Save CHT

Save CHT পাহাড়ের ইতিহাস উন্মোচন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য

ঋতুপর্নার গোলে সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে প্রথমার্ধের খেলাশেষে ১-১ গোলের সমতা বাংলাদেশের
03/06/2026

ঋতুপর্নার গোলে সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে প্রথমার্ধের খেলাশেষে ১-১ গোলের সমতা বাংলাদেশের

03/06/2026

সম্প্রতি সশস্ত্র গোষ্ঠী কেএনএফ/কেএনএ এর ফেসবুক পেজ থেকে রুমা উপজেলার রনিপাড়ার বাসিন্দাদের নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছিল যে, স্থানীয় পুটারদের (মালামাল বাহক) সেনাবাহিনী পারিশ্রমিক বা টাকা দিচ্ছে না। তবে রনিপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা এই ভিডিওটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

নিচে রনিপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের সরাসরি বক্তব্য তুলে ধরা হলো:

১ম ব্যক্তির বক্তব্য:
আমার নাম মুন্না গতবারে কেএনএফ এর পেজ থেকে ছাড়ছে সেটা মিথ্যা ভাবে ভিডিও করা ও সেটা মিথ্যা ও বানোয়াট।

২য় ব্যক্তির বক্তব্য:
আমার নাম হ্যাবেন কারবারী আমি রনিপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা বর্তমান কারবারী হিসেবে কর্মরত৷ আমি একটা বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই সেটা হচ্ছে, যে এজটি ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছিল পুটার (মালামাল বাহক) সম্বন্ধে মুন্না লিয়ান বম বামে এক ব্যক্তির ভিডিও ওইটা হচ্ছে আমাদের সিভিলিয়ান এর সাথে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক দূর করার কৌশল বলে মনে করি এবং ভিডিওটা আমাদের প্রতি সেনাবাহিনী জোরজুলুম করেছে বলে করা হয় নাই, সেনাবাহিনীর আজ পর্যন্ত আমাদের প্রতি জোর জুলুম করে নাই। পুটার (মালামাল বাহক) এটা আমাদের আয়ের একটা উৎস। যারা ভিডিও টাকে অপপ্রচার করেছে কেএনএফ কিংবা কেএনএ এরা আমাদের সমাজপর শত্রু দেশের শত্রু এরা সেনাবাহিনীর সাথে আমাদের ভালো একটা সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে আমি নিজে এটার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

৩য় ব্যক্তির বক্তব্য:
আমার নাম রফিক বম রনি পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা আমি পোস্ট এর ব্যাপারে একটা কথা বলতে চাই, গত মাসে কেএনএফ পেজে যে ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছে সেগুলো সব মিথ্যা বা ভুয়া আমাদের যে পুটার (মালামাল বাহক) যায় তার বিনিময়ে আমাদেরকে টাকা দিয়ে দেয়।

পরিশেষে, রনিপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত জবানবন্দি ও প্রতিবাদ প্রমাণ করে যে, পাহাড়ের সাধারণ মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতির পক্ষে। কেএনএফ বা কেএনএ এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থ হাসিলের জন্য এবং সাধারণ জনগণের সাথে সেনাবাহিনীর দূরত্ব তৈরি করতে প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে যাচ্ছে। তবে স্থানীয়দের সচেতনতা এবং সত্য প্রকাশের সাহস এই অপপ্রচারকে সম্পূর্ণ নসাৎ করে দিয়েছে। পাহাড়ের শান্তি, উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর এই পারস্পরিক আস্থা ও সুসম্পর্ক বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি। কোনো ধরনের অপপ্রচার যেন এই সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

জেএসএস ও ইউপিডিএফ এর ত্রিমুখী চাপ: কীভাবে পদত্যাগে বাধ্য হলেন সজ্জন রাজনীতিজ্ঞ দীপেন দেওয়ান?পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতি...
03/06/2026

জেএসএস ও ইউপিডিএফ এর ত্রিমুখী চাপ: কীভাবে পদত্যাগে বাধ্য হলেন সজ্জন রাজনীতিজ্ঞ দীপেন দেওয়ান?

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এক ঝোড়ো হাওয়া বইয়ে দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে রাঙামাটির ২৯৯ নম্বর আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য এবং পরবর্তীতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্ষমতার মাত্র তিন মাসের মাথায়, গত ১ জুন আকস্মিক ‘স্বাস্থ্যগত কারণ’ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি, যা তাৎক্ষণিকভাবে গৃহীতও হয়।

তবে সচেতন মহল এবং স্থানীয় রাজনীতির অন্দরে কান পাতলে স্পষ্ট বোঝা যায়, এই পদত্যাগ কেবলই স্বাস্থ্যগত কারণে নয়। বরং আঞ্চলিক সশস্ত্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী জেএসএস এবং ইউপিডিএফ-এর আকাশচুম্বী অনৈতিক দাবি, পাহাড়ের জটিল সমীকরণ এবং দলীয় কোন্দলের ত্রিমুখী চাপের মুখেই অত্যন্ত সজ্জন ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এই মানুষটি মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত নির্বাচনে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সরাসরি কোনো প্রার্থী দেয়নি। পর্দার আড়াল থেকে তারা দীপেন দেওয়ানকে সমর্থন দিয়েছিল। তবে এই সমর্থনের পেছনে ছিল সুদূরপ্রসারী ও বিতর্কিত এক রাজনৈতিক স্বার্থ।

জেএসএস-এর মূল লক্ষ্য ছিল, দীপেন দেওয়ান মন্ত্রী হলে পার্বত্য চুক্তির এমন কিছু ধারা (যা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য বাস্তবায়নে চরম চ্যালেঞ্জিং) বাস্তবায়নে তাকে বাধ্য করা। একই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদগুলোর পুনর্গঠনে জেএসএস-পন্থী বিতর্কিত ব্যক্তিদের বসানোর জন্য তারা মন্ত্রীর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। সম্প্রতি পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাঙামাটিতে জেএসএস সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি উষাতন তালুকদারের বক্তব্যেও এমন অনৈতিক দাবি ও হুমকির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছিল। জেএসএস নেতারা প্রকাশ্যে এমনও বলতে শুরু করেছিলেন, “আমরা ভোট দিয়ে জিতিয়েছি, সুতরাং আমাদের সব কথা শুনতে হবে।”

এদিকে জেএসএস-এর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ (চুক্তি বিরোধী অংশ) শুরু থেকেই দীপেন দেওয়ানকে ‘জেএসএস সমর্থক’ তকমা দিয়ে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তাদের কৌশল ছিল ভিন্ন। একদিকে তারা চায়নি জেএসএস সরকারের কাছ থেকে কোনো সুবিধা পাক, অন্যদিকে নিজেদের আখের গোছাতে তারাও মরিয়া ছিল।

ইউপিডিএফ নেতারাও জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিজেদের পছন্দের লোক নিয়োগ দেওয়ার জন্য মন্ত্রীর ওপর সমান্তরাল চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। বিভিন্ন প্রকল্প পছন্দের জন্য তদবির ছিল। একপ্রকার জেএসএস-কে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করতে এবং দীপেন দেওয়ানকে বিতর্কিত করতেই তারা জলঘোলা করতে শুরু করে।

দলীয় কোন্দল ও একজন সজ্জন মানুষের অসহায়ত্ব:
২০০৫ সালে যুগ্ম জজের মর্যাদাপূর্ণ চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন দীপেন দেওয়ান। পাহাড়ের সাধারণ মানুষ, তা পাহাড়ি হোক বা বাঙালি সকলের কাছেই তিনি একজন শান্ত, ভদ্র ও উদারপন্থী মানুষ হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ প্রথম থেকেই তাঁর এই সর্বজনীন নেতৃত্ব মেনে নিতে পারেনি, ফলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল লেগেই ছিল।

দলীয় কোন্দল সামাল দেওয়া হয়তো সম্ভব ছিল, কিন্তু আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোর স্বার্থান্বেষী হিংস্র রাজনীতির দাবার ঘুঁটি হতে রাজি ছিলেন না দীপেন দেওয়ান। স্থানীয় বেশ কয়েকজন পাহাড়ি ও বাঙালি বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা যায়:

"দীপেন দেওয়ান ছিলেন পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মন্ত্রী। তিনি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পকেট বা সই-স্বাক্ষর করার মেশিন হতে চাননি। জেএসএস ও ইউপিডিএফ-এর আকাশচুম্বী ও অসাংবিধানিক চাওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। তিনি যদি আঞ্চলিক দলগুলোর সংকীর্ণ স্বার্থে কাজ করতেন, তবে তিনি জনগণের কাছে বিতর্কিত হতেন। আর এই পরিচ্ছন্ন মানুষটিকে বিতর্কিত করতেই চাপ প্রয়োগ করে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।"

দীপেন দেওয়ানের মূল স্বপ্ন ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং পিছিয়ে পড়া এই জনপদের সার্বিক উন্নয়ন। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যেও এই স্বপ্নের প্রতিফলন দেখা গেছে। কিন্তু পাহাড়ের তথাকথিত বিচ্ছিন্নতাবাদী ও আঞ্চলিক সংগঠনগুলো কখনই চায় না পাহাড়ের মূল ধারার টেকসই উন্নয়ন হোক। কারণ পাহাড় অনগ্রসর ও অশান্ত থাকলেই তাদের চাঁদাবাজি ও আধিপত্যের রাজনীতি টিকে থাকে। ফলে নিজেদের পথের কাঁটা সরাতেই তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই ভালো মানুষটিকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য করেছে।

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয় বিএনপির বড় একটি অংশ তাঁর পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে তাঁকে পুনরায় স্বপদে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে।

অন্যদিকে, দীপেন দেওয়ানের মতো একজন সজ্জন রাজনীতিকের এই বিদায়ের পর দায় এড়াতে জেএসএস ও ইউপিডিএফ এখন একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোঁড়াছুড়িতে লিপ্ত হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্রের জোর আর আঞ্চলিক দলগুলোর নোংরা স্বার্থের বলী হয়েছেন একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক মন্ত্রী।

পাহাড়ি মেয়েদের ছবি সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়ায়: সামাজিকভাবে হেয়-প্রতিপন্নের শিকার।পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা: খাগড়াছড়ি, র...
03/06/2026

পাহাড়ি মেয়েদের ছবি সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়ায়: সামাজিকভাবে হেয়-প্রতিপন্নের শিকার।

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা: খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি এবং বান্দরবান, যেখানে বাঙালিদের পাশাপাশি বিভিন্ন উপজাতি সম্প্রদায়ের লোকেরা বাস করে, সেখানে একটি উল্লেখযোগ্য সামাজিক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়: পাহাড়ি নারীদের মধ্যে বাঙালি পুরুষদের প্রতি আকর্ষণ এবং তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। এই প্রবণতা গত তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে চলছে, যার ফলে এক হাজারেরও অধিক পাহাড়ি নারী বাঙালি পুরুষদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সুখের সংসার গড়েছেন এবং উন্নত জীবনের সন্ধানে নতুন পথ বেছে নিয়েছেন। পাহাড়ি সমাজে বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাসবাদ, খুন-খারাবি, মাদক সেবন, নেশায় মাতাল অবস্থা এবং অকর্মণ্যতার কারণে এই নারীদের একটি অংশ স্বামী বা জীবনসঙ্গী হিসেবে বাঙালি সুপুরুষদের পছন্দ করছেন।

পাহাড়ি নারীরা চান একটু শান্ত, ভদ্র স্বভাবের, স্মার্ট পুরুষ, যিনি সুখে রাখার নিশ্চয়তা দিতে পারেন, খেয়াল রাখতে পারেন, কেয়ারিং করতে পারেন এবং ছোটখাটো আবদার পূরণ করতে পারেন। এই ধরনের বাঙালি পুরুষদের প্রতি তারা দুর্বল। পছন্দের বাঙালি সুপুরুষ পাওয়ার জন্য তারা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে হুমকির সম্মুখীন হলেও নিজের জাতি পরিচয়, ধর্ম ও সংস্কৃতি ত্যাগ করে ভিন্ন ধর্মের পুরুষের সাথে অজানা উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন। বাঙালি পুরুষরা এই ত্যাগকে ভালোবাসার চাদরে ভরিয়ে দেন, জীবনের সব দুঃখ-কষ্ট একপাশে রেখে পাহাড়ি নারীকে শান্তিতে রাখার জন্য সবকিছু দেন। যদিও কিছু নারী উন্নত জীবনের আশায় ব্যক্তিগত চিন্তায় ভুল করে ধোঁকা খান, কিন্তু তা তুলনামূলকভাবে নগণ্য।

স্থানীয়রা বলছেন, পাহাড়ি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো যদি বাধা না দিত, তাহলে এই সংখ্যা লক্ষাধিক হতো। এই সংগঠনগুলো জাতি রক্ষার নামে বাঙালি পুরুষদের সাথে পাহাড়ি নারীদের কথা বলা, চলাফেরা, প্রেম বা বিবাহ নিষিদ্ধ করে। কেউ এই নিয়ম অমান্য করলে তাকে গণধর্ষণ, নিলামে তোলা, হত্যা বা তার পরিবারকে জরিমানা ও সমাজচ্যুত করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাঙালি ছেলেদের সঙ্গে থাকা ছবি, ভিডিও নিয়ে নারীদের নির্যাতন, হেনস্তা, স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া বা দলবেঁধে গণধর্ষণ করা হয়, এবং তার ভিডিও বা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এভাবে একজন পাহাড়ি নারীকে সামাজিকভাবে এবং মানসিকভাবে শেষ করে দেওয়া হয়। এই মধ্যযুগীয় নির্যাতন থেকে বেঁচে ফেরা নারীর সংখ্যা খুবই কম; কেউ যদি ফিরে আসেন, তিনি ভাগ্যবান। এই ভয় দেখিয়ে নির্যাতন করা হয় যাতে কেউ বাঙালি পুরুষদের সাথে সম্পর্ক না করে।

