বাস্তব গল্প - ০.১ পৃষ্ঠা

বাস্তব গল্প - ০.১ পৃষ্ঠা Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from বাস্তব গল্প - ০.১ পৃষ্ঠা, Habiganj Sadar.

আসসালামু আলাইকুম। ❤️🥰
বাস্তব গল্প - ০.১ পৃষ্ঠা পেইজে... আপনাকে স্বাগতম।
সত্য এবং বাস্তব গল্প পেতে পেইজে ফলো করুন।⤵️

বিষয় সমূহ রচিত হবে যেমন- [ প্রেম, বিচ্ছেদ, রাজনৈতিক, সামাজিক... ব্যাক্তি সফলতা, ব্যর্থতা ইত্যাদি ] গল্প গুলো তুলে দরা হবে, পাশে থাকুন।

তুমি'তে শুরু তুমি'তেই শেষ..!🥹❤️‍🩹
16/08/2026

তুমি'তে শুরু তুমি'তেই শেষ..!🥹❤️‍🩹

15/08/2026
মুজিববিদ্বেষীরা শুধু আগস্ট নয়, বছরের বারোটা মাস, বারো মাসের ৩৬৫টা দিনই সুযোগ পেলে একটা বিতর্ক বারবার উস্কে দেয়, তা হলো— ...
15/08/2026

মুজিববিদ্বেষীরা শুধু আগস্ট নয়, বছরের বারোটা মাস, বারো মাসের ৩৬৫টা দিনই সুযোগ পেলে একটা বিতর্ক বারবার উস্কে দেয়, তা হলো— শেখ মুজিব নয়, ইব্রাহিমই আমাদের জাতির পিতা। সম্প্রতি তারা তো একটা স্লোগানও বানিয়ে ফেলেছে— “শেখ মুজিব ঘোড়ার ডিম, জাতির পিতা ইব্রাহিম।” ইব্রাহিম মানে ইসলাম ধর্মের নবি হজরত ইব্রাহিম (আঃ)। মুজিববিদ্বেষীরা বেশিরভাগই ধর্মীয়ভাবে একই ঘরানার।

শুরুতেই আমি তাদের এমন দাবিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করি। এই ঘৃণার কারণটি বুঝতে হলে আগে আপনাদেরকে একটা বিষয় জানতে হবে। মানুষ হিশেবে আমরা একইসাথে একাধিক জাতের অন্তর্ভুক্ত। যেমন— মানুষের দিক থেকে আমরা মানবজাতি, ধর্মীয় জাতের দিক থেকে কেউ মুসলমান বা কেউ খ্রিষ্টান, ভাষাগতভাবে কেউ বাঙালি কেউ ইংরেজ, বর্ণ জাতের দিক থেকে কেউ শ্বেতাঙ্গ বা কৃষাঙ্গ, দেশ-জাতি হিশেবে কেউ বাংলাদেশি বা ভারতীয়— এমন একাধিক জাতির অন্তর্ভুক্ত আমরা এই গোটা মানবসম্প্রদায়। এবং এইসব প্রত্যেকটা জাতের আলাদা সৃষ্টি, সংগ্রাম বা সাহসের ইতিহাসের একজন সর্বোচ্চনেতাও থাকতে পারেন। খুব সহজ করে বললে, যে জাতিতে যে নেতার অবদান তিনিই সেই জাতির পিতা।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদান রয়েছে, তাই তিনি “বাংলাদেশের জাতির পিতা”। মুসলিম জাতির পিতা নন— এমন দাবি আমরা কেউই করিনা। এবং এই খেতাবটি তিনি দেশ স্বাধীনের আগেই পেয়েছেন, ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ, তখনও দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় নাই। বাংলাদেশিরা তাদের জাতির পিতা কে হবেন— তা তখনই নির্ধারণ করে নিয়েছিলেন।

জাতির পিতা মানে কোনো বায়োলজিক্যাল ফাদার নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক ও সম্মানসূচক উপাধি। কোনো জাতির স্বাধীনতা অর্জন, জাতীয় পরিচয় নির্মাণ, রাজনৈতিক ঐক্য সৃষ্টি এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অসাধারণ নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিকে অনেক দেশে এই ধরনের উপাধি দেওয়া হয়েছে।

