ছাত্রশিবির সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ,ঢাকা।

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • ছাত্রশিবির সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ,ঢাকা।

ছাত্রশিবির সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ,ঢাকা। Bangladesh Islami Chhatrashibir

ছাত্রশিবিরের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

মানুষের পরিচয়

আমরা মানুষ,সৃষ্টির সেরা জীব। আশরাফুল মাকলুখাত, মহান আল্লাহ অসংখ্য ছোট-বড় সৃষ্টির মধ্যে একমাত্র মানুষকেই সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সব সৃষ্টিকেই তিনি একটি নিয়মের অধীন করে দিয়েছেন। কিন্তু মানুষকে তিনি ইচ্ছার স্বাধীনতা দিয়েছেন। মানুষ যা চায় তাই করতে পারে। এত বড় মর্যাদার সাথে তিনি মানুষকে করেছেন খলীফা বা প্রতিনিধি

। মানুষ সৃষ্টির আগে তিনি ফেরেশতাদের ডেকে বললেন,‘‘আমি পৃথিবীতে আমার খলীফা বা প্রতিনিধি প্রেরণ করব”। (সূরা বাকারা-৩০) খলীফার কাজ হচ্ছে মনিবের প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করা এবং পরে যার প্রতিনিধি তাঁর কাছে হিসেব দেয়া।

জীবন বিধান ইসলাম

আল্লাহ মানুষকে দুনিয়ায় পাঠালেন। সাথে দিলেন তাঁর পক্ষ থেকে হেদায়াত। মানুষ যখনই তাঁর দেয়া হেদায়াত ভুলে পথভ্রষ্ট হয়েছে তখনই আল্লাহ তা’য়ালা পাঠিয়েছেন নবী বা রাসূল। সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। তিনি খাতামুন্নাবিয়ীন, সাইয়্যেদুল মুরসালীন। তাঁর পর আর কোন নবী আসবেন না। তিনি মানুষের কাছে নিয়ে এসেছেন হেদায়াত গ্রন্থ আল-কুরআন। আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলামকে তার মাধ্যমে পরিপূর্ণতা দান করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘‘ আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং আমার নিয়ামত তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ করলাম”। (সূরা মায়েদা-৩)

মুসলমানের পরিচয়

ইসলাম অর্থ আত্মসমর্পণ। তাই মানুষের মধ্যে যারা এ ইসলামকে কবুল করে বা আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণরুপে নিজেদের আত্মসমর্পণ করে তাদের বলা হয় ‘মুসলিম’। কেবল মুসলমানের ঘরে জন্ম হলেই কেউ মুসলমান হয়না, বরং কাফের মুশরিকদের ঘরে জন্ম নিয়েও কেউ যদি ঈমান আনে এবং ইসলামের সব বিধি-বিধান মেনে চলে তবে সেও মুসলিম। মানুষের মধ্যে মুসলিমরা সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি। কুরআনের ভাষায়, “তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেন তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও আর অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখ।“(সূরা- আলে ইমরান-১১০)

অন্য স্থানে বলা হয়েছে, “তোমাদেরকে মধ্যমপন্থি জাতি হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেন তোমরা মানুষের জন্য সত্যের সাক্ষ্য হতে পার।“ (সূরা-বাকারা-১৪৩)

কিন্তু

আজ মানুষ ভুলে গেছে তার পরিচয়। মুসলমান বিস্মৃত হয়েছে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে। ফলে জলে-স্থলে সর্বত্র চলছে অনাচার, অবিচার ও অশান্তির প্রবল স্রোত। মানুষে মানুষে চলছে হানাহানি, কাটাকাটি, হিংসা-বিদ্বেষ, অসাম্য ও দূর্ভোগ। অসংখ্য বনী আদম অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। অথচ লক্ষ লক্ষ টন খাদ্য সমুদ্রে ফেলে নষ্ট করা হচ্ছে, পারমানবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় ব্যয় হচ্ছে কোটি কোটি ডলার। যাদের মুখে শোনা যায় শান্তির ললিত বাণী তারাই আবার অপরকে দেয় পারমাণবিক বোমার হুমকি। অসহায় মানুষ আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছে মুক্তির জন্য। মুসলমানদের অবস্থাতো আরো করুণ; আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, কাশ্মীরসহ বিশ্বের অনেক স্থানে মুসলমানদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলছে বেদ্বীনরা। ইরাকের মুসলমানদের উপর চলছে ইহুদীবাদের ক্রীড়নক মার্কিনীদের নেতৃত্বে বিশ্ব ইসলাম বিরোধী শক্তির ভয়াবহ নিষ্ঠুর নির্যাতন। এ ব্যাপারে মুসলমানদের কোন ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা নেই, নেই কোন কার্যকর পদক্ষেপ। তাই মুসলমানদের বিরুদ্ধে দিন দিন ষড়যন্ত্র তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। অবশ্য ইসলামের বিজয়ের সম্ভাবনাও দিন দিন বাস্তবরূপ লাভ করছে।

একদিন...

