Guruchand Thakur

Guruchand Thakur খাওবা বা না খাও তাতে কোন দুঃখ নেই।
ছেলে মেয়েকে শিক্ষা দাও এই আমি চাই।।

গুরুচাঁদ ঠাকুরের আলোয় মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল: শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের আন্দোলন.লেখক – জগদীশচন্দ্র রায়(লেখাটি AI দিয়ে...
26/04/2026

গুরুচাঁদ ঠাকুরের আলোয় মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল:
শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের আন্দোলন.
লেখক – জগদীশচন্দ্র রায়
(লেখাটি AI দিয়ে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ লেখার লিঙ্ক ও AI দ্বারা Audio করে Video link কমেন্টে দেওয়া হয়েছে?)
আদর্শের মিলন: বার্ধক্যের অভিজ্ঞতা ও যৌবনের তেজ
সময়টা ১৯২৬ সাল। শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের বয়স তখন সত্তর—জীবনের পড়ন্ত বিকেল। অন্যদিকে, তাঁরই ভাবশিষ্য যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের বয়স মাত্র বাইশ; যার রক্তে তখন সমাজ পরিবর্তনের উত্তাল জোয়ার। সেই সময়ে একদিকে চলছিল জমিদারি অত্যাচার, অন্যদিকে ব্রাহ্মণ্যবাদের ধর্মীয় ও সামাজিক শোষণ। এই দ্বিমুখী শোষণে সাধারণ মানুষের জীবন ছিল চরম দারিদ্র্য আর অশিক্ষার অন্ধকারে নিমজ্জিত। এই অন্ধকারের বিরুদ্ধে যার মনে দ্রোহের আগুন জ্বলছিল, সেই তরুণ যোগেন্দ্রনাথের কণ্ঠে ধ্বনিত হলো বৃদ্ধ গুরুচাঁদ ঠাকুরের কালজয়ী বাণী।
গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা-দর্শন:
শিক্ষাই যে মুক্তির একমাত্র চাবিকাঠি, তা গুরুচাঁদ ঠাকুর উপলব্ধি করেছিলেন গভীরভাবে। তিনি আর্তনাদ করে বলেছিলেন:
"খাও বা না খাও তাতে দুঃখ নেই।
ছেলেমেয়ে শিক্ষে দাও এই আমি চাই।।" (গুরুচাঁদ চরিত, পৃ. ১৪৪)
তিনি আরও বলতেন, সন্তানদের শিক্ষিত করতে প্রয়োজনে ভিক্ষা করতেও দ্বিধা করা উচিত নয়। অশিক্ষাকে তিনি 'মারণ ব্যাধি' হিসেবে চিহ্নিত করে লিখেছিলেন:
"অজ্ঞান ব্যাধিতে ভরা আছে এই দেশ।
জ্ঞানের আলোকে ব্যাধি তুমি কর শেষ।।" (গুরুচাঁদ চরিত, পৃ. ১৩৭)
গুরুচাঁদ ঠাকুরের স্পষ্ট বার্তা ছিল—অজ্ঞানতার ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে হলে জ্ঞানের আলো অর্জন করা বাধ্যতামূলক। তাঁর ভাষায়:
"তাই বলি ভাই মুক্তি যদি চাই,
বিদ্যান হইতে হবে।
পেলে বিদ্যাধন দুঃখ নিবারণ,
চির সুখী হবে ভবে।" (গুরুচাঁদ চরিত, পৃ. ১৩০)
যোগেন্দ্রনাথের বজ্রশপথ: অধিকার অর্জনের সংগ্রাম
গুরুর এই দর্শনে দীক্ষিত হয়ে উদীয়মান যুবক যোগেন্দ্রনাথ ঘোষণা করলেন, জমিদারদের কাছে আবেদন-নিবেদন করে কোনো লাভ হবে না। নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই পরিবর্তন করতে হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন:
• স্বার্থত্যাগ ছাড়া সমাজের কাজ হয় না।
• শিক্ষাই হলো সমাজ উন্নয়নের প্রধান চাবিকাঠি।
• অশিক্ষিত সমাজকে কেউ মর্যাদা দেয় না; মর্যাদা নিজেদের চেষ্টায় অর্জন করতে হয়।
• শিক্ষা মানুষকে সচেতন ও সংঘবদ্ধ করে, আর সংঘবদ্ধ মানুষকে কেউ শোষণ করতে পারে না।
সংসদীয় রাজনীতি ও শিক্ষা বিস্তারঃ
১৯৩৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বাখরগঞ্জ উত্তর-পূর্ব নির্বাচন কেন্দ্র থেকে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেন। তিনি প্রভাবশালী কংগ্রেস প্রার্থী সরল দত্তকে ১৮১৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। বিজয়ী হওয়ার পর তিনি 'আগৈলঝাড়া ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমী'কে হাইস্কুলে রূপান্তরিত করেন এবং নিজেই তার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সামাজিক সংস্কার ও অধিকার আদায়ের মাইলফলকঃ
মন্ত্রী থাকাকালীন এবং আইনসভার সদস্য হিসেবে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের উল্লেখযোগ্য কিছু অবদান:
• পুলিশ বিভাগে সংস্কার: তপশিলি পুলিশদের জন্য আলাদা কোয়ার্টারের ব্যবস্থা করেন, কারণ তৎকালে সাধারণ ব্যারাকে তাঁদের বসতে দেওয়া হতো না।
• অবকাঠামো উন্নয়ন: তাঁর প্রচেষ্টায় গ্রামীণ অঞ্চলে অসংখ্য বাঁধ, খাল এবং রাস্তা নির্মিত হয়, যা কৃষকদের অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দেয়।
• ছাত্রাবাস নির্মাণ: তপশিলি ও মুসলিম ছাত্রদের জন্য কলকাতা শহরে দুটি করে ছাত্রাবাস নির্মাণের দাবি আদায় করেন। তাঁরই উদ্যোগে 'উদয়ন ছাত্রাবাস' ও 'ভারতী ভবন' প্রতিষ্ঠিত হয়।
• বৃত্তি ও আসন সংরক্ষণ: তৎকালীন অর্থমন্ত্রী নলিনী রঞ্জন সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি সপ্তম শ্রেণির পরিবর্তে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া কলেজ হোস্টেলগুলোতে আসন সংরক্ষণ ও দরিদ্র ছাত্রদের জন্য মাসিক ১৫ টাকা অনুদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন।
• চাকরিতে সংরক্ষণ: ১৯৪৩ সালে নাজিমুদ্দিন মন্ত্রিসভায় যোগদানের শর্ত হিসেবে তিনি তপশিলিদের জন্য গেজেটেড পোস্টসহ সকল সরকারি চাকরিতে সাম্প্রদায়িক অনুপাত অনুযায়ী সংরক্ষণের নীতি কার্যকর করেন।
আপসহীন নেতৃত্বঃ
একবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তপশিলিদের কোটা পূরণ নিয়ে বিতর্ক উঠলে যোগেন্দ্রনাথ গর্জে উঠেছিলেন। হামিদুল হক চৌধুরীর মতো প্রভাবশালী সদস্যদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে তিনি বলেছিলেন:
“লাল চোখ দেখাবেন না, লাল চক্ষু আমাদেরও আছে। আমি মন্ত্রিত্ব করি, চাকরি নয়। এই মন্ত্রিত্ব কারো দেওয়া দান নয়। যে সুখের ঘর বেঁধে দিয়েছি, প্রয়োজন হলে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সেটা ভেঙে দিতে পারি।”
নারী শিক্ষার প্রসারে অবদানঃ
গুরুচাঁদ ঠাকুর নারী-পুরুষের সমাধিকারে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি লিখেছিলেন:
"শুনেছি পিতার কাছে আমি বহুবার।
নারী ও পুরুষ পাবে সম অধিকার।।"
তাঁর এই আদর্শকে বাস্তবে রূপ দিতে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল ১৯৪৪ সালে নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেছিলেন, “মায়েরাই শিশুদের প্রথম শিক্ষয়িত্রী; তাই সমাজকে শিক্ষিত করতে হলে নারী সমাজকে আগে শিক্ষিত করা প্রয়োজন।” তাঁর প্রচেষ্টায়:
• বিধান পরিষদে অবৈতনিক প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের বিল পাশ হয়।
• তপশিলি ছাত্রীদের জন্য চতুর্থ শ্রেণি থেকে বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়।
• বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য ছাত্র সমাজকে উৎসাহিত করা হয়।
উপসংহার
গুরুচাঁদ ঠাকুরের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক দর্শনকে রাজনীতির ময়দানে এবং সরকারি নীতিতে রূপান্তর করেছিলেন মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল। আজ তপশিলি ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষ যে শিক্ষার আলো ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল এই দুই মহামানবের হাত ধরেই।
#যোগেন্দ্রনাথ_মণ্ডল
#গুরুচাঁদ_ঠাকুর
#সমাজ_সংস্কার
#শিক্ষা_আন্দোলন
#অধিকার_অর্জন
#সংগ্রাম
#সামাজিক_আন্দোলন
#আন্দোলন

একটা প্রবাদ আছে, পোনা দেখে নাফাচ্ছ ভূঁইখান(জমি) কার?মতুয়াদের অবস্থাও এরকম। ভূঁইখান কার একটু ভেবে দেখুন।এটাও সবাই জানেন ক...
22/04/2026

একটা প্রবাদ আছে, পোনা দেখে নাফাচ্ছ ভূঁইখান(জমি) কার?
মতুয়াদের অবস্থাও এরকম। ভূঁইখান কার একটু ভেবে দেখুন।

এটাও সবাই জানেন কুঠারের হাতলটা দেখে জঙ্গলের সব গাছ কুঠারের পক্ষে হয়ে যায়। কারণ সেখানে জাত ভাই আছে।
পরিণাম, একসময় জঙ্গলই পরিস্কার হয়ে যায়।
অবস্থাটা এরকমই হচ্ছে এবং হতে থাকবে।

04/04/2026

গুরুচাঁদের শিক্ষা আন্দোলনে ডাঃ সি. এস. মীডের অবদান।
লেখক- জগদীশচন্দ্র রায়
(আমার লেখা ‘গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা আন্দোলন’ থেকে তুলে দিলাম। লেখাটিকে AI -এর মাধ্যমে অডিও বানিয়ে ভিডিও করা হয়েছে। আলোচনাটি কেমন লাগল জানাবেন। আর চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করবেন। ধন্যবাদ)

28/03/2026

চাঁদের আলো
লেখক- Prohlad Roy
কণ্ঠ- Pabitra Biswas
ঊনবিংশ শতকের নবজাগরণ
বাংলার আকাশে নক্ষত্রপুঞ্জ,
যদি ও অন্ধকার রাত্রি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মাঝে।
পৃথিবীর মাটির কাছাকাছি,
উদীয়মান চাঁদ ভরিয়ে দেয়
স্নিগ্ধ আলোকে।

নক্ষত্রের প্রবল তেজ—
আলোকিত মহাবিশ্ব;
তবু মাটির মানুষের থেকে
আলোকবর্ষ দূরে।
মাটির মানুষের কাছে—
উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক,
পুলকিত জোৎস্নায়,
অমানিশার অন্ধকার
বুঝি সরে সরে যায় বহুদূরে।

বঙ্গের আকাশে বসন্ত পূর্নিমা,
হরিচাঁদ গুরুচাঁদ যেন—
আলো হাতে ঘুরে যায় কুটিরে কুটিরে।
চোখ বন্ধ রাখা অন্ধের মতো,
গভীর নিশীথে সাড়া পড়ে,
ভাঙ্গা ঘরে এসে গেছে--
চাঁদের আলোকিত
উদ্দাম তরঙ্গ-রাশি।
ঘুচে যায় সব অন্ধকার,
মিশে যায় তরল জলের মতো জনতার মাঝে।
হরিচাঁদ গুরুচাঁদ যেন মহাকাণ্ডারী!
মহাসমুদ্রের প্রবল জলোচ্ছ্বাস।

অসংখ্য দলিত, পীড়িত,
নির্যাতিত, অস্পৃশ্য মানবের মাঝে—
শিক্ষার আলোকবর্তিকা হাতে,
মানবের কল্যাণ সাধনে,
সংঘবদ্ধ সমাজ গঠনে,
সকল ব্যবধান দূর করে দিতে--
মাতালেন তিনি মাতালেন।
জনতার রাশি, সর্বমানবে,
সংহতির মন্ত্রে আজ তারা মত্ত।
অধিকারের সংগ্রামে,
সামাজিক মর্যাদায়,
কর্ম ও ধর্মের প্রবল আকাঙক্ষায়--
আজ তারা মতুয়া।
দিগ্বিদিক এই পরিচয়ে,
সমাজ সংস্কারে, মানবের উত্থানে,
আজীবন সংগ্রামী—
হরিচাঁদ, গুরুচাঁদ
আজও স্নিগ্ধ, সুস্নাত,
রোমাঞ্চিত করা--
আমাদের সংগ্রামী বীর,
রাষ্ট্রযুদ্ধের মহাযোদ্ধা।

27/03/2026

গুরুচাঁদ ঠাকুর কি শুধু নমঃশূদ্রদের জন্য কাজ করেছেন? নাকি সেটা সমগ্র জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের কল্যাণের জন্য? তাহলে তাঁকে কেন একটা জাতির মধ্যে গন্ডিবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে? আসুন গুরুচাঁদ ঠাকুরের বাণী ও কর্মধারার বিশ্লেষণ করে দেখা যাক।
লেখক- জগদীশচন্দ্র রায়
গুরুচাঁদ ঠাকুরের জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার আন্দোলন। তাই তিনি জীবনের উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রথমেই ঘোষণা করেন-
“খাও বা না খাও তা’তে কোন দুঃখ নাই।
ছেলে পিলে শিক্ষা দেও এই আমি চাই”।। -গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ১৪৪
ছেলে মেয়েকে দিতে শিক্ষা
প্রয়োজনে করিবে ভিক্ষা।
অর্থাৎ আপনি পেটের খুদা মিটাতে সক্ষম কি না সেটা আমার কাছে বড় প্রশ্ন নয়। বড় প্রশ্ন হচ্ছে আপনার সন্তানদেরকে শিক্ষিত করে তোলা। আর এর জন্য আপনাকে প্রয়োজনে ভিক্ষা করতে হলেও করবেন। কিন্তু সন্তানকে অশিক্ষিত করে রাখবেন না।
এবার বলুন তো এই কথা কি কোন বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য? নাকি বিশ্বের সকল মানুষদের শিক্ষিত করার জন্য এই উদাত্ব আহ্বান?
তিনি অশিক্ষাকে মারণ ব্যধির সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন-
অজ্ঞান ব্যাধিতে ভরা আছে এই দেশ।
জ্ঞানের আলোকে ব্যাধি তুমি কর শেষ।। -গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ১৩৭
অর্থাৎ এই অজ্ঞানতার ব্যাধিতে দেশ ভরে আছে। একমাত্র জ্ঞানের আলো দিয়েই এই অজ্ঞানতাকে দূর করা যাবে।
মানুষ সব সময় মুক্তির সন্ধান করে। গুরুচাঁদ ঠাকুর মানুষের এই মুক্তি লাভের জন্য বলেছেন-
তাই বলিভাই মুক্তি যদি চাই
বিদ্যান হইতে হবে।
পেলে বিধ্যাধন দুঃখ নিবারণ
চির সুখি হবে ভবে।। -গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ১৩০
মুক্তি এখানে কোন মুক্তি? মুক্তি হচ্ছে অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বেরিয়া এসে জ্ঞানের আলোতে মুক্তি। সেই মুক্তির জন্য আপনাদের বিদ্যান হতে হবে। তাহলে মুক্তি পাবেন। আর সব দুঃখের নিবারণ ঘটবে। আপনি চির সুখি হ’তে পারবেন।
শিক্ষা অর্জনকে তিনি এত মহত্বপূর্ণ মনে করেছেন, যার জন্য তিনি বলেছেন-
বিদ্যা ছাড়া কথা নাই বিদ্যা কর সার।
বিদ্যাধর্ম, বিদ্যাকর্ম, অন্য সব ছার।। -গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ১০৮
অর্থাৎ ধর্ম কর্ম সব কিছুর মূল হচ্ছে বিদ্যা। বাকী সব গুরুত্বহীন। তাই সকলে এই অমূল্য সম্পদকে অর্জন করুন।
বলুন তো শিক্ষা গ্রহণের বিষয়ে আর ক’জন এরকম দীপ্ত ঘোষণা করেছেন? যে বিদ্যাই ধর্ম কর্ম ও সার। বাকী অন্য সব অসার। তবুও কেন আমরা দেখতে পাই তাঁর এই বাণী প্রচার বিমুখতায় রুদ্ধ হয়ে আছে?
এবার দেখা যাক গুরুচাঁদ ঠাকুরের এই শিক্ষা আন্দোলনের ভাগীদার কারা ছিলেন? আর তিনি কাদের জন্য কাজ করছেন-
শিক্ষা আন্দোলন যবে প্রভু করে দেশে।
ভক্‌ত সুজন যত তার কাছে আসে।।
নমঃশূদ্র তেলী মালী আর কুম্ভকার।
কপালী মাহিষ্য দাস চামার কামার।।
পোদ আসে তাতী আসে আসে মালাকার।
কতই মুসলমান ঠিক নাহি তার।।
সাবাকে ডাকিয়া প্রভু বলে এই বাণী।
“শুন সবে ভক্তগণ আমি যাহা জানি।।
নমঃশূদ্রকুলে জন্ম হয়েছে আমার।
তবু বলি আমি নাহি নমঃর একার।।
দলিত পীড়িত যারা দুঃখে কাটে কাল।
ছুঁস্‌নে ছুঁস্‌নে বলে যত জল-চল।।
শিক্ষা-হারা দীক্ষা-হারা ঘরে নাহি ধন।
এই সবে জানি আমি আপনার জন।।” -গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ১৪৪
এই শিক্ষার আন্দোলন যখন গুরুচাঁদ ঠাকুর শুরু করেন তখন ঠাকুরকে যারা শ্রদ্ধা করতেন বা তাঁর কথা মেনে চলতেন এরকম বিভিন্ন জাতির লোকেরা ঠাকুরের কাছে আসতেন; যেমন- তেলী, মালী কুম্ভকার, কাপালী, মাহিষ্য, দাস, চামার, কামার, পোদ (পৌন্ড্র), তাতী, মালাকার। এছাড়া অগণিত মুসলমানও ঠাকুরের কাছে আসতেন। এদের সবাইকে গুরুচাঁদ ঠাকুর বলতেন, “তোমরা আমাকে ভক্তি শ্রদ্ধা কর। কিন্তু আমি যা জানি সেটা হচ্ছে, আমি জন্মগত কারণে নমঃ জাতির মধ্যে জন্মগ্রহণ করলেও আমি কিন্তু শুধু নমঃদের নই। আমি তাদের; যারা পদদলিত, পীড়িত, অত্যাচারিত, যাদের সব সময় দুঃখ-কষ্ট নিয়ে জীবন কাটাতে হয়। যাদেরকে দেখলে উচ্চবর্ণীয়রা অচ্ছুৎ বলে ঘৃণা করে। যাদের পেটে খাবার নেই। শিক্ষার আলো যাদের মধ্যে পৌঁছায়নি। যাদের সহায় সম্বল বলে কিছুই নেই। তারাই হচ্ছে আমার আপন জন।”

