Save CHT

Save CHT পাহাড়ের ইতিহাস উন্মোচন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য

উন্নয়নের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা:পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে যখন দুর্গমতার ছায়া জমাট বাঁধে, তখন সেখানে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হয়ে দা...
02/09/2026

উন্নয়নের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা:
পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে যখন দুর্গমতার ছায়া জমাট বাঁধে, তখন সেখানে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায় একটি ভরসার হাত। পার্বত্য চট্টগ্রামে বছরের পর বছর ধরে চলা অস্থিতিশীলতা ও বৈষম্যের মূল শিকড় ছিল মৌলিক চাহিদার অপ্রতুলতা। জীবন সংগ্রামের এই জটিল সমীকরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কেবল নিরাপত্তার প্রকাণ্ড প্রাচীর নয়, বরং এক নবীন ভোরের বার্তা নিয়ে এসেছে। সেনাবাহিনীর এই বহুমুখী মানবিক উদ্যোগ "উন্নয়নের মাধ্যমে শান্তি" (Peace through Development) দর্শনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা কেবল ভূখণ্ড রক্ষা নয়, হৃদয় জয়ের এক নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম। পূর্বে সেনাবাহিনীর সহায়তা মূলত ত্রাণ বিতরণ, মেডিক্যাল ক্যাম্প ও আর্থিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যা মূলত স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেনাবাহিনী দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রিসোর্ট নির্মাণ, গাড়ির ব্যবস্থা, নৌকার ব্যবস্থা, রাস্তা নির্মাণ ও পানির নলকূপ স্থাপনের মতো দৃশ্যমান পদক্ষেপ। এসব কার্যক্রম মূলত পাহাড়ে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং একটি টেকসই ব্যবস্থাপনারই দীর্ঘমেয়াদী প্রতিফলন।

পানীয় জলের ব্যবস্থাপনা:
পাহাড়ে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট একটি প্রাচীন অভিশাপ। পানির সন্ধানে নারীদের কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পথ হাঁটার কষ্ট পাহাড়ের নিত্যদিনের সঙ্গী। সেনাবাহিনী বান্দরবানের লংলাইপাড়া ও বাকলাইপাড়া; খাগড়াছড়ির ধনপাতাছড়া, রেজামনি, কারিগর পাড়া, রসূলপুর, চিকনচান কার্বারীপাড়া, সাজেক, বাঘাইহাট; এবং গুইমারার ত্রিপুরা পাড়া ও পলাশপুরে সোলার প্যানেলভিত্তিক ও সাধারণ বিশুদ্ধ খাবার পানির পয়েন্ট স্থাপন করেছে। রাঙ্গামাটির ইসলামপুরে ট্যাংক প্রদান এবং দোপানীছড়ায় পানির পাইপ সরবরাহের মাধ্যমে তৃষ্ণার্ত পাহাড়ে জীবনের সঞ্চার করা হয়েছে। গুইমারার আসালংপাড়ায় সূর্যরশ্মিকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ জলের সংস্থান আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পাহাড়িদের জীবনের ঝুঁকি কমিয়েছে। সুসংগত এ জীবনযাত্রার মৌলিক ভিত্তি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ক্ষত মুছে দিচ্ছে।

যাতাযাত ব্যবস্থার উন্নয়ন:
অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ছাড়া কোনো অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা দূর হয় না। পাহাড়ে উৎপাদিত খাদ্যশস্য সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পেরে নষ্ট হওয়া ছিল স্বাভাবিক চিত্র। বান্দরবানের বাকলাই পাড়ায় বম সম্প্রদায়ের কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য দুটি চাঁদের গাড়ি প্রদান করেছে এবং পোয়ামুহুরীতে স্থানীয়দের চলাচল এবং চাষাবাদকৃত খাদ্য শস্য পরিবহনের জন্য নৌকা প্রদান করেছে। ফলে স্থানীয়দের আয়ের স্থায়ী পথ খুলে দিয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ ও অনিয়ম বন্ধের পথ সুগম হয়েছে। খাগড়াছড়ির গুইমারার বাইল্যাছড়িতে সাঁকো নির্মাণ ও বান্দরবানের সুংসাং পাড়ায় বম সম্প্রদায়ের নিজস্ব মালিকানায় রিসোর্ট তৈরি করে দেওয়া এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পর্যটন শিল্পের সাথে স্থানীয় সম্প্রদায়কে যুক্ত করে আর্থিক সচ্ছলতা এনে দেওয়ার এই প্রয়াস পাহাড়কে আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে।

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন:
শিক্ষা ও মাথার ওপর ছাদ; একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রধান দুটি স্তম্ভ। দুর্গম রাইনখিয়াং পুকুর পাড়ায় শিক্ষা-বঞ্চিত শিশুদের জন্য স্কুল নির্মাণ করে সেনাবাহিনী পাহাড়ে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালিয়েছে। গুইমারার বাটনাতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ পাহাড়ি তরুণদের ডিজিটাল যুগের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে। প্রযুক্তি ও শিক্ষার এই আধুনিক ছোঁয়া তাদের বৈষম্য ও বিভেদের পথ থেকে দূরে সরিয়ে মূলধারার নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

