বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ, একটি বৈষম্যহীন সার্বভৌম জাতি, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং বৈষম্যহীন সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতা অর্জন করে;
কিন্তু, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার পরবর্তী দীর্ঘ সময়ে বৈষম্যহীন জাতি গঠন, কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা বা সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা
করা সম্ভব হয়নি;
যেহেতু, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংগঠিত করতে আপামর জনসাধারণের সকল বঞ্চনার অবসান করা যায়নি এবং এ লক্ষ্যে ২০২৪ এ জুলাই গণঅভ্যূত্থান সংঘটিত হয়েছিলো। যেখানে সাধারণ ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয় ।
বঞ্চনা ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত অতীতের গণসংগ্রামগুলোর শিক্ষা ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে জনগণকে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত করা এবং গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান ও জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ কাঠামো গড়া এখনো সম্ভব হয়নি ।
এবং যেহেতু, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস, ইসলামী আদর্শ ও তার ভিত্তিতে জাতীয় সংস্কৃতি বিকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সকল ধর্মের অনুসারীদের নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী রীতি ও আচার পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়নি এবং বাংলাদেশের আপামর জনতার প্রতিনিধিত্বকারী সত্যিকারের কোন রাজনৈতিক দল জনগণকে আকাঙ্খিত বাংলাদেশ উপহার দিতে পারেনি;
সেহেতু, স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং জুলাই ২০২৪ এর গণঅভ্যূত্থান এর চেতনায় বাংলাদেশের জনগণের সাধারণ অভিপ্রায়কে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং বাংলাদেশের সাধারন জনগণকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন গড়ে করে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশের আপামর জনতা “বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি (BAJP)' নামে একটি নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেছে ।
যা রোজ- বৃহষ্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫ ইং তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতা এবং সর্বোপরি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, লক্ষ লক্ষ শহীদ ও জনগণের অভিপ্রায়ের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টিকারী স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার জুলাই গণ-অভুত্থানের চেতনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ''বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি'' প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
নিম্নে উল্লেখিত ৯ টি দফার আলোকে বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি কর্মসূচি অবহিত করা হল -
১. বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি ক্ষমতা কুক্ষিগত করা নয়, বরং সুযোগ্য নাগরিক ও ভোটার তৈরির মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে, মানুষের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাসী ।
২. মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা,আইনের সু-শাসন, সবার জন্য শিক্ষা, দুর্নীতিমুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, স/ন্ত্রা/সবাদ, জ/ঙ্গি/বাদ ও সাম্প্রদায়িতকা প্রতিরোধ, জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন- এ লক্ষ্যে আয় বৈষম্য নিরসন ও সামাজিক সুরক্ষা, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, অনুন্নত সম্প্রদায় ও অনগ্রসর গোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি প্রদান করা হবে 'বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি' মূল ভিত্তি;
৩. উৎপাদনমুখী কৃষিব্যবস্থা, প্রযুক্তি ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা, মুক্তবাজার অর্থনীতির মাধ্যমে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকবে;
৪. সাম্রাজ্যবাদ, নয়া উপনিবেশবাদ, আধিপত্যবাদ থেকে বাংলাদেশকে সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি ও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান উন্নীত করার দিকে 'বাংলাদেশ আমজনগন পার্টি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
৫. গ্রামীণ জীবনভিত্তিক উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচীতে অগ্রাধিকার প্রদান এবং খাদ্য, বস্ত্র, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও শিক্ষার চাহিদা পূরণ এই ধরণের কর্মসূচীর বাস্তবায়নে 'বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি' সক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে;
৬. বহুদলীয় রাজনীতির অবাধ সুযোগ, গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থা ও জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সংসদীয় সরকার পদ্ধতির মাধ্যমে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে 'বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি' কাজ করবে। দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবারভিত্তিক অগ্রাধিকার বিলোপ করার মাধ্যমে দলের মধ্যে গণতন্ত্রের ধারা সৃষ্টি ও এই চর্চা বজায় রাখার ক্ষেত্রে 'বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি' কোনোরূপ সমঝোতা করবেনা, এই মর্মে স্থির সিদ্ধান্তে অটুট থাকবে;
৭. সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রণীত পবিত্র সংবিধানে মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণ ও স্বাধীন বিচার বিভাগের মাধ্যমে তা বলবৎকরণের জন্য জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করতে বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি অবিচল থাকবে;
৮. স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিচার বিভাগের জন্য নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথককরণ, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সাজানো ও সকল প্রকার প্রভাবমুক্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে যুক্তিযুক্ত সংখ্যক বিচারক ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ, বিচার প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং এর সাথে সম্পৃক্ত অংশীজনদের সমন্বয় নিশ্চিত করা ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে;
৯. জনসাধারণের সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সকল প্রকার দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নির্মূল করার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধাচার নিশ্চিত করা এবং কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য সকল সেবা সহজলভ্য করতে বাংলাদেশ আ- আম জনতা পার্টি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকবে। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির মেরুকরণের ভারসাম্য বুঝে জোট নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব, প্রীতি ও সমতা রক্ষার মাধ্যমে প্রতিবেশী রাষ্ট্র সমূহ, তৃতীয় বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রসহ ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্রসমূহের সাথে ন্যায্যতার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যে 'বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি' রাজনীতি পরিচালিত করবে।
আমাদের স্লোগান:
“শিক্ষা-সমতা, সু-বিচার যেখানে
আমজনগণ হাঁটবে সেখানে।”