20/07/2026
আজ ২০ শে জুলাই হযরতুল আল্লামা আলাউদ্দীন শাহ (রহ)'র ২৫ তম ওফাত বার্ষিকী
============ =============== ======
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা প্রতিষ্ঠার নৈপথ্য কারিগর, সোবহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক শাইখুল হাদীছ আল্লামা আলাউদ্দীন শাহ রহঃ ( রিসার্চ স্কলার ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদরাসা)'র আজ ওফাত বার্ষিকী। যার উৎসাহ উদ্দীপনা ও অভিভাবকত্ব ছাত্রসেনা প্রতিষ্ঠার পূর্বে সোবাহানিয়া আলিয়া মাদরাসায় তোলাবায়ে আহলে সুন্নাত প্রতিষ্ঠায় আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আল্লামা হাশেমী (রহঃ)'র কাছে আমাদের নিয়ে যান, সেখান থেকে ছাত্রসেনা প্রতিষ্ঠার কাজ সম্প্রসারিত হতে থাকে। এই নৈপথ্য কারিগর ছাত্রসেনা প্রতিষ্ঠার জন্য ঐতিহাসিক পেক্ষাপট সৃষ্টি করেছিলেন, তারই একটি ঐতিহাসিক ঘটনা রয়েছে। ১৯৭৯ সালের পূর্বে কোন সুপরিচিত সুন্নি আলেমের সোবাহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসার কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন ছিলনা। তখন চাঁদে অবস্থান কারী মুফাসসিরের চট্টগ্রামে রমরমা ব্যবসা চলছিল। শিক্ষকদের মধ্যে বড় একটি অংশ জামায়াত পন্থী ছিল, সুন্নিপন্থী খুব বেশী ছিলেন না। ছাত্রদের মধ্যে অধিকাংশ শিবিরের অনুসারী ছিল। এমতাবস্থায় সোবাহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসার নির্ধারিত বার্ষিক অনুষ্ঠান পহেলা মহরম তখন নিকটে, শিক্ষক মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আয়োজন নিয়ে যে সভা চলছিল, সভায় আল্লামা আলাউদ্দীন শাহ (রহ) বললেন চট্টগ্রামে ধর্মীয় অঙ্গনে যে বিতর্ক চলছে তার অবসান হওয়া চাই। একদিকে আল্লামা হাশেমী সাহেব-নঈমী সাহেব-জালাল সাহেব এক ধরনের কথা বলছেন অন্যদিকে মৌলানা সাঈদী ও জামায়াত পন্থী মৌলানারা অন্য কথা বলতেছেন, যা নিয়ে চট্টগ্রাম আজ উত্তপ্ত। সুতরাং আমার দাবি হল (শিক্ষকদের উদ্দেশ্য)আপনারা যারা জামায়াত করেন আপনারা আপনাদের মৌলানা সাঈদী ও সিদ্দিক আহমেদ আযাদ (চট্টগ্রামে তৎকালীন জামায়াতের জনপ্রিয় আলোচক) আরও কাউকে আমাদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে দাওয়াত করুন পাশাপাশি আল্লামা হাশেমী ও আল্লামা নঈমী সাহেবকে আমরা দাওয়াত করবো। মাদ্রাসার ভিতর আসার পর আমরা মাদ্রাসার মেইন গেইট বন্ধ করে দিব। মাদ্রাসার লাইব্রেরিতে উভয় পক্ষের আলেম ওলামারা বসবেন, আমরা মাদ্রাসার শিক্ষকগন থাকবো। মাদ্রসার লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় কিতাবাদি আছে উভয় পক্ষ কুরআন হাদিসের আলোকে প্রমাণ করবেন কারা হকের উপর আছেন। যারা হক প্রমাণ করতে পারবেন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের অনুসরণ করব, এইভাবেই এইবার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎযাপন হবে। এ কথা বলার পড়ে শিক্ষকদের মধ্যে অচল অবস্থা সৃষ্টি হল। এইভাবে সপ্তাহ দুয়েক চলে গেলেও তিনি তার বক্তব্যতে অনড় থাকলেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার দাবীর সাথে একমত হতে বাধ্য হলেন। পরবর্তীতে উনার আগ্রহে আল্লামা হাশেমী রহঃ ও আল্লামা নঈমী রহঃ সোবাহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে আমন্ত্রিত হলেন । ছাত্রদের মধ্যে তখন বেশিরভাগই শিবির। এমতাবস্থায় আমন্ত্রিত হয়ে নঈমী রহঃ অসংখ্য আলেম- ওলামাকে পেয়ে দীর্ঘ তিন-চার ঘন্টা মনোমুগ্ধকর যে আলোচনা করলেন শাহাদাতে কারবালা নিয়ে, সে আলোচনায় ছাত্র শিক্ষক এমনকি মাদ্রাসার তৎকালীন সেক্রেটারি আলহাজ্ব ইসলাম মিয়া টিকে খুব বেশি অনুপ্রাণিত হলেন। উনার পর আল্লামা হাশেমী রহঃ যখন আলোচনা শুরু করলেন তখন ইসলাম মিয়া টিকে সাহেব উঠে তার বাড়িতে (মাদ্রাসার সম্মুখে) চলে গেলেন, আধা ঘন্টা পরে তিনি কিছু কাগজ পত্র নিয়ে মঞ্চে ফিরে আসলেন। তখনো আল্লামা হাশেমী সাহেব হুজুরের হৃদয়গ্রাহী আলোচনা তুঙ্গে,ইসলাম মিয়া সাহেব মঞ্চের একপাশে চুপিসারে বসে রইলেন,আরো প্রায় ঘন্টাখানেক পরে আল্লামা হাশেমী সাহেবের বক্তব্য শেষ হলে মাঠে পিনপতন নিরবতা বিরাজ করছিলো, এমতাবস্থায় আলহাজ্ব ইসলাম মিয়া টি.