20/08/2026
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে গত কয়েকদিনে যে প্রশ্ন দেশবাসীর মনে জেগেছে, তা অত্যন্ত ন্যায়সংগত। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন মর্যাদা দিয়ে, আর ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা প্রতিটি রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের অবশ্যকর্তব্য। কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, এই আইনের ধারা ১৯(১) অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে কমিশন নিজে তদন্ত না করে সেই বাহিনীর কাছ থেকেই প্রতিবেদন চাইবে। যে পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্তের ভারও যদি তাদের হাতেই ন্যস্ত করা হয়, তাহলে সেখানে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা কীভাবে সম্ভব—এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
যারা ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হয়ে ন্যায়বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘোরেন, তাদের প্রতি আমাদের গভীর সহানুভূতি রয়েছে। ধারা ১৯(৩)(খ) অনুযায়ী কমিশনের হাতে শুধু সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখা হয়েছে, বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই—এই দুর্বলতা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে আমরা মনে করি।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মানবাধিকার কমিশন এমন একটি প্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত যা কোনো পক্ষের প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজনে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে। বর্তমান আইনের এই ধারাগুলো পুনর্বিবেচনা করে কমিশনকে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের আহ্বান, জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই আইন সংশোধন করা হোক।
আল্লাহ তায়ালা এই দেশ ও দেশের মানুষকে জুলুম থেকে হেফাজত করুন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে দিন, ইনশাআল্লাহ।
সবাইকে ধন্যবাদ। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
- মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী
কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী