05/12/2024
ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রয়োজন বা সংকটে মানুষকে ঋন নিতে হয়। এই প্রয়োজন মেটাতে নির্ভরতার প্রধান ৩ টি উৎস হচ্ছে:-
(১) ব্যাংক
(২) এনজিও এবং বিভিন্ন সমিতি
(৩) মহাজনি সুদখোর এবং দাদন ব্যবসায়ী
তিনটি উৎসই - সুদ বা কথিত মুনাফা ব্যবসায়ী।
রাষ্ট্রের নিকট প্রথম দুটি উৎসের জবাব দিহিতা আছে। আর তৃতীয় উৎসটি আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি, জবাবদিহিতা এবং ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে ভয়ংকর রকমের উচ্চহারে সুদ আদায় ও জুলুমের মাধ্যমে শেষ করে দিচ্ছে - দেশের প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে।।
মহান আল্লাহ সুদ হারাম করেছেন; নিষিদ্ধ করেছেন। সুদের গুনাকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধ ঘোষণার শামীল বলা হয়েছে। সব কিছু জেনে বুঝেও বিপদে সংকটে অনিচ্ছা সত্ত্বেও মানুষকে সুদের দিকেই যেতে হয় কারণ কর্জে হাসানা সহজলভ্য নয়; সহজে কেউ দিতে চায় না। সুদ মোকাবেলায় কর্জে হাসানা প্রদান বা এটা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা উচ্চ মানের এবাদত - এটাই আমরা মনে করতে চাই না।
♦♦ Masjid.Life ( www.masjid.life) সারা দেশের মসজিদগুলো থেকে পিওর কর্জে হাসানা ( যেখানে কোন অজুহাতেই অতিরিক্ত এক পয়সাও নেয়া হয় না) চালু ও সহজলভ্য করে তোলার এক দুঃসাহসিক অভিযাত্রা শুরু করেছে।
♦♦যেসব অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে মসজিদ ডট লাইফ সারা বিশ্বের মধ্যে অদ্বিতীয় হয়ে আছে:-
(১) শতভাগ স্বেচ্ছাসেবী এবং মসজিদকেন্দ্রিক কার্যক্রম
(২) মসজিদগুলোতে ব্রাঞ্চ খুলে লোকাল ম্যানেজমেন্ট টিমের মাধ্যমে কার্য পরিচালনা করা হয়
(৩) জিরো কস্ট অর্গানাইজেশন বা শুন্য খরচের পরিচালিত প্রতিষ্ঠান (প্রাপ্ত ডোনেশনের একটি পয়সাও খরচ করা হয় না। শতভাগ টাকা মসজিদগুলোর মধ্যে বন্টন করে দেয়া হয় সুদ মুক্ত ঋণ বিতরণের জন্য)
(৪) ওপেন বুক সফটওয়্যার - যার সমুদয় তথ্য সারা দুনিয়ার জন্য উন্মুক্ত।
(৫) ফান্ড ট্রাকিং অপশন - যার মাধ্যমে ডোনার জানতে পারেন তার টাকা কোন মসজিদকে দেয়া হয়েছে এবং তিনি নিজেই - ম্যানেজমেন্ট টিম, মসজিদ কমিটি এবং প্রত্যেক বেনেফিশিয়ারির সাথে কথা বলতে পারেন।
(৬) কোন ধর্মীয় কর্মসূচি কিংবা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নাই। সকল দল এবং মতের মানুষদের সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম।
♦♦ দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাদের কি ভূমিকা:-
♦♦ ব্যাংক :-
ব্যাংক ছাড়া আধুনিক কোন রাষ্ট্র চলতে পারে - এটা কল্পনাও করা যায় না।
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন; বৈদেশিক বাণিজ্য - এগুলো সবই ব্যাংকিং সেবার উপর নির্ভরশীল।
ব্যাংকগুলো রাষ্ট্র কিংবা সমাজকে সেবা দেয়ার জন্য গড়ে ওঠে না; ব্যাংক গড়ে উঠে তাদের ব্যবসার জন্য; ফলত: ব্যবসায়িক চিন্তাকে মাথায় রেখেই তারা সেবার পরিকল্পনা করে।
