিরতরে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করার একটি সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক নীলনকশা।

তবে এই চিঠির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক রয়েছে। চারজন সংসদ সদস্য (আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা, দীপেন দেওয়ান, সাচিং প্রু এবং মাধবী মার্মা) নিজেদের স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে বারবার 'উপজাতি'** এবং 'ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী' শব্দ দুটি ব্যবহার করেছেন। এটি এখন একটি চিরস্থায়ী অফিশিয়াল রাষ্ট্রীয় দলিল হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। ভবিষ্যতে এই গোষ্ঠীটি যখন আবার নিজেদের মনগড়া 'আদিবাসী' দাবি করে জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জলঘোলা করার চেষ্টা করবে, তখন তাদেরই স্বাক্ষরিত এই চিঠিটি একটি অখণ্ডনীয় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে যে, তারা সাংবিধানিক ও দাপ্তরিকভাবে শুধুই 'উপজাতি'।

আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বাসীর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি কোনো প্রকার রাজনৈতিক হুমকিতে মাথা নত না করে, পার্বত্য চট্টগ্রামের এই বৈষম্যমূলক কর ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে প্রস্তাবিত সংশোধনী কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হোক। সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি আনা সম্ভব। সরকার প্রধানের ঘোষনা কোথাও বৈরিতা করা হবেনা সেটা আমাদেরও চাওয়া।

দুর্গম পার্বত্য এলাকা থেকে বম সম্প্রদায়ের অসুস্থ নারীকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার যোগে উদ্ধার: সিএমএইচ চট্টগ্রামে উন্নত চিক...
21/06/2026

দুর্গম পার্বত্য এলাকা থেকে বম সম্প্রদায়ের অসুস্থ নারীকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার যোগে উদ্ধার: সিএমএইচ চট্টগ্রামে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা

আজ বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত রামকিল বম (৭৪), আকস্মিকভাবে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়।

মানবিক দায়িত্ববোধ ও জনসেবার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করে। বান্দরবান রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আজ বিকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উক্ত নারীকে দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের সকল সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন এবং জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামে চুরির অভিযোগে জনতার হাতে তিন ইউপিডিএফে সন্ত্রাসী আটক:চট্টগ্রামের নিউমরিং এলাকায় চুরির অভিযোগে তিন যুবককে আটক ...
20/06/2026

চট্টগ্রামে চুরির অভিযোগে জনতার হাতে তিন ইউপিডিএফে সন্ত্রাসী আটক:

চট্টগ্রামের নিউমরিং এলাকায় চুরির অভিযোগে তিন যুবককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন রিতেন চাকমা, জুয়েল চাকমা ও জন্টু চাকমা। স্থানীয়দের দাবি, একটি চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তাদের আটক করা হয়। তারা সবাই পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফের সক্রিয় সদস্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক রিতেন চাকমা বন্দর থানা এলাকার একটি শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তার বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলায়। অপর দুইজনের মধ্যে জুয়েল চাকমার বাড়ি রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বাকছড়ি এলাকায় এবং জন্টু চাকমার বাড়ি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতুলি (মারিশ্যা) এলাকায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে বিভিন্ন ধরনের চুরির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। সর্বশেষ ঘটনার পর স্থানীয়রা সন্দেহভাজন হিসেবে ওই তিনজনকে আটক করেন।

ঘটনার পর আটক ব্যক্তিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলমান রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

একটি সূত্র বলছে, ইউপিডিএফের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু সক্রিয় সদস্য ও কর্মী দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ছদ্মবেশে অবস্থান করছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার বিভিন্ন গার্মেন্টস, কল-কারখানা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শ্রমিক বা কর্মচারী পরিচয়ে তারা আত্মগোপন করে রয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্রগুলো বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, সংঘাত বা সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদারের প্রয়োজন দেখা দিলে এসব ব্যক্তিকে দ্রুত পাহাড়ে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর তাদের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি অবৈধ ও সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এ ধরনের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংগঠনটি একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে সদস্যদের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রাখতে সক্ষম হচ্ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনের সময় দ্রুত জনবল সংগ্রহ করে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছে।