দুর্যোগ বিপর্যয়ে মানবিক সহায়তা:
প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও দুর্যোগেও সেনাবাহিনী সব সময় পরিবারের মতো দাঁড়িয়েছে। গুইমারার তাপ্তা মাস্টার পাড়ায় ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বসতঘর তৈরি করে দেওয়া কিংবা জুরাছড়িতে বন্যায় নিঃস্ব পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া কেবল ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং গৃহহীনদের হৃদয়ে নিরাপত্তার অনুভূতি এনে দেওয়া। এছাড়া সুংসাং পাড়ায় সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য সাউন্ড সিস্টেম ও প্রয়োজনীয় পানির পাইপ প্রদান তাদের সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

উপসংহার:
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর এই নিঃশব্দ কর্মযজ্ঞ দীর্ঘমেয়াদে পাহাড়ের সামাজিক কাঠামো বদলে দিচ্ছে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মৌলিক সুযোগ যেখানে বিস্তৃত হয়, সেখানে অশান্তির বিষবাষ্প টিকতে পারে না। যখন একজন পাহাড়ি তরুণ হাতে কম্পিউটার পায়, নারী সহজে বিশুদ্ধ পানি পায়, কৃষক তার উৎপাদিত ফসল চাঁদের গাড়িতে হাটে পাঠায়, আর শিশুরা পাহাড়ের চুড়ায় স্কুলে যায় তখন পারস্পরিক অবিশ্বাস ও বিদ্বেষের দেয়াল ধসে পড়ে।

নিরাপত্তা ও জনকল্যাণের এই অনুপম সমন্বয় পাহাড়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির শক্ত ভিত্তি নির্মাণ করছে। সেনাবাহিনী সেখানে কোনো শক্তি প্রদর্শক নয়, বরং জীবনযাত্রার গুণগত পরিবর্তনের কারিগর। সুষম উন্নয়ন ও ভালোবাসার শক্তিতে পার্বত্যাঞ্চলের প্রতিটি পাহাড়ে আজ বৈষম্য ও অশান্তি দূর হয়ে শান্তির স্থায়ী প্রদীপ জ্বলে উঠছে। সেনাবাহিনীর এই মহানুভবতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমানে কল্যাণ সাধিত করছে।

পাহাড়ে সেনাবাহিনীর যুগান্তকারী প্রশিক্ষণ উদ্যোগপার্বত্য চট্টগ্রামের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে যুক্ত হয়েছে এক নতু...
01/09/2026

পাহাড়ে সেনাবাহিনীর যুগান্তকারী প্রশিক্ষণ উদ্যোগ

পার্বত্য চট্টগ্রামের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে যুক্ত হয়েছে এক নতুন ইতিবাচক অধ্যায়। এই অঞ্চলের তরুণ ও যুবসমাজকে দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও কর্মমুখী জনশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গ্রহণ করেছে বিভিন্ন দূরদর্শী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি রিজিয়ন, রাঙ্গামাটি রিজিয়ন, বান্দরবান রিজিয়ন ও গুইমারা রিজিয়নের অধীনে আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত পরিচালিত হচ্ছে নানান কর্মমুখী ও কারিগরি প্রশিক্ষণ। এসব প্রশিক্ষণ পাহাড়ের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। এই দূরদর্শী কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো পাহাড়ি যুবসমাজের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করা, তাদের আর্থিকভাবে আরো স্বাবলম্বী করে তোলা এবং কর্মদক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। বিশেষ করে বিভিন্ন অঞ্চলে মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে পার্বত্য জনপদকে এক সম্ভাবনাময় জনশক্তিতে রূপান্তর করার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা ইতোমধ্যে পাহাড়জুড়ে উন্নয়নের নতুন সুবাতাস ছড়িয়ে দিচ্ছে।

চার রিজিয়নের বিভিন্ন সেনা জোনে যেসব প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে ও চলমান থাকবে তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
১। খাগড়াছড়ি রিজিয়ন: চিকিৎসা, প্রযুক্তি ও মেকানিক্যাল খাতে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে খাগড়াছড়িতে দুই ধাপে বৃহৎ পরিসরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে। ১ম ধাপে গত ০২ আগস্ট থেকে ১৩ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত মোট ২৩ জন (১৫ জন পাহাড়ি ও ০৮ জন বাঙালি) এবং ২য় ধাপে ২৩ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩৪ জন (০৯ জন পাহাড়ি ও ২৫ জন বাঙালি)-কে মিডওয়াইফারি ও নার্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ২৩ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মোট ১০৮ জন (৪৪ জন পাহাড়ি ও ৬৪ জন বাঙালি)-কে মোবাইল মেরামত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ২৩ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩৫ জন পাহাড়ি ও ৩৮ জন বাঙালিকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি মেরামত প্রশিক্ষণ ও ইলেকট্রিশিয়ান প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ ও কর্মমুখী জনবল তৈরির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

২। রাঙ্গামাটি রিজিয়ন: এ রিজিয়নে মোট ৫টি প্রধান বিষয়ের ওপর ৯৫ জন তরুণ-তরুণীকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ২৬ জুলাই থেকে ০৬ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১৫ জন পাহাড়িকে মিডওয়াইফারি ও নার্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আগামী অক্টোবর ও নভেম্বর ২০২৬ মাসে টেইলারিং/দর্জি কাজ (২০ জন), কম্পিউটার প্রশিক্ষণ (২৫ জন), যানবাহন মেকানিক প্রশিক্ষণ (১৫ জন) এবং মোবাইল মেরামত প্রশিক্ষণে ২০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।

৩। বান্দরবান রিজিয়ন: বান্দরবানে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসজুড়ে এসি ও ফ্রিজ মেরামত, সেলাই প্রশিক্ষণ, যানবাহন ড্রাইভিং এবং কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিটি কোর্সে ২০ জন করে মোট ৬০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করবেন। পরবর্তী সময়ে অক্টোবর মাসে ২০ জন শিক্ষার্থীকে মোবাইল ফোন মেরামত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া, তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে ডিসেম্বর ২০২৬ মাসে ১০ জন তরুণকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবা খাতেও দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে মিডওয়াইফারি ও নার্সিং প্রশিক্ষণ ১ম ধাপে ০২-১৩ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত মোট ১৯ জন পাহাড়িকে প্রদান করা হয়েছে এবং ২য় ধাপে আরও ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে নিয়ে অক্টোবর ও ডিসেম্বর ২০২৬ মাসে অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন কারিগরি, প্রযুক্তি, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

৪। গুইমারা রিজিয়ন: স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করার পাশাপাশি তরুণদের বিভিন্ন কারিগরি কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এ রিজিয়নে। মিডওয়াইফারি ও নার্সিং প্রশিক্ষণ ৩টি ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১ম ধাপ ০২-১৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত, ২য় ধাপ ০৯-২০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত এবং ৩য় ধাপ ২৯ আগস্ট হতে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এই তিন ধাপে মোট ২৭ জন পাহাড়ি ও ২২ জন বাঙালিকে মিডওয়াইফারি ও নার্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও গত ১৮ আগস্ট থেকে ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পাহাড়ি ১৫ জন ও বাঙালি ০৫ জনকে মোবাইল মেরামত প্রশিক্ষণ এবং পাহাড়ি ১৭ জন ও বাঙালি ০৩ জনকে যানবাহন মেকানিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নিয়মিত উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘সম্প্রীতি কাপ’ ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণদের একসঙ্গে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের চমৎকার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিন পার্বত্য জেলায় আয়োজিত এসব প্রতিযোগিতায় যুবকদের অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ছে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) প্রতিনিধিরা পার্বত্য অঞ্চলে এসে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের যাচাই-বাছাই ও নির্বাচন করছেন। এর ফলে পার্বত্য অঞ্চলের সম্ভাবনাময় ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার এবং জাতীয় দলে খেলার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

নির্দিষ্ট মেয়াদে হাতকলমে শেখা এসব কারিগরি বিদ্যা পার্বত্য যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করে তুলছে। ফ্রিল্যান্সিং ও কম্পিউটার শেখা তরুণরা ঘরে বসেই প্রযুক্তির সুফল পাচ্ছে; আবার ড্রাইভিং, মোবাইল কিংবা এসি-ফ্রিজ ও গাড়ি মেরামত শেখা যুবকেরা স্থানীয় বাজারে কর্মসংস্থান ও নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছে। এছাড়া নারীদের জন্য আয়োজিত বিশেষায়িত মিডওয়াইফারি ও টেইলারিং প্রশিক্ষণ দুর্গম এলাকায় নারী ক্ষমতায়ন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখছে।

এই দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ফলে পাহাড়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। যখন একজন তরুণ বা নারী কাজ শিখে উপার্জনের সুনির্দিষ্ট পথ পায় এবং পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা নিয়ে আসে, তখন তার মধ্যে নিজস্ব আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই বাস্তবমুখী ও কারিগরি প্রশিক্ষণ স্থানীয় যুবসমাজকে স্বাবলম্বী ও ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে তৈরি করছে। সেনাবাহিনীর এমন সামগ্রিক উদ্যোগ পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি, উন্নয়ন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

উপসংহার:
পাহাড়ের সম্ভাবনাময় যুবশক্তিকে কাজের সুযোগ ও কারিগরি দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে নতুন জীবনের আলো দেখানোয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই প্রচেষ্টা সর্বজনবিদিত ও সর্বমহলে প্রশংসনীয়। দক্ষতা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির এই ইতিবাচক পরিবেশ পার্বত্যাঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে সুদৃঢ় করছে। পার্বত্য অঞ্চলের ইতিবাচক রূপান্তর এবং সেনাবাহিনীর এই উন্নয়নমূলক ও কল্যাণকর কর্মকাণ্ডের জন্য স্থানীয় অধিবাসীরা তাঁদের প্রতি ধন্যবাদ ও শুভকামনা জ্ঞাপন করছেন।

ইউএনপিও অধিবেশনে 'পার্বত্য চুক্তি ও সেনাবাহিনী' নিয়ে জেএসএস এরমিথ্যা রেজুলেশন পাশঃনেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে গত ২৯-৩০ ...
01/09/2026

ইউএনপিও অধিবেশনে 'পার্বত্য চুক্তি ও সেনাবাহিনী' নিয়ে জেএসএস এর
মিথ্যা রেজুলেশন পাশঃ