যেই শ্রেণী বা জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা দিতে গেলে ব্যাংকের ব্যবসায়িক স্বার্থসিদ্ধি হবে না, সেই শ্রেণী বা গোষ্ঠীর জন্য ব্যাংক কোন সেবার পরিকল্পনা সাজায় না।
মনে করুন,
ধনী থেকে দারিদ্রতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের মানুষগুলোকে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত শ্রেণীতে ভাগ করা হল (সবচেয়ে ধনী ১; সবচেয়ে দরিদ্র ১০)। এবং ব্যাংক গুলো তাদের সেবার জন্য টার্গেট করল (ধনী থেকে দরিদ্র) ১ থেকে নিচের দিকে ৫ পর্যন্ত; অর্থাৎ ৫০% লোক ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসলো।
তার মানে ৬ - ১০ শ্রেনীটা অর্থাৎ বাকী ৫০% মানুষ ব্যাংকিং সেবার বাইরে থেকে গেল। ব্যাংকগুলো তাদের ব্যবসায়িক স্ট্রাটেজি কিংবা দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার কারণে এই শ্রেণীকে ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে না অথবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
♦♦NGO
ব্যাংকিং সেবা বঞ্চিত ৫০% ( ৬ - ১০ শ্রেণী) মানুষদের সাথে ব্যবসা করার জন্যে উৎপত্তি হল NGO ( এরা আবার ফান্ড সংগ্রহের জন্য অনেকাংশেই ব্যাংকের উপর নির্ভরশীল)।
মনে করুন, বিভিন্ন ফ্যাক্টর বা বাস্তবতার বিবেচনায় NGO গুলো (ধনী থেকে দরিদ্র) ৬ এবং ৭ গ্রুপটাকে অর্থাৎ ২০% জনগোষ্ঠীকে তাদের ব্যবসা বা সেবার জন্য টার্গেট করেছে।
NGO ব্যবসা চালু হওয়ায় (উদাহরণ অনুসারে) ৬ এবং ৭ নং শ্রেণীর মানুষদের যন্ত্রণা কিছুটা লাঘব হয়েছে। পূর্বে এই শ্রেণীটা ও মহাজনি সুদখোরদের থাবায় ছিল। এনজিও গুলোর সুদের হার ব্যাংকের চেয়ে বেশি হলেও মহাজনি সুদখোরদের চেয়ে অনেক কম।
♦♦গলাকাটা মহাজনি সুদখোর এবং দাদন ব্যবসায়ী:-
উদাহরণ অনুসারে, ৮, ৯ এবং ১০ এই তিনটা শ্রেণী অর্থাৎ দেশের ৩০% মানুষ ব্যাংক এবং NGO গুলোর সেবার বাইরে রয়ে গেল; যাদেরকে আমরা প্রান্তিক দরিদ্র শ্রেণী হিসাবে অভিহিত করছি।
রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ব্যাংক এবং NGO সেবার বাইরে থাকা এই ৩০% মানুষের সাথে ব্যবসা করার জন্য উৎপত্তি হয়েছে গলা কাটা মহাজনী সুদখোর ও দাদন ব্যবসায়ী শ্রেণী , যাদের সুদের হার অবিশ্বাস্য রকমের বেশি এবং কখনো কখনো তা ১০০০%ও অতিক্রম করে যায়!
এই শ্রেণী আইন-কানুন ও ধরা ছোয়ার বাইরে থেকেই দেশের প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে রক্তচোষার মতো করে শোষণ করছে। বিকল্প কোন অপশন না থাকায় প্রান্তিক দরিদ্র শ্রেণী গলায় ফাঁস লাগার সমূহ সম্ভাবনা আছে জেনেও এই ভয়ংকর শ্রেণীর কাছে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।
বিচক্ষণ মানুষরা সহজেই বুঝতে পারবেন বাংলাদেশের প্রান্তিক দরিদ্র শ্রেণীর উত্থান বা ঘুরে দাঁড়াবার কিংবা তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের মুল সমস্যা এখানেই।
এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে - প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবার বাইরে রেখে দেশের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট কিংবা দেশের ধনী দরিদ্রের ব্যবধান কমিয়ে আনা কক্ষনো সম্ভব হবে না!
