30/01/2026
আজ আরবী ১৫'ই শা'বান, ০৪/০২/২৬ ইং, ২১/১০/১৪৩২ মাঘ,,
(১)শা'বান মাসের ফজিলত সম্পর্কে সহীহ হাদীসের আলোকে প্রিয় নবীজি (সাঃ) এর ভবিষ্যৎবাণী,,
(২)সহীহ হাদীসের আলোকে ১৫'ই শা'বানের, তাৎপর্য ও ফজিলত,
(১) ☘️ শাবান মাসের ফজিলত সম্পর্কে সহীহ হাদীস
♦️১/দলিল
عَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهُا قَالَتْ : مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ اسْتَكْمَلَ
صِيَامَ شَهْرٍ إِلَّا رَمَضَانَ وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ
(১১১৫) আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রমযান ছাড়া অন্য কোন মাস সম্পূর্ণ সিয়াম রাখতে দেখিনি। আর শা’বান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসের অধিকাংশ দিনগুলিতে তাঁকে সিয়াম রাখতে দেখিনি।
(মুসনাদে আহমাদ হাদীস -১১১৫, সহীহ বুখারী হাদীস -১৯৬৯, সহীহ মুসলিম হাদীস -২৭৭৭, সুনানুত-তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজাহ) হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
♦️২/ দলীল
عَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهُا قَالَتْ : لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَصُومُ مِنْ شَهْرٍ أَكْثَرَ مِنْ شَعْبَانَ فَإِنَّهُ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ وَفِيْ رِوَايَةٍ : كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ إِلاَّ قَلِيلاً متفقٌ عَلَيْهِ
তিনি বলেন, ‘নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শাবান মাস চাইতে বেশি নফল সিয়াম অন্য কোন মাসে রাখতেন না। নিঃসন্দেহে তিনি পূর্ণ শাবান মাস সিয়াম রাখতেন।’
অন্য বর্ণনায় আছে, ‘অল্প কিছুদিন ছাড়া তিনি পূর্ণ শাবান মাস সিয়াম রাখতেন।’ (সহীহ বুখারী হাদীস-১৯৭০, সহীহ মুসলিম হাদী -২৭৭৮ সুনান আন-নাসায়ী হাদীস-২৩৫৭)
♦️ ৩/দলিল
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَعْبَانَ إِلاَّ قَلِيلاً .
আমর ইবনু হিশাম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েক দিন ব্যতীত পূর্ণ শাবান মাসের সাওম পালন করতেন।
সুনান আন-নাসায়ী: ২৩৫৭
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
♦️৪/দলিল
أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَمْ أَرَكَ تَصُومُ شَهْرًا مِنَ الشُّهُورِ مَا تَصُومُ مِنْ شَعْبَانَ، قَالَ: «ذَلِكَ شَهْرٌ يَغْفُلُ النَّاسُ عَنْهُ بَيْنَ رَجَبٍ وَرَمَضَانَ، وَهُوَ شَهْرٌ تُرْفَعُ فِيهِ الْأَعْمَالُ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ، فَأُحِبُّ أَنْ يُرْفَعَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ»
২৩৫৯। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আপনাকে তো শা’বান মাসে যে পরিমাণ রোযা পালন করতে দেখি বছরের অন্য কোন মাসে সে পরিমাণ রোযা পালন করতে দেখি না। তিনি বললেন শা’বান মাস রজব এবং রমযানের মধ্যবর্তী এমন একটি মাস যে মাসের (গুরুত্ব সম্পর্কে) মানুষ খবর রাখে না অথচ এ মাসে আমলনামা সমূহ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকটে উত্তোলন করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, আমার আমলনামা আল্লাহ তাআলার নিকটে উত্তোলন করা হবে আমার রোযা পালনরত অবস্থায়।
সুনান আন-নাসায়ী: হাদীস -২৩৫৯
(মুসনাদে আহমাদ হাদীস -২১৭৫৩, সুনান আন-নাসায়ী হাদীস -২৩৫৭, সহীহ আত -তারগীব হাদীস-১০০৮, তামামুল মিন্নাহ হাদীস -৪১২পৃঃ)
হাদীসের মান: সহীহ (Sahih)
বর্ণনাকারী:হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি. (মৃত্যু: ৫৪ হিজরি)
(২) ☘️ অর্ধ: সাবানের ফজিলত সম্পর্কে সহি হাদিস
❣️৫/দলিল
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَطْلُعُ اللَّهُ إِلَى خَلْقِهِ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ»
অর্থ : হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শা’বানের রাতে (শা’বানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতিত সবাইকে ক্ষমা করে দেন।
-সহীহ ইবনে হিব্বান-১২/৪৮১, হাদীস-৫৬৬৫,সুনান ইবনে মাজাহ হাদীস ১৩৯০, কিতাবুস সুন্নাহ-১/২২৪, হাদীস-৫১২, আল ইহসান-৭/৪৭, মাওয়ারিদুয যমআন/-৪৮৬ পৃঃ, হাদীস-১৯৮০, মাজমাউ যাওয়াইদ-৮/৬৫, সিলসিলাতুস সহীহা-৩/১৩৫, হাদীস-১১৪৪, শোয়াবুল ঈমান-৩/৩৮২, হাদীস-৩৮৩৩, আল মু’জামুল কাবীর-২০/১০৮,১০৯, আততারগীব-২/২৪২ ইত্যাদি অসংখ্য কিতাব।
হাদীসটির মান:
হাদীসটি সম্পূর্ণ সহীহ
০১. ইমাম ইবনে হিব্বান (রহ.-৩৫৪) বলেন, হাদীসটি সহীহ। সহীহ ইবনে হিব্বান-১২/৪৮১, হাদীস-৫৬৬৫।
০২. শায়খ নাসীর উদ্দীন আলবানী (১৪২০) বলেন-
سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها (3/ حديث صحيح، روي عن جماعة من الصحابة من طرق مختلفة يشد بعضها بعضا وهم معاذ ابن جبل وأبو ثعلبة الخشني وعبد الله بن عمرو وأبي موسى الأشعري وأبي هريرة وأبي بكر الصديق وعوف ابن مالك وعائشة.
উক্ত হাদীসটি সহীহ, যা সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর এক বড় জামাত বর্ণনা করেছেন এবং একটি হাদীস অন্য হাদীস এর সনদকে আরো মজবুত করে তুলে। সাহাবীদের থেকে বর্ণনাকারীগন
০১/ হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)
০২/ আবূ সালাবা আল খাসানী (রা.)
০৩/ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর
০৪/ আবূ মূসা আল আশআরী (রা.)
০৫/ আবূ হুরায়রা (রা.)
০৬/ আবূ বকর সিদ্দীক (রা.)
০৭/ আউফ ইবনে মালেক (রা.)
০৮/ হযরত আয়েশা (রা.)
সিলসিলাতুস সহীহা-৩/১৩৫, হাদীস-১১৪৪।
০৩. আল্লামা মুনজেরী (রহ.-৬৫৬) বলেন উক্ত হাদীসটি সহীহ। আত তারগীব ওয়াত তারহীব-২/৭৩, হাদীস-১৫৪৬।
০৪. আল্লামা হায়সামী (রহ.-৮০৭) বলেন-
مجمع الزوائد ومنبع الفوائد (8/ 65)
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَالْأَوْسَطِ وَرِجَالُهُمَا ثِقَاتٌ.
