12/05/2022
❝ গোবিন্দগঞ্জ প্রস্তাবিত ইপিজেডের আদ্যোপান্ত ❞
উত্তরবঙ্গের অন্যতম একটি বড় উপজেলা গোবিন্দগঞ্জ। প্রায় ৫ লক্ষ জনসংখ্যার এই উপজেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় গড়ে তোলা হবে এই ইপিজেড। সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় রংপুর চিলিকলের আওতায় প্রায় ১৮৩২ একর জমি পরিত্যক্ত রয়েছে।
বেশ কিছু দিক বিবেচনা করে সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইপিজেড স্থাপনের জন্য এত বিশাল পরিমাণ অনাবাদি জমি পাওয়া দুষ্কর। যদি এখানে শিল্প কারখানা স্থাপন করা হয় তাহলে পাশের কাটাখালি নদীকে বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা যাবে। যেমনঃ নদী থেকে খুব সহজেই পানি উত্তোলন করে শিল্পকারখানায় ব্যবহার করা যাবে, নদীর পাশে খাল বা ড্রেন খনন করে সহজেই বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যাবে। এর ফলে মৃতপ্রায় কাটাখালি নদীকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা যাবে। আবার যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো হওয়ায় ইপিজেড স্থাপনের জন্য এই এলাকাটিকে নির্বাচন করা হয়।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ইপিজেড নির্মিত হলে অসংখ্য শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। শুধু গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাই নয় সমগ্র গাইবান্ধা জেলা এমনকি পার্শ্ববর্তী বগুড়া, দিনাজপুর জেলারও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে এই ইপিজেড এ।
ইপিজেড স্থাপিত হলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের সল্পোন্নত সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকাটিতে গড়ে উঠতে পারে আধুনিক নগরায়ন। রপ্তানি নির্ভর পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হবে তেমনই স্থানীয় মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটবে।
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম চট্টগ্রামের হালিশহরে ১৯৮৩ সালে ইপিজেড স্থাপন করা হয়। বর্তমানে দেশে সরকারি ভাবে ৮ টি এবং বেসরকারি ভাবে ২ টি ইপিজেড চালু রয়েছে।
ছবিঃ প্রস্তাবিত ইপিজেড এর জন্য নির্ধারিত জায়গা
ছবি সংগ্রহীত