♦♦ মসজিদ ডট লাইফ এবং কর্জে হাসানা
এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে (৮, ৯, ১০) সুদ, মুনাফা, সার্ভিস চার্জ, জরিমানা ও জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণ (যেই ঋনের জন্য অতিরিক্ত একটা পয়সাও আদায় করা হয় না) প্রদান করে গলাকাটা মহাজনি সুদখোরদের শৃংখল থেকে মুক্ত করার ও সুরক্ষিত রাখার জন্যই মসজিদ ডট লাইফের উৎপত্তি এবং এই কাজে মসজিদ ডট লাইফ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
উপরোক্ত আলোচনার কনক্লুসনে বলা যেতে পারে -
বর্তমান প্রেক্ষাপটে মসজিদ ডট লাইফ - ব্যাংক কিংবা NGOগুলোর প্রতিপক্ষ নয়। বরং মসজিদ ডট লাইফের প্রতিপক্ষ হচ্ছে - গলাকাটা মহাজনি সুদখোর শ্রেণী ও দাদন ব্যবসায়ীরা।
দেশের উন্নয়নে Bank, NGO এবং Masjid.Life এই তিনটি শ্রেনী পরিপূরক! অর্থাৎ দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য তিনটি শ্রেণীই প্রয়োজন।
প্রান্তিক দরিদ্র শ্রেণিকে মহাজনি সুদখোর আর দাদন ব্যবসায়ীদের হাতে হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের বিনিময় উপার্জিত টাকার সিংহভাগ তুলে দিতে হয়।
কর্জে হাসানা সহজলভ্য হয়ে গেলে তারা সুদের বোঝা ও জুলুম থেকে নিষ্কৃতি পাবে। তখন সেই টাকা সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা; বসত ঘরের উন্নতি; চিকিৎসা ইত্যাদি মৌলিক চাহিদা মেটাতে ব্যয় করতে পারবে।
সুতরাং মসজিদ ডট লাইফ এর মতো কর্জে হাসানা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের যত বেশি উত্থান ঘটবে দেশের প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ সামাজিক অবস্থা ততটা উন্নতি ঘটতে থাকবে এবং দেশে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমে আসতে থাকবে।
একটা প্রান্তিক মানুষকে সামান্য পরিমাণ লোন নিতে যেসব ফর্মালিটিজ বা আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয় তার জন্য অনেক সময় তাদের একাধিক দিবসের কর্ম নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে মসজিদ ডট লাইফের সেবা তারা তাদের পাড়ার মসজিদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবেই পেয়ে যায়।
কর্জে হাসানা প্রতিষ্ঠায় যেকোনো ধরনের অবদান একদিকে উচ্চ মানের এবাদত অন্যদিকে দেশপ্রেম। সুদের বিপরীতে কর্জে হাসানার একটি মজবুত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে - যার যার জায়গা থেকে ফিনান্সিয়াল, ম্যানেজমেন্ট, প্রোমোশনাল বা ইন্টেলেকচুয়াল সাপোর্ট দিতে এগিয়ে আসবেন অথবা প্রতিদিনকার দোয়ায় শামিল রাখবেন - এটাই প্রত্যাশা।।
রাষ্ট্রের নিকট বিনীত আরজ:-
সারা দেশের মসজিদগুলো থেকে কর্জে হাসানা প্রদানে মানুষকে উৎসাহিত করুন। প্রান্তিক দরিদ্রদের জন্যে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য বিকল্প উৎস তৈরী ব্যতীত আইন-আদালত, থানা-পুলিশ, র্যাব-আর্মি তথা সমস্ত শক্তি নিয়ে রাষ্ট্র ঝাপিয়ে পড়লেও মহাজনি সুদখোর ও দাদার ব্যবসায়ীদের নির্মূল করা সম্ভব হবে না।
আলো জ্বালালে অন্ধকার দূর হয়ে যায়। ঠিক তেমনিভাবে কর্জে হাসানার প্রসার ঘটলে এরা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অরক্ষিত রেখে কাগজে-কলমে কিংবা বুলিতেই - দেশের উন্নয়ন দেখানো যাবে; সত্যিকারের উন্নয়ন কস্মিনকালেও সম্ভব নয়!
বিনীত-
কামাল আহমেদ
ফাউন্ডার
"মসজিদ ডট লাইফ"
www.masjid.life
(১০০% সুদ মুক্ত ঋণ সহ বহুমুখী সেবা)
Email: [email protected]
+19193608286 (WhatsApp)
ফেসবুক: kamal.ahmed.mdl
ইউটিউব: