06/01/2026
"সর্বদা মনে রাখা উচিত যে, টাকার কোন মালিক হয় না এবং এটি সবসময় হাত ঘুরতে থাকে; যদি তুমি সফল হও, তাহলে কিছু অংশ সমাজকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করো, যে সমাজ তোমাকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছে"।
.........................................এই বিখ্যাত পরামর্শটি সুধা মূর্তি কে দিয়েছিলেন জে.আর.ডি. টাটা (জাহাঙ্গীর রতনজি দাদাভাই টাটা JRD Tata)।
***পদ্মবিভূষণ ও ভারত রত্ন খ্যাত জে.আর.ডি. টাটা (জাহাঙ্গীর রতনজি দাদাভাই টাটা JRD Tata) ছিলেন একজন বিখ্যাত ফরাসি বংশোদ্ভূত ভারতীয় শিল্পপতি, মানবতাবাদী, এবং টাটা গ্রুপের প্রাক্তন চেয়ারম্যান, যিনি ভারতের বিমান চলাচল ও তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে পথিকৃৎ ছিলেন এবং দেশের প্রথম লাইসেন্সপ্রাপ্ত পাইলট হিসেবে পরিচিত, যিনি টাটা এয়ারলাইনস (বর্তমান এয়ার ইন্ডিয়া) প্রতিষ্ঠা করেন এবং টাটা গ্রুপকে বিভিন্ন খাতে প্রসারিত করে দেশের শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
*** পদ্মশ্রী খ্যাত সুধা মূর্তি বিয়ে করেন পদ্মবিভূষণ ও পদ্মশ্রী খ্যাত এন.আর নারায়ণ মূর্তিকে (নাগাভার রামনাও নারায়ণ মূর্তি একজন ভারতীয় বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী। তিনি ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা) পুণেতে টেলকোতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত অবস্থায়। এই দম্পতির দুটি সন্তান আছে অক্ষতা মূর্তি এবং রোহন মূর্তি। তার মেয়ে অক্ষতা মূর্তি স্ট্যানফোর্ডের সহপাঠী ছিলেন, একজন ব্রিটিশ ভারতীয় এবং যিনি ঋষি সুনাককে বিয়ে করেছিলেন। অর্থাৎ এই অসাধারণ ভদ্র মহিলা ছিলেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এর শাশুড়ী।
ভারতের বৃহত্তম অটোমোবাইল কারখানা, টাটা প্রকৌশল ও লোকোমোটিভ কোম্পানি (টেলকো) -এ নিয়োগকৃত প্রথম মহিলা কর্মী ছিলেন সুধা মুর্তি। টাটা ইঞ্জিনিয়ারিং এবং চারী কোম্পানি (TELCO)। তিনি পুণেতে একজন ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কোম্পানির সাথে যোগ দেন এবং তারপর মুম্বাই ও জামশেদপুরেও কাজ করেন। টেলকোতে "শুধুমাত্র পুরুষদের"- এই শর্তের বিরুদ্ধে লিঙ্গ বৈষম্যের অভিযোগে তিনি কোম্পানির চেয়ারম্যানকে একটি পোস্টকার্ডে চিঠি লিখেছিলেন।ফলস্বরূপ, তাকে একটি বিশেষ ইন্টারভিউ-এর সুযোগ দেওয়া হয় এবং অবিলম্বে নিয়োগ করা হয়। পরে তিনি ওয়ালচাঁদ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র সিস্টেম বিশ্লেষক হিসাবে যোগ দেন।
১৯৯৬ সালে তিনি ইনফোসিস ফাউন্ডেশন শুরু করেন এবং আজ পর্যন্ত তিনি ইনফোসিস ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি এবং ব্যাঙ্গালোর বিশ্ববিদ্যালয়ের পিজি সেন্টারে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে রয়েছেন। তিনি ক্রাইস্ট ইউনিভার্সিটিতেও শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি অনেক বই লিখেছেন এবং প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে দুটি ভ্রমণকাহিনী, দুটি কারিগরি বই, ছয়টি উপন্যাস এবং তিনটি শিক্ষামূলক বই।
ফিকি লেডিস অর্গানাইজেশন (এফএলও) এর চেয়ারপার্সনের একটি প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে সুধা মুর্তি বলেন, তার স্বামী নারায়ণ মূর্তিকে ইনফোসিস শুরু করতে সহায়তা করার জন্য যখন তিনি টেলকো থেকে ইস্তফা দেন, তখন জে.আর.ডি.টাটার থেকে প্রাপ্ত পরামর্শটি তার জীবনকে বদলে দেয়। তিনি বলেছেন, "সর্বদা মনে রাখা উচিত, যে টাকার কোন মালিক হয় না এবং এটি সবসময় হাত ঘুরতে থাকে; যদি তুমি সফল হও, তাহলে কিছু অংশ সমাজকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করো, যে সমাজ তোমাকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছে"।