সব মানুষকেই মরতে হবে। ফিরে যেতে হবে মহান স্রষ্টার কাছে। কিয়ামাতের প্রবল প্রলয়ে সমস্ত কিছু ধ্বংসের পর মানুষের ভাল-মন্দের বিচারের সময় এসে যাবে। সেদিন যাদের ভাল কাজের পরিমাণ বেশী হবে তারাই মুক্তি পাবে, পুরস্কার হিসেবে পাবে চির শান্তির জান্নাত। আর যাদের মন্দ কাজের পাল্লা ভারী হবে তারা পাবে অবর্ণনীয় আযাবে ভরপুর চির দুঃখের জাহান্নাম। যে যেখানেই যাবে সেখানেই থাকবে চিরদিন, অনন্তকাল। সেদিন অবশ্যই সকলকে দুনিয়ার বর্তমান অবস্থায় তার ভূমিকা ও কাজ সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।

তাই

আল্লাহ নিজেই সেদিনের মুক্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তাঁর কালামের ভাষায়, ‘‘তোমরা আল্লাহর রাস্তায় জান ও মাল দিয়ে লড়াই কর। এটিই হবে তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা বুঝ। তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করা হবে, আর তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে; যার তলদেশে আছে ঝর্ণাধারা।“ (সূরা আস্ সফ-১১-১২)

সুতরাং

আজকের এই অবস্থায় আমাদের উচিৎ ইসলাম সম্পর্কে জানা, কুরআন-হাদীস পড়া এবং মানুষের মুক্তির জন্য আল্লাহর পথে প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালানো, সৎ কাজের আদেশ দেয়া ও অসৎ কাজ হতে বিরত রাখা। কিন্তু এ কাজটি একা একা করা যায়না। এজন্য প্রয়োজন সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা। হযরত উমর রাঃ তাই বলেছেন, ‘‘দল ছাড়া ইসলাম হয় না।“ আমাদের দেশের অবস্থা বড়ই নাজুক। পৃথিবীর অন্যতম একটি দরিদ্র জনপদ এই দেশ। শতকরা ৪৯ জন মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করছে। মানুষের জীবনে নেই সুখ, নেই শান্তি, নেই কোন আদর্শের ছবি। শিশু কিশোররাও বেড়ে উঠছে অনৈতিকতার মধ্য দিয়ে। এ অবস্থা চলতে দিলে জাতির ভবিষ্যত গাঢ় অন্ধকারময়। এর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রয়োজন একদল সচেতন লোকের। তাই এখানেও আল্লাহর পথে তরুণদের ডাকার জন্য, দেশের ভবিষ্যত নাগরিকদের আদর্শ ও চরিত্রবানরূপে গড়ে তোলার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তরুণ ও মেধাবী ছাত্রদের সংগঠণ- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

শিবিরের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ

আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল সাঃ প্রদর্শিত বিধান অনুযায়ী মানুষের সার্বিক জীবনের পূণর্বিন্যাস সাধন করে আল্লাহর সন্তোষ অর্জন।

কর্মসূচীঃ

উল্লেখিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ইসলামী ছাত্রশিবির প্রণয়ন করেছে বিজ্ঞানসম্মত পাঁচ দফা কর্মসূচী:

এক. দাওয়াত : তরুণ ছাত্রসমাজের কাছে ইসলামের আহবান পৌঁছিয়ে তাদের মাঝে ইসলামী জ্ঞানার্জন এবং বাস্তব জীবনে ইসলামের পূর্ণ অনুশীলনের দায়িত্বানুভূতি জাগ্রত করা।

দুই. সংগঠন : যেসব ছাত্র ইসলামী জীবন বিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নিতে প্রস্তুত, তাদেরকে সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ করা।

তিন. প্রশিক্ষণঃ এই সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ ছাত্রদেরকে ইসলামী জ্ঞান প্রদান এবং আদর্শ চরিত্রবানরূপে গড়ে তুলে জাহেলিয়াতের সমস্ত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী হিসেবে গড়ার কার্যকরী ব্যবস্থা করা।

