22/08/2026
আপনি কি জানেন মাত্র ২০ বছরের একটা ছেলে শুধু জুলাইয়ের আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার জন্য পরিবারের কাউকে না জানিয়ে মালয়েশিয়া থেকে দেশে এসে শহিদ হইছে!
শহিদ শ্রাবণ গাজী।
পড়াশুনা করতেন মালয়েশিয়ার টুঙ্কু আব্দুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এ। জাহাঙ্গীরনগরের কোলঘেষা সাভার ডেইরী ফার্মে মাস্টাররোলে চাকুরী করেন তার বাবা। সেখানের কোয়ার্টারেই থাকতেন পরিবারের সাথে।
শ্রাবণের স্বপ্ন ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। কিন্তু ভর্তির অসংখ্য কোটা সেই স্বপ্নের পথে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। ছোটবেলার স্বপ্নটি তার অধরাই থেকে যায়। পরিবার ও বন্ধুবান্ধবকে ছেড়ে উচ্চশিক্ষার জন্য একরকম বাধ্য হয়েই মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাতে হয় তাকে।
কিন্তু কোটা আন্দোলন শুরু হলে শ্রাবণ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি। পরিবারের কাউকে না জানিয়েই মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে আসে। যোগ দেয় কোটা সংস্কার আন্দোলনে। আন্দোলনের পুরোটা সময় সাভারে তাকে দেখা গেছে সামনের সারিতে।
ছেলের পিছু পিছু বাবাও ছিলেন আন্দোলনে। অথচ কী অদ্ভুত নিয়তি- বাবা নিজেকে লুকিয়ে রাখতেন, যেন ছেলে তাকে দেখে না ফেলে। আর ছেলে নিজেকে লুকিয়ে রাখত, যেন বাবা তাকে দেখে না ফেলে।
লুকোচুরি করতে করতেই ৫ আগস্ট শ্রাবণ এ জনমের মতো তার বাবার কাছ থেকে হারিয়ে গেল। শহিদের তালিকায় উঠে গেল দরিদ্র পিতার একমাত্র ছেলে- শ্রাবণ গাজীর নাম।
শ্রাবণের বাবাও জানতেন না তার ছেলের মধ্যে এতোটা ক্ষোভ লুকিয়ে ছিলো। বন্ধুবান্ধবদের সারাক্ষণ গানে, আড্ডায় মাতিয়ে রাখা ছেলেটা তার দেশকে নিয়ে এতোটা ভেবেছিলোই বা কোনসময়!
একটি স্বপ্ন হারিয়েছিল সে কোটা ব্যবস্থার কাছে। কিন্তু দেশের জন্য তার শেষ স্বপ্নটি সে জীবন দিয়ে পূর্ণ করে গেল।
শ্রাবণরা হারিয়ে যায় না। তারা একটি জাতির স্বাধীনতার ইতিহাস হয়ে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে।