24/10/2022
সিত্রাং এবং আবহাওয়া বিষয়ক বিপদ সংকেত
------------------------------------------------------------------
আজ ২৪ অক্টোবর ২০২২, সোমবার। দিবাগত রাত। এই লেখা লিখতে লিখতে ক্যালেন্ডারের পাতায় ২৫ অক্টোবর শুরু হয়েছে।
সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের সম্মুখভাগ ইতোমধ্যে উপকূলে আঘাত হেনেছে। যার প্রভাবে সারাদেশে ভারি বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তর থেকে সোমবার রাতে দেওয়া সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং রাত ৯টার দিকে ভোলার কাছ দিয়ে বরিশাল–চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে। ঝড়ের কেন্দ্র মধ্যরাত নাগাদ উপকূল অতিক্রম করবে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদেরা।
উত্তাল হয়ে আছে বঙ্গোপসাগর। শুধু আমাদের দেশেই নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও দেখা দিয়েছে সিত্রাংয়ের প্রভাব।
পায়রা, মংলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এই ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের অর্থ কি আমরা জানি?
যখনই কোনও সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের আশংকা দেখা দেয়, তখনই আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে নানান মাত্রার সতর্কতা, হুশিয়ারি অথবা বিপদসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু আমরা অধিকাংশ মানুষই এই সংকেতগুলোর মানে জানি না।
ঝড়ের সময় আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সমুদ্র বন্দরের ক্ষেত্রে ১১টি এবং নদী বন্দরের ক্ষেত্রে ৪টি সংকেত নির্ধারিত আছে। এই সংকেতগুলো সমুদ্রবন্দর ও নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ভিন্ন বার্তা বহন করে। আসুন জেনে নিই-
সমুদ্রবন্দরের জন্য ১১টি সংকেত
------------------------------------------------
১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত:
১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেতের অর্থ হলো, কোনও জাহাজ বন্দর ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে, বঙ্গোপসাগরে দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝোড়ো হাওয়ার অঞ্চলের অস্তিত্ব বোঝা যাচ্ছে, যেখানে ঝড় সৃষ্টি হতে পারে।
এসময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১ থেকে ৬১ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত:
২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেতের মানে হলো, দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় ইতোমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
এই সংকেতে আরও বোঝানো হয়, বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না, তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ তার যাত্রাপথে বিপদে পড়তে পারে।
৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত:
৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দিয়ে বোঝানো হয়, বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগ কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং এসময়ে ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার হতে পারে।
৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত: এক পতাকা
৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেতের অর্থ হলো, বন্দর ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হতে যাচ্ছে। এসময়ে বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১ থেকে ৬১ কিলোমিটার থাকতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনও আসেনি।
এসময় বন্দরগুলোতে একটি লাল পতাকা দেখানো হয়।
৫ নম্বর বিপদ সংকেত: দুই পতাকা
৫ নম্বর বিপদ সংকেত হলো, বন্দর ছোট বা মাঝারি মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে যাচ্ছে। ঝড়ের সময় বাতাসের সর্বোচ্চ তীব্রতা ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার হতে পারে।
ঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষিণ দিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে এবং মংলা বন্দরের বেলায় পূর্ব দিক দিয়ে অতিক্রম করতে পারে।
এসময় বন্দরগুলোতে দুটি লাল পতাকা দেখানো হয়।
৬ নম্বর বিপদ সংকেত: দুই পতাকা
৬ নম্বর বিপদ সংকেত দিয়ে বোঝানো হয়, বন্দর ছোট বা মাঝারি মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে এবং আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে। এসময়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার।
ঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দরের উত্তর দিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে এবং মংলা বন্দরের বেলায় এটি হবে পশ্চিম দিক দিয়ে।
এসময় বন্দরগুলোতে দুটি লাল পতাকা দেখানো হয়।
৭ নম্বর বিপদ সংকেত: দুই পতাকা
৭ নম্বর বিপদ সংকেতের মানে হলো, সময়ে বন্দর ছোটো বা মাঝারি ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে এবং আবহাওয়া থাকবে দুর্যোগপূর্ণ। এসময়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি সমুদ্রবন্দরের খুব কাছ দিয়ে অথবা উপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
এসময় সতর্কতা বোঝাতে দুইটি লাল পতাকা দেখানো হয়।
৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: তিন পতাকা
৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের সময়ে বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে এবং আবহাওয়া থাকতে পারে খুবই দুর্যোগপূর্ণ। এসময়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা এর বেশি হতে পারে।
প্রচণ্ড ঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষিণ দিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে আর মংলা বন্দরের পূর্ব দিক দিয়ে যাবে।
এসময়ের সতর্কতা বোঝাতে তিনটি লাল পতাকা দেখানো হয়।
৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: তিন পতাকা
৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের অর্থ, বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ মাত্রার সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে যাচ্ছে। ঝড়ের সময়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ১৭০ কিলোমিটার বেগে হারিকেনের তীব্রতা সম্পন্ন প্রবল ঘূর্ণিঝড় বিরাজ করতে পারে।
প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে। মানে হলো, ঘুর্ণিঝড়টির চট্টগ্রাম বন্দরের উত্তর দিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে এবং মংলা বন্দরের বেলায় পশ্চিম দিক দিয়ে যাবে।
এসময়ের সতর্কতা বোঝাতে তিনটি লাল পতাকা দেখানো হয়।
১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: তিন পতাকা
১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দিয়ে বোঝানো হয়, বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ মাত্রার সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে যাচ্ছে এবং আবহাওয়া থাকবে খুবই দুর্যোগপূর্ণ। এসময় বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭১ কিলোমিটার বা তার বেশি হতে পারে।
ঝড়টি বন্দর ও এর উপকূলীয় জনপদ আক্রান্ত করতে পারে।
এসময়ের সতর্কতা বোঝাতে তিনটি লাল পতাকা দেখানো হয়।
১১ নম্বর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত
১১ নম্বর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত মানে হলো, আবহাওয়ার বিপদ সংকেত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তা পরিস্থিতি খুবই দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করছেন।
এবার দেখি মোট সংকেতগুলো কী কী :
১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত,
২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত,
৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত,
৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত,
৫ নম্বর বিপদ সংকেত,
৬ নম্বর বিপদ সংকেত,
৭ নম্বর বিপদ সংকেত,
৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত,
৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত,
১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত,
১১ নম্বর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত।
নদীবন্দরের জন্য চারটি সংকেত
-----------------------------------------------
১ নম্বর নৌ সতর্কতা সংকেত:
বন্দর এলাকা ক্ষণস্থায়ী ঝোড়ো আবহাওয়ার কবলে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিবেগের কালবৈশাখীর ক্ষেত্রেও এই সংকেত প্রদর্শিত হয়। এই সংকেত আবহাওয়ার চলতি অবস্থার ওপর সতর্ক নজর রাখারও তাগিদ দেয়।
২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত:
বন্দর এলাকায় নিম্নচাপের সমতুল্য তীব্রতার একটি ঝড়, যার গতিবেগ ঘণ্টায় অনূর্ধ্ব ৬১ কিলোমিটার বা একটি কালবৈশাখী, যার বাতাসের গতিবেগ ৬১ কিলোমিটার বা তদূর্ধ্ব। নৌযান এদের যেকোনোটির কবলে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ৬৫ ফুট বা তার কম দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট নৌযানকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।
৩ নম্বর নৌ বিপদ সংকেত:
বন্দর এলাকা ঝড়ে কবলিত। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ একটানা ৬২-৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিবেগের একটি সামুদ্রিক ঝড় শিগগিরই বন্দর এলাকায় আঘাত হানতে পারে। সব নৌযানকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।
৪ নম্বর নৌ মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর এলাকা একটি প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার সামুদ্রিক ঝড়ে কবলিত এবং শিগগিরই বন্দর এলাকায় আঘাত হানবে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তদূর্ধ্ব। সব ধরনের নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে।
আসুন সবাই উপকূলবর্তী জনগনের দুর্ভোগ কমাতে মহান সৃষ্টকর্তার কাছে প্রার্থনা করি।
তথ্যসূত্র :
১. ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য।
২. http://www.cpp.gov.bd/site/page/8eeea213-f767-4ed4-a28b-4e3dceaf77bd/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A4-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%93-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE
৩. https://www.prothomalo.com/bangladesh/%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%A8-%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%87-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A7%80-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87
#হাতিয়া
#হাতিয়া_জেলা_চাই
#হাতিয়াকে_জেলা_ঘোষণা_চাই
#দাবী_একটাই_হাতিয়া_জেলা_চাই