সমাজ নারীকে যখন পণ্যদ্রব্য মনে করে তার ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে; তাকে মানুষ নয়, নারী বলেই সামাজিক পণ্য হিসাবে গণ্য করে; সেরূপ সামাজিক সংকটের মূহুর্তে আমরা হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের কি প্রতিফলন দেখতে পাই নারীদের সম্পর্কে?
শুনেছি পিতার কাছে আমি বহুবার
নারী পুরুষ পাবে সম অধিকার।।
সমাজে পুরুষ পাবে যেই অধিকার।
নারীও পাইবে তাহা করিলে বিচার।।
তিনি বলেন, আমি আমার পিতার কাছে অনেক বার শুনেছি যে, নারী পূরুষদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ করা যাবেনা। উভয়ে সমান অধিকার পাবে। অর্থাৎ পুরুষ যে অধিকার পাবে নারীও সেই অধিকার সমানভাবে পাবে।
এবার বলুন তো সে যুগে দাঁড়িয়ে এরকম দৃপ্ত কন্ঠে নারীর অধিকার নিয়ে ক’জনে ঘোষণা করেছেন? এ সব কথা কি বিশ্বের সমস্ত নারীদের অধিকারের জন্য নয়?
একবার গুরুচাঁদ ঠাকুরের সংগ্রামের সাথী অস্ট্রলিয়ান মিশনারী সি. এস. মীড্‌ সাহেবের জীবন সঙ্গীনী Alice Pappin, গুরুচাঁদ ঠাকুরের সামাজিক কর্ম-কান্ডে আপ্লুত হয়ে, অনুপ্রাণীত হয়ে তাঁকে ‘ধর্মপিতা’ বলে সম্বোধন করেন। তবে তিনি আবার গুরুচাঁদ ঠাকুরের কাছে জানতে চান যে-
“আমি আপনাকে পিতা বলেছি, তাই আমি আপনার কন্যা। কিন্তু আমিতো অন্য ধর্মের। তাই আপনি কি আমার হাতের খাবার খাবেন?”
তখন গুরুচাঁদ ঠাকুর জানান,
“শুন কন্যা, গুণে ধন্যা, আমার বচন।
জাতি-ভাগ মোর ঠাঁই পাবে না কখন।।
নরাকারে ভূমন্ডলে যত জন আছে।
‘এক জাতি’ বলে মান্য পাবে মোর কাছে।।
আমার পিতার ভক্ত আছে যত জন।
এক জাতি বলে তারা হয়েছে গণ।।
লোকাচারে তার কেহ কায়স্থ ব্রাহ্মণ।
‘মতুয়ার’ মধ্যে তাহা নাহি নিরূপণ।।
নমঃশূদ্র, তেলী মালী, ব্রাহ্মণ কায়স্থ।
ইস্‌লাম, বৈদ্য জাতি-রোগে সিদ্ধ-হস্ত।।
মতুয়া সকলে এক, জাতি-ভেদ নাই।
বিশেষতঃ কন্যা হ’লে নাহিক বালাই।। গুরুচাঁদ চরিত পৃঃ ২০০/২০১
অর্থাৎ “জাতিগত কারণে বা ধর্মীয় কারণে সে যে জাতি বা ধর্মেরই হোক না কেন আমার কাছে তার কোন অস্তিত্ব পাবেনা কখনো। এই বিশ্বে যত লোক আছে, সকলে আমার কাছে ‘এক জাতি’ অর্থাৎ ‘মানব জাতি’ বলে গণ্য হবে। আমার পিতা ঠাকুর হরিচাঁদের যত ভক্তরা আছেন; তাদেরকে সব সময় এক জাতি বলেই গণ্য করা হয়েছে। যদিও তারা লোকাচারে কেউ ব্রাহ্মণ, কায়স্থ বা অন্য জাতির লোক। তবে এটা সত্য যে, বিভিন্ন জাতি বা ধর্মের লোকেরা নিজেদের মধ্যে জাতিভেদ প্রথাকে প্রাধান্য দেয়। যার ফলে সমাজের মধ্যে বিভেদের সৃষ্টি হয়। যেটা একটা কঠিক সামাজিক ব্যাধি। তবে আবার বলি, মতুয়ারা সকলে একই জাতি। এখানে কোন ভেদাভেদ নেই। আর অন্য জাতি বা ধর্মে যেমন নারীদেরকে মর্যাদা দেওয়া হয়না, কোন অধিকার দেওয়া হয়না, সেক্ষেত্রে মতুয়াধর্মের নিময়ানুসারে আমার কাছে নারীরা সব মর্যাদা পাবেন, অধিকার পাবেন। তাদেরকে কখনো পৃথক দৃষ্টিতে দেখা হবেনা বরং তাদের প্রগতির জন্য আমি আরো বেশি করে কাজ করব। যেখানে কোন রকম ভেদাভেদ বা জাতি ধর্মের পরিচয় থাকবেনা।”
গুরুচাঁদ ঠাকুর জাতিভে সম্পর্কে আরো বলেছেন-
সামাজিক নীতি সব শোন ভক্তজন।
‘জাতিভে্দ’ প্রথা নাহি মানিবে কখন।।
শ্রীশ্রীগুরুচাঁদ চরিত পৃ.৫৭০
গুরুচাঁদ ঠাকুর তাঁর অনুয়ায়ীদেরকে কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে,- সামাজিক নীতি হিসাবে কেউ যেন জাতিভেদ প্রথাকে প্রশ্রয় না দেন।
আসলে হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরকে নিয়ে এক জাতির মধ্যে গন্ডী বদ্ধ করে রাখার পিছনের আরও বড় কারণ, হচ্ছে যে,- হরিচাঁদ ঠাকুর তার জ্ঞানের উপলব্ধিতে বুঝতে পেরেছিলেন যে, বেদের মধ্যে যে জাতি ভেদের বীজ রোপন করা হয়েছে, মানুষকে উচ, নিচ্‌ ভেদাভেদ করে এক শ্রেণীর মানুষকে পশুর থেকেও নিচ্‌ করে রেখেছে, আর অলৌকিক ভগবান, স্বর্গ, নরক, আত্মা, পরমাত্মার পঙ্কিলতায় ডুবিয়ে রেখেছে। সে জন্য তিনি দৃপ্ত কন্ঠে ঘোষণা করছিলেন-
কুকুরের উচ্ছিষ্ট প্রসাদ পেলেও খাই।
বেদ বিধি শৌচাচার নাহি মানি তাই।। - হরিলীলামৃত পৃঃ ১০৪
অর্থাৎ তিনি বেদ ও তার বিধানকে সমাজের জন্য কুকুরের উচ্ছিষ্ট থেকেও নিকৃষ্ট মনে করে ছিলেন।
তিনি আবার ঘোষণা করেন-
কোথায় ব্রাহ্মণ দেখ, কোথায় বৈষ্ণব।
স্বার্থ বসে অর্থ লোভী যত ভন্ড সব।।
-লীলামৃত ঠাকুরবাড়ি, ঠাকুর নগর প্রকাশ, পৃঃ ৯৪
তিনি ব্রাহ্মণ এবং বৈষ্ণবদের উদ্দেশ্যে কি বললেন? এরা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অর্থ লোভী ও ভন্ড। অর্থাৎ তারা মানুষকে মিথ্যা পাপ, পুণ্য, স্বর্গ, নরক, আত্মা, পরমাত্মা, জন্মান্তর ইত্যাদির ভয় দেখিয়ে আর তার থেকে মুক্তি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে মানুষকে ঠকিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে। এরা সকলেই ভন্ড। ব্রাহ্মণ এবং বৈষ্ণবদের ধর্মীয় ব্যবসার প্রতি এরকম কুঠারাঘাত করার সাহস আর ক’জন দেখিয়েছেন বলুন তো? আর এর জন্য তারা হরিচাঁদের আদর্শ কি করে প্রচার করতে পারে?
হরিচাঁদ ঠাকুরের এই কথাকে আরো অগ্নি স্ফুলিঙ্গ দান করেন গুরুচাঁদ ঠাকুর। তিনি বলেন-
“ব্রাহ্মণ রচিত যত অভিনব গ্রন্থ।
‘ব্রাহ্মণ প্রধান’ মার্কা বিজ্ঞাপন যন্ত্র।।” গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ২৩
ব্রাহ্মণরা যত সব গ্রন্থ রচনা করেছে, সবই তাদের গুণ-কীর্তনের জন্য। সব জায়গায় ব্রাহ্মণকেই শ্রেষ্ঠ হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাই তাদের রচিত সমস্ত গ্রন্থ হচ্ছে ‘বিজ্ঞাপন যন্ত’।
তো আমরা হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের অগণিত বাণীকে পাই যে গুলো সমাজ সংস্কার মূলক। মানুষকে প্রগতির দিশা দেখানোর সোপান।
কিন্তু শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ্যবাদী জাত ব্যবস্থার শৃংখল দ্বারা তাদের কর্ম ধারাকে গন্ডীবদ্ধ করে রেখেছে। আর এই কাজে প্রত্যক্ষ ও অপ্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছে সমাজের কিছু ডিগ্রীধারী পন্ডিত। যে পন্ডিতেরা বিভিন্ন সংগঠনের উচ্চ পদে বসে আছে। আর হরি-গুরুচাঁদের বাণী, কর্ম ও আদর্শকে এগিয়ে না নিয়ে, নিজেদের নাম কেনার জন্য দোকানদার সেজে বসে আছে। আশাকরি, এই ডিগ্রীধারী দোকানদারদেরকে সুবুদ্ধি সপন্ন মানুষেরা তাড়াতাড়ি চিনতে পারবেন। কারণ, এই ডিগ্রীধারীরাও ব্রাহ্মণ্যবাদের পৃষ্ঠপোষক।
তাই এই পৃষ্ঠপোষকদের যদি ঘুম না ভাঙ্গে তাহলে সমাজের সুবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ নিশ্চয় একদিন এদের ঘৃণ্য উদ্দেশ্যকে বানচাল করে দিয়ে দিকে দিকে হরি-গুরুচাঁদের সঠিক ধর্ম-দর্শনকে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছে দেবেন; এই আশা করে সমাপ্ত করছি।
__________________________