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে গত ২৯-৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আনরিপ্রেজেন্টেড নেশনস অ্যান্ড পিপলস অর্গানাইজেশনের (ইউএনপিও) ২১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আন্তর্জাতিক সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ২৯ আগস্ট শনিবার, প্রথম দিনের অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে প্রীতিবিন্দু চাকমা ও ইঞ্জেবি চাকমা অংশগ্রহণ করেন। সভায় প্রীতিবিন্দু চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামের ওপর একটি বিভ্রান্তিকর রেজুলেশন উপস্থাপন করেন এবং তা সেখানে পাস করিয়ে নেন।

জেএসএস প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে যে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন, তা বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে এটি এক গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। জেএসএস সেখানে দাবি করেছে, "পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২৯ বছর অতিক্রান্ত হলেও চুক্তির মৌলিক বিষয়সহ চুক্তির দুই-তৃতীয়াংশ ধারা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।" তাদের এই বক্তব্য বস্তুনিষ্ঠ সত্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৯৭ সালের চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৬৮টি ধারাই বেশিরভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে অথবা চূড়ান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অর্থাৎ শতাংশের হিসাবে চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি ৯০ ভাগের বেশি। চুক্তির শর্তানুসারে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ পুনর্গঠিত হয়েছে এবং ১৯৮৯ সালের আইন সংশোধন করে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে স্থানীয় শাসন কাঠামোর আওতায় সংহত করা হয়েছে। ভারত থেকে হাজার হাজার শরণার্থীকে সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসন করা হয়েছে। কিন্তু জেএসএস মূল সত্য আড়াল করছে নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জায়গাটিতে। শান্তিবাহিনীর বিশাল অংশ অস্ত্র জমা দেওয়ার নাটক করলেও সব অস্ত্র সমর্পণ করেনি। চার ধাপে মাত্র ১,৯৪০টি অস্ত্র জমা পড়ে। ইতিহাসবিদ ও গবেষক গোলাম মুর্তুজার 'শান্তিবাহিনীর গেরিলা জীবন' গ্রন্থে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, ১৯৭৫ সালেই শান্তিবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৫,০০০। ২২ বছর পর এই সশস্ত্র দলের সমর্পিত অস্ত্রের সংখ্যা মাত্র ১,৯৪০ হবে কেন? বাকি আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রগুলো কোথায় গেল? ২০১৩ সালে বেসরকারি ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক শামীমা বিনতেকে ২০১৩ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খোদ সন্তু লারমা স্বীকার করেছেন, চুক্তির পরও তাদের সশস্ত্র জনবল রয়েছে। চুক্তির সময় তারা সশস্ত্র কার্যক্রম সীমিত করেছিল কিন্তু সম্পূর্ণ জমা দেয়নি।

জেএসএস এর মিথ্যা অভিযোগের সত্যটি হলো, জেএসএস ও তাদের সমমনা আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সেই সমর্পিত না হওয়া অস্ত্র দিয়ে আজও পাহাড়ে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বজায় রেখেছে। জেএসএস, ইউপিডিএফ কিংবা কেএনএফ-এর মতো সশস্ত্র দলগুলো পাহাড়ে নিয়মিত চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন ও গুমের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। তারা নিজস্ব প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে নির্মমভাবে দমন করছে। পাহাড়ের নিরীহ উপজাতি এবং বাঙালি জনগোষ্ঠী উভয়েই এই সশস্ত্র সংগঠনগুলোর অব্যাহত জুলুম ও চাঁদাবাজির প্রধান শিকার।

ইউএনপিও অধিবেশনে জেএসএস আরও অভিযোগ তোলে, "পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে একের পর এক সরকার ব্যাপক সামরিকায়ন করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দমন-পীড়নের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানের নীতি অনুসরণ করে আসছে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে সামরিকায়িত অঞ্চল। 'অপারেশন উত্তরণ' নামক সেনাশাসন সহ পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে চার শতাধিক অস্থায়ী ক্যাম্প কার্যকর রয়েছে।"
এই অপপ্রচারের আড়ালে রয়েছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার মূল সত্য। চুক্তির শর্ত মেনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে পার্বত্য অঞ্চল থেকে ২৩৯টি স্থায়ী ও অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করেছে। অথচ পাহাড়ে রক্তপাত বন্ধ হয়নি। কারণ জেএসএস সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে নিয়মিত অবৈধ অস্ত্র এনে নিজেদের অস্ত্রাগার সমৃদ্ধ করছে। ভারতের মিজোরাম পুলিশের হাতে জেএসএস-এর একাধিক অস্ত্রের বিশাল চালান জব্দের ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নথিভুক্ত রয়েছে। ত্রিদেশীয় সীমান্ত (বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার) দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ বজায় রেখে জুম্মল্যান্ড বা পৃথক রাজ্যের স্বপ্ন দেখা গোষ্ঠীগুলো সশস্ত্র অবস্থান ধরে রেখেছে। নিরাপত্তা বাহিনী যদি সেখানে সার্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষা না করত, তবে পাহাড়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ত।

