12/06/2026
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ
কার্যালয় : ২২/১, তোপখানা রোড, ঢাকা - ১০০০
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
১২ই জুন ২০২৬
১৭ই জুন ঢাকায় ও ২৩শে জুন সারাদেশে বিক্ষোভ
সীমান্তে ভারতের অবৈধ পুশ ইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন ---- জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠক গতকাল ১১ই জুন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সজীব রায়, ভুলন ভৌমিক, কাজী ইকবাল, আমীর আব্বাস, মিনহাজ আহমেদ,সাজ্জাদ সুমন ও মিতু সরকার।
বৈঠকে বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক বেআইনিভাবে ভারতের বাংলাভাষী বাঙালিদের বাংলাদেশের ভিতরে পুশ ইন করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, সাম্রাজ্যবাদী ভারত আন্তর্জাতিক আইন, নিয়ম-কানুন লংঘন করে এই মানবতাবিরোধী কাজ করে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীরাবতার কঠোর সমালোচনা করা হয়।
বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারকে সীমান্তে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।বৈঠকে ভারতের নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিস্ট ভারত সরকার ও ভারতের সাউথ ব্লক যেভাবে ভারত এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় জনগণের মনোজগতে উগ্র হিন্দুত্ববাদের সাম্প্রদায়িক বিষবাস্প ছড়িয়ে দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের বৃহত্তর ঐক্য বিনষ্ট করতে লিপ্ত আছে তা রুখে দাঁড়ানোর জন্য দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানান হয়।
বৈঠকে আরও বলা হয়,অতীতে বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসকেরা যেভাবে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বকে ব্যবহার করে ঔপনিবেশিক শাসন জারী রাখতে চেয়েছিল তেমনি বর্তমানে দিল্লির শাসকেরা সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে তাদের আধিপত্য বিস্তারের চক্রান্ত চালাচ্ছে।বাংলাদেশের জনগণকে দোষারোপ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অব্যাহতভাবে বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভারতের পদলেহী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার উচ্ছেদ হয়ে যাবার পর বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা নজিরবিহীন। সম্প্রতি ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনের সময় তা নগ্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
বৈঠকে বলা হয়, বহু বছর ধরে ভারতের বিএসএফ সীমান্তে গুলি করে বিচার বহির্ভূতভাবে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা করে এলেও এইসব হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি।অতীতে বাংলাদেশের কোনো সরকারই এই বিচারের দাবী নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের শরণাপন্ন হয়নি।
বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের অবৈধ পুশ ইনের বিরুদ্ধে সীমান্তবর্তী জনগণের প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রতি বৈঠকে অভিনন্দন জানিয়ে বলা হয়,ভারতসহ সকল সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বৈঠকে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন পূর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়,বর্তমান বিএনপি সরকারকে এই অসম অধীনতামূলক চুক্তি বাতিল করতে হবে।জাতীয় সংসদে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে হবে।
বৈঠকে বলা হয়,পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে ভারতের সাথে সম্পাদিত সামরিক চুক্তি ও এমওইউ বাতিল করতে হবে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কোয়াড জোটে বাংলাদেশকে যুক্ত করা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক চুক্তি সম্পাদনের কোনো উদ্যোগ জনগণ মেনে নেবে না।
বৈঠকে অবৈধ পুশ ইন,সীমান্ত হত্যা ও ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আগামী ১৭ই জুন বিকেলে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ও ২৩শে জুন সারাদেশে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করার কর্মসূচী নেয়া হয়।
বার্তা প্রেরক
মিতু সরকার