24/03/2026

সাথীরা,
প্রথমেই জানাই, আমি আগের থেকে বেশকিছুটা ভালো আছি। চেষ্টা করছি সাধ্যমতো অসমাপ্ত কাজকে পূর্ণ করার। তবে সবাইকে এটা জানিয়ে দেই যে, আমি যে -
Matua Mulnivasi Media YouTube Channel চালাতাম, সেটার ই-মেল হ্যাক হওয়ার কারণে সেখানে আর কোনো কাজ করতে পারি না। তাই, নতুন করে আর একটা YouTube Channel খুলেছি। নাম দিয়েছি-
MATUA MULNIVASI MEDIA II
https://www.youtube.com/-v8p
আপনারা এই চ্যানেলটিকে সাবস্ক্রাইব করবেন অনুগ্রহ করে। চ্যানেলে লিঙ্ক নিচে কমেন্টেও দেওয়া হয়েছে। এবার আসি আসল প্রসঙ্গে-
আমাদের প্রায় সবকিছু থেকেও বলতে গেলে তেমন কোন অস্তিত্ব নেই। প্রায় সব কিছুতে আমাদের (SC, ST, OBC & ALL MULNIVASI) অন্যের উপর নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে সামাজিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে আমরা সংগঠিত নই। এ সব বিষয় সম্পর্কে মাননীয় বিমলবাবু তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে সমাজ জাগরণের বিষয়ে অনেক মূলন্যবাদ মতামত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন-
আমাদের অর্গানাইজেশনের স্ট্রাকচার হওয়া উচিত। আমরা হাজার গণ্ডা করবো। কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তার একটা সেন্টার থাকতে হবে। সেন্টার এমন থাকবে, যেখান থেকে টানলে সব কানেক্টর চলে আসবে। খ্যাপলা জালের মতো। সে জন্য দরকার একজন নেতা। বিনা রক্তপাতে কোনো অধিকার অর্জন করা যায় না। -বিমল বিশ্বাস সম্পাদক অদল বদল পত্রিকা। (সম্পূর্ণ ভিডিওটি দেখার জন্য কমেন্টে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করুন।)

कौन हैं हरीचाँद  और गुरुचाँद ठाकुर?लेखक: जगदीशचंद्र रॉय    हमारे लिए हरिचाँद और गुरुचाँद ठाकुर कौन हैं? भगवान की व्याख्य...
14/03/2026