চার. ইসলামী শিক্ষা আন্দোলন ও ছাত্র সমস্যা: আদর্শ নাগরিক তৈরির উদ্দেশ্যে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন সাধনের দাবিতে সংগ্রাম এবং ছাত্রসমাজের প্রকৃত সমস্যা সমাধানের সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান।

পাঁচ. ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ : অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং সাংস্কৃতিক গোলামী হতে মানবতার মুক্তির জন্য ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো।

দেশের প্রতিটি জনপদ জুড়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কাজ করে যাচ্ছে তার বিশাল কর্মী বাহিনী নিয়ে। শিবির একজন তরুণকে একই সাথে একজন ভাল ছাত্র ও একজন ভাল মুসলমান হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করছে। ব্যক্তিগত রিপোর্টে পাঠ্য বই পড়ার ও ক্লাসে উপস্থিতির হিসেব রাখার ব্যবস্থা করে শিবির তার কর্মীদের ভাল ছাত্র হতে আগ্রহী করে তোলে।

ইসলাম যেমন সকল মানুষের কল্যাণের জন্য তেমনি ইসলামী ছাত্রশিবিরও মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবার কাছে ইসলামকে সুন্দরভাবে তুলে ধরার কর্মসূচী নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই এই সুন্দর কর্মসূচী ও চরিত্রবান কর্মীদের প্রতি দিন দিন জনসমর্থন বাড়ছে। আসুন, আপনিও শিবিরের পতাকাতলে সমবেত হয়ে নিজেকে গড়ে তুলুন সুন্দর ও যোগ্যতম ব্যক্তি হিসেবে। শরিক হোন ইহকাল ও পরকালের মুক্তিকামী মানুষের এই কাফেলায়।

সীরাতের আলোকিত পথ ধরি,সুন্নাহর সৌরভে জীবন গড়ি।জাতীয় সীরাত পাঠ প্রতিযোগিতা’২৬“রোড টু সিরাহ”প্রিয় শিক্ষার্থী,রাসূলুল্লাহ ﷺ...
17/08/2026

সীরাতের আলোকিত পথ ধরি,
সুন্নাহর সৌরভে জীবন গড়ি।

জাতীয় সীরাত পাঠ প্রতিযোগিতা’২৬
“রোড টু সিরাহ”

প্রিয় শিক্ষার্থী,

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনাদর্শ অধ্যয়ন, সুন্নাহভিত্তিক জীবন গঠন এবং তরুণসমাজের মাঝে সীরাতচর্চা বিস্তারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় সীরাত পাঠ প্রতিযোগিতা’২৬ “রোড টু সিরাহ”।

🗓 সময়সূচি

🔹 নিবন্ধন: ১ আগস্ট – ২০ আগস্ট ২০২৬
🔹 অনলাইন এমসিকিউ পরীক্ষা: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
🔹 চূড়ান্ত পরীক্ষা ও পুরস্কার বিতরণ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

❖ প্রতিযোগিতার গ্রুপ ও নির্ধারিত সিলেবাস

➤ গ্রুপ-ক: অষ্টম–দশম শ্রেণি/নাহবেমীর,হেদায়াতুন্নাহু,কাফিয়া জামাত
 ▪️ নির্ধারিত গ্রন্থ: রাসূল (সা.)-এর বিপ্লবী জীবন

➤ গ্রুপ-খ: উচ্চ মাধ্যমিক, পলিটেকনিক/শরহে বেকায়া-জালালাইন জামাত/সমমনা
 ▪️ নির্ধারিত গ্রন্থ: সীরাতে ইবনে হিশাম

➤ গ্রুপ-গ: অনার্স ও মাস্টার্স/মেশকাত-দাওরায়ে হাদিস
 ▪️ নির্ধারিত গ্রন্থ: মানবতার বন্ধু মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (সা.)

