29/08/2026
হাওড়/দ্বীপ/চর ভাতা বিষয়ক আলোচনা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বদলি নীতিমালা
-----------------------------------------------------------
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এর ১৮/০২/২০১৮ খ্রি. তারিখের ৭৬ নম্বর প্রজ্ঞাপনে হাওড়/দ্বীপ/চর হিসেবে ১৬ টি উপজেলাকে ঘোষণা করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীগণের সুষ্ঠুভাবে পদায়নের লক্ষ্যে ২৫/১২/২০২২ তারিখে গেজেট অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মচারীগণের পদায়ন নীতিমালা, ২০২২ প্রণয়ন করা হয়। উক্ত নীতিমালায় জেলা, উপজেলাসমূহকে " ক ", "খ " , " গ " ক্যাটাগরিতে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। পরিশিষ্ট " গ " অনুযায়ী পার্বত্য/নবসৃষ্ট/হাওড়/দ্বীপ/ চর/সমুদ্র উপকূলবর্তী ও দুর্গম উপজেলাসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঘোষিত উপজেলাসমূহের বাহিরেও কয়েকটি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেমন: হাওড় উপজেলা হিসেবে
(১) নিকলী, কিশোরগঞ্জ (২) মদন, নেত্রকোণা (৩) সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভবরপুর, মধ্যনগর। (৪) লাখাই, হবিগঞ্জ।
দ্বীপ উপজেলা হিসেবে (১) মহেশখালী, কক্সবাজার।
চর উপজেলা হিসেবে (১) চরভদ্রাসন, ফরিদপুর
(২) দৌলতপুর, মানিকগঞ্জ। মোট ১০ টি উপজেলা হাওড়/দ্বীপ/চর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত উপজেলার বহির্ভূত।
ফলে উক্ত উপজেলায় কর্মরত কর্মচারীগণ হাওড়/দ্বীপ/চর ভাতা প্রাপ্য নন। যা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২৬/০৫/২০২৫ খ্রি. তারিখের ১৩৫ নম্বর প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট। উক্ত পত্রের নির্দেশনা ও অনুলিপির ১০ নম্বর তালিকা অনুযায়ী স্পষ্ট। তাছাড়া পূর্ববর্তী ২৬/০১/২০২২ খ্রি. তারিখের ১১ নম্বর ও ০৫/০৫/২০১৯ খ্রি. তারিখের ৪৮ নম্বর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী স্পষ্ট। কিন্তু তা সত্ত্বেও উল্লেখিত ১০ টি উপজেলাসমূহে কর্মরত বিভিন্ন কার্যালয়ের কর্মচারীগণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বদলি নীতিমালা গেজেটকে ভুল ব্যাখ্যায়িত করে হাওড়/দ্বীপ/চর ভাতা গ্রহণ করছেন মর্মে প্রতীয়মান হয়। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অনিয়মিত ব্যয় হচ্ছে।
বেতন-ভাতাদি পরিশোধের ক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণ অফিসের নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ বাবদ অতিরিক্ত গৃহীত অর্থ আদায় এবং প্রাপ্যতা বিহীন অর্থ প্রদান বন্ধ করার বিষয়ে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের পরিদর্শন শাখা এবং সিভিল অডিট অধিদপ্তর বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারেন। অনুসন্ধানে উদাহরণস্বরূপ দেখা যায়, হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে হাওড় ভাতা বাবদ বিভিন্ন সময়ে বরাদ্দ দিয়ে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫ -২৬ অর্থবছরে হাওড় ভাতা বাবদ বরাদ্দ প্রদান করা হয়নি। কিন্তু অন্যান্য অফিসসমূহে বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরিশোধ করা হচ্ছে। যা সরকারি অর্থের অনিয়মিত ব্যয়।