কে সাহেব মাইকের সামনের এসে দাঁড়ালেন তিনি বললেন সোবহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট,চট্টগ্রাম দারুল উলুম মাদ্রাসা যখন ওহাবিপন্থীদের দখলে চলে যায় তখন ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা গাজী আজিজুল হক শেরে বাংলা(রহঃ) পরামর্শে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা'আতের আদর্শের উপর ভিত্তি করে এই সোবহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়(১৯৫১)।আল্লামা আজিজুল হক শেরে বাংলা(রহঃ) এই মাদ্রাসার ভূমির ওয়াকফনামা তৈরী করে দিয়েছেন আমার মামা আবদুস সোবহান সওদাগর সাহেবকে। সেখানে উল্লেখ আছে এই প্রতিষ্ঠান যতদিন আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা'আত এর আকিদার উপর থাকবে ততদিন মাদ্রাসা থাকবে,আহলে সুন্নাত ওয়াল জাময়াতের আকিদার পরিপন্থী হয়ে গেলে এই প্রতিষ্ঠানকে উনার পরবর্তী বংশধর কলোনী,স্কুল,কলেজ ,যেকোন কিছুতে রূপান্তরিত করতে পারবে,এই ওয়াকফনামার ভিত্তিতেই এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।
তিনি আল্লামা হাশেমী সাহেবকে মামা আখ্যায়িত করে বলেন, আমার মামা হাশেমী সাহেব হুজুর ও নঈমী সাহেব হুজুর আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা'আতের যে আকিদার কথা বলেছেন এই প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষক-ছাত্র যদি এই আকিদার পরিপন্থী থেকে থাকেন তারা আগামীকাল মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যাবেন, যাঁরা ছাত্র তাঁদের গাড়ি ভাড়া দেওয়া হবে,শিক্ষকদের এক মাসের বেতন দিয়ে দেওয়া হবে,ইসলাম মিয়া টি.কে সাহেবের এই ঘোষণা জামায়াত পন্থীদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল, সুন্নীরা আনন্দে আত্মহারা,যথারীতি মিলাদ শরীফ ও মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হলো। অনুষ্ঠান শেষে আল্লামা হাশেমী সাহেব হুজুর ও নঈমী সাহেব অফিস কক্ষে অবস্থান করছিলেন, এমতাবস্থায় শিবির-পন্থী একদল ছাত্র তাঁদের ঘেরাও করলো এবং জিজ্ঞাস করা শুরু করলো ছাত্রশিবির না করে ছাত্রলীগ বা ছাত্র ইউনিয়ন করবো? এমতাবস্থায় আলাউদ্দীন শাহ (রহ) হাতে বেত নিয়ে দৌঁড়ানি দিয়ে তাঁদেরকে ধমক দিয়ে বললেন -তোমাদের যা জিজ্ঞাস করার আমার কাছে করো,মেহমানদের সাথে বেয়াদবী করছো কেন? তারপরের দিন আলাউদ্দীন শাহ (রহ.) আমাদের কয়েকজনকে ডেকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক বাসায় বললেন, তোমরা কিছু একটা কর। সেখান থেকেই সংগঠন করার অনুপ্রেরণা ও কার্যক্রম শুরু হয়, আমরা তোলাবায়ে আহলে সুন্নাত নাম দিয়ে সোবাহানিয়া মাদ্রাসা ভিত্তিক জনাব মুহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেবকে আহবায়ক, জনাব এম এ মতিন সাহেবকে যুগ্ন আহবায়ক করে এবং জনাব ইয়াকুব আলী খান, আলী উল ইসলাম,আমি সহ কয়েকজন একত্রিত হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করি। আজ সেই ক্ষণজন্মা মহান মনিষীর ওফাত দিবস। এদেশের সুন্নি মুসলমানদের সাংগঠনিক কার্যক্রমের নৈপথ্য কারিগর, এই মহান ব্যক্তিত্বকে সুন্নিয়তের প্রতিটি ইউনিটে মিলাদ শরীফ ও দোয়ার মাধ্যমে স্মরণ করার জন্য আমি সুন্নি জনতাকে বিনীত আহবান জানাচ্ছি।
-স.উ.ম আবদুস সামাদ
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা,ও বর্তমান মহাসচিব,বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, কেন্দ্রীয় পরিষদ।