13/07/2015
//লাইফস্টাইল। সে এক বড় দায়। পৃথিবী বিপন্ন-র ভূমিকায় ধিক্কৃত হয়েছে ‘অকথ্য ভোগবাদ’। অর্থ আছে বলেই যত খুশি জিনিস কেনার, বিদ্যুৎ-পেট্রোল-ডিজেল বেহিসেবি খরচ করার, কাগজ, মোড়ক, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম যথেচ্ছ ব্যবহার ও অপচয় করার পরিণামে প্রকৃতির ওপর নিপীড়নের হিসেব কষা হয় না। এ প্রসঙ্গে লেখক টেনেছেন ‘এক্সটারনাল কস্ট’-এর প্রসঙ্গ, কিংবা কার্বন নিঃসরণের জন্য কর ধার্যের দাবি। পরিবেশের ক্ষতি হিসেবে আনলে প্লাস্টিকের ব্যাগ বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের উৎপাদন মূল্য হবে বাজারে ও-সবের দামের বহু গুণ বেশি। এ ব্যাপারে লেখক যা উল্লেখ করেননি, তা ওই লুকোনো খরচের চেয়ে কোনও অংশে কম ক্ষতিকর নয়। আধুনিক জীবনযাত্রার সেই অলাভজনক দিকটি এখন পরিবেশ আন্দোলনে রীতিমতো আলোচ্য। উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা স্পষ্ট হবে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় প্রকাশ, এক কিলোগ্রাম ইনস্ট্যান্ট কফি প্রস্তুতে ১৮,৯৪৮ কিলোক্যালরি এনার্জি খরচ হয়। ওই কফি যে পাত্রে বিক্রি হয়, তা বানাতে আরও ২,২১৩ কিলোক্যালরি এনার্জি লাগে। অথচ ওই কফি সেবনে (৬ আউন্সের ৫২৯ কাপ) যে শক্তি পাওয়া যায়, তা মাত্র ২,৬৪৫ কিলোক্যালরি।
নাইন-ইলেভেন-এর পর যে বিশাল উদ্যোগ, তৎপরতা ও আর্থিক ব্যয়ে গোটা পৃথিবী সন্ত্রাসবাদ দমনে নেমে পড়েছিল, সে দিকে তাকিয়ে পৃথিবী বিপন্ন-র লেখকের খেদ: ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়ের হাত থেকে এই গ্রহকে রক্ষা করতে যদি গোটা পৃথিবী দীর্ঘকাল ধরে একই রকম উদ্যোগ, তৎপরতা ও আর্থিক দায় গ্রহণ করে, তা হলেই হয়তো পৃথিবী বাঁচবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত পৃথিবীময় তেমন কোনও তৎপরতা যে দেখা যাচ্ছে না, তা কেবল দুশ্চিন্তারই নয়, রীতিমত ভয়ের কারণ।’ খেদ যথার্থ। বিপন্ন পরিবেশ যে মারমুখী, তা পৃথিবীর নানা জায়গায় ঝড়-ঝঞ্ঝা-বন্যায় বেশ মালুম হচ্ছে। সে তো সবচেয়ে বড় টেররিস্ট।//
http://www.anandabazar.com/supplementary/pustokporichoi/book-review-on-environment-1.169869
book review on environment