18/08/2026
দ্বীনের আসল সৌন্দর্য: সম্মান, কল্যাণকামিতা ও কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকা
যার অন্তরে প্রকৃত দ্বীন প্রবেশ করে, তার মধ্যে একটি স্পষ্ট গুণ প্রকাশ পায়-সে কাউকে কষ্ট দেয় না। তার কথা, আচরণ ও ব্যবহার এমন হয়, যাতে অন্যের জান, মাল ও সম্মান নিরাপদ থাকে। কারণ দ্বীন কেবল কিছু ইবাদতের নাম নয়; বরং এটি মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ, কল্যাণ কামনা এবং সম্মান প্রদানের একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর অর্থবহ বাণী হলো- “الدين النصيحة”
অর্থাৎ, দ্বীন হচ্ছে কল্যাণকামিতার নাম।
এর মর্মার্থ হলো-মানুষের জন্য ভালো চাওয়া, তাদের ক্ষতি না করা, এবং তাদের জান, মাল ও সম্মানের হেফাজত করা।
সম্মান প্রদানের শিক্ষা
দ্বীন আমাদেরকে শেখায়-প্রত্যেক মানুষকে সম্মান দিতে হবে। তা সে নিজের স্ত্রী হোক, সন্তান হোক, কিংবা পরিবারের অন্য কেউ-এমনকি পুত্রবধূ (বউমা) হলেও। তাদের সাথে সুন্দর ভাষায়, নম্র আচরণে কথা বলা-এটাই দ্বীনের দাবি।
অনেক সময় দেখা যায়, ঘরের ভেতরে আমরা সেই আদব রক্ষা করি না, যা বাইরে অন্যদের সাথে করি। অথচ প্রকৃত দ্বীনদার সেই, যার ভেতর-বাহির এক, এবং যার নিকটতম মানুষগুলো তার উত্তম চরিত্রের সবচেয়ে বড় সাক্ষী।
সম্মানের যোগ্যতাই সম্মান দেওয়ার ভিত্তি
আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শায়েখ, হযরত মাওলানা শাহ তৈয়্যেব আশরাফ সাহেব দামাত বারকাতুহুম বলেন-
“সম্মান কেবল সেই করতে পারে, যে নিজে সম্মানের অধিকারী। যার নিজেরই সম্মান নেই, সে কিভাবে অন্যকে সম্মান করবে?”
অর্থাৎ, যার অন্তরে দ্বীনের নূর আছে, যার চরিত্রে শালীনতা ও মহত্ত্ব রয়েছে, সেই প্রকৃতপক্ষে অন্যকে সম্মান দিতে পারে। আর যে নিজেই আদব-আখলাক থেকে বঞ্চিত, তার পক্ষে অন্যকে যথাযথ সম্মান দেওয়া সম্ভব নয়।
-হযরত মাওলানা শাহ তৈয়্যেব আশরাফ সাহেব দামাত বারকাতুহুম এর বয়ান থেকে সংগৃহিত