❖ প্রতিযোগিতার নিয়মাবলি

✓ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করতে হবে।

✓ রেজিস্ট্রেশন ফি: মাত্র ৫০ টাকা।

√প্রতিযোগিতা দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হবে: অনলাইন এমসিকিউ পদ্ধতি এবং ঢাকায় সরাসরি এমসিকিউ পদ্ধতি।

√অনলাইন পর্বে উত্তীর্ণ বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতি গ্রুপ থেকে প্রথম ২০ জন চূড়ান্ত ধাপে অংশ নেবে।

✓ প্রতিটি পরীক্ষার সময় ৬০ মিনিট, প্রশ্ন ১০০টি এবং পূর্ণমান ১০০।

✓ প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কর্তন করা হবে।

⇲⇲রেজিস্ট্রেশন লিংক কমেন্টে। ⇱⇱

🏆পুরস্কারসমূহ

◑ ১ম (গ্রুপ-ক): নগদ ৬০,০০০ টাকা শিক্ষাবৃত্তি, ক্রেস্ট ও সনদ।

◑ ১ম (গ্রুপ-খ ও গ): ওমরাহ করানো হবে, ক্রেস্ট ও সনদ।

◑ ২য় (সকল গ্রুপ): ল্যাপটপ, ৮,০০০ টাকা শিক্ষাবৃত্তি, ক্রেস্ট ও সনদ।

◑ ৩য় (সকল গ্রুপ): ২৫,০০০ টাকা শিক্ষাবৃত্তি, ক্রেস্ট ও সনদ।

◑ ৪র্থ–১০ম (সকল গ্রুপ): প্রত্যেকে ১৫,০০০ টাকা শিক্ষাবৃত্তি, ক্রেস্ট ও সনদ।

◑ ১১তম–২৫তম (সকল গ্রুপ): প্রত্যেকে ১০,০০০ টাকা শিক্ষাবৃত্তি, ক্রেস্ট ও সনদ।

◑ বিভাগীয় পর্যায়: বিভাগীয় পর্যায়ে উত্তীর্ণ প্রথম ৫ জনকে শিক্ষাবৃত্তি, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হবে।

মৃত্যুদণ্ড রায়ের প্রসঙ্গে বিচারকদের উদ্দেশ্যে আল্লামা বলেন—“আপনারা নিজেদের শপথের উপর দায়বদ্ধ থেকে বিচার করতে পারেননি।আপন...
14/08/2026

মৃত্যুদণ্ড রায়ের প্রসঙ্গে বিচারকদের উদ্দেশ্যে আল্লামা বলেন—
“আপনারা নিজেদের শপথের উপর দায়বদ্ধ থেকে বিচার করতে পারেননি।
আপনারা শাহবাগের নাস্তিকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই রায় দিয়েছেন।”
—মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরবিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমমানুষের পরিচয়ঃআমরা মানুষ, সৃষ্টির সেরা জীব। আশর...
28/07/2026

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

মানুষের পরিচয়ঃ
আমরা মানুষ, সৃষ্টির সেরা জীব। আশরাফুল মাখলুকাত, মহান আল্লাহ্‌ অসংখ্য ছোট-বড় সৃষ্টির মধ্যে একমাত্র মানুষকেই সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সব সৃষ্টিকেই তিনি একটি নিয়মের অধীন করে দিয়েছেন। কিন্তু মানুষকে তিনি ইচ্ছার স্বাধীনতা দিয়েছেন। মানুষ যা চায় তাই করতে পারে। এত বড় মর্যাদার সাথে তিনি মানুষকে করেছেন খলীফা বা প্রতিনিধি। মানুষ সৃষ্টির আগে তিনি ফেরেস্তাদের ডেকে বললেন, “আমি পৃথিবীতে আমার খলিফা বা প্রতিনিধি প্রেরণ করব”। (সূরা বাকারা-৩০) খলিফার কাজ হচ্ছে মনিবের প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করা এবং পরে যার প্রতিনিধি তাঁর কাছে হিসেব দেয়া।

জীবন বিধান ইসলামঃ
আল্লাহ্‌ মানুষকে দুনিয়ায় পাঠালেন। সাথে দিলেন তাঁর পক্ষ থেকে হেদায়েত। মানুষ যখনই তাঁর দেয়া হেদায়েত ভুলে পথভ্রষ্ট হয়েছে তখনই আল্লাহ্‌ পাঠিয়েছেন নবী বা রাসূল। সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। তিনি খাতামুন্নাবিয়ীন, সাইয়েদুল মুরসালীন। তাঁর পর আর কোন নবী আসবেন না। তিনি মানুষের কাছে নিয়ে এসেছেন হেদায়েত গ্রন্থ আল-কোরআন। আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবনব্যবস্থা ইসলামকে তিনি পরিপূর্ণতা দান করেছেন। আল্লাহ্‌ বলেন, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং আমার নিয়ামত তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ করলাম।”(সূরা মায়েদা-৩)

