25/08/2026
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সার্বিক পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাবি সংসদ
নিরাপত্তার নামে নিয়ন্ত্রণ নয়, চাই গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের নিশ্চয়তা
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ২৫ আগস্ট ২০২৬ – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সার্বিক অবস্থায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি প্রমাণ করছে, এখানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে একদিকে প্রশাসনিক ক্ষমতার মাধ্যমে মতপ্রকাশকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলের ওপর বৈষম্যমূলক সান্ধ্য আইন বাতিল করার ক্ষেত্রেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। আবার ক্যাম্পাসে ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনাও ঘটছে। ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হওয়া শিক্ষার্থী মোঃ ইব্রাহিমকে শোকজ করা, রাজু ভাস্কর্যের সামনে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা এবং নারী শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপিত ‘সান্ধ্য আইন’ তিনটি ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো প্রশাসনিক সমস্যা নয়; বরং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার সংকট, কর্তৃত্ববাদী নিয়ন্ত্রণ এবং গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করার একটি রাজনৈতিক কুচক্রান্ত।
গত ১৬ আগস্ট হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলার পর ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থী মোঃ ইব্রাহিমকে প্রভোস্ট কক্ষে ডেকে নিয়ে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া ও জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্য আদায়ের অভিযোগের পরও তার বিরুদ্ধেই শোকজ জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগের প্রতিকার ও নিরপেক্ষ তদন্তের পরিবর্তে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর ওপরই প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একইভাবে, ১৯ আগস্ট রাজু ভাস্কর্য সংলগ্ন এলাকায় নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের শোডাউনে আসা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছেন। এই হামলায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মোস্তাকিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকারসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পরিসরের ওপর সরাসরি আঘাত। অপর দিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ প্রশাসন যখন রাতের নির্দিষ্ট সময়ে শুধু নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করে, তখন নিরাপত্তার দায় প্রশাসনের পরিবর্তে নারীর স্বাধীনতার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। ফলে একদিকে নারী শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চলাচল ও সমঅধিকার সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে অন্যায় ও নিপীড়নের প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের ওপরও চাপ ও হামলার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ মনে করে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, বৈষম্যহীন নীতিমালা, বহিরাগত সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস এবং মুক্ত রাজনৈতিক ও মতপ্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ নিম্নোক্ত দাবিগুলো উত্থাপন করছে:
১। শিক্ষার্থী মোঃ ইব্রাহিমের শোকজ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার মূল সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করতে হবে। হামলা ও নির্যাতনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
২। টিএসসি এলাকায় নারী শিক্ষার্থী হেনস্তা এবং প্রতিবাদকারী ছাত্র নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩। নারী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিল করতে হবে। সকল শিক্ষার্থীর জন্য ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৪। ক্যাম্পাসে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আনাগোনা এবং প্রশাসনিক সব ধরনের হয়রানি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
নিরাপত্তার নামে শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা খর্ব করা কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের কারণে শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও হামলা রুখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সকল শিক্ষার্থীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।
বার্তাপ্রেরক,
মৃধা রাইয়ান
দপ্তর সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