জেএসএস রেজুলেশনে অভিযোগ করেছে, "ফলে পূর্বের মতই নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক জুম্ম জনগণের উপর নানা ধরনের নিপীড়ন, মানবাধিকার হরণ, সেনামদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কর্তৃক পার্বত্য চুক্তির সমর্থক ও নিরীহ জুম্মদের উপর সন্ত্রাস, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে আন্দোলনরত ব্যক্তি ও সংগঠনদের 'সন্ত্রাসী', 'অস্ত্রধারী', 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' ইত্যাদি তকমা দিয়ে অপরাধীকরণ, সেটেলার বাঙালি ও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কর্তৃক জুম্মদেরকে সাম্প্রদায়িক হামলা, হয়রানি, ভূমি বেদখল, পার্বত্য চুক্তি বিরোধী তৎপরতা, ধর্মান্তরকরণ ও জুম্ম নারী-শিশুদের উপর সহিংসতা ইত্যাদি অব্যাহত রয়েছে।"

এই বক্তব্য পুরোপুরি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রথমত, পার্বত্যাঞ্চলে কোনো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই। মায়ানমারের সামরিক জান্তার গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ মানবিক কারণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ ও ভাসানচরে আশ্রয় দিয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে জেএসএস-এর দাবি তাদের আন্তর্জাতিক সহানুভূতি আদায়ের রাজনৈতিক হাতিয়ার ছাড়া কিছু নয়। দ্বিতীয়ত, পার্বত্য এলাকায় কোনো ইসলামিকরণ বা জোরপূর্বক ধর্মান্তর ঘটছে না। মূল ঘটনা হচ্ছে, দারিদ্র্য ও অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এনজিও এবং মিশনারি সংস্থা পাহাড়ে ব্যাপক ধর্মান্তরকরণ চালিয়ে যাচ্ছে। বান্দরবানের ক্ষুদ্র চাক সম্প্রদায়সহ চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ আজ খ্রিস্ট ধর্মে রূপান্তরিত হচ্ছে। জেএসএস এই পশ্চিমা মিশনারিদের ধর্মান্তর প্রক্রিয়াকে সুকৌশলে আড়াল করে রাষ্ট্রের ওপর মিথ্যা দোষারোপ করছে।
ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির নামে জেএসএস বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে। তাদের রেজুলেশনে দাবিকৃত সুপারিশটি হলো:
"অচিরেই পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ন করে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি পূর্বক জুম্মদের বেহাত হওয়া জায়গা-জমি প্রত্যর্পণ করা।"

বাস্তবতা হলো, সরকার ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তি ও তথাকথিত শাসনবিধি অনুযায়ী ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করেছে। কিন্তু আইনগত ও নৈতিকভাবে কোনো নিরপেক্ষ বিচার কাঠামো গঠিত হতে হলে তাতে বিরোধের সব পক্ষ সমান সুযোগ পাবে। এই কমিশনের ৯ জন সদস্যের মধ্যে ৭ জনই উপজাতি প্রতিনিধি এবং ২ জন সরকারি প্রতিনিধি। সেখানে পার্বত্য এলাকায় বসবাসকারী বিরাটসংখ্যক বাঙালি জনগোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধিত্বই রাখা হয়নি। অধিকন্তু, এই কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে প্রচলিত আদালতে কোনো আপিল করার সুযোগ নেই এবং এটি দেশের সংবিধান ও সাধারণ ভূমি আইন অনুসরণ করে না।
একতরফা ব্যবস্থার মাধ্যমে বাঙালিদের ভূমি অধিকার ক্ষুন্ন করার যে ষড়যন্ত্র জেএসএস করছে, তা আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য ও বৈষম্যমূলক।
নেদারল্যান্ডসের হেগ অধিবেশনে প্রীতিবিন্দু চাকমা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যে রেজুলেশনের প্রস্তাবসমূহ হুবহু পেশ করেছেন, তা নিম্নরূপ:
(ক) বাংলাদেশ সরকারের প্রতি:
১) পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সময়সূচি ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) ঘোষণা করা।
২) পার্বত্য চট্টগ্রামকে বেসামরিকীকরণের লক্ষ্যে 'অপারেশন উত্তরণ' নামক সেনাশাসন সহ সকল অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার করা।
৩) অচিরেই পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ন করে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি পূর্বক জুম্মদের বেহাত হওয়া জায়গা-জমি প্রত্যর্পণ করা।

(খ) আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি:
১) পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের উপর রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রদান করা।
২) পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত বাংলাদেশ সেনা সদস্যাদেরকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে নিয়োগ না করা।
৩) পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জুম্মদের মানবাধিকার পরিস্থিতি সরেজমিন তদন্তের জন্য জাতিসংঘের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক স্পেশাল র‍্যাপোটিয়রকে বাংলাদেশ সফরের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
(গ) বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতি:
১) পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারাদেশে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা।
hwf বলছে, এই সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে, জেএসএস বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ বন্ধের চক্রান্ত করছে।

অস্ত্রের শক্তি আর শান্তিপাত কখনো একসঙ্গে চলতে পারে না। জেএসএস-কে যদি সত্যি চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক হতে হয়, তবে সর্বাগ্রে তাদের সম্পূর্ণ অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে এবং হত্যা, গুম ও চাঁদাবাজির রাজনীতি বর্জন করতে হবে। রাষ্ট্রের শিথিল নীতির সুযোগ নিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সেনাবাহিনীর সম্মান বিনষ্ট করার সুযোগ আর দেওয়া যায় না। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ; সেখানে অপপ্রচার চালিয়ে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না।

সাজেকে ইউপিডিএফের সাবেক সংগঠক সাংবাদিক রুপম চাকমাকে ইউপিডিএফ কর্তৃক হত্যার হুমকির অভিযোগ।রাঙামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার বালুঘ...
31/08/2026