कौन हैं हरीचाँद और गुरुचाँद ठाकुर?
लेखक: जगदीशचंद्र रॉय
हमारे लिए हरिचाँद और गुरुचाँद ठाकुर कौन हैं? भगवान की व्याख्या क्या है? हम इन्हें मंदिरों में क्यों स्थापित करते हैं? इसके अलावा और कौन से मंदिर बनाने की ज़रूरत है? उन्होंने मतुआ धर्म क्यों दिया? इस धर्म का आदर्श क्या है? गुरुचाँद ठाकुर ने स्कूल बनाने पर ज़ोर क्यों दिया? उन्होंने शिक्षा आंदोलन क्यों शुरू किया? सनातन धर्म क्या है? मतुआ धर्म को सूक्ष्म सनातन धर्म क्यों कहा जाता है?
हम इन महामानवों की शिक्षाओं और आदर्शों का किस हद तक पालन करते हैं? हमें क्या करने की आवश्यकता है?
हरिचाँद और गुरुचाँद ठाकुर कौन हैं?
अगर मैं पूछूं कि हरिचाँद और गुरुचाँद ठाकुर हमारे लिए कौन हैं? तो आप जवाब दे सकते हैं कि वे हमारे भगवान, महामानव, गरीबों के मसीहा वगैरह हैं। अब मुझे बताइए, भगवान से उनका क्या मतलब है? वे हमें इन भगवानों की पूजा कैसे करने के लिए कहते हैं?
भगवान की व्याख्या क्या है?
हम ‘श्रीश्रीहरिलीलामृत’ के पहले पृष्ठ पर देखते हैं-
जो जिनको भक्ति करता हे, वही उसका ईश्वर है। सवाल यह है कि क्या आप किसी की भी भक्ति करेंगे? अगर हाँ, तो आप किसी की भक्ति क्यों करेंगे? हम ‘श्रीश्रीगुरुचाँद चरित’ मे भी देखते हैं-
“हम इस सिद्धांत को पूरी दुनिया में देखते हैं।
जो जिनको उद्धार करता है, वही उसका ईश्वर है।”
(गुरुचाँद चरित, पृष्ठ 529)
यहाँ, ईश्वर की व्याख्या पारंपरिक बातों से आगे बढ़कर सच्चाई पर प्रकाश डालती है: जो जिनको उद्धार करता है, वही उसका भगवान है। यानी, यहाँ भगवान कोई भ्रम नहीं है। भगवान उद्धारकर्ता हैं। और इसी उद्धारकर्ता की लोग पूजा और सम्मान करते हैं। तो अगर हम दबे-कुचले और वंचितों के मसीहाओं की बात करें, तो हमें दिखते हैं –महामानव गौतम बुद्ध, हरिचाँद ठाकुर, गुरुचाँद ठाकुर, महाप्राण योगेंद्रनाथ मंडल, बाबासाहेब डॉ. भीमराव अंबेडकर, पेरियार, गुरु नानक, गुरु रविदास, माता सावित्रीबाई फुले, महात्मा ज्योतिराव फुले, फातिमा शेख, बेगम रोकैया आदि। फिर, हम दुनिया के दूसरे देशों में भी यही देखते हैं, जैसे- मार्टिन लूथर, जॉन अब्राहम लिंकन, नेल्सन मंडेला आदि। इन महान लोगों ने दबे-कुचले और वंचितों के हक के लिए लड़ाई लड़ी। इसलिए, ये महान लोग इस मायने में भगवान या उद्धार करता हैं। हमें अपने कामों से उनकी समझदारी और आदर्शों की पूजा करनी चाहिए।
हम उन्हें मंदिरों में क्यों स्थापित करते हैं? इसके अलावा, और किन मंदिरों में स्थापित किया जाना चाहिए? उस मंदिर में किनकी पूजा करनी होगी?
हर घर में देवताओं का मंदिर बनाएं।
रोज़ाना सच्चे मन से उनकी पूजा करें।।
मैं यहां एक बात कहना चाहता हूं।
देवता के मंदिर में किसकी पूजा करेंगे?
(गुरुचाँद चरित पृष्ठ 529)
आपको ध्यान से देखना चाहिए कि गुरुचाँद ठाकुर हर घर में देवताओं के मंदिर बनाने की बात कर रहे हैं। लेकिन वे यह सवाल भी पूछ रहे हैं कि उस मंदिर में किसकी पूजा होगी? अपने ही सवाल का जवाब देते हुए, उन्होंने सख्त आवाज़ में एक साफ़ निर्देश दिया: "तुम इस मंदिर में ऐसे भगवान की पूजा करोगे, वह ईश्वर पूरे ब्रह्मांड में मौजूद है। वह ईश्वर जिसने लोगों को अन्याय, ज़ुल्म, सामाजिक और धार्मिक भेदभाव और हर तरह की असमानता के खिलाफ लड़ाई लड़ी है और आवाज़ उठाई है। उन्होंने पीड़ितों को इन समस्याओं से बचाया है। उस भगवान की पूजा करनी चाहिए।” लेकिन वह पूजा कैसे होगी? वह मंदिर कैसा होगा? यहां मंदिर का मतलब सिर्फ मूर्तियां रखना नहीं है; यह सिर्फ बर्तन, फूल, पत्ते वगैरह की पारंपरिक पूजा के लिए नहीं है। यहां मंदिर का एक और बड़ा मतलब है, वह है मन का मंदिर, एजुकेशनल मटीरियल का मंदिर। मन का मंदिर अच्छी शिक्षा की सामग्री से भर जाएगा। मंदिर के चढ़ावे से देश, समाज और राष्ट्र का भला होगा। इससे तरक्की की भावना जागृत होगी।
आपके इस संगसार में हरिचाँद हैं अवतार।
कृपया करके नम:शूद्रों को कियाहे उद्धार।।
उनकी पूजा करो और उसके भक्त बनो।
अपने घर के भगवान को छोड़कर तुम कहां जरहे हो?
(पृ. गुरुचाँद चरित 529)
आपका भगवान या अवतार या उद्धारकर्ता जो भी कहे, वह हरिचाँद ठाकुर है। उसकी पूजा करो। हालाँकि, यह पूजा केवल फूल, पान, चीनी और मिठाई के बारे में नहीं है। इस पूजा का संदेश सत्य, प्रेम, पवित्रता। परोपकार। चरित्र निर्माण। और सही शिक्षा के माध्यम से शिक्षित होना होगा। एक शब्द में, हरिचाँद ठाकुर के कर्मों और आदर्शों की पूजा। उस पूजा के फलस्वरूप राष्ट्र, समाज और देश को लाभ होगा। लेकिन हममें से ज़्यादातर मतुआ लोग वेदवाद के जाल में फंसे हुए हैं, अपने भगवान को पहचान नहीं पा रहे हैं। जहा हरिचंद ठाकुर ने खुद कहा कि वे ‘वेदों और उसका नियमों को नहीं मानते।’ वहां अधिकांश मतुआ वैदिकवाद के प्रति आसक्त हैं। और हरीचाँद गुरुचाँद ठाकुर को भी उसी वैदिकवाद के साथ मिलावट कर रहे हैं। हालांकि मतुआ दर्शन में कहा गया है कि जो लोग हरिचाँद ठाकुर के आदर्श और आदेश को पालन करते हैं, उनको कोई पूजापाठ करने की जरूरत नही हे। ‘मत बुलाओ हरि(चाँद) को, हरि(चाँद) आपको बुलाएंगे।’ (गुरुचाँद चरित पृष्ठा क्रमांग- 569)
इसलिए गुरुचाँद ठाकुर ने उन लोगोलों चेतावनी दी हे - अपने घर के भगवान को छोड़कर तुम लोग और कहां जाना चाहते हो? इतना साफ़-साफ़ बताने के बाद भी मतुआ लोग आज भी पथभ्रष्ट क्यों हैं?
धर्म की आवश्यकता क्यों?
बाबासाहेब डॉ. अंबेडकर ने इस बारे में क्या कहा?
धर्म, सामाजिक स्थिति और धन तीन चीजें हैं जो शक्ति और अधिकार के स्रोत के रूप में काम करती हैं। इन तीनों में से किसी के भी द्वारा एक व्यक्ति दूसरे व्यक्ति की स्वतंत्रता को नियंत्रित कर सकता है। एक स्थिति में एक फैक्टर असर डालता है, दूसरी स्थिति में दूसरा फैक्टर असर डालता है - बस यही फ़र्क है।
जब तक आप सामाजिक व्यवस्था नहीं बदलेंगे, तब तक आप ज्यादा प्रगति नहीं कर पाएंगे।
जिस मज़बूत दीवार से जाति व्यवस्था बनाई गई है और जिन तत्वों से यह दीवार बनाई गई है, उनमें तर्क और सिद्धांत नामक कोई ज्वलनशील तत्व नहीं है। तर्क और सिद्धांत नाम का कोई तत्व नहीं है। इसके अलावा, इस दीवार के अंदर ब्राह्मणों की एक सेना पहरा दे रही है। वे ब्राह्मण ही बुद्धिजीवी वर्ग और हिंदुओं के असली नेता हैं। ब्राह्मण सेनाएं जाति व्यवस्था की दीवारों की रक्षा के लिए भाड़े के सैनिकों की तरह पहरा नहीं देंगी। वे अपने देश की रक्षा के लिए मरते दम तक लड़ेंगे।
मैं सभी व्यवस्थित धर्मों की आलोचना कर रहा हूँ ताकि कोई यह न सोचे कि मैं धर्म की आवश्यकता से इनकार कर रहा हूं। दूसरी ओर, मैं बर्क(Burke) के कथन से सहमत हूं कि "सच्चा धर्म सामाजिक जीवन की नींव है, और इसी नींव पर देश की न्यायपूर्ण सरकार बनती है।" (True religion is the foundation of society, the basic on which all true civil Government rests, and both their sanction) तो जब मैं यह दावा करता हूं कि, हिंदू समाज के प्राचीन नियमों को समाप्त करने की आवश्यकता है, तभी मुझे लगता है कि इस कमी को तुरंत भरने के लिए, एक ऐसे धर्म की ज़रूरत है जो सिद्धांतों पर आधारित हो। मुझे पर्सनली धर्म की बहुत आवश्यकता महसूस होती है। (No.24 Annihilation of Caste)
गुरुचाँद ठाकुर ने धर्म के बारे में क्या कहा?
हरिचाँद और गुरुचाँद ठाकुर ने, अपने धर्म से निकाल दिए गए उत्पीड़ित लोगों को एकजुट होने के लिए एक नया धर्म दिया। बस यह (धर्मं) आंदोलन के लिए सिर्फ एक उपकरण है। वे धार्मिक विश्वासों पर खड़े नहीं थे। लोगों को जागृत करने के लिए हमें संस्थागत शिक्षा के साथ-साथ सामाजिक शिक्षा के माध्यम से मूल्यों की भावना विकसित करने के लिए; सामाजिक असमानता को खत्म करने के लिए, वे धर्म को एक प्रकार की भाषा या अभिव्यक्ति के रूप में उपयोग करते हैं। तो उसने कहा,
“धर्म की शक्ति के बिना कोई राष्ट्र कभी आगे नहीं बढ़ सकता।"-
(गुरुचाँद चरित पृष्ठा क्रमांग-529)
लेकिन दुख की बात यह है कि मतुआ धर्म और दर्शन के ज़्यादातर भक्तों ने मतुआधर्म को वैदिक परंपरा से बांधा है। इससे बाहर निकलने की कोशिश भी नहीं कर रहे हैं। नतीजतन, जो कुछ भी दिखाई दे रहा है वह बाहरीता है। अंतर्निहित विचारों की अभिव्यक्ति या प्रसार मामूली है।
सनातन धर्म क्या है? मतुआ धर्म को सूक्ष्म सनातन धर्म क्यों कहा जाता है?
लीलामृत के पृष्ठ 11 पर हम देखते हैं-
सभी धर्मों को उल्लंघन करके उन्होंने निर्णय लिया।
पवित्र मनुष्य के लिए प्रार्थना यह है मूल।।
जीवों के प्रति दया, ‘नाम’(Wisdom) में रुचि, और लोगों के प्रति वफ़ादारी।
इसके अलावा बाकी सभी काम भ्रष्ट हैं।
इस सूक्ष्म सनातन धर्म को फैलाने के लिए।
जन्म लिया हरिचाँद यशोमंत के घर पर।
सर्व धर्म लंघी – अर्थात्, सांसारिक लोगों द्वारा बनाए गए विभिन्न धर्मों का उल्लंघन करके।
निर्णय लिया- यानी आपने तय कर किया, क्या तय किया है?
पवित्र मनुष्य के लिए प्रार्थना यह है मूल- अर्थात्, लोगों के दुख, पीड़ा, शोक, रोग आदि की सेवा करना। इन समस्याओं को दूर करने के तरीके पर काम करें। लोगों की यह सेवा मुख्य या वास्तविक है।
सवाल यह है कि वह सेवा कैसे की जाएगी?
जीवों के प्रति दया- सभी जीवों पर दया। लेकिन, इस दया का मतलब दया दिखाना नहीं है। उस जीव पर दया दिखाने के लिए, पहले उससे प्यार करना चाहिए। फिर उसकी परेशानियाँ दूर करने का इंतज़ाम करना चाहिए। लेकिन कई मामलों में भिखारी को भीख देना दया दिखाने के बराबर होता है। लगभग हर कोई नफ़रत की भावना से उसकी भीख करता है।
-इस दयालुता में कोई जाति, धर्म या कोई अन्य भेद नहीं होगा।
मुक्ति का मार्ग-
इसलिए मैं कहता हूँ, भाई, यदि तुम्हें मुक्ति चाहिए
तो तुम्हें विद्वान बनना होगा।
ज्ञान का भंडार प्राप्त करके तुम दुःखों से मुक्त हो जाओगे
और सदा सुखी रहोगे। (गुरुचाँद चरित पृष्ठा क्रमांग-130)