এছাড়া, সুন্দরী পাহাড়ি নারীকে কিছু উগ্র পাহাড়ি যুবক ভোগ করতে ব্যর্থ হলে, অর্থাৎ প্রস্তাবে রাজি না হলে, তাকে গায়েল করার জন্য বাঙালির সাথে সম্পর্ক আছে বলে অভিযোগ করে অভিযুক্ত করা হয়। AI যুগে ছবি এডিট করে তা ছড়িয়ে দেওয়া বা ব্ল্যাকমেইল করে ভোগ করা হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল করা হয়। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এসব AI ছবি ও ভিডিওর যাচাই-বাছাই ছাড়া একদল উগ্র মানুষ পাহাড়ি মেয়েদের চরিত্র নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে, ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে তাদের সামাজিক মর্যাদা অপদস্ত করছে। এটি একধরণের মানবতা-বহির্ভূত, পশুসুলভ উন্মাদনার শোভা মনে হয়।

সভ্যতার এই যুগে পাহাড়ি নারীরা পরাধীনতার শিকলে বাঁধা। আমাদের নারীবাদী এবং সুশীল সমাজ পাহাড়ে নারী নির্যাতন নিয়ে কখনো অদৃশ্য কারণে কথা বলে না। অথচ এই পাহাড়ি নারীদের বিরাট অংশ যুগের পর যুগ ধরে স্বজাতি মাতাল, নেশাখোর, জুয়াড়ি, একাধিক নারীতে আসক্ত এবং অকর্মণ্য পুরুষের ভোগ্যপণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন।

এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি পাহাড়ি জেলা এবং তার ২৬টি উপজেলায় স্কুল-কলেজে বাঙালি সহপাঠীদের সাথে পাহাড়ি নারীদের কথা বলা নিষিদ্ধ। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ এই বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখে। অনেক সময় সহপাঠীদের সাথে প্রয়োজনমাফিক বা সৌজন্যতা রাখতে গিয়ে কথা বলায় সন্দেহের মধ্যে পড়ে নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হন পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা। একইভাবে চাকরি বা অন্যান্য ক্ষেত্রে বাঙালি সহকর্মীদের সাথে কথা বলতে বাধার সম্মুখীন হন।

বর্তমানে পাহাড়ের সচেতন পাহাড়িরা তাদের সন্তানদের শিক্ষিত করতে এবং উন্নত জীবনের আশায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কর্মস্থলে পাঠান। সেখানে বাঙালি পুরুষদের সাথে অনেকের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু এসব সম্পর্ক নিয়ে পাহাড়ি নারীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। তাদের উপর নজরদারি করা হয়, মোবাইল এবং চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই কড়াকড়ি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে পাহাড়ি নারীরা শান্তির নীড় খুঁজে নিচ্ছেন। পছন্দের বাঙালি সুপুরুষের সাথে জুটি বেঁধে জীবনকে রঙিন করতে উপজাতি থেকে বাঙালি মুসলিম, হিন্দু বা বড়ুয়া হয়ে যাচ্ছেন।

গত কয়েক দশকে বাঙালি পুরুষ বিয়ে করা অনেক পাহাড়ি নারীকে জেএসএস, ইউপিডিএফের মতো সংগঠনগুলো বিভিন্ন কলাকৌশলে অপহরণ করে, পিতা-মাতাকে জিম্মি করে ফিরিয়ে এনেছে। এসব নারীর অনেকে আজ সমাজে অবহেলা এবং কটুক্তির মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন, আবার অনেকের বেঁচে থাকা নিয়ে কোনো তথ্য নেই।

অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, পাহাড়ি সমাজে নারীরাই মূলত জুমে ফসল উৎপাদন ও বিক্রি করে সংসারের ভার বহন করেন। দিনরাত পরিশ্রম করে ঘর এবং বাহিরের সব কাজ সামলাতে হয় তাদের। বিপরীতে বহু পুরুষ অলস জীবনযাপন করেন—ঘোরাফেরা, মদপান করে নেশাগ্রস্ত অবস্থা বা ঘরে বসে হুক্কা টানাই তাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। সংসারের আর্থিক এবং সামাজিক দায়ভার প্রায় সম্পূর্ণভাবে নারীদের কাঁধে। কেউ কেউ পরকীয়ার প্রেমিকার সাথে সংসার ভাগ করে নিতে বাধ্য হন, সহ্য করেন স্বামীর নানামুখী নির্যাতন। যদিও সভ্যতার কারণে এখন শিক্ষার আলোতে নারী-পুরুষ উভয় বিভিন্ন পেশাজীবি কিন্তু প্রান্তিক এলাকায় জুম চাষ এখনো চলমান।

অন্যদিকে, বাঙালি পুরুষদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর অনেক নারী ভিন্ন চিত্র দেখেন। সেখানে সংসারের দায়িত্ব ভাগাভাগি হয়, পুরুষরাও গৃহস্থালির কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পরিচ্ছন্ন জীবনাচার, পারস্পরিক সম্মান এবং আবেগঘন সম্পর্কের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং সুখী সংসার গড়ে ওঠে। এসব অভিজ্ঞতা পাহাড়ি নারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ায় অনেকের মনেই বাঙালি তরুণরা আদর্শ জীবনসঙ্গী হিসেবে জায়গা করে নেন। ফলে ভালোবাসার টানেই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সাহস দেখান।

সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো বাঙালি বিয়ে করা মেয়েদের সঙ্গে যা করে:

প্রায় ১৯ বছরেরও বেশি সময় আগে এক বাঙালি যুবক জামাল উদ্দিনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মারমা সম্প্রদায়ের তরুণী মিনিরওজা মারমার। পারস্পরিক ভালোবাসার টানে শেষ পর্যন্ত ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর তার উপজাতীয় পরিচয় পরিবর্তিত হয়ে নতুন নাম হয় আয়েশা সিদ্দিকা। বর্তমানে এই দম্পতির সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল তাদের পারিবারিক জীবন। কিন্তু এই আন্তঃজাতিগত এবং আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি কথিত আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের কিছু সশস্ত্র সদস্য। বিয়ের প্রায় ১২ বছর পর, ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর রাঙামাটি নানিয়ারচর ঘিলাছড়ি বাজার এলাকা থেকে আয়েশা সিদ্দিকাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায় তারা। পরবর্তী একদিন এবং একরাত তাকে আটকে রেখে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। চোখ এবং গলায় শিকল পরিয়ে তাকে অবিরাম জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়—কেন ভিন্ন ধর্মের, কেন একজন বাঙালি পুরুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এক পর্যায়ে তার গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মিথ্যা বক্তব্য আদায় করা হয়। নির্যাতনের ভিডিও বা অডিও ধারণের সময় তাকে স্বামী এবং শ্বশুরের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ তুলতে বাধ্য করা হয়, যা তার ভাষ্যমতে সম্পূর্ণ সাজানো। এসব দৃশ্য সন্ত্রাসীরা রেকর্ড করে রাখেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় তারা আয়েশাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। ঘটনার ভয়াবহতা সত্ত্বেও আতঙ্কের কারণে পরিবারটি থানায় মামলা করার সাহস পায়নি। এরপরও প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড চালায় সন্ত্রাসীরা। তার শ্বশুরের মালিকানাধীন আনারস বাগানে হামলা চালিয়ে প্রায় ৮২ হাজার আনারস কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়।