আমার স্বামীর মাথায় চুল নাই সবাই টাকলা বলে, তবুও আমার কোন সমস্যা নাই, কারণ আমার স্বামীর কাছে অনেক টাকা আছে, আর যদি আমাদে...
20/06/2026

আমার স্বামীর মাথায় চুল নাই সবাই টাকলা বলে, তবুও আমার কোন সমস্যা নাই, কারণ আমার স্বামীর কাছে অনেক টাকা আছে, আর যদি আমাদের জাতি আমি বিয়ে করতাম, তাহলে সারাজীবন মদের গন্ধ নিয়ে থাকতে হতো..!

04/06/2026

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সাইপ্রাসে যাত্রার প্রাক্কালে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম, এনডিইউ, পিএসসি, পিএইচডি।

বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা | ০৩ জুন ২০২৬, বুধবার

পদত্যাগ নিয়ে পাহাড়ে উত্তাপের মাঝেই মুখ খুললেন দীপেন দেওয়ান।পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে প...
04/06/2026

পদত্যাগ নিয়ে পাহাড়ে উত্তাপের মাঝেই মুখ খুললেন দীপেন দেওয়ান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগকে কেন্দ্র করে তিন পার্বত্য জেলায় চলমান উত্তেজনা ও নানা গুঞ্জনের মধ্যে অবশেষে মুখ খুলেছেন সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। বুধবার (৩ জুন) রাত ৮:৫৮ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যেকোনো পরিস্থিতিতেই তিনি দল ত্যাগ করবেন না এবং বিএনপিই তার রাজনৈতিক আদর্শের শেষ ঠিকানা। একই সাথে তিনি পাহাড়ের পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের জনগণকে শান্ত থাকার ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে দীপেন দেওয়ান নিজের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পটভূমি স্মরণ করে বলেন, *"আমার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা আমার রাজনৈতিক জীবনের প্রেরণা। আমি দেশনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহ, দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছি।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আমার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিকানা। আমি জীবনের অবশিষ্ট সময়ও এই প্রিয় দল, এর আদর্শ এবং দেশের জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে যেতে চাই। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমি দলের প্রতি আমার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অটুট রাখব। এই দল আমি কখনো ত্যাগ করব না।"

একই সাথে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাঁর নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পদত্যাগের পর রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় তার কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মাঝে যে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি গভীরভাবে অবগত আছেন জানিয়ে দীপেন দেওয়ান বলেন, "আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল পাহাড়ি, বাঙালি এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি যে, আপনারা শান্ত থাকুন, ধৈর্য ধারণ করুন এবং আইন-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন। কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখুন।"

নেপথ্যে জেলা পরিষদ গঠন ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল?
গত ১ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট পদত্যাগপত্র জমা দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান (এমপি, রাঙ্গামাটি-২৯৯)। ওই দিনই প্রধানমন্ত্রী তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
তবে দীপেন দেওয়ানের এই পদত্যাগ স্বাভাবিকভাবে নেয়নি তার সমর্থকরা। তার পদত্যাগের পর পরই রাঙ্গামাটি ও ঢাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ করে তাকে মন্ত্রিত্বে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়। সমর্থকদের অভিযোগ, জেলা পরিষদ পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। এই ঘটনার জন্য তারা একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও হাটহাজারী আসনের এমপি মীর হেলালকে দায়ী করছেন।
এই বিরোধের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় গত ২ জুন, যখন দীপেন দেওয়ানের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সুপারিশকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা মনিষ দেওয়ান নিজে একটি ফেসবুক পোস্ট দেন। মনিষ দেওয়ানের দাবি অনুযায়ী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের সাথে সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের বিরোধ তৈরি হয়। প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দিপু তালুকদারকে চেয়ারম্যান পদে সুপারিশ করেন, অন্যদিকে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান সুপারিশ করেছিলেন মনিষ দেওয়ানের নাম। এই নিয়ে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও কোন্দল এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

Internal Politics বা গ্রুপিংয়ের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান তার পোস্টে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, "ব্যক্তি নয়, জনগণের কল্যাণই সবচেয়ে বড় বিষয়... মত-পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নয়, প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু সংঘাত নয়।" তিনি পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে স্থিতিশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করে "বাংলাদেশ জিন্দাবাদ" স্লোগানের মাধ্যমে তার বক্তব্য শেষ করেন।

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ভূষণছড়া বাঙালি গণহত্যার ইতিহাস!গণহত্যা এমন একটি শব্দ যা পুরো গোষ্ঠীটি ধ্বংস করার অভিপ্র...
31/05/2026

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ভূষণছড়া বাঙালি গণহত্যার ইতিহাস!

গণহত্যা এমন একটি শব্দ যা পুরো গোষ্ঠীটি ধ্বংস করার অভিপ্রায় সহ জাতীয়, জাতিগত, বর্ণ বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। এই শব্দটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে কেবল ব্যবহারে আসে।
গণহত্যার সময় একটি জাতিকে নির্মূল করতে যা যা করা হয় তা হলো: গ্রুপের সদস্যদের হত্যা বা মারাত্মক শারীরিক বা মানসিক ক্ষয়ক্ষতি, গোষ্ঠীর মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে উদ্ভূত জীবনের পরিস্থিতি, আগুনে পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া, আবাল, বৃদ্ধা কাউকে রেহাই না দেওয়া।
গণহত্যার “ধ্বংসের অভিপ্রায়” এটিকে জাতিগত নির্মূলকরণ মতো মানবতার অন্যান্য অপরাধ থেকে পৃথক করে, যার লক্ষ্য ভৌগোলিক অঞ্চল থেকে একটি দলকে জোর করে বহিষ্কার করা (হত্যা, জোরপূর্বক নির্বাসন এবং অন্যান্য পদ্ধতি দ্বারা)।

ঠিক পার্বত্য বাঙালিদের নির্মূল করতে তারা গণহত্যার সবগুলো ধাপ ব্যবহার করেছিল। পার্বত্য চট্টগ্রামে সংগঠিত ৪৬ টি ছোট-বড় গণহত্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার ভূষণছড়া গণহত্যা। এই গণহত্যার খবরটি এদেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও চেপে গিয়েছে তৎকালীন প্রশাসনের নজিরবিহীন কারসাজির কারণেই। ঘটনার ভয়াবহতা এতটা মারাত্মক ভয়ানক ছিল প্রশাসন তৎকালীন বিষয়টি প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মূলত প্রশাসনের অসহযোগিতা ও নিষ্ঠুরতার কারণে এমন নৃশংস গণহত্যা ইতিহাস থেকে মুছে গেছে।

১৯৮৪ সালের ৩১ মে, রাতের অন্ধকারে পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) প্রকাশ শান্তিবাহিনীর সন্তু গংদের হাতে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় ৩ শতাধিক পরিবারের সদস্য। গণহত্যার শিকার হওয়া মানুষগুলোর পরিচয় হচ্ছে, তারা সবাই বাঙালি। তাদের অপরাধ তারা সরকারের হুকুম মতে ১৯৭৯ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে এসে পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসিত হয়েছিল। এ অপরাধে তথাকথিত শান্তিবাহিনীর সন্ত্রাসীরা তাদের রাতের অন্ধকারে গণহত্যার মাধ্যমে নিধন করার অপচেষ্টায় করে। তৎকালীন শান্তিবাহিনীর মেজর রাজেশ চাকমার নেতৃত্বে এ নৃশংস জঘন্য ঘৃণিত অপরাধমূলক গণহত্যা সংগঠিত করা হয়। যা পার্বত্য ইতিহাসে এক কলঙ্কময় ঘটনা।
প্রশ্ন আসতে পারে এই রাজেশ চাকমা-কে?? এই রাজেশ চাকমা হচ্ছে-
২০০১ সালে বিএনপি সরকারের রাঙামাটি সংসদীয় আসনের এমপি মণি স্বপন দেওয়ান। বিএনপি সরকার তাকে উপমন্ত্রীও করেন “পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের।” একজন খুনিকে দলে নেওয়াই, এবং মন্ত্রী করাই এই নিয়ে ভূষণছড়া গণহত্যায় শহীদ হওয়া পরিবারগুলোর সদস্যরা এখনো ক্ষোভে ফুঁসে আছে। গত সংসদ নির্বাচনেও হাজারো বাঙালি খুনি মণি স্বপন দেওয়ান-কে বিএনপি আবারো পুনরায় রাঙামাটি আসন থেকে মনোনয়ন প্রদান করে!