যেমন— মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে জাতির পিতা হিশেবে মানতে পাপীস্তানিদের কোনো সমস্যা নেই, মহাত্মা গান্ধীকে মানতে ভারতের সমস্যা নেই, জর্জ ওয়াশিংটনকে মানতে যুক্তরাষ্ট্রের অসুবিধা নেই, মোস্তফা কামাল আতাতুর্ককেও জাতির পিতা হিশেবে মেনে আসছে তুরস্ক— অথচ যত সমস্যা সব বাংলাদেশি মূর্খদের। তারা জাতির পিতা ইস্যু এলেই ঠাস করে নবি ইব্রাহিমকে টেনে আনে। অথচ বঙ্গবন্ধু একটা রাষ্ট্রের জাতির পিতা, ইব্রাহিম (আঃ) একটা ধর্মের জাতির পিতা; দুজনের অবস্থান ভিন্ন— এখানে তো দুইজনের ‘তুলনা’ আসবার কথা-ই ছিলোনা, কিন্তু আনলো কারা? ধর্মের মূর্খ অনুসারীরা, কেননা পাকিস্তান ফেরত জামায়াতিরা তাদেরকে এটা দীর্ঘদিন বুঝিয়েছে— জাতি মানে একটাই, তা হলো মুসলিম।

এমনকি ০৫ আগস্টের পর রীতিমতো তারা তো ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের নামটাও পরিবর্তন করে ‘জাতির পিতা ইব্রাহিম (আঃ) এক্সপ্রেসওয়ে’ নামকরণ করে ফেলেছে। আচ্ছা, এদেশে কি শুধুই নবি ইব্রাহিম (আঃ)-এর অনুসারীদের বসবাস?

বরাবরই এদেশের মানুষের ধর্মীয় জ্ঞানের চাইতে ধর্মীয় আবেগ বেশি। যেকারণে বারবার তাদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খায় একটা গোষ্ঠী। যে যেটাই করুক, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জাতির পিতা, অন্তত এটা মানতে কোনো অসুবিধা থাকবার কথা নয়। অসুবিধা হলে তাদের হতে পারে, যারা বাংলাদেশ চায়নি, শেখ মুজিবের নেতৃত্বকে মেনে নিতে পারেনি। চিরকাল আমরা তাদেরকে অকৃতজ্ঞ বেইমান হিশেবে সাব্যস্ত করবো।

বঙ্গবন্ধুকে আপনি জাতির পিতা হিশেবে না মানলেও তিনি জাতির পিতা হয়েই থাকবেন, ইতিহাসের পাতায়, স্বর্ণাক্ষরে।

—শিশির ওয়াহিদ
১৫ আগস্ট, ২০২৬

পৃথিবীতে পোশাকবিহীন এসেছিলে, হে গালিব! একটি কাফনের জন্য এত লম্বা সফর করলে!!🥹
01/08/2026

পৃথিবীতে পোশাকবিহীন এসেছিলে, হে গালিব!
একটি কাফনের জন্য এত লম্বা সফর করলে!!🥹

১৯৬৪ সাল, বঙ্গবন্ধু তখনো ‘বঙ্গবন্ধু’ নামে পরিচিত হননি, শেখ মুজিব নামেই তিনি তখন দেশব্যাপী পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘদেহী এ রকম ...
12/06/2026

১৯৬৪ সাল, বঙ্গবন্ধু তখনো ‘বঙ্গবন্ধু’ নামে পরিচিত হননি, শেখ মুজিব নামেই তিনি তখন দেশব্যাপী পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘদেহী এ রকম সুদর্শন পুরুষ তখন পূর্ব পাকিস্তানে আর কেউ ছিলেন না। পত্রিকায় তাঁর ছবি আমি দেখেছি, কিন্তু কাছ থেকে তাঁকে কখনো দেখিনি। দেখার সুযোগ পাইনি।

ময়মনসিংহের সার্কিট হাউসের মাঠের জনসভায় পাকিস্তানের লৌহমানব প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানকে দূর থেকে দেখেছি। ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে ভিড়ের মধ্যে করমর্দন করার সুযোগ পেয়েছি। আইয়ুব খানের প্রিয়, আস্থাভাজন ছিলেন ময়মনসিংহের মোনায়েম খান। আইয়ুব খান তাঁকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর বানিয়েছিলেন। মোনায়েম খানকেও দূর থেকে দেখেছি।

আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিবের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত সৈয়দ নজরুল ইসলামকেও দেখেছি দূর থেকে। আর কোনো জাতীয় নেতাকে দেখিনি।

শেখ মুজিবকে দেখার খুব সাধ ছিল আমার। কিন্তু আমার সেই সাধ মেটানোর কোনো সুযোগ পাচ্ছিলাম না। হঠাৎ করেই একদিন সেই সুযোগ এসে গেল।

আমাদের কলেজের খুব কাছেই নেত্রকোনা রেলস্টেশন। ওই রেলস্টেশনের ভেতরে একটা চায়ের স্টল ছিল। ওই স্টলে আমরা চা খেতাম এবং দল বেঁধে আড্ডা দিতাম। পরে ময়মনসিংহ থেকে মোহনগঞ্জগামী ট্রেন এলে বিনা টিকিটে ওই ট্রেনে চড়ে বীরদর্পে বারহাট্টায় ফিরতাম।

একদিন চায়ের স্টলে বসে জানতে পারি, আমরা যে ট্রেনের অপেক্ষায় আছি, দুপুরের সেই ট্রেনে করে শেখ মুজিব আসছেন। তিনি মোহনগঞ্জে যাবেন। সেখানে তিনি আইয়ুববিরোধী একটি জনসভায় ভাষণ দেবেন।

একেই বলে মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। আমার খুবই আনন্দ হলো প্রিয় নেতা শেখ মুজিবকে এবার খুব কাছ থেকে দেখতে পাব ভেবে। শেখ মুজিবকে একনজর দেখার জন্য প্রচুর লোকজন এসে জড়ো হলো রেলস্টেশনে।

যথাসময়ের বেশ কিছু পর স্টেশনে এসে পৌঁছাল সেই ট্রেনটি, যার কোনো একটি কামরার মধ্যে রয়েছেন শেখ মুজিব। ট্রেনটি স্টেশনে থামতে না–থামতেই লোকজন ছুটে গেল শেখ মুজিব ও তাঁর সঙ্গীদের বহনকারী কামরাটির দিকে। আমিও ছুটলাম। কিন্তু ভিড় ঠেলে তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারলাম না। ট্রেন ছেড়ে দিল।

আমি ভিড় ঠেলে ওই কামরার হাতল ধরে ঝুলে পড়লাম।

যা থাকে কপালে। শেখ মুজিবকে ছাড়া যাবে না।

শেখ মুজিবের প্রতি আমার মধ্যে সৃষ্ট ভালোবাসা ও আস্থার কারণ আমি আমার আত্মজীবনী আমার কণ্ঠস্বর বইয়ে লিখেছি।

এই প্রথম এমন নেতাকে দেখতে পাই, যিনি রবীন্দ্রনাথকে শ্রেষ্ঠজ্ঞানে শ্রদ্ধা করেন। তাঁর পোশাক, তাঁর ভাষা, তাঁর উচ্চারণ খাঁটি বাঙালির। তাঁর দিকে তাকিয়ে তাঁকে শুধুই মুসলমানদের নেতা বলে আমার মনে হয় না। মনে হয় তিনি হিন্দু–মুসলমাননির্বিশেষে সকল বাঙালির নেতা। ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় তিনি বজ্রনিনাদে ঢাকার রাজপথে নেমে আসেন। ‘পূর্ব পাকিস্তান রুখিয়া দাঁড়াও’ লেখা বিরাট ফেস্টুন নিয়ে মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ঢাকার রাজপথ প্রকম্পিত করেন (১৯৬৪–এর ৫, ১১ মার্চ শেখ মুজিবের নেতৃত্বে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবিরোধী দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটিও গঠিত হয়)। ভারতের বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিয়ে তিনি সস্তায় মাঠ গরম করার রাজনীতি করেন না। তিনি সুদর্শন এবং কবিতাপ্রেমী নেতা। এ রকম কোনো নেতা আমি আগে কখনো দেখিনি। পত্রিকায় তাঁর ছবি দেখেছি, কিন্তু কাছ থেকে তাঁকে দেখার সুযোগ আমার হয়নি। তাই তিনি ট্রেনের যে কামরায় ছিলেন, আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই কামরার হাতল ধরে ঝুলে পড়েছিলাম। আমার মতো মুজিবপাগল তখন আরও ছিল। তারাও আমার সঙ্গে ওই কামরার হাতল ধরে ঝুলছিল। যাঁকে একনজর দেখার জন্য আমাদের ঝুঁকি নেওয়া, তিনি তা বুঝতে পারলেন এবং কামরার ভেতরে থাকা ভলান্টিয়ারদের বললেন, ‘তোমরা দরজাটা খুলে দাও, ছেলেগুলো তো অ্যাকসিডেন্ট করবে।’

তাঁর নির্দেশে তখন দরজাটি খুলে দেওয়া হলো। আমরা কামরার ভেতরে প্রবেশ করে হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। খুশি হলাম শেখ মুজিবের আচরণে। তিনি তো আমাদের সম্পর্কে উদাসীনও থাকতে পারতেন, যেমন ছিলেন তাঁর অন্য ভ্রমণসঙ্গীরা। শেখ মুজিব জানতেন, তাঁর রেল-কামরার হাতল ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝুলে থাকা ছেলেগুলো তাঁকে কাছে থেকে একটু দেখার জন্যই এ রকম পাগলামি করছে।

__কবি নির্মলেন্দু গুণ.

📌 ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু নি*হ*ত হওয়ার পর জাসদ লিফলেট বিলি করে। সেই লিফলেটে জাসদের আব্দুর রব এবং মেজর জলিলের বিবৃতিতে উল্লেখ...
08/06/2026

📌 ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু নি*হ*ত হওয়ার পর জাসদ লিফলেট বিলি করে। সেই লিফলেটে জাসদের আব্দুর রব এবং মেজর জলিলের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় "মুজিবের বিরুদ্ধে আ*ন্দো*লনে ১ হাজারের ও অধিক কর্মী নি**হ**ত হয়"।

📌 জাসদের মুখপাত্র প্রকাশনা 'প্রেরণার মুখ'। সেখানে ৭২-৭৫ এবং এর পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে জাসদের নি**হ*ত নেতাকর্মীদের নামের তালিকা এবং নি**হ**ত হওয়ার পেছনের ঘটনার প্রেক্ষাপট সহ প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় ৭২-৭৫ সালে নি*হ**ত কত জনের নাম পাওয়া যায় জানেন? ২১৪ জনের নাম !! এসব নাম জাসদেরই মুখপাত্র পত্রিকা 'গণকন্ঠ' থেকে সংগৃহীত।
https://songramernotebook.com/archives/81143

এই ২১৪ জনের মধ্যেও অনেক রকমের অসামঞ্জস্যতা আছে৷ যেমন ১৯৭৪ সালে রমনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়িতে হা/মলা করতে গিয়ে পুলিশ এবং রক্ষীবাহিনীর গু*লি*তে ৫০ জন কর্মী নি*হ*তের দাবি করে থাকে জাসদ৷ যদিও তৎকালীন সমস্ত পত্রিকা বা তদন্তে ৬ জনের নাম উঠে আসে৷জাসদ কখনোই ৫০ জনের কোন তালিকা দিতে পারেনি৷

📌এদিকে জাসদের জন্ম ৭২ এর ৩১ অক্টোবরে। বঙ্গবন্ধুর মৃ**ত্যুর আগে তারা সময় পেয়েছে মোট ৩৩ মাস। এই অল্প সময়ে তাদের ৪০ হাজার কর্মী নি*হ*ত হওয়ার অর্থ হচ্ছে প্রতি মাসে গড়ে ১২০০ কর্মী নি**হ**ত হওয়া। এত বড় ঘটনা নিয়ে ওই সময়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ বা বহির্বিশ্বের একটি বার্তা দেখাতে পারবেন? কোন রিসার্চ, তদন্ত এ জাতীয় কোন উল্লেখযোগ্য ডকুমেন্টস দেখাতে পারবেন?

📌 সাংবাদিক মাহবুব কামাল তৎকালীন জাসদের সক্রিয় কর্মী ছিল৷ তিনি সম্প্রতি একটি টকশোতে বসে বলেছেন," আমি জাসদ করেছি৷ কেউ যদি ৪০ হাজার না, ৩০০ জনের তালিকাও করতে পারে, আমি টক শো করা ছেড়ে দেব"। (ভিডিও সংযুক্ত)

📌৯০ দশকের দিকে এক সাক্ষাৎকারে আসম আব্দুর রব দাবি করেন মুজিব আমলে জাসদের 'হাজার হাজার' কর্মী হ/ত্যা করা হয়' এবং 'দশ হাজার' কর্মীকে জেলে আটক করা হয়৷ অর্থাৎ রব নিজেই ৪০ হাজারের দাবি করেননি। (ভিডিও সংযুক্ত)

যেখানে রব এর দাবি অনুযায়ী 'দশ হাজার' আটক করা হয়েছে, সেখানে নি*হ*তের সংখ্যা কখনোই ৪০ হাজার তো দূর, ১ হাজারও হবে না--সেটা সহজেই অনুমেয়৷

⭕তাহলে এই ৪০ হাজারের মিথ্যা এলো কোত্থেকে?

এই মিথ্যা প্রতিষ্ঠায় মূল দায়ী ব্যক্তি ছিল পাকিস্তানি সাংবাদিক এন্থনি মাসকারেনহাস, যিনি ৭১ এ বাংলাদেশের পরম বন্ধু ছিলেন। কিন্তু ৭১ পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান সরকার তাকে নির্বাসিত করে৷ স্বাধীনতার পর এই মাসকারেনহাস বঙ্গবন্ধুর কাছে বিশাল অর্থ দাবি করে প্রতিদান হিসেবে। বঙ্গবন্ধু তখন তাকে বলেন "আমার দেশের মানুষের খাওয়ার টাকা নাই৷ আমি কোথা থেকে তোমাকে এত টাকা দেব?"
(সূত্র: মুজিবের র**ক্ত লাল by এম আর আক্তার মুকুল)

এই মাসকারেনহাস পরবর্তীতে ক্ষু**ব্ধ হয়ে মুজিব আমলকে রঙচঙ মাখিয়ে ভয়ানক হিসেবে উপস্থাপিত করে তার "Legacy of Blo*o*d" বইতে। আর সেই অতিরঞ্জিত তথ্যই যুগ যুগ ধরে জামাতিরা প্রচার করে যাচ্ছে....

নোট-১: জাসদের এই তথাকথিত বি*প্ল*বের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ৭ জন এমপি হ*ত্যা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও করে বাড়িতে ঢুকে হা*ম*লা হয়েছে৷ আমেরিকান এম্বাসিতে ঢুকে আমেরিকার পতাকা নামিয়ে ভিয়েতনামের পতাকা ওড়ানো হয়েছে৷ আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী হ/ত্যা করা হয়েছে।

এবার ভাবুন, দেশের ৭ জন এমপি হ*ত্যা হলে কিংবা আমেরিকান এম্বাসিতে এটাকের মত গুরুতর ঘটনার তুলনায় ২১৪ বলি কিংবা ১ হাজার-- সেই সংখ্যাটি আসলে কত বিশাল মনে হয়।

নোট-২: জাসদের সেই তালিকায় জিয়া আমলে নি*হ*তের সংখ্যা অন্তত ১০৬ জনের নাম পাওয়া যায়। অথচ জিয়াকে নিয়ে কখনো কথা হতে শুনেছেন?

প্রামাণ্য লিংক সহ বিস্তারিত
https://www.facebook.com/share/v/1AsjKY99Db/

#মুক্তিসারথী
৬/১২/২০২৫

১৯৬০ সালে ব্রজমোহন কলেজে ভর্তির পর ছাত্রলীগের সদস্য হয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করি। সেই যে শুরু করলাম, ধীরে ধীরে ছাত্রলীগের ...
01/06/2026

১৯৬০ সালে ব্রজমোহন কলেজে ভর্তির পর ছাত্রলীগের সদস্য হয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করি। সেই যে শুরু করলাম, ধীরে ধীরে ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কখনো ক্রীড়া সম্পাদক, হোস্টেল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি, ’৬৬-’৬৭ সনে ইকবাল হল (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি, ’৬৭-’৬৮ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হই।

’৬৯-এর জুনে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। ছাত্রলীগের সেই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রধান অতিথি ছিলেন। আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে বলেছিলেন, ‘বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে যেও। এই ছাত্রলীগ ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে অনেক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তোমাদের নেতৃত্ব দিতে হবে। ’ বঙ্গবন্ধুর সেই নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের দুর্লভ সৌভাগ্যের অধিকারী হয়ে মুজিব বাহিনীর চারটি সেক্টরের একটির আটটি জেলার অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের সুযোগ অর্জন করেছিলাম।

বঙ্গবন্ধু যখন ৬ দফা দেন আমি তখন ইকবাল হলের সহ-সভাপতি। ইকবাল হলে বসেই ৬ দফার পক্ষে আমরা আন্দোলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করি। আমার কক্ষ নম্বর ছিল ৩১৩। এই কক্ষে প্রায়শই থাকতেন শ্রদ্ধেয় নেতা শেখ ফজলুল হক মণি, সিরাজুল আলম খান ও আবদুর রাজ্জাক। ৬ দফা দিয়ে বঙ্গবন্ধু আমাদের বলেছিলেন, ‘সাঁকো দিলাম স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতায় উন্নীত হওয়ার জন্য। ’ অর্থাৎ এই ৬ দফার সিঁড়ি বেয়ে তিনি স্বাধীনতায় পৌঁছাবেন। ৬ দফা দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু দেশব্যাপী ঝটিকা সফর করে ৩২টি জনসভা করেন এবং বিভিন্ন জেলায় বারবার গ্রেফতার হন। শেষবার নারায়ণগঞ্জ থেকে সভা করে ঢাকা আসার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের পর ’৬৬-এর ৭ জুন আমরা যে হরতাল পালন করেছিলাম, তার পরিকল্পনা আমার কক্ষে বসেই হয়েছিল।