মুসলমানের পরিচয়ঃ
ইসলাম অর্থ আত্মসমর্পণ। তাই মানুষের মধ্যে যারা এ ইসলামকে কবুল করে বা আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণভাবে নিজেদের আত্মসমর্পণ করে তাদের বলা হয় ‘মুসলিম’। কেবল মুসলমানের ঘরে জন্ম হলেই কেউ মুসলমান হয় না, বরং কাফের মুশরিকের ঘরে জন্ম নিয়েও কেউ যদি ঈমান আনে এবং ইসলামের সব বিধি-বিধান মেনে চলে তবে সেও মুসলিম। মানুষের মধ্যে মুসলিমরা সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি। কুরআনের ভাষায়, “তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেন তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও আর অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখ।”(সূরা আলে ইমরান-১১০) অন্যস্থানে বলা হয়েছে, “তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী জাতি হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেন তোমরা মানুষের জন্য সত্যের সাক্ষ্য হতে পারো।”(সূরা বাকারা-১৪৩)

কিন্তুঃ
আজ মানুষ ভুলে গেছে তার পরিচয়। মুসলমান বিস্মৃত হয়েছে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য। ফলে জলে-স্থলে সর্বত্র চলেছে অনাচার, অবিচার ও অশান্তির প্রবল স্রোত। মানুষে মানুষে চলছে হানাহানি, কাটাকাটি, হিংসা-বিদ্বেষ, অসাম্য ও দুর্ভোগ। অসংখ্য বনি আদম অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। অথচ লক্ষ লক্ষ টন খাদ্য সমুদ্রে ফেলে নষ্ট করা হচ্ছে, পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় ব্যয় হচ্ছে কোটি কোটি ডলার। যাদের মুখে শোনা যায় শান্তির ললিত বাণী তারাই আবার অপরকে দেয় পারমানবিক বোমার হুমকি। অসহায় মানুষ আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছে মুক্তির জন্য। মুসলমানদের অবস্থাতো আরো করূন; আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, কাশ্মীরসহ বিশ্বের অনেক স্থানে মুসলমানদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলছে বেদ্বীনরা। ইরাকের মুসলমানদের ওপর চলছে ইহূদিবাদের ক্রীড়নক মার্কিনীদের নেতৃত্বে বিশ্ব ইসলাম বিরোধী শক্তির ভয়াবহ নিষ্ঠুর নির্যাতন। এ ব্যাপারে মুসলমানদের কোন ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা নেই, নেই কোন কার্যকর পদক্ষেপ। তাই মুসলমানদের বিরুদ্ধে দিন দিন ষড়যন্ত্র তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। অবশ্য ইসলামের বিজয়ের সম্ভাবনাও দিন দিন বাস্তবরূপ লাভ করছে।

একদিনঃ
সব মানুষকেই মরতে হবে। ফিরে যেতে হবে মহান স্রষ্টার কাছে। কিয়ামতের প্রবল প্রলয়ে সমস্ত কিছু ধ্বংসের পর মানুষের ভাল-মন্দের বিচারের সময় এসে যাবে। সেদিন যাদের ভাল কাজের পরিমাণ বেশি হবে তারাই মুক্তি পাবে, পুরস্কার হিসেবে পাবে চির শান্তির জান্নাত। আর যাদের মন্দ কাজের পাল্লা ভারি হবে তারা পাবে অবর্ণনীয় আজাবে ভরপুর চির দুঃখের জাহান্নাম। যে যেখানেই যাবে সেখানেই থাকবে চিরদিন, অনন্তকাল।
সেদিন অবশ্যই সকলকে দুনিয়ার বর্তমান অবস্থায় তাঁর ভূমিকা ও কাজ সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।

তাইঃ
আল্লাহ্‌ নিজেই সেদিনের মুক্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তাঁর কালামের ভাষায়, “তোমরা আল্লাহর রাস্তায় মাল ও জান দিয়ে লড়াই কর। এটিই হবে তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা বুঝ। তোমাদের গোনাহ ক্ষমা করা হবে, আর তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে যার তলদেশে আছে ঝর্ণাধারা।”(সূরা আস সফ ১১-১২)