ভূষণছড়া গণহত্যা সম্পর্কে বিভিন্ন লেখক বিভিন্নভাবে বর্ণনা দিলেও মূলত একজন লেখকের লেখায় কিছুটা হলেও বাস্তবতা ওঠে এসেছে। সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও নৃশংসতার বিবরণ ওঠে এসেছে তার লেখা পার্বত্য বিষয়ক বই গুলোতেই। বলছিলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক আতিকুর রহমানের কথা। আতিকুর রহমানের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক যে কয়টি বই আছে তার সবকয়টি বইতে মোটামুটিভাবে এখানকার চরম বাস্তবতা ফুটে উঠেছে।
তিনি দীর্ঘদিন পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের উপরেই যার ১১টির উপরে বই আছে। পার্বত্য তথ্য কোষ, তৃতীয় খণ্ড ও সপ্তম খণ্ডে ভূষণছড়া গণহত্যার উপর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ১ ও ২ তিনি এই গণহত্যার মর্মন্তুদ ও হৃদয়বিদারক চিত্র তুলে ধরেছেন। তবে তার প্রতিটি বইয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। পার্বত্য বিষয়ে লিখতে হলে, তথ্য সোর্স হিসেবে তাকে ব্যবহার করা ছাড়া বিকল্প সুযোগ নেই।

‘‘কলা বন্যা, গোরস্তান, ভূষণছড়া, হরিণা হয়ে ঠেগামুখ সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এই বিরাট এলাকা জুড়ে সন্ধ্যা থেকে আপতিত হয় ভয়াল নিস্তদ্ধতা। কুকুর শিয়ালেরও সাড়া শব্দ নেই। আর্মি, বিডিআর, ভিডিপি সদস্যরাও ক্যাম্পে বন্দি। কারণ তৎকালীন তথাকথিত শান্তিবাহিনীর ভয়ে সন্ধ্যা নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে সবাই ক্যাম্প ওঠে যেতো। সেদিন হঠাৎ অতর্কিতে বাহির দিক থেকে ধ্বনিত হয়ে উঠল ঐ গুলির শব্দটি।
তৎপরই ঘটনাবলীর শুরু। চুতর্দিকে ঘর-বাড়ীতে আগুন লেলিহান হয়ে উঠতে লাগল। উত্থিত হতে লাগল আহত নিহত অনেক লোকের ভয়াল চিৎকার এবং তৎসঙ্গে গুলির আওয়াজ , জ্বলন্ত গৃহের বাঁশ ফোটার শব্দ, আর আক্রমণকারীদের উল্লাস মুখর হ্রেষা ধ্বনি। এভাবে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, আর্তচিৎকার ও উল্লাসের ভিতর এক দীর্ঘ গজবি রাতের আগমন ও যাপনের শুরু। চিৎকার, আহাজারি ও মাতমের ভিতর সুর্যোদয়ে জেগে উঠলো পর্যুদস্ত জনপদ।
হতভাগা জীবিতরা আর্তনাদে ভরিয়ে তুললো গোটা পরিবেশ। অসংখ্য আহত ঘরে ও বাহিরে । লাশে লাশে ভরে গেছে পোড়া ভিটা, পথ ঘাট ও পাড়া। সবাই ভীত বিহ্বল। এত লাশ, রক্ত আর এতো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, এক অর্ধরাতের ভিতর এলাকাটি বিরান।

অদৃষ্টপূর্ব নৃশংসতা। অভাবিত নিষ্ঠুরতা। ওয়ারলেসের মাধ্যমে এই ধ্বংসাত্মক দুর্ঘটনার কথা স্থানীয় বিডিআর ও আর্মি কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বমহলে অবহিত করেন। শুরু হয় কর্তৃপক্ষীয় দৌড়ঝাঁপ, আগমন ও পরিদর্শন । চললো লাশ কবরস্থ করার পালা ও ঘটনা লুকানোর প্রক্রিয়া।
ঘটনাটি যে কত ভয়াবহ, মর্মন্তুদ আর অমানবিক এবং শান্তিবাহিনী যে কত হিংস্র পাশবিক চরিত্র সম্পন্ন মানবতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক সংগঠন তা প্রচারের সুযোগটাও পরিহার করা হলো। খবর প্রচারের উপর জারি করা হলো নিষেধাজ্ঞা। ভাবা হলো: জাতীয়ভাবে ঘটনাটি বিক্ষোভ ও উৎপাতের সূচনা ঘটাবে। দেশ জুড়ে উপজাতীয়রা হবে বিপন্ন।

ঘটনার ভয়াবহতা আর সরকারি নিস্ক্রিয়তায় ভীত সন্ত্রস্ত অনেক বাঙালিই স্থান ত্যাগ করে পালালো। পলাতকদের ঠেকাতে পথে ঘাটে, লঞ্চে, গাড়িতে, নৌকা ও সাম্পানে চললো তল্লাশি ও আটকের প্রক্রিয়া। তবু নিহত আর পলাতকরা মিলে সংখ্যার প্রায় অর্ধেকই হলো ঐ জনপদ থেকে লাপাত্তা। শুরু হলো জীবিতদের মাধ্যমে লাশ টানা ও কবরস্থ করার তোড়জোড়। খাবার নেই, পরার নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, চারিদিকে কেবল পচা লাশের দুর্গন্ধ, পালাবারও পথ নেই। নিরুপায় জীবিতরা। লাশ গুঁজানো ছাড়া করার কিছু নেই । দয়া পরবশ কর্তৃপক্ষ, কিছু আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে এলেন। এটাকে দয়া বলা ছাড়া উপায় কি?”

“ ভূষণ ছড়া গণহত্যা পরিদর্শনে প্রেসিডেন্ট এরশাদ স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন। বরকল ওসি শামসুর রহমান, রাঙামাটি এসপি, ডিসি, রাঙামাটি ব্রিগেডিয়ার আনোয়ার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জিওসি ইত্যাদি কর্মকর্তারাও হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। কিন্তু সবাই তৎপর ছিলেন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ও লাশ লুকাতে।
কয়েকদিন যাবৎ একটানা গণকবর রচনার প্রক্রিয়া চলেছে। তজ্জন্য জীবিত বাঙালিদের আহার, নিদ্রা ও বিশ্রামের ফুরসত ছিল না। গর্তে গর্তে গণকবর রচনা করে, একেক সাথে ৩০/৪০টি লাশকে চাপা দেয়া হয়েছে। এভাবে লোকালয়গুলো পচা লাশ ও দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত হলেও, পাহাড়ে ও বনে অবস্থিত বিক্ষিপ্ত লাশগুলো দাফন কাফনহীন অবস্থায় পচতে থাকে ও শিয়াল কুকুরের খাদ্য হয়। দুর্গত পরিবারগুলো পোড়া ভিটায় খাদ্য ও আচ্ছাদনহীন দিনযাপনে বাধ্য হয়।”

ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সাহায্য নিয়ে, তিনি মোট ৩৭০ জন নিহত ব্যক্তির তালিকা উক্ত বইয়ে সন্নিবেশিত করেছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন যে, গুরুতর আহত ৮৫ জনকে চিকিৎসার জন্যে চট্টগ্রামের সিএমএইচে পাঠানো হয়েছিল ব্রিগেড কমান্ডার আনোয়ারের নির্দেশে।( পার্বত্য কোষ, তৃতীয় খণ্ড ও সপ্তম খণ্ড আতিকুর রহমান, প্রকাশ ২০০৭

আতিকুর রহমান ৩৭০ জন পর্যন্ত নিহত হওয়ার বিষয়টি তার লেখায় বর্ণনা করেন।
কিন্তু স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণামতে নিহতদের সংখ্যা কমপক্ষে ১ হাজারের অধিক হবে৷ কারণ ঐ সময় পুনর্বাসিত ১৬০০ পরিবারের মধ্যে ৩০০ পরিবারের উপর হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা হয়। প্রতি পরিবারের ন্যূনতম ৪ (চার) জন করে সদস্য হিসাব করলেও ১২০০ জন হয় সদস্য। ধারণা করা হয় নিহতের সংখ্যা হাজারের অধিক হবে।

প্রথম সাংবাদিক হিসেবে ভূষণছড়া গণহত্যা রহস্যের উন্মোচন করতে গোপনে বরকল প্রবেশ করেন, সাংবাদিক সৈয়দ মুরতজা আলী-

১৯৮৪ সালের ৩ জুন, ঘটনার ৩ দিনের মাথায় তিনি প্রথম সাংবাদিক হিসেবে সৈয়দ মুরতজা আলী ঘটনার স্থান এলাকায় পরিদর্শনে যান।
১৯৯৬ সালে প্রকাশিত ‘দি হিচ ইন দি হিলস’ বইয়ে সৈয়দ মুরতজা আলী তার সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ ভূষণছড়ার গণহত্যার ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রচার করতে চাচ্ছিলেন না, তাই কোন সংবাদকর্মী বরকল যাওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগও ছিল না।
কাগজ, কলম, মিনি রেকর্ডার আর কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পলিথিনে পেঁচিয়ে নৌকার পাটাতনের তলায় লুকিয়ে, তিনি জেলের ছদ্মবেশে ময়লা গেঞ্জি আর ছেড়া লুঙ্গি পরে গিয়েছিলেন। রাঙামাটি কাপ্তাই লেকের জায়গায় জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্ট ফাঁকি দিয়ে এছাড়া আর ভালো পরিবেশে যাওয়ার আর কোন উপায় ছিল না। তিনি যেদিন পৌঁছেছিলেন, সেদিন সেখানে তিনটি হেলিকপ্টার এসেছিল। যার একটাতে ছিলেন, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ।

ঘটনার ৩ দিন পরে গিয়েও তিনি অনেক মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন। এগুলো পড়ে ছিল, কারণ এগুলোর দাফন কার্যের জন্যে কোন নিকটজনকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আব্দুল করিম নামের ৬৮ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে, “সেহেরী খেয়ে লোকজন তখনো একটু ঘুমের জন্য বিছানায়, এমন সময় হঠাৎ গুলির শব্দ চারপাশের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে খান খান করে দেয়। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই শান্তিবাহিনীর গুলি আর যুদ্ধের হুংকার শুনতে পেল তারা। শান্তি বাহিনীর গুলি বিদীর্ণ করে দেয় ভয়ে কম্পমান এমনকি পলায়নরত বাঙালিদেরও। অনেক বাঙালিকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে, আবার অনেকের মস্তক বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। এমনকি, শিশুদেরকে হত্যার জন্যে টেনে টুকরো করে ফেলে পর্যন্ত।”

বীভৎস আর লোমহর্ষক কিছু দৃশ্যের বর্ণনার পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন যে, ৩৪ জন নারী, ২৬ জন শিশুসহ ঐ ঘটনায় ১২০ জনকে হত্যা করা হয়, আহত হয়েছিল প্রায় ২০০ জনের মত। তখন পর্যন্ত ৩৫ জন নিখোঁজ ছিল। প্রস্থানের পূর্ব মুহূর্তে, শান্তি বাহিনী বাঙালিদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে যায়, ফলে ২০০ পরিবার গৃহহীন হয়ে পরে। অগণিত গৃহপালিত পশু-পাখি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। (সৈয়দ মুরতজা আলী, দি হিচ ইন দি হিলস, প্রকাশ ১৯৯৬

গণহত্যা রচিতকারী তথাকথিত শান্তিবাহিনীর সন্ত্রাসীদের বিচার দাবি করে তৎকালীন বিভিন্ন বাধা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে পার্বত্য বাঙালিরা লাশ নিয়ে মিছিল মেটিংও করে কিন্তু কোন লাভ হয়নি। রাষ্ট্রীয় পক্ষ হতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনোপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করাই হয়নি৷ ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে গণহত্যাকারী উপজাতি সন্ত্রাসীদের দায়মুক্তি দেয় সরকার। এর ফলে নিহত বাঙালি পরিবারগুলোর মধ্যে বেঁচে থাকা বাঙালিদের সাহায্য সহযোগিতারও পথ বন্ধ হয়ে যায়। বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে। এভাবে ধামাচাপা পড়ে যায় পুরো ঘটনা, এবং কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে ১৯৮৪ সালের ৩১ মে, ভূষণছড়া গণহত্যার ইতিহাস৷ যদিও ভূষণছড়া এলাকাবাসী এখনো বছর বছর নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল আয়োজন করে থাকে। কিন্তু এটা যথার্থ নয়। হয়ত ভবিষ্যতে এটাও বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, রাষ্ট্রীয়ভাবে ভূষণছড়া গণহত্যা নিয়ে সক্রিয় কেউ নেই। এবার যদি কেউ তুলে ধরে ভূষণছড়া গণহত্যার প্রকৃত বাস্তবিক ইতিহাস তাহলে এ দেশের মানুষ জানবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি নিধনের নৃশংস সেই ভয়াবহতা।

31/05/2026

‎স্বামী বিদেশ, ফুটফুটে সুন্দর বাচ্চা নিয়ে অন্য পুরুষের সাথে প/র/কি/য়াতে লিপ্ত স্ত্রী- নিজের আপন ভাই হাতে নাতে ধরলো-

স্বামী রক্তপানি করে বিদেশ থেকে টাকা পাঠাচ্ছেন, আর ঘরে ফুটফুটে সুন্দর সন্তান রেখে অন্য পুরুষের সাথে মেতে উঠেছেন স্ত্রী। অবশেষে চকরিয়ায় আপন ভাইয়ের হাতেই ধরা পড়লো বোনের এই চরম অনৈতিক কর্মকাণ্ড। প্রবাসীদের এই কষ্টের শেষ কোথায়?

# #পরকীয়া ‎ #চকরিয়া #প্রবাসীর_কষ্ট #সামাজিক_অবক্ষয় Part 7

31/05/2026

‎স্বামী বিদেশ, ফুটফুটে সুন্দর বাচ্চা নিয়ে অন্য পুরুষের সাথে প/র/কি/য়াতে লিপ্ত স্ত্রী- নিজের আপন ভাই হাতে নাতে ধরলো-

স্বামী রক্তপানি করে বিদেশ থেকে টাকা পাঠাচ্ছেন, আর ঘরে ফুটফুটে সুন্দর সন্তান রেখে অন্য পুরুষের সাথে মেতে উঠেছেন স্ত্রী। অবশেষে চকরিয়ায় আপন ভাইয়ের হাতেই ধরা পড়লো বোনের এই চরম অনৈতিক কর্মকাণ্ড। প্রবাসীদের এই কষ্টের শেষ কোথায়?

# #পরকীয়া ‎ #চকরিয়া #প্রবাসীর_কষ্ট #সামাজিক_অবক্ষয় Part 6

Address

Rangamati
2001

Telephone

+8801825139544

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when True News BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share