২০১৩ সালে প্রথম আলো পত্রিকার সাংবাদিক সৈকত ভদ্র ভালোবাসার সম্পর্কের সূত্রে খাগড়াছড়ির রেটিনা চাকমাকে ২ অক্টোবর ধর্মান্তরিত করে বিবাহ করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৬ আগস্ট ইউপিডিএফ-এর সদস্যরা রেটিনা চাকমার পিতা-মাতার মাধ্যমে তাকে ঢাকায় স্বামীর বাসা থেকে অপহরণ করে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সৈকত ভদ্র যশোরে নিজ থানায় হুমকির বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন, কিন্তু পুলিশ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এরপর ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় স্ত্রী উদ্ধারের আবেদন করেন (মামলা নং–৬৪/২০১৫, স্মারক নং–২২৪/(২))। আদালত ১৯ ফেব্রুয়ারি রেটিনার বাবা-মাকে তাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। তারা আদালতে উপস্থিত হলেও রেটিনাকে হাজির করেননি। ফলে আদালত রেটিনাকে উদ্ধারের লক্ষ্যে সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করেন, যা পুলিশের অবহেলায় কার্যকর হয়নি। ২০১৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন সৈকত ভদ্র। সেখানে তিনি তার স্ত্রী উদ্ধারের দাবি জানান এবং তার ওপর সংঘটিত অপরাধের বিচার প্রার্থনা করেন। বর্তমানে রেটিনা চাকমা জীবিত না মৃত—এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রামগামী একটি বাস বাইল্যাছড়ি স্কুলের সামনে থামানো হলে দীঘিনালা উপজেলার ক্ষেত্রলাল ত্রিপুরার কন্যা দীপা ত্রিপুরা (১৮) এবং সাতকানিয়া উপজেলার আহমদ কবীরের পুত্র মো. আবদুল হান্নান (২৪)-কে ইউপিডিএফ পিসিপি’র সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে অপহরণের পর সন্ত্রাসী ক্রিফল ত্রিপুরা ও নেপাল ত্রিপুরা দীপা ত্রিপুরাকে মোটরসাইকেলে করে রেংকুম এলাকার একটি ঝুম ঘরে আটকে রাখে। অপরদিকে সজীব ত্রিপুরার নেতৃত্বে আদিত্য ত্রিপুরা, রাজু ত্রিপুরা ও উৎপল ত্রিপুরা আবদুল হান্নানকে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালায়। ঘটনা জানার পর মাটিরাঙ্গা জোনের ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করে গুইমারা থানায় হস্তান্তর করে। কিন্তু থানায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের না করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই রাতে মধ্যস্থতায় আবদুল হান্নানকে মুক্তি দেওয়া হয়।এদিকে রেংকুমের ঝুম ঘরে দীপা ত্রিপুরাকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে পিসিপি’র স্থানীয় নেতা ক্রিফল ত্রিপুরা, নেপাল ত্রিপুরা, সজীব ত্রিপুরা, সুরঞ্জিত ত্রিপুরা, অভি ত্রিপুরা ও রাজু ত্রিপুরা। গণধর্ষণের সময় রাজু ত্রিপুরা পুরো ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করে। পরে সেনাবাহিনীর হাতে আটক সজীব ত্রিপুরা জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এবং জানায় যে নেতৃত্ব দিয়েছে ক্রিফল ও নেপাল ত্রিপুরা। পরদিন দ্বিতীয় দফা নির্যাতনের পর বাইল্যাছড়ি সাইনবোর্ড এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দের মধ্যস্থতায় দীপা ত্রিপুরাকে তার পিতা-মাতার কাছে হস্তান্তর করা হয়। একটি প্রভাবশালী মহলের চাপে দীপা ত্রিপুরার পরিবার ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে সাহস পায়নি। পুলিশও বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেনি, ফলে অভিযুক্তরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যান।

২০১৬ সালের ২৯ মে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় জেএসএস সন্তু গ্রুপ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) অর্থ সম্পাদক সুনীতিময় চাকমার নেতৃত্বে প্রায় ২০ জনের একটি দল আয়না চাকমা (১৫)-কে অপহরণ করে। অভিযোগ, বাঙালি কম্পিউটার দোকানদার শিহাবের সাথে সম্পর্কের জেরে তাকে গহিন জঙ্গলে নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। রক্তাক্ত আয়না চাকমার চিৎকার পাহাড়ের আকাশ-বাতাস সেদিন ভারী হয়েছিল।

২০১৭ সালে রাঙামাটি সদর উপজেলার কুতুকছড়ির জহলাল চাকমার কন্যা জোসনা চাকমা (৩০) চট্টগ্রামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করার সময় বড়ুয়া সম্প্রদায়ের বৌদ্ধ ধর্মের অপু চন্দ্রকে ভালোবেসে বিবাহ করেন। পরিবার সম্মতি দিলেও ইউপিডিএফ এই বিয়ে মেনে নেয়নি। এর জেরে ২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর জোসনা চাকমা বাবার বাড়িতে এলে তাকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা অপহরণ করে। পরবর্তীতে তিনি বন্দিদশা থেকে পালিয়ে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ২টার দিকে কুতুকছড়ি সেনা ক্যাম্পে পৌঁছে ঘটনার বর্ণনা দেন। তার জবানবন্দিতে উঠে আসে—তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন ও অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছিল।

২০১৭ সালে প্রেমিক বাঙালি যুবকের সাথে পালিয়ে এক ত্রিপুরা নারী শ্রমিকের বিয়ের জের ধরে ফটিকছড়ির দাঁতমারা নাছিহা চা-বাগানের প্রায় ৭৮ জন পাহাড়ি শ্রমিককে ‘জিম্মি’ করে রেখেছিল ইউপিডিএফ। শব্দ বালা ত্রিপুরা নামের ওই নারীকে ফিরিয়ে না দিলে শ্রমিকদের বাগানে যেতে দেব না তারা। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং কোনো পক্ষ এত দিন মুখ না খোলায় বিষয়টি পাঁচ দিন ধরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর নজরে আসেনি। বাগান কর্তৃপক্ষও এ নিয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। এর আগে গত ১৫ এপ্রিল প্রেমিক দাঁতমারা ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাইক্কাটিলা গ্রামের সুরত আলীর ছেলে মুহাম্মদ আরিফ (২৫)-এর সাথে পালিয়ে যান ওই বাগানের তশিরাম ত্রিপুরার মেয়ে শব্দ বালা ত্রিপুরা (২০)। উভয় পরিবার থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর ২১ এপ্রিল একদল পাহাড়ি কয়েকটি চাঁদের গাড়ি নিয়ে বাগানে ঢুকে পাহাড়ি শ্রমিকদের তুলে নিয়ে যায়।