‘मुक्ति’- यहां किस मुक्ति की बात हो रही है? यह ‘मुक्ति’ अज्ञान के अंधकार से बाहर आने और ज्ञान के प्रकाश में प्रवेश करने की स्वतंत्रता। उस मुक्ति के लिए, आपको शिक्षित होना होगा। तबही आप मुक्त हो जाएंगे। और सभी दुख खत्म हो जाएंगे। आप हमेशा खुश रह पाएंगे।
सवाल यह है कि कौन सी शिक्षा?
औपचारिक शिक्षा के साथ सामाजिक शिक्षा। हम में से कई लोग अभी फॉर्मल एजुकेशन से पढ़े-लिखे हैं। लेकिन हम में से कितने लोग सामाजिक शिक्षा को सही ढंग से लेते हैं?
लेकिन इस मुक्ति का आनंद लेने के बाद भी, हम अभी भी परलोक में मुक्ति की तलाश कर रहे हैं! क्या सच में वहाँ कोई मुक्ति है? वहाँ गुलामी है, पैसे की बेकार बर्बादी है और ब्राह्मणों और ब्राह्मणवाद का प्रसार है। अगर आप असली मुक्ति पाना चाहते हैं, तो मुक्ति के इस सूत्र को समझने की कोशिश करें। मुझे लगता है कि हरिचाँद, गुरुचाँद ठाकुर और सभी महामानवो ने इसी तरह मुक्ति की तलाश की है।
मुक्ति का स्रोत :- प्रतिक्रांति के बाद अर्थात 185 ईसा पूर्व में पुष्यमित्र शुंग सम्राट अशोक के पोते बृहद्रथ को एक सार्वजनिक दरबार में मार डाला और प्रतिक्रांति की। ब्राह्मणों ने तब से शिक्षा पर रोक क्यों लगाई? इसका मकसद क्या था? इसका मकसद था-
शिक्षा से बुद्धि का विकास होता है। जब बुद्धि विकसित होती है, तो विवेक जागता है। जब विवेक जागता है, तो निर्णय लेने की भावना पैदा होती है और निर्णय लेने की क्षमता पैदा होती है। निर्णय लेने की शक्ति का जन्म होता है। अर्थात्, गलत को गलत और सत्य को सत्य समझने की क्षमता का जन्म होता है। दुनिया में होने वाली सभी महान चीजें, इसके पीछे कोई निर्णय या फैसला होता है। दूसरे शब्दों में, निर्णय या दृढ़ संकल्प। यह निर्णय बुद्धि से आता है। ज्ञान शिक्षा से आता है। एक शब्द में, शिक्षा से बुद्धि तक और बुद्धि से निर्णय। यही मनोविज्ञान है। बुद्धि के विकास के बिना, निर्णय लेने की क्षमता उत्पन्न नहीं होती है। अगर आप फ़ैसले नहीं ले सकते तो लीडरशिप डेवलप नहीं हो सकती। यानी नेता नहीं बनते। जिस समाज में कोई नेता नहीं होता, उस समाज के लोग आसानी से गुमराह कर सकते हैं। जिस समाज में नेता नहीं है, वहां कोई आंदोलन विकसित नहीं होता है। आंदोलन के बिना कोई क्रांति नहीं होती। क्रांति के बिना मुक्ति नहीं है। तो अंतिम परिणाम सूत्र है: शिक्षा> बुद्धि> न्याय की भावना>निर्णय>नेतृत्व> आंदोलन>क्रांति>मुक्ति।
यही कारण है कि वैदिकवादियों ने मूलनिवासियों को शिक्षा के अधिकार से वंचित कर दिया। हरिचाँद, गुरुचाँद ठाकुर और अन्य महान हस्तियों ने इसे समझा, और शिक्षा और सामाजिक जागरण के लिए काम किया। अब हमें यह तय करना है क्या हम वैदिक धर्म से मुक्त होकर मुक्ति के मार्ग पर काम करेंगे? या फिर हमें हरिचाँद और गुरुचाँद ठाकुर का नाम लेकर वैदिकवाद के गुलाम बन जाना चाहिए, और उनके दिखाए रास्ते के पास भी नहीं जाना चाहिए? क्या अपने सारा आत्म-सम्मान त्याग कर और अपने देश और समाज को अपने फायदे के लिए बेच दूँगा? आपको क्या करना होगा यै फ़ैसला आपको खुद ही लेना होगा।
- जय हरिचाँद। जय गुरुचाँद।




#हरिचाँद
#गुरुचाँद
#मतुआधर्म

13th March গুরুচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিন উপলক্ষে আন্তরিক অভিবাদন জানাই। হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুর আমাদের কে?লেখক- জগদীশচন্দ্র ...
12/03/2026

13th March গুরুচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিন উপলক্ষে আন্তরিক অভিবাদন জানাই।
হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুর আমাদের কে?
লেখক- জগদীশচন্দ্র রায়
হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুর আমাদের কে? ভগবানের ব্যাখ্যা কি? আমরা তাঁদের কেন মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করি? এছাড়া আর কোন্‌ মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা দরকার। তাঁরা মতুয়া ধর্ম কেন দিলেন? এই ধর্মের আদর্শ কী? গুরুচাঁদ ঠাকুর কেন স্কুল করার প্রতি জোর দিয়েছিলেন? কেন শিক্ষার আন্দোলন করেছিলেন?
আমরা এই মহামানদের নির্দেশ, আদর্শ কতটা পালন করি? আমাদের কী করা দরকার।

হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুর আমাদের কে?
যদি প্রশ্ন করি যে, হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুর আমাদের কে? আপনারা হয়তো উত্তর দেবেন তাঁরা আমাদের ভগবান, মহামানব, পতীতের উদ্ধার কর্তা। ইত্যাদি। এবার বলুন তাঁরা ভগবানের বলতে কী বুঝিয়েছেন? এই ভগবানদের পূজা কিভাবে করতে বলেছেন?

