30/08/2026
জীবনটা সত্যিই অদ্ভুত…
একসময় যে মা দুহাতে আমাদের জন্য সবকিছু করেছেন, সকালে উঠে সেই মাকেই আমি প্রতিদিনের মতো গ্যাসের ওষুধ খাওয়ালাম, ইনসুলিন দিলাম। তারপর ১৫–২০ মিনিট পাশে বসে থেকে নাশতা খাওয়ালাম। আম্মা খুব একটা খেতে পারেন না—মুখে যেন কোনো স্বাদই নেই।
নাশতা শেষে ওষুধগুলো খাইয়ে দিলাম। তারপর নখ কেটে দিলাম। এরপর বাচ্চাদের মতো করে আম্মাকে শাওয়ার করালাম।
শাওয়ার করাতে গিয়ে হঠাৎ মনে হলো—আম্মা কতটা বদলে গেছেন!
যে মানুষটা একসময় আমাদের সব কাজ করে দিয়েছেন, আজ তিনি নিজেই যেন একটা ছোট্ট বাচ্চা।
শরীরে শক্তি নেই। নিজের অনেক কিছুই আর করতে পারেন না। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, এত অসুস্থতার মধ্যেও আমাকে নিয়েই তাঁর চিন্তা!
বারবার বলছেন,
“তুই দুর্বল হয়ে যাবি। ভালো করে খা। বেশি করে খা। তুই খাবার একদম কম খাস, তুই কোনো খাবারই খাস না।”
আমি মায়ের দিকে তাকিয়ে ভাবি—
মায়েরা বুঝি এমনই হয়। নিজের শরীর ভেঙে গেলেও সন্তানের জন্য চিন্তা করতে ভোলে না।
আর একটা বিষয় আমাকে ভীষণ কষ্ট দেয়।
আম্মার এখন শরীরে কোনো শক্তি নেই। তবু তাঁর ভেতরটা যেন এখনো বিশ্বাস করে—তিনি আগের মতোই হঠাৎ উঠে দাঁড়াবেন, হাঁটবেন, দৌড়াবেন, ঘরের কাজ করবেন। সেই আগের আম্মা হয়ে যাবেন।
তাই মাঝে মাঝে তাঁকে দেখি উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু শরীর আর সায় দেয় না। কিছুক্ষণ পর আবার বসে পড়েন, কখনো শুয়ে পড়েন।
এই দৃশ্যটা দেখতে আমার খুব খারাপ লাগে।
আমার মেয়েটাও মাঝে মাঝে বলে,
“মাম্মি, নানু না… চেষ্টা করে আগের মতো সব কাজ করতে চায়, কিন্তু পারে না। ওনার তো কোনো শক্তিই নেই।”
কথাটা শুনে বুকের ভেতরটা কেমন করে ওঠে।
সময় কত অদ্ভুতভাবে মানুষকে বদলে দেয়!
একদিন মা আমাদের হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছেন।
আজ আমরা মায়ের হাত ধরে হাঁটতে শেখাচ্ছি।
একদিন মা আমাদের খাইয়ে দিয়েছেন, গোসল করিয়েছেন, নখ কেটে দিয়েছেন।
আজ আমরা মায়ের মুখে খাবার তুলে দিই, ওষুধ খাওয়াই, নখ কেটে দিই, গোসল করিয়ে দিই।
জীবন যেন নিঃশব্দে একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ করে।
তবে জীবন সবার জন্য একই গল্প লেখে না।
কেউ খুব তাড়াতাড়ি চলে যায়, কেউ অনেকটা পথ থেকে যায়। কেউ প্রিয় মানুষকে হারানোর আগেই হারিয়ে ফেলে, কেউ আবার শেষ বয়স পর্যন্ত পাশে থাকার সুযোগ পায়।
তাই হয়তো যতদিন আমাদের প্রিয় মানুষগুলো আমাদের পাশে আছে, ততদিন তাদের যত্ন নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।
আজ আমার আম্মা আমার কাছে শুধু আমার মা নন—
তিনি আমার বড় হয়ে যাওয়া ছোট্ট বাচ্চা।
আর তাঁকে যত্ন করতে করতে প্রতিদিন মনে হয়—
জীবন সত্যিই অদ্ভুত…
কখন যে মা থেকে সন্তান, আর সন্তান থেকে মায়ের অভিভাবক হয়ে যাই—টেরই পাওয়া যায় না।
আজ আবার কিছু টেস্ট বাকি আছে। সেগুলো করাব। তারপর ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টও নিয়েছি।
এই তো জীবন—একদিন একরকম, পরদিন আরেকরকম। তবু সবকিছুর মাঝেই আমরা বেঁচে থাকি, ভালোবাসি, যত্ন করি, আর সামনে এগিয়ে যাই।
ভালো থাকুন সকল মায়েরা।
আল্লাহ পৃথিবীর প্রতিটি মাকে সুস্থতা, শান্তি ও দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন। ❤️
আলহামদুলিল্লাহ, সবকিছুর জন্য।