14/08/2026
পলাশির প্রান্তরে ১৭৫৭ সালের পরাজয়ের পর আমরা হারিয়েছিলাম আমাদের রাষ্ট্র, স্বাধীনতা এবং মর্যাদা। সেই পরাজয় কেবল একটি যুদ্ধের সমাপ্তি ছিল না, এটি ছিল প্রায় ২০০ বছরের জন্য গোলামির শেকল পায়ে ঝুলিয়ে দেওয়ার সূচনা। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন শুধু অস্ত্রের জোরেই টিকে থাকেনি; তারা তৈরি করেছিলো এক বিশ্বাসঘাতক দালাল শ্রেণি, যাদের মধ্যে জমিদাররাই ছিল শোষণের প্রধান হাতিয়ার। খাজনা আর মহাজনী সুদের বোঝা চাপিয়ে তারা কৃষককে জমি থেকে উচ্ছেদ করত, গ্রাম থেকে গ্রাম দেউলিয়া হয়ে যেত, দুর্ভিক্ষে লাখো প্রাণ নিঃশেষ হতো।
ব্রিটিশদের আইন-আদালতও ছিল এই জমিদার শ্রেণির পক্ষে। সাধারণ মানুষ সরকারি চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও ব্যবসা থেকে বঞ্চিত ছিল, তাদের কেবল সস্তা শ্রমিক বা ভাড়াটে চাষা বানিয়ে রাখা হতো। মসজিদে নামাজ পড়া, শিক্ষা গ্রহণ, নিজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চা; সবই হয়ে দাঁড়িয়েছিল দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং রাষ্ট্রীয় বৈরিতার মধ্যে এক সংগ্রাম।
তবুও এই দীর্ঘ দাসত্বের শৃঙ্খল ভাঙতে আমরা থামিনি। ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, সিপাহী বিদ্রোহ, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, সূর্যসেনদের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন - প্রজন্মের পর প্রজন্ম রক্ত দিয়ে প্রতিরোধ গড়েছে। প্রতিটি আন্দোলন ছিল স্বাধীনতার বীজ বপনের একেকটি অধ্যায়।
অবশেষে অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট আমরা ফিরে পাই সেই লুণ্ঠিত স্বাধীনতার স্বাদ। ব্রিটিশদের শোষণ-অত্যাচার এবং জমিদারদের অবর্ণনীয় নিপীড়ন শেষে আমরা পেলাম নিজের ভুখণ্ড, নিজের পতাকা, নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার; মসজিদে নামাজ, মক্তবে কুরআন শিক্ষা, এবং নিজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার স্বাধীনতা।
এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্বাধীনতা কেবল কাগজের ঘোষণা নয়, এটি রক্ত, অশ্রু এবং অদম্য ইমানের ফসল। তাই, ১৯৪৭ আমাদের শপথ করায়, কখনোই যেন আমরা নতুন কোনো পলাশির পথে না হাঁটি, আর কোনো বিদেশি শক্তি বা দেশীয় মীরজাফরের হাতে আমাদের ভবিষ্যৎ বিক্রি না হয়।