ভগবানের ব্যাখ্যা কি?
আমরা শ্রীশ্রীহরিলীলামৃতের প্রথম পৃষ্ঠাতেই দেখতে পাই-
যে যাহারে ভক্তি করে সে তার ঈশ্বর।
প্রশ্ন হচ্ছে, আপনারা যে কাউকেই কি ভক্তি করবেন? তাহলে যাকে ভক্তি করবেন বা করেন, কেন?
আমরা শ্রীশ্রীগুরুচাঁদ চরিতেও দেখতে পাই-
বিশ্বভরে এই নীতি দেখি পরস্পর।
যে যা’রে উদ্ধার করে সে তার ঈশ্বর।। (গু. চ. পৃঃ ৫২৯)
এখানে ঈশ্বরের ব্যাখ্যাটাকে কিন্তু গতানুগতিকতার ঊর্ধে গিয়ে বাস্তবতাকে তুলে ধরে বলা হয়েছে-যেযাহাকে উদ্ধার করে সে তার ঈশ্বর। অর্থাৎ ঈশ্বর এখানে কোন অলীক কেউ নন। ঈশ্বর হচ্ছেন উদ্ধার কর্তা। আর এই উদ্ধার কর্তাকেই লোকে ভক্তি শ্রদ্ধা করেন।
তো এই নিপীড়িত বঞ্চিতদের উদ্ধার কর্তার কথা যদি বলতে হয়, তাহলে আমরা দেখতে পাই- মহামানব গৌতম বুদ্ধ, হরিচাঁদ ঠাকুর, গুরুচাঁদ ঠাকুর, মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল, বাবাসাহেব ড. ভীম রাও আম্বেদকর, পেরিয়ার, গুরু নানক, গুরু রবিদাস, মাতা সাবিত্রীবাই ফুলে, মহাত্মা জ্যোতিরাও ফুলে, ফতেমা শেখ, বেগম রোকেয়া ইত্যাদি। আবার বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এরকম দেখতে পাই, যেমন- মার্টিন লুথার, জন আব্রাহাম লিঙ্কন, নেলসন ম্যাণ্ডেলা ইত্যাদি।
এই মহামানবেরা নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তাই এই মহামানবেরা এই অর্থে ঈশ্বর বা উদ্ধার কর্তা। কর্মের মধ্য দিয়ে এঁদের জ্ঞান-আদর্শের পূজা করতে হবে।

আমরা তাঁদের কেন মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করি? এছাড়া আর কোন্‌ মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
সেই মন্দিরে কাঁদের পূজা করতে হবে?

দেবতা-মন্দির সবে গড়’ ঘরে ঘরে।
নিত্য পূজা কর সেথা সরল অন্তরে।।
এইখানে আমি বলি’ এক সমাচার।
দেবতা-মন্দিরে পূজা করিবে কাহার? (গু. চ. পৃঃ ৫২৯)
আপনারা খুব গভীরভাবে লক্ষ্য করুন, গুরুচাঁদ ঠাকুর ঘরে ঘরে দেবতার মন্দির গড়ার কথা বলছেন। কিন্তু তিনি আবার প্রশ্ন করছেন যে, সেই মন্দিরে কাঁর পূজা করা হবে? তিনি নিজের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে দৃপ্তকন্ঠে এক অমোঘ নির্দেশ দিয়েছেন যে, “এই মন্দিরে এমন ঈশ্বরকে স্থাপন করে পূজা করবে, যে ঈশ্বর সারা বিশ্বময় বিরাজ করছে। যে ঈশ্বর মানুষকে তাদের প্রতি অন্যায়, অত্যাচার, সামাজিক ধর্মীয় বিষয়ে জাতিভেদ ও সমস্ত অসমানতার বিরুদ্ধে গর্জে উঠে সংগ্রাম করেছেন। এইসব সমস্যা থেকে পিড়ীতদের উদ্ধার করেছেন। সেই ঈশ্বরের পূজা করতে হবে।” তবে সেই পূজা কেমন করে হবে? সেই মন্দির কেমন হবে? এখানে মন্দির অর্থ কিন্তু শুধু মূর্তি স্থাপনের জন্য নয়; শুধু ঘট ফুল পাতা ইত্যাদি প্রচলিত পূজাচার নয়। এখানে মন্দিরের আর একটি বৃহত্তর অর্থ হচ্ছে মনমন্দির, শিক্ষার উপকরণের মন্দির। যে মনমন্দির সুশিক্ষার উপকরণে পরিপূর্ণ হবে। যে মন্দিরের অর্ঘ দেশ সমাজ ও জাতির মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসবে। প্রগতির ক্ষেত্রে জাগরণ ঘটাবে।
তোমাদের এই কুলে হরি অবতার।
দয়া করে নমঃশূদ্রে করিল উদ্ধার।।
তাঁর পূজা কর সবে তাঁর ভক্ত হও।
নিজ ঘরে ভগবান ফেলে কোথা যাও? (পৃঃ গুরুচাঁদ চরিত ৫২৯)
তোমাদের ঈশ্বর বা অবতার বা উদ্ধার কর্তা যাই বলোনা কেন তিনি হচ্ছেন হরিচাঁদ ঠাকুর। তোমরা তাঁর পূজা কর। তবে এই পূজা শুধুমাত্র ফুল, বেলপাতা চিন, বাতাসার নয়। এই পূজার উপচার হবে সত্য, প্রেম পবিত্রতা। পরোপকার। চরিত্র গঠন। সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া। এক কথায় হরিচাঁদ ঠাকুরের কর্ম ও আদর্শের পূজা। যে পূজার ফলে জাতি, সমাজ ও দেশের মঙ্গল হবে। কিন্তু আমরা বেশিরভাগ মতুয়ারা নিজেদের ভগবানকে চিনতে না পেরে বৈদিকতার জ্বালে ফেঁসে আছি। হরিচাঁদ ঠাকুর নিজেই যে সব‘বেদ-বিধি শৌচাচার নাহি মানি’ বলে ঘোষণা করেছেন, সেখানে বেশিরভাগ মতুয়া বৈদিকতা নিয়ে মেতে আছেন। আর হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরকেও সেই বৈদিকরার মধ্যে গুলিয়ে দিচ্ছেন। যদিও মতুয়া দর্শনে আছে, যে হরিচাঁদের নির্দেশ মেনে চলবে- ‘না ডাক’ হরিকে হরি তোমাকে ডাকিবে।’ -গু.চ. ৫৬৯

সেজন্য গুরুচাঁদ ঠাকুর তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন - তোমরা তোমাদের নিজের ঘরের ভগবানকে ফেলে রেখে অন্য কোথায় যেতে চাইছো? এতো স্পষ্ট করে বলার পরেও আজ মতুয়ারা বিপথগামী কেন??

ধর্মের প্রয়োজনীয়তা কেন?
আম্বেদকর-
ধর্ম, সামাকিজ মর্যাদা এবং সম্পদ এই তিনটি জিনিস ক্ষমতা এবং কর্তৃত্বের উৎস হিসাবে কাজ করে। এই তিনটির যে কোনো একটি দ্বারা একজন মানুষ আর একজন মানুষের স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। একটা অবস্থায় একটা উপাদান প্রভাব বিস্তার করে, অন্য অবস্থায় অন্য একটা উপাদান প্রভাব বিস্তার করে– এটাই শুধু পার্থক্য।
যতক্ষণ আপনারা সামাজিক ব্যবস্থার পরিবর্তন না করবেন, ততক্ষণ তেমন কোন উন্নতি করতে পারবেন না।
যে দুর্ভেদ্য প্রাচীর দ্বারা জাতব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে এবং যে সব উপাদানের সাহায্যে এই প্রাচীর গড়া হয়েছে, তার মধ্যে যুক্তি-নীতি নামক কোনো দাহ্য উপাদান নেই। উপরন্তু এই প্রাচীরের অভ্যন্তরে ব্রাহ্মণ সৈন্যবাহিনী পাহারা দিচ্ছে। সেই ব্রাহ্মণরাই বুদ্ধিজীবী শ্রেণি এবং হিন্দুদের প্রকৃত নেতা। জাত ব্যবস্থার প্রাচীর পাহারা দেওয়ার জন্য ব্রাহ্মণ সৈন্যবাহিনী ভাড়াটে সৈন্যদের মতো পাহারা দেবে না। তারা মাতৃভূমি রক্ষার জন্য প্রাণপন যুদ্ধ করবে।
আমি নিয়মসর্বস্ব ধর্মকে সমালোচনা করছি বলে এটা যেন কেউ মনে না করেন যে, আমি ধর্মের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করছি। অপর পক্ষে আমি বার্কের (Burke) এই কথার সঙ্গে একমত যে, “প্রকৃত ধর্ম হচ্ছে সমাজ জীবনের ভিত্তি এবং এই ভিত্তির উপরই গড়ে ওঠে দেশের ন্যায়পরান সরকার। (True religion is the foundation of society, the basic on which all true civil Government rests, and both their sanction)। সুতরাং যখন আমি দাবি করি যে, হিন্দু সমাজের প্রাচীন নিয়মগুলি বিলোপ করা দরকার, তখনই আমি মনে করি সঙ্গে সঙ্গে সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে এমন একটি ধর্মের প্রয়োজন, যেটা প্রতিষ্ঠিত হবে নীতির উপর ভিত্তি করে। ধর্মের প্রয়োজনীয়তা আমি একান্তভাবে অনুভব করি। (No.24 Anihilation of Caste)
গুরুচাঁদ ঠাকুর-
হরি-গুরুচাঁদ ধর্মহীন পতীতদের নতুন ধর্ম দিয়ে ছিলেন সংঘবদ্ধ হওয়ার জন্য। সেটা আন্দোলনের জন্য একটা সোপান বা হাতিয়ার মাত্র। তাঁরা ধর্ম বিশ্বাসের উপর দাঁড়ান নি। মানুষকে জাগ্রত করার জন্য, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে সাথে সামাজিক শিক্ষা দিয়ে মূল্যবোধ জাগানোর জন্য। সামাজিক বৈষম্য দূর করার জন্য তাঁরা ধর্মকে এক ধরনের ভাষা বা প্রকাশের মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। তাই বলেছিলেন,
ধর্ম্ম শক্তি বিনা জাতি জাগেনা কখন।।” গুরুচাঁদ চতির পৃঃ ৫২৯
কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় হচ্ছে বেশিরভাগ মতুয়া ধর্ম-দর্শনের অনুরাগীরা ধর্মটাকে বৈদিক ঘরানায় আবদ্ধ হয়ে আছে। তার থেকে এরা বাইরে আসারও চেষ্টা করছে না। যারফলে যাকিছু দেখা যাচ্ছে সেটা শুধু বাহ্যিকতা। অন্তর্নিহিত ভাবনার প্রকাশ বা প্রসার যৎ সামান্য।