সুতরাং
আজকের এ অবস্থায় আমাদের উচিত ইসলাম সম্পর্কে জানা, কুরআন-হাদিস পড়া এবং মানুষের মুক্তির জন্য আল্লাহর পথে প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালানো, সৎ কাজের আদেশ দেয়া ও অসৎ কাজ হতে বিরত রাখা। কিন্তু এ কাজটি একা একা করা যায় না। এজন্য প্রয়োজন সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা। হযরত ওমর (রাঃ) তাই বলেছেন, “দল ছাড়া ইসলাম হয় না”। আমাদের দেশের অবস্থা বড়ই নাজুক। পৃথিবীর অন্যতম একটি দরিদ্র জনপদ এই দেশ। শতকরা ৪৯ জন মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করছে। মানুষের জীবনে নেই কোন সুখ, নেই শান্তি, নেই কোন আদর্শের ছবি। শিশু-কিশোররাও বেড়ে উঠছে অনৈতিকতার মধ্য দিয়ে। এ অবস্থা চলতে দিলে জাতির ভবিষ্যৎ গাঢ় অন্ধকারময়। এর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রয়োজন একদল সচেতন লোকের। তাই এখানেও আল্লাহর পথে তরুণদের ডাকার জন্য, দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের আদর্শ ও চরিত্রবানরূপে গড়ে তোলার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তরুণ ও মেধাবী ছাত্রদের সংগঠন- “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির”।

শিবিরের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ
আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল ( সাঃ) প্রদর্শিত বিধান অনুযায়ী মানুষের সার্বিক জীবনের পুনর্বিন্যাস সাধন করে আল্লাহর সন্তোষ অর্জন।

কর্মসূচিঃ
উল্লেখিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ইসলামী ছাত্রশিবির প্রণয়ন করেছে বিজ্ঞানসম্মত পাঁচ দফা কর্মসূচী।
একঃ দাওয়াত–
তরুন ছাত্র সমাজের কাছে ইসলামের আহবান পৌঁছিয়ে তাদের মাঝে ইসলামী জ্ঞানার্জন এবং বাস্তব জীবনে ইসলামের পুর্ণ অনুশীলনের দায়িত্তানুভূতি জাগ্রত করা।
দুইঃ সংগঠন-
যেসব ছাত্র ইসলামী জীবন বিধান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নিতে প্রস্তুত তাদেরকে এই সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ করা।
তিনঃ প্রশিক্ষণ-
এই সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ ছাত্রদেরকে ইসলামী জ্ঞান প্রদান ও আদর্শ চরিত্রবানরুপে গড়ে তুলে জাহেলিয়াতের সমস্ত চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী হিসেবে গড়ার কার্যকরী ব্যবস্থা করা।
চারঃ ইসলামী শিক্ষা আন্দোলন ও ছাত্রসমস্যা-
আদর্শ নাগরিক তৈরির উদ্দেশ্যে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন সাধনের দাবিতে সংগ্রাম ও ছাত্র সমাজের প্রকৃত সমস্যা সমাধানের সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান।
পাঁচঃ ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ-
অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও সাংস্কৃতিক গোলামী হতে মানবতার মুক্তির জন্য ইসলামী সমাজ বিনির্মানে সর্বাত্তক প্রচেষ্টা চালানো।

দেশের প্রতিটি জনপদ জুড়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কজ করে যাচ্ছে তার বিশাল কর্মী বাহিনী নিয়ে। শিবির একজন তরুণকে একই সাথে একজন ভালো ছাত্র ও একজন ভালো মুসলমান হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করছে। ব্যক্তিগত রিপোর্টে পাঠ্য বই পড়ার ও ক্লাশে উপস্থিতির হিসেব রাখার ব্যাবস্থা করে শিবির তাঁর কর্মীদের ভাল ছাত্র হতে আগ্রহী করে তুলে।
ইসলাম যেমন সকল মানুষের কল্যাণের জন্য তেমনি ইসলামী ছাত্রশিবিরও সকল মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবার কাছে ইসলামকে সুন্দরভাবে তুলে ধরার কর্মসূচী নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই এই সুন্দর কর্মসূচী ও চরিত্রবান কর্মীদের প্রতি দিন দিন জন সমর্থন বাড়ছে।
আসুন, আপনিও শিবিরের পতাকাতলে সমবেত হয়ে নিজেকে গড়ে তুলুন সুন্দর ও যোগ্যতম ব্যক্তি হিসেবে। শরীক হোন ইহকাল ও পরকালের মুক্তিকামী মানুষের এই কাফেলায়।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জানতে হলে পড়ুন

· ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংবিধান
· ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মপদ্ধতি
· আমরা কি চাই, কেন চাই, কিভাবে চাই
· এসো আলোর পথে
· মুক্তির পয়গাম
· ছাত্র সংবাদ
· Perspective

প্রকাশনায়
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
কেন্দ্রীয় কার্যালয়
৪৮/১-এ পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ৯৫৫০৫৩৮, ৯৫৬৬৪৪০
Website: www.shibir.org.bd
E-mail: [email protected]

গত ১৭ জুলাই, ২০২৬  ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান ও বানিজ্য অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী...
23/07/2026

গত ১৭ জুলাই, ২০২৬ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান ও বানিজ্য অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ পানি,কলম বিতরণসহ পরীক্ষা সংক্রান্ত সার্বিক সহযোগিতার জন্য হেল্প ডেস্ক স্থাপন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা।

উক্ত কার্যক্রম পরিদর্শনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর দক্ষিণ শাখার শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক ও সাবেক সোহরাওয়ার্দী কলেজ সভাপতি নুরনবী আকন্দ, ব্যবসায় শিক্ষা ও পাবলিক রিলেশন সম্পাদক হাসিব বিন হাসান, কবি নজরুল কলেজ সভাপতি আরিফুর রহমান ।



মানুষের তৎপরতা যত বৃদ্ধি পায়, যত অধিক গুরুত্ব অর্জন করে, সেখানে শয়তানের হস্তক্ষেপও ততই ব্যাপকতর হতে থাকে। এদিক দিয়ে বর্ত...
22/07/2026

মানুষের তৎপরতা যত বৃদ্ধি পায়, যত অধিক গুরুত্ব অর্জন করে, সেখানে শয়তানের হস্তক্ষেপও ততই ব্যাপকতর হতে থাকে। এদিক দিয়ে বর্তমান যুগ উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এ যুগে একদিকে পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী ও স্বার্থপূজারী সভ্যতা আমাদের জাতির নৈতিক পতনকে চরম পর্যায়ে উপনীত করেছে, অন্যদিকে চলছে সমাজতন্ত্রের নাস্তিক্যবাদী চিন্তার হামলা। এ হামলা আমাদের জাতির মৌলিক ঈমান-আকীদার মধ্যে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করেছে। এর ফলে ইসলামের সাথে জাতির গভীর প্রেম-প্রীতিময় সম্পর্কের ভিত্তি নড়ে উঠেছে। বিপর্যয় ও অনিষ্টকারিতার ‘সিপাহসালার’ শয়তান যে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল হুবহু তারই চিত্র যেন আজ ফুটে উঠেছে।

শয়তান বলেছিলঃ

“আমি (হামলা করার জন্য) এদের (মানব জাতির) সামনে থেকে আসবো, পিছন থেকে আসবো, ডান দিক থেকে আসবো, বাম দিক থেকে আসবো।“ (সূরা আরাফঃ ১৭)

এ অবস্থায় আমাদের অনেক কল্যাণকামী বন্ধু দুনিয়ার ঝামেলা থেকে সরে এসে সংসারের একান্তে বসে কেবল নিজের মুসলমানিত্বটুকু বজায় রাখার জন্য প্রচেষ্টা চালাবার উপদেশ দান করে থাকেন। অবশ্য এ অবস্থার মধ্যে অবস্থান করা মামুলী ব্যাপার নয়। সাধারণ অবস্থায় প্রত্যেক সৎ ব্যক্তি নৈতিকতার আদর্শকে কায়েম রাখে। কিন্তু নৈতিক উচ্ছৃঙ্খলার প্রবল বাত্যা পরিবেষ্টিত হয়ে উন্নত নৈতিক বৃত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু কিছু সংখ্যক লোক যদি মহামারি আক্রান্ত এলাকা থেকে দূরে অবস্থান করে নিজেদের স্বাস্থ্যোন্নতির কাজে ব্যাপৃত থাকে এবং নিশ্চিন্তে মহামারিকে নৈতিক মৃত্যুর বিভীষিকা চালিয়ে যাবার ব্যাপক অনুমতি দান করে, তাহলে আমাদের মতে এর চাইতে বড় স্বার্থপরতা আর হতে পারে না। মাজারের নিকট যে সমস্ত মূল্যবান প্রদীপ ও স্বর্ণনির্মিত বাতিদান অযথা আলোক বিচ্ছুরণ করে, অথচ তাদের সন্নিকটে বনে-জঙ্গলে মানুষের কাফেলা পথভ্রষ্ট হয়ে দস্যুহস্তে লুন্ঠিত হয়, সেই প্রদীপ ও বাতিদানের অস্তিত্ব-অনস্তিত্ব যেমন সমান মূল্যহীন, ঠিক তেমনি যে ঈমান, ইসলাম ও তাকওয়া চতুষ্পার্শের পরিবেশকে আলোকিত করার জন্য কর্মক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়ার পরিবর্তে বিরোধী শক্তির ভয়ে মসজিদে আশ্রয় খুঁজে ফেরে, তাও হৃদয়-মনের জন্য নিছক স্বর্ণালংকার বৈ আর কিছুই নয়। চরিত্রের যে ‘মূলধন’কে ক্ষতির আশঙ্কায় হামেশা সিন্দুকের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখা হয় এবং যা হামেশা অনুৎপাদক (Unproductive) অবস্থায় বিরাজিত থাকে, সমাজ জীবনের জন্যে তার থাকা না থাকা সমান। মুসলমান নারী-পুরুষ এবং মুসলিম দলের নিকট চরিত্র ও ঈমানের কিছু ‘মূলধন’ থাকলে তাকে বাজারে আবর্তন (Circulation) করার জন্য ছেড়ে দেওয়া উচিত। তারপর মূলধন নিয়োগকারীদের মধ্যে যোগ্যতা থাকলে সে মূলধন লাভসহ ফিরে আসবে, আর অযোগ্য হলে লাভ তো দূরের কথা আসল পুঁজিও মারা পড়বে। কিন্তু বাজারে আবর্তিত হতে থাকার মধ্যেই পুঁজির স্বার্থকতা। অন্যথায় যত অধিক পরিমাণ পুঁজিই জমা করা হোক না কেন তা পুরোপুরি ব্যর্থ হতে বাধ্য।