সাজেকে ইউপিডিএফের সাবেক সংগঠক সাংবাদিক রুপম চাকমাকে ইউপিডিএফ কর্তৃক হত্যার হুমকির অভিযোগ।

রাঙামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার বালুঘাট ৪নং ওয়ার্ড, ৩৬ নং সাজেক ইউপির বাসিন্দা পাত্তর মনি চাকমার পুত্র রুপম চাকমা (৪২) পেশায় একজন সাংবাদিক। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ২৫ আগস্ট রুপম চাকমা তার ফেসবুক আইডি Rupam Chakma থেকে এক ফেসবুক পোস্ট দিয়ে জানায়, "সেনাবাহিনীর সংবাদ প্রকাশ করার +880 1632-559962 এই নাম্বার থেকে আমাকে মেরে। ফেলার হুমকি দিচ্ছে।"

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ইউপিডিএফ এর হাতে যদি সাবেক সংগঠক নিরাপদ না থাকে সাধারণ মানুষ কী আর নিরাপদ থাকবে?

ইউপিডিএফ পাহাড়ে ভিন্নমত দমন করে। কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে তার কণ্ঠ চেপে ধরে। চাঁদাবাজি, হত্যা, খুন-গুম হচ্ছে ইউপিডিএফ এর রাজনীতি আর স্বায়ত্তশাসন। এভাবেই পাহাড়ে। ইউপিডিএফ সন্ত্রাসবাদ কায়েম করে।

সেনাবাহিনীর পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করায় ইউপিডিএফ রুপম চাকমাকে মোবাইল করে হত্যার হুমকি দেয়। জানা গেছে হুমকি দেওয়া মোবাইল নম্বরটি বাঘাইহাট ইউপিডিএফের।

রাঙামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী সংগঠনের সংগঠক এবং কালেক্টর হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছিল সাংবাদিক রুপম চাকমা। দীর্ঘদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাষ্ট্র, বাঙালি ও সেনাবাহিনী বিরোধী অপপ্রচার করে আসছিল। সাংবাদিকতার আড়ালে রাষ্ট্র বিরোধী কাজ করেছিল। গত ২ বছর ধরে ইউপিডিএফ সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দিলে ইউপিডিএফ তাকে বহিষ্কার করে। পরে রুপম চাকমা ভারতে পালিয়ে যায়। বিগত বছর রুপম চাকমা সাজেক পুনরায় ফিরে এসে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে সরব হয় এবং সাংবাদিকতা শুরু করে। জানা গেছে জেএসএস সংস্কারে সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। এরপর থেকে ইউপিডিএফ সমর্থকরা তাকে তাকে নিয়ে ফেসবুক লেখালেখি হেয়-প্রতিপন্ন ভাবে লেখালেখি শুরু করেন।

বর্তমানে অতীতের ভুল বুঝতে পেরে রুপম চাকমা ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের গঠনমূলক সমালোচনা করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। যার কারণে ইউপিডিএফ রুপম চাকমার উপর ক্ষিপ্ত হয়।

নিরাপত্তা বাহিনীকে মোকাবেলা করতে গহীনপাহাড়ে সন্ত্রাসীদের অত্যাধুনিক অস্ত্র।পার্বত্য সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর কোনো ছবি সামাজিক য...
29/08/2026

নিরাপত্তা বাহিনীকে মোকাবেলা করতে গহীনপাহাড়ে সন্ত্রাসীদের অত্যাধুনিক অস্ত্র।

পার্বত্য সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর কোনো ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করলে এদেশের অধিকাংশ মানুষ বলে থাকে ছবিগুলো ভারতের নাগা বিদ্রোহী, বার্মার কাচিন বিদ্রোহী, কিংবা ভিয়েতনামের সশস্ত্র বিদ্রোহীদের ছবি। আমরাও পাঠকমহলের নিকট ছবির বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ উত্থাপন করতে ব্যর্থ হই। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এদেশের সুযোগ-সন্ধানী আগাছা ও পাহাড়ের জ্ঞানপাপী মহা পন্ডিতরা সর্বদা উপজাতি সন্ত্রাসীদের ছবিকে ভিনদেশীদের ছবি বলে প্রচার করে দামাচাপা দিতে তৎপর থাকে।

এদিকে আমরা বারবার বলে আসছি এসমস্ত ছবি ভিনদেশী কোন বিদ্রোহীগোষ্ঠীর ছবি নয়। এটি হচ্ছে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র উপজাতি সন্ত্রাসী বাহিনীগুলোর ছবি। সংযুক্ত ছবিটিতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে অত্যাধুনিক অস্ত্রসহ জেএসএস সন্ত্রাসী নিক্সন চাকমা। ছবিটি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের চুক্তি পক্ষ সংগঠন জেএসএস সন্তু গ্রুপের। তারা বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গহীনপাহাড়ে অস্ত্র সমৃদ্ধ করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ফেসবুক একাউন্ট ও পেইজেই অনেক সশস্ত্র ছবি ছড়িয়ে পড়ছে। এধরনের ছবি সরাসরি ফেসবুকে দেওয়ার দুঃসাহস তারা কীভাবে পায়? পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের অভিমত, উপজাতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কর্তৃক রাষ্ট্রকে অস্ত্র প্রদর্শন কিংবা হুমকির বিষয়টিকে কোনভাবে হালকাভাবেই নেওয়ার সুযোগ নেই। একটি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব গণতান্ত্রিক দেশে এভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী থাকা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি স্বরূপ। এই সমস্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মেরুদন্ড ভেঙ্গে না দিলেও অচিরে বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি অপেক্ষা করছে। এই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো কার্যক্রম থেকে বুঝা যাচ্ছে তারা বেশ পাকাপোক্ত এবং শক্তিসাধন করেছে। তাই এখনই তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া উচিত।