সনাতন ধর্ম কী? সূক্ষ্ম সনাতন ধর্ম কেন বলা হয় মতুয়া ধর্মকে?
লীলামৃতের ১১ পৃষ্ঠায় আমরা দেখতে পাই-
সর্ব্ব ধর্ম্ম লঙ্ঘি এবে করিলেন স্থুল।
শুদ্ধ মানুষেতে আর্ত্তি এই হয় মুল।।
জীবে দয়া নামে রুচি মানুষেতে নিষ্ঠা।
ইহা ছাড়া আর যত সব ক্রিয়া ভ্রষ্টা।।
এই সূক্ষ্ম সনাতন ধর্ম জানাইতে।
জনম লভিলা হরি যশোমন্তের গৃহেতে।।
সর্ব্ব ধর্ম্ম লঙ্ঘি- অর্থাৎ জাগতিক মানুষের দ্বারা তৈরি বিভিন্ন ধর্মকে লঙ্ঘন করে অর্থাৎ অতিক্রম করে করিলেন স্থুল- অর্থাৎ ঠিক করলেন, কী ঠিক করলেন?
শুদ্ধ মানুষেতে আর্ত্তি এই হয় মুল – মানুষের দুঃখ, বেদনা, বিষাদ, ব্যাধি ইত্যাদির সেবা করা। এই সব সমস্যা কী করে দূর করা যাবে সে বিষয়ে কাজ করা। মানুষের এই সেবা করাই হচ্ছে মূল বা আসল।
প্রশ্ন হচ্ছে সেই সেবা কিভাবে হবে?
জীবে দয়া- সমস্ত জীবের প্রতি দয়া করা। তবে এই দয়া মানে করুনা করা নয়। সেই জীবের প্রতি দয়া করতে হলে প্রথমে তাকে ভালোবাসতে হবে। তারপর তার সমস্যা দূর করার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু ভিক্ষুকে ভিক্ষা দেওয়াটা অনেক ক্ষেত্রে করুনা করার পর্যায়ে পড়ে। তাকে প্রায় সকলেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্লভাবেই কিছু সাহায্য করে।
-এই দয়াতে থাকবেনা কোনো জাতি-----

মুক্তির দিশা-

তাই বলি ভাই মুক্তি যদি চাই
বিদ্যান হইতে হবে।
পেলে বিদ্যাধন দুঃখ নিবারণ
চির সুখি হবে ভবে।। গুরুচাঁদ চরিত পৃ. ১৩০
‘মুক্তি,’ এখানে কোন মুক্তির কথা বলা হয়েছে? এই ‘মুক্তি’ হচ্ছে অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বেরিয়া এসে জ্ঞানের আলোতে প্রবেশের মুক্তি। সেই মুক্তির জন্য আপনাদের বিদ্যান হতে হবে। তাহলে মুক্তি পাবেন। আর সব দুখের নিবারণ ঘটবে। আপনি চির সুখি হতে পারবেন।
এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, কোন শিক্ষা? প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে সামাজিক শিক্ষা। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় বর্তমানে অনেকেই শিক্ষিত। কিন্তু সামাজিক শিক্ষা আমরা কয়জনে সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পেরেছি?
কিন্তু আমরা এই মুক্তিকে উপভোগ করেও জীবনের পরপারে মুক্তি চাইছি! সত্যি সত্যি ওখানে কোনো মুক্তি আছে কী? ওখানে আছে গোলামী, নির্থক অর্থ ব্যয় আর ব্রাহ্মণ ও ব্রাহ্মণ্যবাদকে প্রসাতির করা। প্রকৃত মুক্তির পেতে হলে নিচের মুক্তির সূত্রকে হৃদয়ঙ্গম করার চেষ্টা করুন। আমার মনে হয়, হরি-গুরুচাঁদ ঠাকুর তথা সকল মহামানবই এইভাবে মুক্তি চেয়েছেন।
মুক্তির সূত্রঃ- প্রতিবপ্লবের পর অর্থাৎ ১৮৫ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে পুশ্যমিত্র সুঙ্গ সম্রাট অশোকের নাতি চতুর্থ পীডির বৃহদ্রথকে প্রকাশ্য রাজ সভায় হত্যা করে প্রতিবিপ্লব করে। তখন থেকে ব্রাহ্মণরা শিক্ষার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলো কেন? এর উদ্দেশ্য কি ছিলো? তার উদ্দেশ্য ছিলো-
শিক্ষা থেকে বুদ্ধির বিকাশ ঘটে। বুদ্ধির বিকাশ ঘটলে বিবেক জাগ্রত হয়। বিবেক জাগ্রত হলে বিচার বোধ জাগে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা জন্মায়। অর্থাৎ ভুলকে ভুল ও সত্যকে সত্য বলে বোঝার ক্ষমতা জন্মায়। পৃথিবীতে যত মহান কাজ হয়, তার পেছনে থাকে নির্ণয় বা সিদ্ধান্ত। অন্য কথায়, বিচার বা সংকল্প। এই সিদ্ধান্ত আসে বুদ্ধি থকে। বুদ্ধি আসে শিক্ষা থেকে। এক কথায় শিক্ষা থেকে বুদ্ধি এবং বুদ্ধি থেকে সিদ্ধান্ত। এটাই হলো মনোবিজ্ঞান। বুদ্ধির বিকাশ না ঘটলে নির্ণয় বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা জন্মায় না। সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে নেতৃত্ববোধ জন্মায় না। অর্থাৎ নেতা তৈরি হয়না। যে সমাজে নেতা নেই। সে সমাজের মানুষকে সহজে নেতিয়ে দেওয়া যায়। যে সমাজে নেতা নেই, সে সমাজে আন্দোলন গড়ে ওঠে না। আন্দোলন না হলে বিপ্লবও হয়না। বিপ্লব না হলে মুক্তি আসে না। সুতরাং সর্ব শেষ পরিনাম সূত্রঃ-শিক্ষা> বুদ্ধি> বিচারবোধ>সিদ্ধান্ত>নেতৃত্ব> আন্দোলন>বিপ্লব>মুক্তি। এই জন্যই বৈদিকবাদীরা মূলনিবাসীদের শিক্ষার অধিকার হনন করেছিল। আর হরি-গুরুচাঁদ ঠাকুর তথা অন্যান মহামানবেরা এটা বুঝতে পেরে শিক্ষা তথা সমাজ জাগরণের কাজ করেছিলেন। এবার আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে আমরা বৈদিকতা থেকে মুক্ত হয়ে মুক্তির সূত্রে কাজ করবো? না কি মুখে হরি-গুরুচাঁদের নাম নেবো আর তাঁদের নির্দেশিত পথের ধারে কাছেও না গিয়ে বৈদিকতার গোলামী করবো? নিজের স্বার্থে সব আত্মমর্যাদাকে জলাঞ্জলি দিয়ে নিজের জাতি ও সমাজকে বিকিয়ে দেবো? নির্ণয় নিজেকেই গ্রহণ করতে হবে।
-জয় হরিচাঁদ। জয় গুরুচাঁদ।

#মতুয়া
#গুরুচাঁদ
#হরিচাঁদ

#ধর্ম
#মূলনিবাসী
#শিক্ষা
#গুরুচাঁদচরিত
#লীলামৃত
#শ্রীশ্রীগুরুচাঁদচরিত
#শ্রীশ্রীহরিলীলামৃত

Address

Gopalganj

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Guruchand Thakur posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category