10/04/2023
নারী পাচারকারী মৃত পরিচয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পরে পিবিআই, যশোর কর্তৃক আটক ও ভিকটিম উদ্ধার।
মোছাঃ আফসানা মিমি(২২), স্বামী-মোঃ সাইফুল ইসলাম, সাং-শেখহাটি জামরুলতলা, থানা-কোতয়ালী, জেলা-যশোর প্রায় ৩ বছর যাবৎ তার স্বামীসহ শেখহাটি জামরুলতলার জনৈক আসাদের টিনসেড বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসিছিল। একই বাড়িতে ১। মোঃ মজনু বিশ্বাস(৪৪), পিং-মৃত জলিল বিশ্বাস ও ২। মোছাঃ মাজেদা খাতুন (২৫), স্বামী-মোঃ মজনু বিশ্বাস, উভয় সাং-সুরাট পূর্ব পাড়া, থানা-ঝিনাইদহ সদর, জেলা- ঝিনাইদহদ্বয়ও ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতো। একই বাড়িতে বসবাসের সুবাদে মজনু বিশ্বাস ও মাজেদা খাতুনদ্বয় আফসানা মিমির সহিত সখ্যতা গড়ে তোলে। একপর্যায়ে মজনু বিশ্বাস ও মাজেদা খাতুনদ্বয় আফসানা মিমিকে ভারতে পাচার করে পতিতাবৃত্তি করানোর জন্য পরিকল্পনা করতে থাকে। পরিকল্পনানুযায়ী মজনু বিশ্বাস ও মাজেদা খাতুনদ্বয় আফসানা মিমিকে ভারতে নিয়ে ভাল বেতনের চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে প্ররোচনা দিয়ে পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে গত ১৭/০৫/২০২২ খ্রিঃ তারিখ বিকাল ০৩.০০ ঘটিকায় তার উপরোক্ত ভাড়াটিয়া বাসা হতে বের করে নিয়ে যায় এবং আফসানা মিমিকে অবৈধভাবে চৌগাছা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার কওে সুরাটে নিয়া যায়। সেখানে পূর্ব হতে অবস্থানকৃত মজনু বিশ^াসের চাচাতো শ্যালক মোঃ সোহাগ সরদারের নিকট আফসানা মিমির অজান্তেই পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে বিক্রয় করে দেয়। ভিকটিম আফসানা মিমি ধীরে ধীরে আসামীদের অসৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে তাদের নিকট হতে চলে আসার চেষ্টা করে কিন্তু আসামীরা তাকে খুন করার হুমকি দিয়ে আটকে রাখে। ঐখানে সোহাগ সরদার ও তার স্ত্রী মোছাঃ মিম বেগম @ জয়া @ রিয়া বিভিন্ন লোকের নিকট অর্থের বিনিময়ে ভিকটিম আফসানা মিমির ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত করায়। উক্ত ঘটনা সংক্রান্তে বাদীর পিতা বিজ্ঞ আদালতে পিটিশন মামলা নং-৮১/২০২২ দায়ের করে, যা পিবিআই যশোর জেলায় তদন্তাধীন। পিবিআই যশোর জেলা Justice And Care, Jashore এর সহায়তায় ইং ২০/০২/২০২৩ খ্রিঃ তারিখে ভিকটিম আফসানা মিমিকে ভারত থেকে উদ্ধার করা হয়।
উক্ত মামলাটি তদন্তকালে জানা যায়, আসামী মোঃ মজনু বিশ্বাস(৪৪) ও মোছাঃ মাজেদা খাতুন (২৫) সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। তাদের বাড়ি নড়াইলে। তদন্তকালে আসামীদ্বয় সংক্রান্তে তথ্য সংগ্রহকালে আসামী মজনু বিশ^াস মৃত বলে জানা যায়। এমনকি আসামী মজনু বিশ্বাস মৃত মর্মে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও প্রত্যয়ন প্রদান করেন। কিন্তু পিবিআই যশোর জেলা বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু করে আসামী মজনু বিশ্বাস জীবিত রয়েছে মর্মে নিশ্চিত হন। আসামী মজনু বিশ্বাস ও তার স্ত্রী মাজেদা খাতুন পেশাদার মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য। তারা ভিকটিম আফসানা মিমিকে পাচারের পর তারা প্রতিনিয়ত তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকলেও পিবিআই যশোর জেলা তাদের অবস্থান সনাক্ত করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে ভিকটিম আফসানা মিমির পিতা মোঃ ইব্রাহিম (৬১), পিং-মৃত মোঃ কুদরত আলী, সাং-বিবি রোড, পুরাতন কসবা, কদমতলা, থানা- কোতয়ালী, জেলা-যশোর পিবিআই যশোর এর আবেদনের প্রেক্ষিতে পিবিআই প্রধান জনাব বনজ কুমার মজুমদার বিপিএম (বার), পিপিএম, অ্যাডিশনাল আইজি, বাংলাদেশ পুলিশ এর সঠিক তত্ত¡বধান ও দিক নির্দেশনায়, পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা এর নেতৃত্তে¡ এসআই(নিঃ) স্নেহাশিস দাশ, এসআই(নিঃ) মোঃ মিজানুর রহমান-২ ও এসআই (নিঃ) ডিএম নুর জামাল হোসেনসহ পিবিআই যশোর জেলা চৌকস দল কর্তৃক গত ০৯/০৪/২০২৩ খ্রিঃ রাত অনুমান ১১.১০ ঘটিকার সময় আসামী ১। মোঃ মজনু বিশ্বাস(৪৪), পিং-মৃত জলিল বিশ্বাস ও ২। মোছাঃ মাজেদা খাতুন (২৫), স্বামী-মোঃ মজনু বিশ্বাস, উভয় সাং-সুরাট পূর্ব পাড়া, থানা-ঝিনাইদহ সদর, জেলা- ঝিনাইদহদ্বয়কে তাদের ভাড়াটিয়া বাসা ঝিনাইদহ সদর থানাধীন জোড়াপুকুর পাগলাখানা রোডস্থ জনৈক খলিলের বাসা হতে ফোঃ কাঃ বিঃ ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে কোতয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৪৬, তারিখ-১০/০৪/২০২৩ খ্রিঃ, ধারা-মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ৬/৭/৮/৯ রুজু হয়।
উক্ত মামলাটি পিবিআই, যশোর জেলা স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে মামলার তদন্তভার এসআই (নিঃ) মোঃ মিজানুর রহমান-২ এর উপর অর্পণ করা হয়। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে এসআই(নিঃ) মোঃ মিজানুর রহমান-২ আসামী মোঃ মজনু বিশ্বাস(৪৪) ও মোছাঃ মাজেদা খাতুন (২৫) দ্বয়কে অত্র মামলা সংক্রান্তে গ্রেফতার পূর্বক হেফাজতে গ্রহণ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে আসামীদ্বয় ঘটনার সহিত জড়িত মর্মে স্বীকার করে। আসামী মোঃ মজনু বিশ্বাস(৪৪) ও মোছাঃ মাজেদা খাতুন (২৫) দ্বয়কে অদ্য ১০/৪/২০২৩ খ্রিঃ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টাসহ মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।