26/08/2026
যে কোম্পানিতে “জি স্যার” বেশি, সেখানে সত্য কথা কম—আর পতনটা শুধু সময়ের ব্যাপার।
একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক মানুষ সে নয়, যে ভুল করে। বরং সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো সেই পরিবেশ, যেখানে কেউ ভুল ধরিয়ে দেওয়ার সাহস পায় না। যখন একজন নেতার প্রতিটি কথার উত্তরে শুধু “জি স্যার” শোনা যায়, তখন ধীরে ধীরে সত্য কথা বলার সংস্কৃতি হারিয়ে যায়। সবাই বুঝতে পারে—সত্য বললে হয়তো প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে, কিন্তু সম্মতি জানালে নিরাপদ থাকা যাবে। আর এভাবেই একটি প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতার চেয়ে তোষামোদ বেশি মূল্য পেতে শুরু করে।
একজন কর্মী যদি বসের সিদ্ধান্তের ভুল দেখেও চুপ থাকে, সমস্যার কথা জেনেও না বলে, কিংবা শুধু নিজের অবস্থান নিরাপদ রাখার জন্য প্রতিটি কথায় সম্মতি দেয়—তাহলে প্রতিষ্ঠান বাইরে থেকে যতই শক্তিশালী দেখাক, ভেতরে ভেতরে তার ভিত্তি দুর্বল হতে থাকে। কারণ, বাস্তব সমস্যাগুলো তখন আর নেতৃত্বের টেবিলে পৌঁছায় না। রিপোর্টে সবকিছু ভালো দেখায়, মিটিংয়ে সবাই একমত থাকে, কিন্তু বাস্তবতা ধীরে ধীরে অন্য গল্প বলতে শুরু করে।
ভালো নেতৃত্বের অর্থ এই নয় যে, সবাই নেতার সঙ্গে একমত হবে। বরং ভালো নেতৃত্ব হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে একজন জুনিয়র কর্মীও প্রয়োজনে সিনিয়রকে বলতে পারে—“স্যার, এখানে আমরা ভুল করছি।” যে নেতা নিজের সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেন, তিনি প্রতিষ্ঠানের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ তৈরি করেন। আর যে নেতা শুধু প্রশংসা শুনতে চান, তিনি হয়তো কিছুদিন স্বস্তিতে থাকবেন, কিন্তু একসময় বাস্তবতা তাকে কঠিন উত্তর দেবে।
মনে রাখতে হবে, তোষামোদ একজন নেতাকে সাময়িকভাবে খুশি করতে পারে, কিন্তু সত্য কথা একটি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখে। তাই কর্মীরা যদি শুধু “জি স্যার” বলতে শেখে, তাহলে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার যথেষ্ট কারণ আছে। কারণ পতন সাধারণত একদিনে আসে না—প্রথমে সত্য কথা বলা বন্ধ হয়, তারপর ভুল সিদ্ধান্ত বাড়ে, এরপর যোগ্য মানুষগুলো নীরব হয়ে যায় বা দূরে সরে যায়। আর শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান বুঝতে পারে, সবাই যখন “জি স্যার” বলছিল, তখন আসলে কেউ তাকে সত্যিকারের সতর্ক করছিল না।