03/09/2026
চাঁদপুর এর অবিসংবাদিত কৃতি সন্তান মৌলভী আইউব আলী খান
মৌলভী আইউব আলী খান (১৯০৩-১৯৯১) চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার একজন অবিসংবাদিত কৃতি সন্তান, প্রখ্যাত সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মহান সৈনিক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা।
ফরিদগঞ্জের তৎকালীন অবহেলিত ও অনগ্রসর সমাজকে আলোর পথে এগিয়ে নিতে তিনি শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে আজীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।
এই মহান ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও শিক্ষা জীবন
◼️জন্ম: তিনি আনুমানিক ১৯০৩ সালের জানুয়ারি মাসে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল উমেদ আলী খান।
◼️শিক্ষাজীবন :
তিনি ১৯২০ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার রামপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা (ম্যাট্রিক) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ১৯২২ সালে বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে আই.এ পাস করেন।
◼️কর্মজীবন ও সমাজ সংস্কার
শিক্ষকতা: ১৯২৩ থেকে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত রায়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
১৯২৬ সালেই গৃদকালিন্দিয়া এম.ই স্কুল স্থাপন করে নিজে প্রধান শিক্ষকতার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সুদীর্ঘ ২৩ বৎসর তিনি এই গুরুত্ব দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে এ স্কুল থেকে প্রায় ৪০ জন মেধাবী ছাত্র বৃত্তি পায়। ১৯৪৮ সালে মেয়েদের শিক্ষার উন্নতি করে প্রথমে গৃদকালিন্দিয়া নিমণ বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন ও পরে তিনি উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিনত করেন।
◼️প্রতিষ্ঠান ও এলাকা উন্নয়ন:
নিজ ফরিদগঞ্জ উপজেলার গৃদকালিন্দিয়া ও সাহেবগঞ্জ গ্রামের ব্যাপক উন্নয়নে তাঁর অনন্য অবদান রয়েছে। তিনি বিখ্যাত গৃদকালিন্দিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে সেখানে 'আইউব আলী খান শিক্ষা কমপ্লেক্স' গড়ে উঠেছে।
◼️ঐতিহাসিক অবদান:
তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
◼️স্বীকৃতি ও স্মৃতি:
ফরিদগঞ্জের সমাজ সংস্কার ও শিক্ষা বিস্তারে অনন্য অবদানের জন্য উপজেলা সদরে অবস্থিত বিখ্যাত 'ওনুয়া স্মৃতি ভাস্কর্যে' ফরিদগঞ্জের যে তিনজন শ্রেষ্ঠ কৃতি সন্তানের প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে, মৌলভী আইউব আলী খান তাদের অন্যতম।
◼️নিজের সর্বস্ব জনহিতকর কাজে ব্যয় :
১৯৩৩ সালে নিজের ও বড় ভাই এর জায়গা দান করে গৃদকালিন্দিয়া বাজার স্থাপন করেন। ১৯৪৩ সালে পোষ্ট অফিস, কমিউনিটি সেন্টার, পূবালী ব্যাংক ও মসজিদসহ আধুনিক জনকল্যানকর প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। উলেস্নখ্য তার মোট সম্পত্তির অর্ধেকের বেশী প্রায় দুই একর জায়গা জনহিত কর কাজে দান করেন। তিনি ৩০ বৎসর যাবৎ কুমিলস্না সেসন জজ কোর্টের স্পেশাল জুরার ছিলেন।
তার রাজনীতি ছিল শোষিত নিপিড়িত মানুষের পক্ষে তৎকালীন সমাজের শামমত্ম প্রভু ও জমিদারদের বিরম্নদ্ধে ছিল তার আপোষহীন সংগ্রাম। জমিদারদের বিরম্নদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করে তিনি কয়েকবার ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে তার প্রত্যÿ ভুমিকা আন্দোলন ও সংগ্রাম আরো বেগমান করেছে। তিনি ৫৪’ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে ঐক্যমতের ভিত্তিতে হক-ভাসানী-সোহরাওয়াদীর বৃহত্তর ঐকের প্রাথী মনোনয়ন ও নির্বোচনে উলেস্নখযোগ্য অবদান রাখেন। স্বাধীনতা যুদ্ধেও তার দান ছিল অপরিসীম। ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী তার ঘর সহ বাড়ীর বহু ঘর জ্বালিয়ে দেয়। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও ঐদিন পাক-বাহিনী পাঁচ জনকে গুলি করে হত্যা করে।
জনাব আইয়ূব আলী খান সারাজীবন নিজেকে অর্থ বিত্ত মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিয়ে শেষ জীবনে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। এমনকি নিজের চিকিৎসারও কোন সুব্যবস্থা করতে পারেন নি। সমত্মান সন্তুতির জন্য কিছু রেখে যান নি।
◼️মৃত্যু :
১৯৯১ সালের ১ অক্টোবর এই মহান ব্যক্তিত্ব মৃত্যুবরণ করেন