’৬৮-এর ১৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে জেলগেটেই আবার গ্রেফতার করা হয়। আমার সৌভাগ্য ওইদিনই ডাকসুর ভিপি হয়েছিলাম। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বসে বঙ্গবন্ধু চিঠি লিখে বিশ্বস্ত এক কারারক্ষীর মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন; চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘স্নেহের তোফায়েল, তুই ডাকসুর ভিপি হয়েছিস, এ কথা শুনে খুউব ভালো লেগেছে। বিশ্বাস করি এবারের এই ডাকসু বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে। ’ জেলগেট থেকে গ্রেফতার করে প্রিজনভ্যানে তোলার প্রাক্কালে এক টুকরো মাটি কপালে ছুঁইয়ে বলেছিলেন, ‘হে মাটি, আমি তোমাকে ভালোবাসি। ওরা যদি আমাকে ফাঁসি দেয় আমি যেন মৃত্যুর পর তোমার বুকে চিরনিদ্রায় শায়িত থাকতে পারি। ’
প্রথমে আমরা জানতাম না প্রিয়নেতা কোথায় কিভাবে আছেন! আমরা ছাত্রসমাজ এই গ্রেফতারের বিরুদ্ধে মিছিল করি। ’৬৮-এর ১৯ জুন আগরতলা মামলার বিচার যেদিন শুরু হয়, সেদিন থেকে আমরা জানতাম আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিকাষ্ঠে মৃত্যুদণ্ড দেবে। কারণ, স্বৈরশাসক আইয়ুব খান উপলব্ধি করেছিল, সকলকে বশে আনা যায় কিন্তু শেখ মুজিবকে বশে আনা যায় না। তাই আইয়ুব খান সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এই একটি কণ্ঠকে চিরদিনের জন্য স্তব্ধ করে দিতে হবে। কেননা, একটি কণ্ঠে কোটি কোটি কণ্ঠ উচ্চারিত হয়। আইয়ুব খান প্রদত্ত মামলার নামই ছিল ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য’ মামলা।

ডাকসুসহ চারটি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে ঐতিহাসিক ১১ দফার ভিত্তিতে ’৬৯-এর ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। আমার কক্ষে বসেই আমরা ১১-দফার ভিত্তিতে গণআন্দোলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করি। আজ যখন স্মৃতিকথা লিখছি বারবার মনে পড়ছে ’৬৯-এর ১১ দফা আন্দোলনের প্রণেতা-ছাত্রলীগ সভাপতি প্রয়াত আব্দুর রউফ ও সাধারণ সম্পাদক খালেদ মোহাম্মদ আলী; ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া গ্রুপ) সভাপতি প্রয়াত সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক ও সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দোহা; ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ) সভাপতি মোস্তফা জামাল হায়দার ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল্লাহ; এবং এনএসএফ-এর একাংশের সভাপতি প্রয়াত ইব্রাহিম খলিল ও সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম মুন্সীর কথা। এই ছাত্রনেতাদের প্রত্যেকেই ছিলেন খ্যাতিমান। আমি ডাকসু ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করি। আমার সঙ্গে ছিলেন ডাকসু জিএস নাজিম কামরান চৌধুরী।

’৬৯-এর ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের বটতলায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ১১ দফা প্রণয়নের পর এটাই প্রথম কর্মসূচি। ডাকসু ভিপি হিসেবে আমার সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গভর্নর মোনায়েম খান ১৪৪ ধারা জারি করেন। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব ছিল সিদ্ধান্ত দেওয়ার ১৪৪ ধারা ভাঙব কি ভাঙব না। উপস্থিত ছাত্রদের চোখেমুখে ছিল ১৪৪ ধারা ভঙ্গের দৃঢ়তা। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে শ-পাঁচেক ছাত্র নিয়ে রাজপথে এলাম। পুলিশ বাহিনী আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুর রউফ ঘটনাস্থলে আহত হন। আমরা ক্যাম্পাসে ফিরে আসি। পরদিন ১৮ জানুয়ারি পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও ঢাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মঘট কর্মসূচি দিই। ১৮ জানুয়ারি বটতলায় জমায়েত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট ছিল বিধায় সকালে বটতলায় ছাত্র জমায়েতের পর খণ্ড খণ্ড মিছিল এবং সহস্র কণ্ঠের উচ্চারণ, ‘শেখ মুজিবের মুক্তি চাই, আইয়ুব খানের পতন চাই’। গতকালের চেয়ে আজকের সমাবেশ বড়। সেদিনও ১৪৪ ধারা বলবৎ ছিল। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজপথে নেমে এলাম। দাঙ্গা পুলিশ লাঠিচার্জ আর টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। ফিরে এলাম ক্যাম্পাসে। কর্মসূচি নেওয়া হলো ১৯ জানুয়ারি আমরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল করব এবং ১৪৪ ধারা ভাঙব। সেদিন ছিল রবিবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। কিন্তু প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় খোলা ছিল। আমরা মিছিল শুরু করি। শুরু হয় পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ। কিন্তু কিছুই মানছে না ছাত্ররা। শঙ্কাহীন প্রতিটি ছাত্রের মুখ। পুলিশ গুলি চালাল। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুল হক, বাড়ি দিনাজপুর, গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে রাজপথে। ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি শহিদ হন।