সচেতন মহল জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর থেকে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ এবং অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের গহীনপাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত অধিবাসীদের অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) বাংলাদেশ সরকার মধ্যকার ১৯৯৭ সালের সম্পাদিত 'পার্বত্য চুক্তি' অনুযায়ী পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রধারী থাকার কথা নয়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তারা চুক্তির মৌলিক শর্ত লঙ্ঘন করে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে এখনো সক্রিয় রয়েছে। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার কথা থাকলেও রাস্ট্রের নতজানু নীতির কারণে তারাই ৪ভাগে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন নামে পাহাড়ে চাঁদাবাজি, অপহরণ, ধর্ষণ ও খুন-গুম সহ রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কর্মকান্ডের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়েছে। যার কারণে পাহাড়ের মানুষ অতিষ্ঠ। পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সড়ক, শিক্ষা ও কাঠামো নির্মাণ সহ সবধরনের উন্নয়ন কার্যক্রমে উপজাতি সন্ত্রাসীরা বাধা প্রদান করে থাকে৷ এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান অঞ্চলে তাদের আধিপত্য বিস্তার। বিদেশি এনজিও, মিশনারী ও দাতা সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধানে এবং এদেশীয় কতিপয় বুদ্ধিজীবী ও বাম রাজনৈতিক দলগুলো ছত্রছায়ায় উপজাতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসবাদ চালাচ্ছে। সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো গোপনে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব তিমুর কিংবা দক্ষিণ সুদানের মতো অবিকল আলাদা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দিকে হাঁটছে।

নাইক্ষ্যংছড়িতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আরাকান আর্মির সহযোগী আটক:বৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মিয়ানমারের মগ যুবককে আটক করেছে ১...
28/08/2026

নাইক্ষ্যংছড়িতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আরাকান আর্মির সহযোগী আটক:

বৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মিয়ানমারের মগ যুবককে আটক করেছে ১১ বিজিবির লেম্বুছড়ির জোয়ানরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ির ১১ বিজিবির অধীন লেম্বুছড়ি বিওপির টহল কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে টহল দলটি সীমান্তপিলার ৫০ থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ উত্তর দিকে বাংলাদেশের ভেতরে ‘বাহির মাঠ’ নামের স্থান থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

আটক যুবকের নাম জোজোবা (২৭)। তিনি মিয়ানমারের বুচিদং জেলার তেপাডং গ্রামের জোমই থংয়ের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্নের জবাবে যুবক জানিয়েছেন, তিনি মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির কাছে যাচ্ছিলেন। তিনি তাদের একান্ত সহযোগী বলেও দাবি করেন।

এদিকে বিজিবি সূত্রের দাবি, আটক মিয়ানমারের যুবকের কাছ থেকে বাংলাদেশি ৮ হাজার ৫৫০ টাকা ও একটি স্মার্টফোন পাওয়া গেছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ১১ বিজিবি মিয়ানমারের এক নাগরিককে টাকা ও মোবাইল ফোনসহ বিজিবি থানায় সোপর্দ করে। তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে থানায়।

পাহাড়ের বাস্তব চিত্র আর জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাম্প্রতিক একটি মর্মান্তিক ঘটনা সামনে আসে। রাঙ্গামাটির ব...
27/08/2026

পাহাড়ের বাস্তব চিত্র আর জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাম্প্রতিক একটি মর্মান্তিক ঘটনা সামনে আসে। রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি গোয়েনছড়ি পাড়ায় মাদকের টাকার জন্য পারিবারিক বিরোধের জেরে মাচিং মারমা (৬০) নামে এক জুম্ম গৃহবধূ তার স্বামীর ধারালো দা-এর আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরে গেলেও এই ঘটনাটি পাহাড়ি সমাজে চেপে রাখা এক নির্মম সত্য প্রকাশ করে দিয়েছে। এটি কেবল একটি সাধারণ সহিংসতা নয়, বরং পাহাড়ের ঘরে ঘরে মাদকের বিস্তার এবং তার কারণে জন্ম নেওয়া প্রতিদিনের অশান্তির জীবন্ত প্রতীক।

