19/08/2026
প্রায় ৬/৭ মাস আগে ঈদের ছুটির আগমুহূর্তে শিশু ওয়ার্ডে রাউন্ড দিচ্ছি হঠাৎ ডিউটিরত নার্স জানালেন একটা বাচ্চার অবস্থা খুব খারাপ। যেয়ে দেখি চার মাস বয়সী শীর্ণকায় এক বাচ্চা তীব্র শ্বসকষ্ট হচ্ছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করে কেসটা নিয়ে স্টাডি করতে বসলাম।তখনো দেশে হাম নিয়ে এত হইচই শুরু হয় নি। বাচ্চার হাম পরবর্তী তীব্র নিউমোনিয়া সাথে দ্রুত ওজন কমার হিস্ট্রি পেলাম। এত খারাপ বাচ্চা উপজেলা হাসপাতালে রাখা সম্ভব নয় কিন্তু বাচ্চার বাবা-মা তাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার কথা জনালো। তারা রাজশাহী ও ঢাকার এক হাসপাতালে ভর্তি ছিলো এখন তাদের পক্ষে অন্য কোথাও নেয়া সম্ভব না। বাবা-মায়ের চোখে পানি এটাই প্রথম সন্তান। তাদের কথা- "স্যার আপনারা যেটা ভালো মনে করেন সেটাই করেন"। বাঁচবে না ধরে নিয়েই শুরু করলাম তার চিকিৎসা। আমার মনে আছে ঈদের ছুটির মধ্যে যে সকল ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড বয় ছিলো সবাই খুব আন্তরিকভাবে সেবা দিয়েছিল। ঈদের নামাজ পড়ে হাসপাতালে গেছিলাম শুধু বাচ্চাটাকে দেখতে। সিনিয়র চিকিৎসকরা অনেক সাহায্য করলো। ফোনে পরামর্শ করতাম কি করা যায়। আল্লাহর অশেষ রহমতে শিশু ইয়াছিন সুস্থ হয়ে উঠলো আস্তে আস্তে। তবে তার অপুষ্টিজনিত সমস্যা কাটতে ২-৩ মাস সময় লেগেছিল। ফলো-আপে আসলে আমাদের নার্স ইনচার্জ মিনা আপার সহায়তায় কিছু পুষ্টিকর দুধের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম হাসপাতাল থেকে। কোঁটচাদপুরের বাটিকাডাঙ্গা গ্রামের ছোট্ট ইয়াছিন আজ চেম্বারে এসছিলো। বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতাল নিয়ে হাজারো নেতিবাচক খবরের ভীড়ে ইয়াছিনের গল্পটা আমার জন্য আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। 😊🥰
ডা. তানভীর জামান প্রতীক মেডিকেল অফিসার । উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ।