05/09/2026
আজ বাউল কুলের শিরমনি, বাংলাদেশের প্রথম দোতারা বাদক মুকুট হীন সম্রাট দোতারা সাধক
কানাইলাল শীল এর মৃত্যুবার্ষিকী,
ফরিদপুর সিটি অর্গানাইজেশন এর পক্ষ থেকে জানাচ্ছি বিনম্র শ্রদ্ধা।
১৯৭৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর প্রখ্যাত দোতারা বাদক মুকুটহীন সম্রাট যন্ত্রসংগীত শিল্পী ঢাকায় দেহ ত্যাগ করেন। ১৮৯৫ সালের জুলাই মাসের ২০ তারিখে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার কইরাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পিতা আনন্দচন্দ্র শীল এবং মাতা সৌদামনী শীল। মাত্র আড়াই বছর বয়সে তাঁর পিতার মৃত্যু হয়। আট বছর বয়সে তার বেহালায় হাতেখড়ি হয় ওস্তাদ বসন্ত কুমার শীলের কাছে ছোট বেলা থেকেই কানাইলালশীল এর লেখাপড়ার চেয়ে গান বাজনার দিকেই ছিলো বেশী আগ্রহ। বাদ্যযন্ত্র ছিলো তার বেশী পছন্দের। তার মধ্যে দুটি তার একটি কাঠির বাদ্যযন্ত্র দোতারা ছিলো তার বেশী পছন্দের। তিনি গানের সাথে দোতারাইর বেশী বাজাতেন। কথিত আছে বাংলাদেশে বাদ্য যন্তের মধ্যে এই দোতারা প্রথম উঠে আসে কানাই লাল শীল এর হাতে। দোতারাকে সম্বল করে গোটা বাংলা মাতিয়ে রাখতেন কিং বদন্তি দোতারা বাদক, সাধক ফরিদপুরের কানাই লাল শীল। তিনি দোতারা বাজিয়েছেন সব মশহুর গুণিনদের সাথে। কানাই লার শীল এর দোতারার দ্যোতনাময় ইন্দ্রজালে মনোময় করে তুলেছিলেন আব্বাস উদদীন, আবদুল আলীম, জসীমউদদীন, হাজেরা বিবির মতো গুনি শিল্পীদের গানের জলসা। ১৯৩৫ সালে কৃষ্ণলীলা দলের হয়ে দোতারা বাজাতে আসেন ফরিদপুর শহর তলী অম্বিকাপুর ইউনিয়নে বাউল সাধক রাধিকা মোহন শাহার বাড়ীতে। সেখানে বাউল শিল্পীদের গানের সাথে কানাই লালের দোতারা উপস্থিত সকলকে মনমুগ্ধ করে তোলে। সেই গানের আসরে উপস্থিত ছিলেন পল্লী কবি জসীমউদদীন। কানাই লাল শীলের দোতারার সুরে পল্লী কবি এতটাই মুগ্ধ হন যে পরবর্তী সময়ে তিনি কানাই লালকে তার সাথে করে নিয়ে যান কলিকাতায়। সেখানে কানাই লাল শীল বিভিন্ন জায়গায় বাউল শিল্পীদের সাথে দোতারা বাজিয়ে নিজের একটি অবস্থান করে নেন। এ সময় কানাইলাল সচিন দেব বর্মন, পংকজ মল্লিক, কে,এল সায়দাল, আব্বাস উদ্দীন এর মতো গুনী শিল্পীদের সাথে দোতারা বাজিয়ে মুগ্ধ করে তোলেন সকলকে। দোতারা বাদক কানাইলাল শীল দীর্ঘ দিন আকাশ বানী বেতার কেন্দ্রর নিয়মিত শিল্পী হিসেবে দোতারা বাজিয়েছেন। কোলকাতার হিজ মাষ্টাস ভয়েজ, টুইন মেগাফোন, রিদ্যান সহ আরো বেশ কয়েকটি ফোন কোম্পানীতে অত্যন্ত খ্যাতির সাথে কাজ করেছেন। ১৯৭৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর প্রখ্যাত দোতারা বাদক মুকুটহীন সম্রাট যন্ত্রসংগীত শিল্পী দেহ ত্যাগ করেন। ১৯৭৮ সালে সংগীতে বিশেষ অবদান রাখায় তাকে মরণোত্তোর একুশে পদক প্রদান করা হয়।