পুলিশের নির্যাতন ও গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি সোমবার আবার বটতলায় সমাবেশের কর্মসূচি দিই। পুনরায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ঘোষণা দিলাম। লক্ষ মানুষের মিছিল নেমে এলো রাজপথে। কোথায় গেল ১৪৪ ধারা! আমরা ছিলাম মিছিলের মাঝখানে। মিছিল যখন আগের কলা ভবন বর্তমান মেডিক্যাল কলেজের সামনে, ঠিক তখনই গুলি শুরু হয়। আমি, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক খালেদ মোহাম্মদ আলী ও আসাদুজ্জামান (শহিদ) একসঙ্গে ছিলাম। আমাদের লক্ষ্য করে এক পুলিশ ইন্সপেক্টর গুলি ছোড়ে। গুলি লাগে আসাদুজ্জামানের বুকে। সঙ্গে সঙ্গে ঢলে পড়ে আসাদ। আসাদকে ধরাধরি করে মেডিক্যাল কলেজের দিকে নেওয়ার পথে আমাদের হাতের ওপরেই সে মৃত্যুবরণ করে। একজন শহিদের শেষ নিঃশ্বাস স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলাম। মৃত্যু এত কাছে হাতের ওপর!

২১ জানুয়ারি পূর্বঘোষিত হরতাল কর্মসূচি পালিত হলো। চারদিক থেকে মানুষের ঢল নামল পল্টন ময়দানে। মাইক, মঞ্চ কিছুই ছিল না। পল্টনে চারাগাছের ইটের বেষ্টনীর ওপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে হলো। বক্তৃতার পর ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করি :২২ জানুয়ারি শোক মিছিল, কালো ব্যাজ ধারণ, কালো পতাকা উত্তোলন। ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মশাল মিছিল, পরে কালো পতাকাসহ শোক মিছিল। ২৪ জানুয়ারি দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল।

২৩ জানুয়ারি শহরের সমস্ত অলিগলি থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বের হয় মশাল মিছিল। সমগ্র ঢাকা পরিণত হয় মশালের নগরীতে। ২৪ জানুয়ারি সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়। সর্বত্র মানুষের একই প্রশ্ন, ‘শেখ মুজিব কবে মুক্তি পাবে?’ ‘কবে আগরতলা মামলা তুলে নেওয়া হবে?’ হরতালের পর সমগ্র জনপদ গণ-অভ্যুত্থানের প্রবল বিস্ফোরণে প্রকম্পিত, অগ্নিগর্ভ। জনরোষ নিয়ন্ত্রণ করে নিয়মতান্ত্রিকতা বজায় রাখা যে কত কঠিন সেদিন মর্মে মর্মে অনুভব করেছি। কিছুক্ষণের মধ্যে সেনাবাহিনী, ইপিআর ও পুলিশ মরিয়া হয়ে ওঠে বিক্ষোভ দমনে। যত্রতত্র গুলি চালাতে থাকে। সে গুলিতেই শহিদের তালিকায় যুক্ত হয় মতিউর, মকবুল, আনোয়ার, রুস্তম, মিলন, আলমগীর, আনোয়ারাসহ আরো অনেক নাম। লক্ষ মানুষ নেমে আসে ঢাকার রাজপথে। মানুষের পুঞ্জীভূত ঘৃণা এমন ভয়ংকর ক্ষোভে পরিণত হয় যে, বিক্ষুব্ধ মানুষ সরকারি ভবন ও সরকার-সমর্থিত পত্রিকাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ‘দৈনিক পাকিস্তান’, ‘মর্নিং নিউজ’ ও ‘পয়গাম’ অফিস ভস্মীভূত হয়। আগরতলা মামলার প্রধান বিচারপতি এস রহমান বাসভবন থেকে এক বস্ত্রে পালিয়ে যান। নবাব হাসান আসকারি, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য এন এ লস্কর এবং রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধকারী খাজা শাহাবুদ্দীনসহ আরো কয়েক মন্ত্রীর বাসভবনে আগুন দেওয়া হয়।

ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউশনের দশম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমানের লাশ নিয়ে আমরা পল্টনে যাই। লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে পল্টন ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পর বিক্ষুব্ধ জনতা গভর্নর হাউজ আক্রমণে উদ্যত হয়। বিনা মাইকে বক্তৃতা করে জনতাকে শান্ত করি। গণমিছিল করে মতিউরের লাশ নিয়ে ইকবাল হলের মাঠে আসি। যে মাঠে এসেছিলেন সদ্য সন্তানহারা শহিদ মতিউরের পিতা জনাব আজহার আলী মল্লিক। তিনি ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেছিলেন, ‘আমার ছেলে চলে গেছে দুঃখ নাই। কিন্তু আমার ছেলের এই রক্ত যেন বৃথা না যায়।’

১৯৬৯-এর ২৪ জানুয়ারি গণ-আন্দোলন-গণবিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয় গণ-অভ্যুত্থান। কারফিউর মধ্যে এক দিনও থেমে থাকেনি আমাদের সংগ্রাম। দেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানি প্রশাসন বর্জন করেছে। কল-কারখানা, অফিস-আদালত, সচিবালয় সর্বত্র প্রশাসন ভেঙে পড়েছে। সরকারি কর্মকর্তাগণ জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সিদ্ধান্তের জন্য ধরনা দিতেন ইকবাল হলে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দের কাছে। কিছুদিনের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ইকবাল হল। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ১১ দফার পক্ষে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীসহ বাংলার সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন পেয়েছিলাম। এরপর সান্ধ্য আইন প্রত্যাহূত হলে ৯ ফেব্রুয়ারি পল্টন ময়দানে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘শপথ দিবস’ পালন করে। শপথ দিবসে আমার সভাপতিত্বে সভা শুরু হয় এবং আমরা ১০ জন ছাত্রনেতা ‘জীবনের বিনিময়ে হলেও ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন করব’—জাতির সামনে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করার শপথ নিয়ে স্লোগান তুলি, ‘শপথ নিলাম শপথ নিলাম মুজিব তোমায় মুক্ত করব, শপথ নিলাম শপথ নিলাম মা গো তোমায় মুক্ত করব’। ’৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি প্রিয় নেতাকে মুক্ত করে স্লোগানের প্রথম অংশ এবং ’৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তান হানাদারদের কবল থেকে প্রিয় মাতৃভূমিকে মুক্ত করে স্লোগানের দ্বিতীয় অংশের পূর্ণ বাস্তবায়ন করেছি। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারি হরতাল পালন ও ডাকের জনসভায় জনতার দাবির মুখে প্রিয় নেতার ছবি বুকে ঝুলিয়ে বক্তৃতা করি। ১৫ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হক ও ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহার হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। সংগ্রামী ছাত্র-জনতা আগরতলা মামলা প্রত্যাহার ও প্রিয়নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মুক্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে। মানুষ ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণ করে প্রিয় নেতাকে মুক্ত করতে চায়। ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবসে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভা থেকে স্বৈরশাসকের উদ্দেশে আলটিমেটাম প্রদান করে বলি, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের প্রিয় নেতা শেখ মুজিবসহ সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।’ ২২ ফেব্রুয়ারি তথাকথিত লৌহমানব আইয়ুব খান আমাদের দাবির কাছে নতিস্বীকার করে বঙ্গবন্ধু মুজিবসহ সব রাজবন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদানে বাধ্য হয়।

২৩ ফেব্রুয়ারি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন। সেদিন সদ্য কারামুক্ত প্রিয় নেতাকে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে গণসংবর্ধনা প্রদান করা হয়। স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে দিনটির ছবি। এমন একজন মহান নেতার গণসংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। সেদিনের রেসকোর্স ময়দান ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ, জনসমুদ্র। চিরাচরিত প্রথা ভঙ্গ করে আগেই সভাপতির ভাষণ প্রদানের অনুমতি চেয়ে লাখ লাখ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। ১০ লক্ষাধিক লোক দুই হাত তুলে সম্মতি জানিয়েছিল। বক্তৃতায় আমি বঙ্গবন্ধুকে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করে বলেছিলাম, ‘প্রিয় নেতা, তোমার কাছে আমরা ঋণী, বাঙালি জাতি চিরঋণী। কারণ তুমি জেল-জুলুম অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছ। তোমার জীবন তুমি বাঙালি জাতির জন্য উৎসর্গ করেছ, প্রিয় নেতা। এই ঋণ আমরা কোনো দিন শোধ করতে পারব না। তাই কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞচিত্তে তোমাকে একটি উপাধি দিয়ে সেই ঋণের বোঝাটা আমরা হালকা করতে চাই।’ ১০ লক্ষাধিক লোক দুই হাত উত্তোলন করে সম্মতি জানানোর পর সেই নেতাকে-যিনি জীবনের যৌবন কাটিয়েছেন পাকিস্তানের কারাগারে, ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন-‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে সেদিন এই প্রস্তাব গ্রহণ করে বাংলার মানুষ লক্ষ লক্ষ কণ্ঠে ধ্বনি তুলেছিল, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’।

~~~~
সুত্রঃ
~~~~
১।ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের অগ্নিঝরা দিনগুলি | তোফায়েল আহমেদ। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯
২। স্মৃতির পাতায় ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান। তোফায়েল আহমেদ। দৈনিক ইত্তেফাক, ২৪ জানুয়ারি ২০২৩

© Hasan Murshed

Address

Habiganj Sadar

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বাস্তব গল্প - ০.১ পৃষ্ঠা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to বাস্তব গল্প - ০.১ পৃষ্ঠা:

Shortcuts

Share