পাহাড়ি সমাজের সাধারণ জুম্ম নারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণা আজ আর আড়ালে নেই। পাহাড়ের ঢালে রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে জুম চাষের কঠোর পরিশ্রম থেকে শুরু করে রান্নাবান্না ও গৃহস্থালির পুরো দায়িত্ব একাই সামলান নারীরা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, পাহাড়ি ছেলেদের একটি বড় অংশ কাজকর্মে উদাসীন হয়ে পড়ছে এবং প্রতিনিয়ত মাদকের করাল গ্রাসে নিজেদের ধংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নিজেদের হাড়ভাঙা খাটুনির পর যখন মাদক কেনার টাকার জন্য স্ত্রীর ওপর নেমে আসে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, তখন একজন নারী হিসেবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম নিরাপত্তাটুকুও বিলুপ্ত হয়ে যায়।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পাহাড়ের জুম্ম নারীরা নিজেদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য বিকল্প চিন্তাভাবনা করতে বাধ্য হচ্ছেন। সাধারণ পাহাড়ি মেয়েরা বাঙালি ছেলেদের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন বা তাদের পছন্দ করছেন—তার প্রধান কারণ কেবল জাতিগত বৈচিত্র্য নয়, বরং একটি শান্তিময় ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা। সাধারণত বাঙালি তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তির হার তুলনামূলক কম দেখা যায় এবং তাদের অর্থনৈতিক দায়িত্ববোধ ও কাজ করার মানসিকতা অনেক বেশি। একজন কর্মঠ স্বামী যিনি সংসারের প্রতি নজর দেন এবং ঘরকে একটি নিরাপদ স্থানে রূপান্তর করেন, তাঁর কাছেই জুম্ম নারীরা মানসিক শান্তি ও নিরাপত্তা খুঁজে পান। নিজের কাজের মূল্যায়ন, মাদক ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ এবং একটি সুন্দর সংসার গড়ার আশাতেই পাহাড়ের সাধারণ নারীরা আজ বাঙালি ছেলেদের প্রতি ঝোঁক প্রকাশ করছেন।

জীবনের মৌলিক নিরাপত্তা, আত্মসম্মান এবং ভালোবাসার টানে জুম্ম নারীরা এখন বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। পাহাড়ের যুবসমাজকে যদি এই সংকট থেকে মুক্ত করতে হয়, তবে অবিলম্বে মাদকের কড়াল গ্রাস বন্ধ করা এবং নারীদের শ্রমের সঠিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

গ্রামবাসীর ধাওয়ায় অস্ত্র ফেলে পালাল বিএসএফ, ফেরত দিল বিজিবি:লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ফেলে যাওয়া ভারতীয় সীমান্তরক...
27/08/2026

গ্রামবাসীর ধাওয়ায় অস্ত্র ফেলে পালাল বিএসএফ, ফেরত দিল বিজিবি:

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ফেলে যাওয়া ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

গতকাল, বুধবার (২৬ আগস্ট) মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম। এর আগে, গতকাল সন্ধ্যায় উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের বনচৌকি-আমঝোল সীমান্তের ৯০৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে সীমান্তের ৯০৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় কয়েকজন বাংলাদেশি কৃষক নিজ জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় বিএসএফের কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে কৃষকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান ও মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

খবর পেয়ে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে ধাওয়া দিলে বিএসএফ সদস্যরা দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে বনচৌকী ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অস্ত্র ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। পরিস্থিতি তদারকিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম।

ওই দিন সন্ধ্যায় সীমান্ত এলাকায় ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে আয়োজিত পতাকা বৈঠকে বিএসএফের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করলে বিজিবি তাদের উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও ওয়াকিটকি ফেরত দেয়।

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের বেআইনিভাবে সীমান্ত অতিক্রম ও স্থানীয় বেসামরিক নাগরিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ানোর বিষয়টি কঠোর ভাষায় তুলে ধরা হয়। জবাবে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য বিজিবির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার এবং জড়িত বিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো আশ্বাস দেন তিনি। বৈঠক শেষে বিজিবির উদ্ধার করা অস্ত্র ও ওয়াকিটকি সেট নির্ধারিত সরকারি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনে বিএসএফ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

26/08/2026

শান্ত পাহাড়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে কেএনএফ (কুকি-চিন) বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা। সাধারণ পাহাড়ি মানুষ, যারা কেবল নিজেদের মতো শান্তিতে জীবনযাপন করতে চায়, তারা আজ এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর জিম্মি ও নির্যাতনের শিকার।

ভিডিও ও ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কীভাবে দুই নিরীহ জুম্মদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্ত্র উঁচিয়ে সাধারণ জনগণকে ভয় দেখিয়ে তারা পার্বত্য অঞ্চলকে অশান্ত করে তুলছে।

পাহাড়ের শান্তিপ্রিয় জুম্ম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং এই অপরাধীদের আইন অনুযায়ী শাস্তির মুখোমুখি করতে সবাই সোচ্চার হোন।

পোস্টটি শেয়ার করে অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করুন।

দীঘিনালায় বেকার যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সেনাবাহিনীখাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বেকার যুবকদের দক্ষতা...
25/08/2026

দীঘিনালায় বেকার যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সেনাবাহিনী

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে তিন সপ্তাহব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৩৬ জন বেকার যুবককে নিয়ে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রশিক্ষণে মেকানিক্যাল অ্যান্ড রিপেয়ার এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মোবাইল রিপেয়ার বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত খরচের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসামগ্রীও বিনামূল্যে সরবরাহ করছে দীঘিনালা জোন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকেরা কারিগরি বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জন করবেন। আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি রিজিয়নের দীঘিনালা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শিহাবুন সাকিব রুশাদ, পিএসসি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বেকার যুবকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মক্ষম তরুণদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা করছেন।

Address

Fulbaria

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Save CHT posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category