07/10/2026
চাকমা ও কুকিদের সশস্ত্র বিদ্রোহী আন্দোলনের ইতিহাস; স্বাধীনতা যুদ্ধে অবস্থান ও অতীত-বর্তমান-
উগ্র দাঙ্গাবাজ কুকিদের সম্পর্কে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার পাহাড়ি এলাকায় অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। কিন্তু ১৮৫৯-৬০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে কুকিরা স্থানীয় সাধারণ মানুষের উপর আক্রমণ শুরু করে। চাকমাদের পাশাপাশি ব্রিটিশদের উপর আক্রান্ত বেশি হয়।
কুকিদের এই আক্রমণে ১৮৬ জন ব্রিটিশ প্রজা খুন হয় এবং ১০০ জনকে তারা বন্দী করে। এছাড়া কুকিরা অন্যান্য ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর উপরও অত্যাচার করে। প্রশাসনিকভাবে এ আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা সৃষ্টি ত্বরান্বিত করা হয়।
১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে কুকিদের শায়েস্তা করার জন্য ব্রিটিশরা নানা আইন প্রণয়ন করে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্রিটিশ প্রশাসনের উপর কুকিরা দফায় দফায় আক্রমণ করে। এই আক্রমণ ঠেকাতে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা নয় অর্থাৎ যাদের এ অঞ্চলে জায়গা জমি নেই তাদের অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। এজন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি (১৯০০ সার্কেল আইন) বলা হয়েছে এখানকার বাসিন্দা হতে হলে নিজ নামে বৈধ জায়গা-জমি থাকতে হবে। এবং জেলা প্রশাসক ডিসি'র বাসিন্দা সনদের ভিত্তিতে এ অঞ্চলের বাসিন্দা হিসেবে গণ্য হবে৷ তৎকালীন কুকিরা দল বেঁধে এসে আক্রমণ করত। মূলত কুকিদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হেডম্যান রিপোর্ট অনুযায়ী ডিসি সনদের প্রচলন শুরু হয়। যা আজ শুধু বাঙালিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে৷ এই কুকিরা ছিল বর্বর জাতি, তারা চাকমাদের মত অত্যাচারী এবং অকৃতজ্ঞ পরিচয় বহনকারী জাতি৷ তারা উভয় জাতিই যুদ্ধবাজ ও দাঙ্গাবাজ। উগ্র জাতীয়তাবাদ লালন, সাম্প্রদায়িকতা ও অন্যের ভূমি নিজেদের দাবি করা এবং মিথ্যা গল্পকাহিনি নির্ভর ইতিহাস চর্চা করাই তাদের অভ্যাস। এই দুটি জাতি একে অপরের বিরুদ্ধে সাপে-নেউল এর মত।
পার্বত্য চট্টগ্রামে কুকি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মূল বিরোধ হচ্ছে চাকমাদের সঙ্গে৷ চাকমা ও কুকি বিদ্রোহ আন্দোলনের ইতিহাস আছে। যারা ইতিহাসবিদ তারা একে অকপটে স্বীকার করে চাকমা ও কুকি বিরোধ। সাধারণ চাকমা ও কুকিরা এখনও সেই বিদ্রোহের কথা বলে। প্রবাদ আছে চাকমা শিশুদের তাদের মায়েরা ঘুম পারাতেন, কুকি আসার ভয় দেখিয়ে। বয়োবৃদ্ধ চাকমারা এখনও তা স্বীকার করে। খ্রিষ্টীয় ১৬/১৭শ শতকের দিকে আগত কুকিরা পরবর্তী অনুপ্রবেশ করা চাকমা কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত হয়েছিল৷ ব্রিটিশদের সাথে প্রথমে চাকমাদের কিছু বিষয়ে বিরোধ থাকলেও কুকি দমনে ব্রিটিশ আর চাকমা দলনেতারা এক হয়ে যায়। চাকমা দলনেতারা ছিল ব্রিটিশদের অধীনস্থ কর্মচারী। একারণে চাকমারা ব্রিটিশদের আনুগত্য ছিল। ব্রিটিশরা চাকমাদের সহযোগিতায় কুকিদের দেশান্তরিত করেছিল৷ সে দেশান্তরী হওয়ার ভয় এখনো কুকিদের মধ্যে কাজ করছে। তাই তারা সবসময় ভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আতঙ্কে থাকে। তাদের মধ্যে অবিশ্বাসের দানা বাঁধে।
চাকমা ও কুকি বিদ্রোহ আন্দোলন এবং ব্রিটিশদের স্বার্থ হাসিলের দায়ভার তো বর্তমান বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র বহন করতে পারেনা। এবং তারজন্য কুকিরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিতে পারেনা৷ কুকিদের সঙ্গে ঐতিহাসিক বিরোধ চাকমাদের সঙ্গে। আজকে শান্তি কমিটি আলোচনার মাধ্যমে কুকি জনগোষ্ঠীর তথাকথিত অধিকারের সশস্ত্র গ্রুপ কেএনএফ কে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আনতে নানা প্রচেষ্টা করছে। সশরীরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে উভয় পক্ষের। এর মধ্যে অনেকগুলো দাবি নিয়ে চুক্তি হয়েছে। আরো আলোচনা চলমান। কিন্তু কেএনএফ পার্বত্য চট্টগ্রামের ৯টি উপজেলা নিয়ে আলাদা স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কুকিল্যাণ্ড গঠন করতে অনড়! তাদের সরকার অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে সশস্ত্র জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আনতে চেষ্টা করছে কিন্তু তারপরও তারা অকৃতজ্ঞের মত সরকার তথা রাষ্ট্রের সঙ্গে চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন করছে। যা বৈরী আচরণের শামিল।