05/09/2026
চাকরি গেছে দুর্নীতির দায়ে
ভাড়াটে লোক দিয়ে মানববন্ধন করছেন পিআইবি’র বিরুদ্ধে
পিআইবি’র মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে ৭/৮ জন ভাড়াটে লোক নিয়ে অপতত্পরতা চালাতে থাকা আলী হোসেন ছিলেন পিআইবি’র অ্যাকউন্টস বিভাগের কর্মচারী। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ক্ষতিগ্রস্থ কর্মচারিদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিচালনা বোর্ডের নির্দেশে তাঁকে চাকুরিচ্যুত করা হয়। আরেকজন দুর্নীতিগ্রস্থ ফরিদ উদ্দিনসহ পিআইবি’র মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে সক্রিয় রয়েছেন। ইতিপূর্বে পিআইবি’র মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র তৈরি করে গণমাধ্যমে মিথ্যাচার ছড়াবার বিষয়েও তার এবং আরো কয়েকজনের সংস্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলমান থাকায় নাম-ধাম প্রকাশ করা হলো না।
কে এই আলী হোসেন?
-পিআইবির কর্মচারীদের ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকার প্রভিডেন্ড ফান্ডের এফডিআর জালিয়াতির দায়ে পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশে চাকুরিচ্যুত হন আলী হোসেন।
-অর্থ কেলেঙ্কারিতে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকেও চাকুরিচ্যুত।
-পিআইবি’র সমন্বয়সভায় জালিয়াতির দায় স্বীকার করেন। রাজধানীর নন্দীপাড়া এলাকায় অবৈধ অর্থে পাঁচতলা বাড়ির মালিকানা।
-পরিবারের ব্যাংকের হিসাবে শত কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ।
-ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্তি।
-পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের ভাইকে দিয়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জাল ভিসা ব্যবসা চালিয়ে সম্পদ অর্জন করেছেন। সেই ভাই এখন দেশ থেকে পলাতক।
-দুর্নীতির দায়ে তাঁর সরকারি কর্মকর্তা ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ও পরিবারের সদস্যদের নামে দুদকের মামলা। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে তাঁর তিনটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২৩ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য মিলেছে। এই সরকারি কর্মকর্তা জাকির হোসেনের ভাই আলী হোসেন। আলী হোসেনের দাবি তিনি ভাইয়ের টাকায় নিজের পাঁচতলা বাড়ি করেছেন। প্রথম আলো লিংক: https://shorturl.at/L5bVj
বিস্তারিত
প্রেস ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর হিসাব বিভাগে কাজ করতেন মো. আলী হোসেন। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের উর্দ্ধতনদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পিআইবিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নেয় আলী হোসেন গং। তারা প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মচারীদের নামে একটি ব্যাংকে বেশ উচ্চ সুদে রাখা ছিলো ৫ কোটি টাকার প্রভিডেন্ড ফান্ড। সেই ফান্ড উচ্চতর সুদ থেকে নিম্নতর সূদে অন্য একটি ব্যাংকে রেখে অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি টাকা সুবিধা নেয় তারা। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক মুনাফার কোনো অর্থ দেখান নি আলী হোসেন। এতে করে ক্ষতিগ্রস্থ হয় পিআইবি’র নিম্নপদস্থ কর্মচারীরা। সরকার পরিবর্তনের পর এসব তথ্য পিআইবির মাসিক সমন্বয় সভায় প্রমানিত হলে, বিষয়টি পিআইবি পরিচালনা বোর্ডে পর্যালোচনার জন্য প্রেরণ করা হয়। বোর্ড তদন্ত শেষে তাকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকেও তারা অব্যাহতি পায়।
কিন্তু এরই মধ্যে বিভিন্ন জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে হয়েছেন বিত্ত ও বৈভবের মালিক। রাজধানীর নন্দীপাড়ায় ৫ তলার আলীশান বাড়ী বানিয়েছেন। তার পরিবারের নামে শত কোটির টাকার ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে (প্রথম আলো, ৪ জানুয়ারি, ২০২১)।
আলী হোসেন গংয়ের দুর্নীতি ও অপকর্মের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা চলমান এবং আইনী পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।