18/08/2026
শিল্পনগরী মহিমাগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই: ঝুঁকিতে শিল্প-কারখানা ও জনজীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক, মহিমাগঞ্জ, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ জনপদ মহিমাগঞ্জ। ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও শিল্প-কারখানার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চলটি অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—এত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্পাঞ্চলে আজও নেই নিজস্ব কোনো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে একাধিক ভারী ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান। জেলা প্রশাসনের তথ্যেও গোবিন্দগঞ্জে ৫টি ভারী শিল্প এবং প্রায় ৪৫০টি ক্ষুদ্রশিল্পের কথা উল্লেখ রয়েছে। মহিমাগঞ্জে অবস্থিত রংপুর সুগার মিলস গাইবান্ধার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান।
এছাড়া মহিমাগঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন চালকল, তেলকলসহ অন্যান্য শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নথিতেও মহিমাগঞ্জের একাধিক নিবন্ধিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়।
আগুন লাগলে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা
শিল্পাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সাধারণ এলাকার তুলনায় বেশি। কলকারখানায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, মেশিনের ত্রুটি, দাহ্য পদার্থ, তেল, গ্যাস কিংবা অন্যান্য উপকরণ থেকে মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।
মহিমাগঞ্জে কোনো কারখানা বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন লাগলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু স্থানীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় দূরবর্তী স্টেশন থেকে গাড়ি আসার ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বর্তমানে নিকটবর্তী হিসেবে গোবিন্দগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন রয়েছে। কিন্তু শিল্প, ব্যবসা ও জনসংখ্যার বিস্তৃতি বিবেচনায় মহিমাগঞ্জে একটি নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
শুধু শিল্প-কারখানা নয়, ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষও
মহিমাগঞ্জ শুধু শিল্পাঞ্চল নয়; এখানে রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কোথাও অগ্নিকাণ্ড ঘটলে তা দ্রুত আশপাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে বাজার ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে জানমালের পাশাপাশি ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এখনই প্রয়োজন স্থায়ী উদ্যোগ
মহিমাগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন করা হোক।
শুধু অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলাই নয়, সড়ক দুর্ঘটনা, উদ্ধার অভিযানসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতেও ফায়ার সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই মহিমাগঞ্জের শিল্প ও জননিরাপত্তার স্বার্থে একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপন সময়ের দাবি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, ব্যবসায়ী সমাজ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও সাধারণ জনগণকে এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত মহিমাগঞ্জের শিল্প ও জনবসতির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা।
মানুষের প্রশ্ন
শিল্প-কারখানা বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে, জনসংখ্যা বাড়বে—কিন্তু অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে না, তা কি হতে পারে?
মহিমাগঞ্জকে সত্যিকার অর্থে একটি নিরাপদ শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে উন্নয়নের পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
মহিমাগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এখন আর বিলাসিতা নয়—এটি সময়ের জরুরি দাবি।