২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মাটিরাঙ্গার বাইল্যাছড়ি এলাকা থেকে চলন্ত বাসে স্বামীর সামনেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা ফাতেমা বেগমকে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী নয়ন ত্রিপুরা অপহরণ করে। আজ পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এছাড়া মাটিরাঙ্গার সোনাবি চাকমা, রাঙামাটির রিনা ত্রিপুরা, রামগড়ের মণিকা ত্রিপুরাসহ অসংখ্য পাহাড়ি নারী বাঙালি মুসলিম যুবককে ভালোবাসার কারণে অপহরণ, গণধর্ষণ ও হত্যার মতো ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

বাঙালির সাথে কথিত সম্পর্কের অভিযোগে নির্যাতন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন মধুমিতা চাকমা, অলকা চাকমা, মিতালী চাকমা, রুবিনা চাকমা, নিপ্রু মারমা, নাজ্জু ব্লগস, উখাইচিং মারমা বান্দরবানসহ অগণিত নাম না জানা পাহাড়ি নারী।

বাঙালি ছেলেকে জীবনসঙ্গী করে সবচেয়ে বেশি জাতিগোষ্ঠী থেকে হেনস্তা, অপবাদ, ধর্ষণ হুমকি, পিতা-মাতার উপর চাপ পেয়েছেন সাহসী ট্রাইবাল নারী দীঘিনালার মামিয়া তালুকদার তাহি। তিনি বাঙালি ছেলের সাথে সংসার করতে গিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন। এজন্য তাকে প্রতিনিয়ত গালিগালাজ এবং হুমকি মোকাবেলা করতে হয়। তবুও তিনি থামেননি; বাঙালি স্বামীর সাথে ঘুরাফেরার ছবি শেয়ার করে উপজাতি উগ্রবাদীদের মানসিক যন্ত্রণা দিচ্ছেন, যারা তার বিয়ে মেনে নিতে পারেনি।

নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহির আহমেদের বক্তব্য এবং মানবাধিকার কর্মী সুষময় চাকমার পর্যবেক্ষণ একত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের দিকেই ইঙ্গিত করে—নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন নারী কাকে বিয়ে করবেন, কার সঙ্গে জীবন ভাগ করবেন—এই সিদ্ধান্ত তার নিজের ও তার পরিবারের; এখানে সমাজের তথাকথিত রক্ষণশীলতা কিংবা কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ মানবাধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন। পাহাড়ে বিদ্যমান সংকট অস্বীকার করার সুযোগ নেই, তবে সেই সংকটের সমাধান নারী নির্যাতন, অপহরণ কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে নয়। বরং শিক্ষা, সচেতনতা ও নারীর স্বাধীনতার প্রতি সম্মানই পারে পাহাড়ের সামাজিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে। একই সঙ্গে এটিও স্বীকার্য যে, পাহাড়ি সমাজের সব পুরুষ অপরাধী নয়; কিন্তু একটি উগ্র ও সশস্ত্র অংশ পরিকল্পিতভাবে এই সংবেদনশীল বিষয়গুলোকে পুঁজি করে পাহাড়ি ও বাঙালির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে, যা সামগ্রিক সম্প্রীতি ও মানবিক সহাবস্থানের জন্য গভীর হুমকি।

এই প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট হয় যে, পাহাড়ি নারীদের বাঙালি পুরুষদের প্রতি আকর্ষণ শুধু ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, বরং পাহাড়ি সমাজের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং নির্যাতনের ফলস্বরূপ। সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর দমনমূলক নীতি সত্ত্বেও এই প্রবণতা চলমান। সমাজের সচেতনতা এবং আইনি সুরক্ষা বাড়ানো দরকার যাতে এই নারীরা স্বাধীনভাবে জীবনসঙ্গী বেছে নিতে পারেন। এই ঘটনাগুলো নারী অধিকারের প্রশ্ন তুলে দেয় এবং সুশীল সমাজকে এ নিয়ে কথা বলতে উদ্বুদ্ধ করে।

মহালছড়িতে সেনা বাহিনীর সফল অভিযান: অস্ত্র ও চাঁদাবাজির সরঞ্জামসহ ইউপিডিএফ (মূল) দলের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার।খাগড়াছড়ির মহালছড়ি...
02/06/2026

মহালছড়িতে সেনা বাহিনীর সফল অভিযান: অস্ত্র ও চাঁদাবাজির সরঞ্জামসহ ইউপিডিএফ (মূল) দলের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার।

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় যৌথ বাহিনীর এক সফল অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র ও চাঁদা আদায়ের রশিদসহ আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল) দলের তিন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে।​সোমবার (১ জুন) আনুমানিক রাত ২টার দিকে মহালছড়ি সেনা জোনের আওতাধীন পঙ্খীমুড়া এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

​অভিযান আটককৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে,​১টি বিদেশি পিস্তল,
​১টি ম্যাগাজিন ও ২ রাউন্ড তাজা বুলেট,​বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র
​৩টি মোবাইল ফোন,
​চাঁদা আদায়ের রশিদ বই (টোকেন)​
​মহালছড়ি সেনা জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো: আল-জাবির আসিফ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে মহালছড়ি-সিন্দুকছড়ি সড়কের পঙ্খীমুড়া এলাকাকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফ (মূল)-এর সদস্যরা সাধারণ মানুষ, যানবাহন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ব্যাপক হারে চাঁদা আদায় করে আসছিল। সুনির্দিষ্ট গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এবং চাঁদাবাজির সময় তাদের হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়।​"এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ বাহিনীর এ ধরনের সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ বিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"

​ইউপিডিএফ সদস্যদের আটকের খবরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই সশস্ত্র চক্রটির চাঁদাবাজির কারণে জিম্মি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন। যৌথ বাহিনীর এই সফল অভিযানের ফলে তারা বড় ধরনের হয়রানি, আর্থিক ক্ষতি ও চরম আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেলেন।

​আটককৃত ৩ জনকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহালছড়ি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।​ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।"

ভিউ ব্যবসা, স্পর্শকাতর আদিবাসী শব্দ ও মুখোশের আড়ালে Traveller girl এর রাষ্ট্রবিরোধী মিশন।বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সাম...
01/06/2026

ভিউ ব্যবসা, স্পর্শকাতর আদিবাসী শব্দ ও মুখোশের আড়ালে Traveller girl এর রাষ্ট্রবিরোধী মিশন।

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন মানুষের আত্মপ্রকাশের পথ সুগম করেছে, তেমনই কিছু বিবেকহীন মানুষের জন্য রাতারাতি সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজ কোনো নীতি-নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে কেবল 'ভিউ ব্যবসা' এবং আর্থিক লোভে লিপ্ত রয়েছে। কোনটা ন্যায় আর কোনটা অন্যায়, সেই হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে এই সমস্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটররা সমাজ ও রাষ্ট্রকে এক চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বাকস্বাধীনতার আড়ালে যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের সুগভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, তখন তার মুখোশ উন্মোচন করা সচেতন নাগরিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক সময়ে ‘Traveller Girl’ নামক একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে যে ধরনের উস্কানিমূলক ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা এক ভয়ানক বিপদের সঙ্কেত বহন করে।

নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন মুসলিম ও বাঙালি সংস্কৃতির এক অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। নারী সমাজের অর্ধাংশ, মায়ের জাত। কিন্তু যখন কোনো নারী নিজের জাতীয় পরিচয়, দেশপ্রেম, আদর্শ এবং ন্যূনতম নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক, কমেন্ট ও ডলার উপার্জনের জন্য রাষ্ট্রবিরোধী মিশনে নামে, তখন তাকে আর সাধারণ শ্রদ্ধার আসনে রাখা যায় না। বর্তমান সময়ে ফেসবুকের 'Traveller Girl' নামক পেজটি ঠিক এই বিপজ্জনক পথেই হাঁটছে।

নিজের প্রকৃত নাম ও পরিচয় গোপন রেখে, সর্বদা মুখে মাস্ক পরে এই নারী নিজেকে অত্যন্ত আধুনিক ও চতুর প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। নিজের রূপলাবণ্য এবং শারীরিক সৌন্দর্য প্রদর্শন করে পাহাড়ের উগ্র উপজাতি যুবকদের মোহিত রাখাই তার মূল কৌশল। তিনি নিয়মিত পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে ব্লগ ভিডিও নির্মাণ করেন। বাহ্যিকভাবে একে সংস্কৃতি চর্চা মনে হলেও, এর অন্তরালে রয়েছে এক গভীর রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত। তিনি তার প্রতিটি পোস্টে ও ভিডিওতে সুকৌশলে স্পর্শকাতর 'আদিবাসী' শব্দটিকে প্রমোট করছেন এবং বাঙালি জাতিকে 'সেটেলার' হিসেবে চিত্রায়িত করছেন। তার এই কর্মকাণ্ড কেবল একটি পেজের ভিউ বাড়ানোর ব্যবসায়িক কৌশল নয়; এর পেছনে কোনো শক্তিশালী দেশবিরোধী এনজিও কিংবা অদৃশ্য কোনো মহলের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। বাংলাদেশের অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এই ধরনের প্রচারণাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। নিজের হীন স্বার্থের জন্য যে নারী দেশের বাহিনীকে বিতর্কিত করার এবং রাষ্ট্রকে খণ্ডিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, সে জাতির কলঙ্ক ছাড়া আর কিছুই নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'Traveller Girl' এর আচরণ অত্যন্ত উদ্ধত ও মার্জিত রীতিনীতি পরিপন্থী। তার কিছু পোস্ট, যা পাঠকের জ্ঞাতার্থে হুবহু তুলে ধরা হলো:

৯ মে, "যে চোর গুলা সমতলে চুরি করা শেষ এখন পাহাড় চুরি করতে গেছে তাদের অনেক জলে তাইনা?"

২২মে, "১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে হওয়া পরে, বাংলাদেশের মানচিত্রের মধ্যে যে পাহাড় গুলো পরেছে তা আমার দেশের কিছু বাঙালিরা গিয়ে আমেরিকা/লন্ডন থেকে কিনে এনে বসিয়ে দিয়েছেপাহাড় গুলো। তাই তারা পাহাড়ে বসবাস করা আদিবাসীদের কথায় কথায় বলে দেশ ছাড়। ওদের বাপদাদারা কিনে এনেছিলো তো তাই। কি ভাইয়া রাগ করলা?"

২৭ মে, "আদিবাসীরা কি খায় তা নিয়ে অনেকের খুব মাথাব্যথা কিন্তু আমাদের দেশে অনেক ভিনদেশি মানুষ এসে বিভিন্ন কিছু খায়, তাদের সেই খাবার গুলোর জন্য বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট আছে। তাতে আমাদের আবার সমস্যা হয় না।
সব হারাম কাজ করে বেরায় তারা আবার খাবারে হারাম খুঁজতে আসে..."

এধরণের উস্কানিমূলক পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে এই পেজে কোনো দেশপ্রেমিক বাঙালি যদি যৌক্তিক ও ইতিবাচক মন্তব্যও করেন, তবে তাকে অত্যন্ত জঘন্যভাবে অপদস্ত, হুমকি ও গালিগালাজ করা হয়। বাঙালি নেটিজেনদের প্রতি তার ভাষা প্রয়োগ এতটাই নিম্নমানের যা কোনো সভ্য সমাজের মানুষের হতে পারে না। চেহারা যেভাবে চাকচিক্য দেখায়, তার মানসিকতা মোটেও তেমন নয়। উপজাতিদের সস্তা বাহবা এবং ভিউ পাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি অনবরত বাঙালিদের প্রতি বিষোদ্গার করে চলেন। এর ফলে তিনি পাহাড়ের এক বিশাল উগ্র উপজাতি পাঠকগোষ্ঠীকে নিজের পেজে টানতে সক্ষম হয়েছেন।

পাহাড়ের উগ্রপন্থীদের মনস্তত্ত্ব এমন যে, কেউ তাদের পক্ষে কথা বললে তাকে সাময়িকভাবে পরম আপন করে নেয়, এমনকি নিজেদের স্বার্থে অন্যকে মানহানি করতেও তারা দ্বিধাবোধ করে না। এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যখন মালয়েশিয়া প্রবাসী উপজাতি শান্তি কুমার চাকমার (Shanti Kumar Chakma) সাথে ‘Traveller Girl’ এর দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সেই দ্বন্দ্বে পাহাড়ের উপজাতি ব্লগাররা তাদের স্বজাতির শান্তি কুমার চাকমার পক্ষে অবস্থান না নিয়ে এই বাঙালি নারী তথা ‘Traveller Girl’ এর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আওয়াজ তোলে। এর ফলে শান্তি কুমার চাকমা কিছুটা দমে যেতে বাধ্য হন এবং ‘Traveller Girl’ নিজেকে অপরাজেয় মনে করে বাঙালিদের প্রতি আরও বেশি আগ্রাসী ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার সাহস পান। মূলত উপজাতিরা এখন তার উপার্জনের এবং সস্তা জনপ্রিয়তার প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই চক্রটি একাধিক পেজের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে সচল থাকা প্রধান পেজটির নাম ‘Traveller Girl’, যা ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫ সালে খোলা হয়েছিল। বর্তমানে এই পেজটিতে ৭৬ হাজারেরও বেশি লাইক রয়েছে এবং এখান থেকেই নিয়মিত রাষ্ট্রবিরোধী, সেনাবাহিনী বিরোধী উস্কানিমূলক পোস্ট এবং উপজাতিদের 'আদিবাসী' হিসেবে প্রমোট করার ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে।
এর আগে তার ‘Explorer girl J’ নামে একটি পুরাতন পেজ ছিল, যার লাইক সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারির পর থেকে উক্ত পেজটিতে সমস্ত প্রকার পোস্ট করা বন্ধ রয়েছে। ধারণা করা হয়, কোনো বড় ধরনের অপরাধ বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে পেজটি বর্তমানে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া তার নামের অর্থ অনুসারে ‘গ্রাম্য বালিকা’ নামে একটি পেজ খোলা হলেও বর্তমানে সেটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একই সাথে ‘Explore With J’ নামে ১৫০০ লাইকের আরেকটি পেজ থাকলেও মাত্র কয়েকটি পোস্ট করার পর সেটিও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

শান্তি কুমার চাকমার সাথে বিতর্ক ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি:
কক্সবাজারের বাসিন্দা এবং বর্তমানে মালয়েশিয়া প্রবাসী শান্তি কুমার চাকমা নামক এক উপজাতি যুবকের সাথে ‘Traveller Girl’ এর সাম্প্রতিক বিবাদটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘Traveller Girl’ এর অতিমাত্রায় উপজাতি পোশাক পরিধান, অতিরঞ্জিত তোষামোদ এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখে শান্তি কুমার চাকমা তাকে নিয়ে একটি 'রোস্ট ভিডিও' বা সমালোচনামূলক ভিডিও তৈরি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ‘Traveller Girl’ গত ২৭ মে, ২০২৬ তারিখে তার ফেসবুক আইডিতে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষায় একটি পোস্ট করেন। উদ্ধৃতিটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো: "আমি কারো বাপের টাকা দিয়ে আদিবাসীদের পোশাক পরিনা সো তুই বলার কে? তুই বেটা নদী সাঁতার কে/টে মালোশিয়া গেছিস, ঐখানে তুই মানুষ টয়লেট পরিষ্কারের কাজ করিস সারাদিন গুয়ের গন্ধ শুনিস। তুই কেন মেয়েদের নিয়ে নোংরামি করবি"

এই ঘটনার পর তিনি এখানেই ক্ষান্ত হননি। উগ্র উপজাতিদের ব্যবহার করে প্রবাসী এই যুবককে শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে গত ২৮ মে, ২০২৬ তারিখে আরেকটি উস্কানিমূলক পোস্ট করেন। সেখানে তিনি মন্তব্যের বক্সে লেখেন: "বান্দরবান আমার কোন কোন আদিবাসী ভাই /বোন আছেন? আমি বান্দরবান আসবো ঐ লোক যে আমার পিক নিয়ে নোংরামি করতেছে আপনারা কি আমার সাথে থাকবেন? আমি মানহানির মামলা দিবো ও বিদেশে , ওর পরিবারের মানুষ দের ধরা হবে । আপনারা কি থাকবেন আমার সাথে?"

তার এই আইনবহির্ভূত এবং প্রতিশোধপরায়ণ চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে অনিমেষ চাকমা নামে এক বিবেকবান উপজাতি নেটিজেন মন্তব্য করে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তার মন্তব্যটি ছিল নিম্নরূপ: "যে আপনাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করে সেই বিদেশে,কিন্তু কিন্তু হয়রানি করবেন তার পরিবারের লোকজনকে বাহ!! চমৎকার আপনার চিন্তা ভাবনা।ঠান্ডা মাথায় একবার ভাবুন।পারলে অপরাধীকে ধরেন,না পারলে, তার পরিবারকে হয়রানি করতে যাবেন না। ধন্যবাদ।"

এই প্রতিবাদের পর নিজের ব্যক্তিগত ক্ষোভকে পাহাড়ের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ দেওয়ার জন্য ‘Traveller Girl’ সেই একই দিনে (২৮ মে) অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি পোস্ট করেন। পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে দাঙ্গা বাঁধানোর উদ্দেশ্যে তিনি লেখেন: "আচ্ছা সেটেলার মানে কি? আমি জানতে ইচ্ছুক। শুনলাম শান্তি নামক এক আদিবাসী ভাইকে কিছু সেটেলার উস্কানি দিচ্ছে বাঙালি মেয়েদের নিয়ে নোংরামি করতে যাতে জাতের বদনাম হয় । আরো শুনলাম সে নাকি মুসলিম হবে তাই যে মেয়েদের বোরখা পড়ার উপদেশ দিচ্ছে বোরখা না পরলে মেয়েদের গা/লি দিচ্ছে । শুভ কামনা ভাই কবে মুসলিম হবেন জানিয়েন।"

এই পোস্টটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পোশাক বা ভিডিও নিয়ে দ্বন্দ্ব সম্পূর্ণভাবে শান্তি কুমার চাকমার সাথে ব্যক্তিগত স্তরে ছিল। কিন্তু সেখানে সুকৌশলে 'সেটেলার' বা বাঙালি জনগোষ্ঠীকে টেনে এনে তিনি এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের চেষ্টা করেছেন। শান্তি কুমারের দোষ বাঙালিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এবং নিজেকে উপজাতিদের একমাত্র পরম বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করে আরও বেশি ভিউ ও সহানুভূতি আদায় করা। এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে গৃহযুদ্ধ বা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর শামিল।

'আদিবাসী' শব্দের নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র ও তথাকথিত 'উপজাতি প্রেমী' গোষ্ঠী সাজার প্রসঙ্গ: পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতিদের সরলতার সুযোগ নিয়ে সমতলের একশ্রেণীর তথাকথিত প্রগতিশীল, মুক্তমনা, বামপন্থী বুদ্ধিজীবী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সর্বদা 'উপজাতি প্রীতি'র আতিশয্য দেখিয়ে আসছেন। এদের এই কৃত্রিম সহানুভূতির পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক বিশাল ব্যক্তিস্বার্থ। বিভিন্ন বিদেশি এনজিও এবং খ্রিষ্টান মিশনারি থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ এবং অনৈতিক লালসা চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্যে এরা প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত থাকে। এই গোষ্ঠীটি বাংলাদেশের সংবিধান, পার্বত্য চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের 'আদিবাসী' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। 'আদিবাসী' শব্দটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বাংলাদেশ সরকার যদি এই শব্দটিকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়, তবে 'আইএলও কনভেনশন' (ILO Convention) এর নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদের অপব্যাখ্যা এবং ২০০৭ সালের 'আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র'-এর আন্তর্জাতিক আইনি সুবিধা নিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক করার আইনি ভিত্তি পেয়ে যাবে। এই চরম সত্যটি অনুধাবন করতে পেরে সরকার অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে সংবিধানে এদের 'ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী' বা 'উপজাতি' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