ইসলামী আন্দোলনের কর্মীগণ যখন তাদের চরিত্র ও ঈমানের ন্যূনতম পুঁজি এ পথে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, তখন একে কেবল ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাবার জন্যই নয়, বরং দেশ ও জাতির এবং আমাদের নিজেদেরকেও এ থেকে অধিকতর মুনাফা অর্জনের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একজন স্বল্প পুঁজিদার ব্যবসায়ীর ন্যায় আমাদের রক্ত পানি করা উপার্জনকে ব্যবসায়ে খাটাবার ব্যাপারে পূর্ণ সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত। এর পরিচালনা এবং দেখা-শুনার জন্য যাবতীয় উপায়ও অবলম্বন করা কর্তব্য। মহামারী আক্রান্ত এলাকায় জনগণের সেবা করার জন্য আমাদের নিজেদের স্বার্থরক্ষার সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

বই: চরিত্র গঠনের মৌলিক উপাদান
লেখক: নঈম সিদ্দিকী

‘ককরোচ মুভমেন্ট’-এ দমনপীড়ন মোদি সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জা...
22/07/2026

‘ককরোচ মুভমেন্ট’-এ দমনপীড়ন মোদি সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ছাত্রশিবিরের বিবৃতি

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি আওলাদ জিসানের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিঢাকা সেন...
18/07/2026

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি আওলাদ জিসানের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রধান ফটকের সামনে কলেজের ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি আওলাদ জিসানের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
অভিযোগ অনুযায়ী, ‘DCU INSIDER’ নামের একটি ফেসবুক পেজের পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম ও সদস্য অভির নেতৃত্বে মব সৃষ্টি করে এই হামলা চালানো হয়। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল একটি নিরাপদ, সহনশীল ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসমৃদ্ধ ক্যাম্পাস। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থীর মতপ্রকাশের কারণে তার ওপর হামলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষাঙ্গনের নিরাপদ পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক চর্চাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বিশ্বাস করে, মতের ভিন্নতার সমাধান কখনোই সহিংসতা বা পেশিশক্তির মাধ্যমে হতে পারে না; বরং তা হতে হবে যুক্তি, সংলাপ এবং আইনের মাধ্যমে। তাই আমরা কলেজ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করুন।
একই সঙ্গে আমরা আশা করি, অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সংগঠন প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং শিক্ষাঙ্গনে সহনশীলতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

বার্তাপ্রেরক
তানভীর হাসান
প্রচার সম্পাদক,
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
সরকারি শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী কলেজ,ঢাকা।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ পানি,ক...
17/07/2026

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ পানি,কলম বিতরণসহ পরীক্ষা সংক্রান্ত সার্বিক সহযোগিতার জন্য হেল্প ডেস্ক স্থাপন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা।

Address

Laxmibazar
Dhaka
1100

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ছাত্রশিবির সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ,ঢাকা। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to ছাত্রশিবির সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ,ঢাকা।:

Shortcuts

Share