25/03/2025
❝একজন কিংবদন্তি গুণী মানুষের বিদায়❞
বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য দোহার নবাবগঞ্জ ঢাকা অঞ্চলের কৃতি সন্তান ভাষা সংগ্রামী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান ফকু আজ ২৫শে মার্চ ২০২৫ প্রভাতে প্রয়াত হয়েছেন তাঁর স্মৃতির প্রতি অতল শ্রদ্ধা.......
আজিজুর রহমান ফকু’র জীবন সংগ্রাম:-
[❝ব্যক্তিগত❞]
আজিজুর রহমান ফকু,
পিতা:- এসএম চৌধুরী,
মাতা:- উম্মতে রসুল।
জন্ম:- ২৬ ভাদ্র, ১৩৪৪ বঙ্গাব্দ
১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ।
ঠিকানা:- গ্রাম-চরমধুচরিয়া, ইউনিয়ন-আগলা, উপজেলা:-নবাবগঞ্জ, জেলা-ঢাকা।
বর্তমান ঠিকানা- রোড-৮৬, বাড়ি-৭/বি, গুলশান-২, ঢাকা।
পেশা:- শিক্ষকতা এবং রাজনীতি।
[❝রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন❞]
★নির্বাহী সদস্য, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ।
★ক্রীড়া সম্পাদক, হরগঙ্গা মহাবিদ্যালয় ছাত্র সংসদ [১৯৬০]
★সহ-সভাপতি (ভিপি), ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদ [১৯৬৩-৬৪]
★সভাপতি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), নবাবগঞ্জ থানা শাখা [১৯৬৫]
★সাধারণ সম্পাদক, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর), বৃহত্তর ঢাকা জেলা শাখা [১৯৭২]
★দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, কেন্দ্রীয় কমিটি [১৯৭৪]
★দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয় কৃষক লীগ, কেন্দ্রীয় কমিটি [১৯৮০-১৯৯০]
★সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষক লীগ, কেন্দ্রীয় কমিটি [১৯৯০-২০১১]
❝স্বাধীকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ❞
★১৯৫২ সালে মহান ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ।
★১৯৫৪ সালে নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ।
★১৯৫৮ সালে পাকিস্তানি সামরিক শাসক আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং কারাবরণ।
★১৯৬২’র হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশনে বিতর্কিত বৈষম্যমূলক রিপোর্ট বিরোধী -শিক্ষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং কারাবরণ।
★১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পাকিস্তানি গভর্নর মোনায়েম খানের হাত থেকে সার্টিফিকেট না নেওয়ার আন্দোলন পরিচালনা করার দায়ে তদানীন্তন ছাত্রনেতা আব্দুর রাজ্জাক, রাশেদ খান মেনন, ফেরদৌস আহমেদ কোরেশি,জাকির হোসেনসহ ৪৮ জন ছাত্রনেতাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বহিষ্কার করা হয় এবং সংগ্রামী ছাত্রনেতা শেখ ফজলুল হক মণি ও আসমত শিকদারের এমএ সার্টিফিকেট বাতিল করে কর্তৃপক্ষ, এই বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ঢাকা কলেজ থেকে ৩ (তিন) বছরের জন্য রাস্টিকেট করা হয় তাঁকে।
★ ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ জন বহিষ্কৃত ছাত্রনেতা, ঢাকা আর্টস কলেজের ৮ জন রাস্টিকেটের ছাত্রনেতা ও ঢাকা কলেজ তাঁকেসহ ৪ জনকে রাস্টিকেট করার পর, ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম মোট ৬০ জন ছাত্রনেতার বহিষ্কারাদেশ ও রাস্টিকেটশন প্রত্যাহার করার জন্য ঢাকা হাইকোর্টে ৫৯টি রিট-পিটিশন করেন। ফেরদৌস আহমেদ কোরেশি রিট-পিটিশন করতে রাজি ছিল না, তাই সে রিট-পিটিশনে স্বাক্ষর করেননি। মামলা পরিচালনার জন্য অর্থের প্রয়োজন হলে ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামের পরামর্শে তিনি আওয়ামী লীগের ততকালীন সাধারণ সম্পাদক অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর সঙ্গে দেখা করেন। টেলিফোনে ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলামকে বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ সমর্থক কয়েকজন ধনাঢ্য ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা বলেন; এরপর বঙ্গবন্ধু আজিজুর রহমান ফকুকে বলেন, ❝তুমি ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলামের কাছ থেকে ৩টি করে নাম ও ঠিকানা নিয়ে সেসব ঠিকানা অনুযায়ী তাদের সঙ্গে দেখা করবে। তারা যে টাকা দেন সেই টাকা ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলামকে দিয়ে পুনরায় ৩টি নাম নিয়ে পুনরায় বের হবে।❝ এভাবে মামলা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অধিকাংশ সংগৃহীত হয়।
★ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঘোষিত ১৯৬৬'র ছয় দফা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।
★শেখ মুজিব ও সকল রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানির দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ৬৯'র এর গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেন।
★১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম সংগ্ঠক ছিলেন। তিনি প্রায় দুইশতাধিক
বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংগঠিত করেন এবং ভারতের আগরতলায় যুদ্ধ ট্রেনিং ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
★ স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ১৯৭৪-এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারের গৃহীত খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি কর্মসূচি সফল করার জন্য দেশে বৃহৎ আড়িয়াল বিল-এ ৮৫ হাজার একর অনাবাদি জমি আবাদযোগ্য করার জন্য আলমপুর-মদনখালী খালকাটার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ফলে আড়িয়াল বিলের পানি নিষ্কাশন হয় এবং সমস্ত জমি ইরি চাষের আওতায় আসে,যার ফলে নবাবগঞ্জ, দোহার, শ্রীনগর, সিরাজদিখাঁন থানার বিল এলাকায় ইরি চাষের উন্নতি সাধন হয়।
★১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে ১৫ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন ।
[❝শিক্ষা ও সমাজিক নানান সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন❞]
★প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ঢাকা জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি।
★প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, শিবরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়।
★প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, গর্ভনিং বডি, আদর্শ মহাবিদ্যালয়, খাহ্রা, চুরাইন।
★প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ঘোষাইল উচ্চ বিদ্যালয়।
★প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, আদর্শ ডিগ্রী অনার্স কলেজ, খাহ্রা, চুরাইন।
★সাধারণ সম্পাদক, নবাবগঞ্জ থানা শিক্ষক সমিতি (১৯৭৩)।
★প্রধান উপদেষ্টা, বিজিসি
★সভাপতি, ম্যানেজিং কমিটি, শিবরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়।
★সভাপতি, ম্যানেজিং কমিটি, চুরাইন তারিণী বামা উচ্চ বিদ্যালয়।
★সভাপতি, ম্যানেজিং কমিটি, খারশুর উচ্চ বিদ্যালয়।
★সদস্য, আশ্রায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন জেলা টাস্ক ফোর্স, ঢাকা (১৯৯৬-২০০১)।
★সদস্য, জেলা কৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত কমিটি, ঢাকা (১৯৯৬-২০০৩)।
তথ্যউপাত্ত সংগ্রহকারী:- (সম্পর্কে প্রবাদপ্রতিম পুরুষ বীরযোদ্ধা ফকু সাহেবের ভ্রাতুষ্পুত্র)
জুবায়ের আদিত্য
নির্বাহী সদস্য, বঙ্গবন্ধু ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন।
বর্ণাঢ্য কর্মময় ও রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী
জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান সূর্য সন্তান ভাষা সংগ্রামী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান ফকু সাহেবের প্রয়াণে দোহার নবাবগঞ্জবাসী আজ শোকাহত।
বঙ্গবন্ধু ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে, তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছে, শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। কিংবদন্তি এই গুণীমানুষের অমর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং অশেষ ভালোবাসা।
বার্তা প্রেরক–
শিহাব-উর-রহমান শিকদার
প্রতিষ্ঠাতা এ নির্বাহী সদস্য: বঙ্গবন্ধু ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন।
Bangabandhu Youth Association