পাহাড়ের এই বিচ্ছিন্নতাবাদী চেতনাকে উস্কে দেওয়ার পেছনে এক দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। একসময় সুলতানা কামাল, মেজবাহ কামাল, খুশি কবির, প্রয়াত শাহরিয়ার কবির, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু কিংবা রুবাইয়া ফেরদৌসের মতো বামধারার বুদ্ধিজীবীরা এই ধারায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ইমতিয়াজ মাহমুদের মতো নারী লোভী বিতর্কিত আইনজীবী, হোসেন সোহেলের মতো শিশু বলৎকার চরিত্রের কনটেন্ট ক্রিয়েটর কিংবা আহমেদ আমান মাসুদের মতো ব্যক্তিদের উপজাতি তোষামোদ করতে দেখা গেছে। এদের অনেকেই ব্যক্তিগত নৈতিক স্খলন ও নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার পরও পাহাড়ে গিয়ে উপজাতিদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। যেমন 'রিয়াজ বাঙালি' নামক এক যুবক বাঘাইছড়ির তুলাবান এলাকায় এক উপজাতি নারীর সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়েছিল। তখন উপজাতিরা তাকে সেখান থেকে বিতাড়িত করে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিরোধী কাজের জন্য গণধোলাই খেয়েছিল। এই সমস্ত সুবিধাবাদী চরিত্রগুলো দিনের পর দিন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গিয়ে উপজাতিদের চাটুকারিতা করলেও শেষ পর্যন্ত পাহাড়ের উগ্রপন্থীদের সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
দুর্ভাগ্যবশত, এনজিও এবং মতলববাজ মহলের খপ্পরে পড়ে উপজাতিদের একটি উগ্র অংশ নিজেদের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বম ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতি পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে 'আদিবাসী' স্বীকৃতির জন্য অযৌক্তিক আন্দোলন করছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, ২০০৭ সালের পূর্বে এই সমস্ত জনগোষ্ঠী নিজেদের উপজাতি হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত এবং অত্যন্ত গর্বের সাথে তাদের আদি নিবাস বার্মার (মিয়ানমার) চম্পক নগর, ভারত কিংবা মঙ্গোলিয়া বলে ঘোষণা করত। অথচ বর্তমান সময়ে এসে তারা নিজেদের এই অঞ্চলের একমাত্র ভূমিপুত্র দাবি করে দেশের মূল স্রোতোধারা তথা হাজার বছরের বাঙালি জনগোষ্ঠীকে 'সেটেলার' বা বহিরাগত বলে গালি দিতে দ্বিধাবোধ করছে না। অথচ রাষ্ট্র প্রদত্ত উপজাতি কোটার সমস্ত সুবিধা গ্রহণ করে শিক্ষা, চাকরি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা অনন্য সুবিধা ভোগ করছে। কোনো সচেতন নাগরিক তাদের 'উপজাতি' হিসেবে সম্বোধন করলে তারা মারমুখী আচরণ প্রদর্শন করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ভূখণ্ডের এক অনন্য এবং বৈচিত্র্যময় অঞ্চল। এখানে বাঙালি এবং বিভিন্ন উপজাতি বা নৃ-গোষ্ঠীসহ মোট ১৩ টি জাতিসত্তার মানুষ দীর্ঘসময় ধরে বসবাস করে আসছেন। এই বৈচিত্র্যময় ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সমগ্র দেশের জন্য এক গর্বের উপাদান। তবে ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে এই অঞ্চলটি সর্বদা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির সুনজরে রয়েছে। পাহাড়ে বাঙালি ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর এই সহাবস্থানকে কেন্দ্র করে স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তের কোনো শেষ নেই। সরলমনা উপজাতি জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে পার্বত্য অঞ্চলকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার এক সুদূরপ্রসারী নীল নকশা বহু বছর ধরেই চলমান।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে চাটুকারিতা এবং নানাবিধ অনুনয়-বিনয়পূর্বক অভিবাসনের সুযোগ নিয়ে উপজাতিরা পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি আদায় করেছিল এবং এই অঞ্চলের নাগরিকত্ব লাভ করেছিল। সেই সময় থেকেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো তাদের নিজস্ব স্বার্থ হাসিলে এই জনগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে আসছে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশেও এই উগ্র জাতীয়তাবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী ভাবধারার অবসান ঘটেনি। যার ফলশ্রুতিতে পাহাড়ে জন্ম নেয় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন। ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নানাবিধ অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরও একটি উগ্র এবং বৈরী আচরণকারী অংশ এখনো শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে মূল অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হাতে পাহাড়ের সাধারণ, শান্তিপ্রিয় উপজাতিরাই প্রতিনিয়ত নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই তথাকথিত ইনফ্লুয়েন্সারকে প্রায়শই বান্দরবানের নাফাখুমসহ পাহাড়ের বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চলে ভ্রমণ করতে দেখা যায়। তিনি বাইক রাইডিং করেন এবং পোশাকের দর্জি কাজও করেন। একজন নারীর স্বাধীনভাবে বাইক চালানো বা দেশ ভ্রমণ করা অবশ্যই একটি ইতিবাচক ও সাহসী পদক্ষেপ এবং এর জন্য সাধারণ মানুষ তাকে সাধুবাদ জানাতেই পারে। কিন্তু ভ্রমণের আড়ালে যখন রাষ্ট্রের অখণ্ডতাকে আঘাত করা হয়, পাহাড়ে দেশের বাঙালি ও সেনাবাহিনীর অবস্থানকে দুর্বল করার চক্রান্ত করা হয়, তখন কোনো দেশপ্রেমিক নাগরিক তাকে ক্ষমার চোখে দেখতে পারে না।

বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিদের মধ্যে রাজনৈতিক অনৈক্য, বিভাজন এবং রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদী নীতির অভাবের কারণেই ‘Traveller Girl’ এর মতো চরিত্ররা পার পেয়ে যাচ্ছে। অতীতের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সমতলের অনেক দালাল পাহাড়ে গিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পক্ষে দালালি করতে গিয়ে স্থানীয় বাঙালিদের গণধোলাই খেয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। রিয়াজ বাঙালির মতো চরিত্ররা যেমন তাদের অনৈতিক কর্মের জন্য উপজাতি সমাজ থেকে বিতাড়িত হয়েছে, তেমনি রাষ্ট্রবিরোধী কাজের জন্য উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছে। পাহাড়ের সাধারণ বাঙালিরা হয়তো জাতীয় রাজনীতিতে মগ্ন, কিন্তু বর্তমানের তরুণ সমাজ অত্যন্ত সচেতন। দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় তারা যেকোনো সময় যেকোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত। ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করে না, এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের পরিণতি কখনোই শুভ হতে পারে না।

একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্য যেকোনো জাতির সংস্কৃতি ও অধিকার নিয়ে আলোচনা বা মতামত প্রকাশ করতেই পারেন, তা কোনো অপরাধ নয়। উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষরাও এই দেশেরই সম্মানিত নাগরিক। তাদের ন্যায্য অধিকার ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলা ইতিবাচক। কিন্তু কাউকে তোষামোদ করতে গিয়ে দেশের বৃহৎ স্বার্থ, অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া চরম রাষ্ট্রদ্রোহিতা। আজকে যে সমস্ত উগ্রপন্থী উপজাতিরা ‘Traveller Girl’ কে বাহবা দিচ্ছে এবং মাথায় তুলে নাচছে, তারা অত্যন্ত স্বার্থপর। এই নারী যদি ভবিষ্যতে কোনো একটি ছোট ভুলও করেন, তবে এই উগ্রপন্থীরাই তার চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করতে দ্বিধাবোধ করবে না। পাহাড়ের ইতিহাস অত্যন্ত নির্মম। সুতরাং, সস্তা ভিউ ব্যবসা, ডলারের লোভ এবং সাময়িক জনপ্রিয়তার মোহে অন্ধ হয়ে দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া থেকে এই সমস্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বিরত থাকা উচিত। প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচিত এই ধরনের ছদ্মবেশী পেজগুলোর বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে ভবিষ্যতের কোনো ‘Traveller Girl’ দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়।

সংযুক্ত: Traveller Girl পেইজের উস্কানিমূলক পোস্ট ও অপরাধসমূহ। বিস্তারিত কমেন্টে।

Address

Fulbaria

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Save CHT posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category