উক্ত হাদীসটি ইমাম তাবরানী তার মুজামুল কাবীর ও আওসাতে সংকলন করেছেন, এবং সংকলিত হাদীস এর সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।
☘️প্রিয় পাঠকবৃন্দ আমরা এই রাতকে বাড়া-বাড়ি এবং
ছাড়া-ছাড়ির মাঝখানে রাখি,লাইলাতুন নিসফে সা'বানের ফযীলত নির্ভরযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। সম্মিলিত কোন রূপ না দিয়ে এবং এ রাত উদযাপনের বিশেষ কোন পন্থা উদ্ভাবন না করে শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী ইবাদত করা অন্যান্য দিনের মতো কিছু নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, করা যেতে পারে,,
সহীহ বুখারীর আরেক বর্ণনায় এসেছে
রাতের এক তৃতীয় অংশের শেষে আল্লাহ তায়ালা নিকটবর্তী আসমানে নেমে আসেন
♦️৬/দলিল
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الْآخِرُ يَقُولُ: مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ؟ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ؟ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ؟
وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: ثُمَّ يَبْسُطُ يَدَيْهِ وَيَقُولُ: «مَنْ يُقْرِضُ غَيْرَ عَدُومٍ وَلَا ظَلُومٍ؟ حَتَّى ينفجر الْفجْر»
ক্বিয়ামুল লায়ল-এর প্রতি উৎসাহ দান
১২২৩-[৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ প্রতি রাত্রে শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের মর্যাদাবান বারাকাতপূর্ণ রব দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, ’যে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দেব। যে আমার নিকট কিছু প্রার্থনা করবে আমি তাকে তা দান করব। যে আমার নিকট মাফ চাইবে আমি তাকে মাফ করে দেব।’ (সহীহ বুখারী হাদীস -১২২৩, মুসলিম)[1]
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, তারপর তিনি হাত বাড়িয়ে দেন এবং বলেন, কে আছে যে এমন সত্তাকে কর্য দেবে যিনি ফকীর নন, না অত্যাচারী এবং সকাল পর্যন্ত এ কথা বলতে
[1] সহীহ বুখারী হাদীস-১১৪৫, ৭৪৯৪, সহীহ মুসলিম হাদীস-১৮০৮, সুনান আরবাআহ, মিশকাতুল মাসাবীহ হাদীস-১২২৩। সুনানে আবু দাউদ: ৪৭৩৩; জামে' তিরমিযী: ৪৪৬; সুনানে ইবন মাজাহ : ১৩৬৬; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ৭৭২০; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ২১০৬; মুসনাদে আহমাদ: ৭৫০১; সহীহ ইবনে হিব্বান: ২১২; তাবারানী, আলা মু'জামুল কাবীর : ৪৫৫৭; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ৪৬৫২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
☘️আইয়ামে বীযের রোজার ফজিলত সম্পর্কে
♦️৭/ দলিল
عَنْ ابْنِ مِلْحَانَ الْقَيْسِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُنَا أَنْ نَصُومَ الْبِيضَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ، وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ، وَخَمْسَ عَشْرَةَ، قَالَ: وَقَالَ هُنَّ كَهَيْئَةِ
পরিচ্ছেদঃ ৬৯. প্রতি মাসে তিন সওম পালন
২৪৪৯। ইবনু মিলহান আল-কায়সী (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আইয়ামে বীয অর্থাৎ চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে সওম পালনে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এগুলো সারা বছর সওম রাখার সমতুল্য। (সহীহ বুখারী হাদীস -১৯৭৯, সহীহ মুসলিম হাদীস ২৭৯৩ [1] সহীহ মুসলিম ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৪২, ইসলামীক সেন্টার ১৫৪৯) , সুনানে হাদীস-আবূ দাঊদ ২৪৫১, সুনান আন-নাসায়ী হাদীস-২৪৪৯।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
♦️৮/ দলিল
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : أَوْصَانِي خَلِيلِي ﷺ بِثَلاَثٍ : صِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ
مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَكْعَتَي الضُّحَى وَأَنْ أُوتِرَ قَبْلَ أَنْ أنَامَ متفقٌ عَلَيْهِ
(১০৯৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি কাজের অসিয়ত করেছেন; প্রত্যেক মাসে তিনটি করে সিয়াম পালন করা। চাশতের দু’ রাকআত নামায আদায় করা এবং নিদ্রা যাবার পূর্বে বিতর নামায পড়া।
(বুখারী ১১৭৮, মুসলিম ১৭০৫) (মুসলিম ১৭০৮)
সুনান আত-তিরমিযী হাদীস ৭৬১,,সুনান আবূ-দাঊদ হাদীস ২৪৫১,সুনান আন-নাসাঈ হাদীস-২৩৪৫, (মুসনাদে-আহমাদ হাদীস-২৩০৭০ আ’রাবী থেকে,,মুসনাদে-বাযযার হাদীস -৬৮৮ আলী থেকে, সহীহ আত-তারগীব হাদীস -১০৩২)সুনান ইবনে মাজাহ ১৭০৮
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
♦️৯/ দলীল
وفيه يَقولُ أبو ذرٍّ الغِفاريُّ رَضِي اللهُ عَنه: "أمَرَنا رسولُ اللهِ صلَّى اللهُ علَيه وسلَّم أن نَصومَ مِن الشَّهرِ ثلاثةَ أيَّامِ البِيضِ: ثلاثَ عَشْرةَ، وأربعَ عشْرةَ، وخمسَ عشْرةَ" ، وفي روايةٍ عنه قال لي رسولُ اللهِ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم: إذا صُمتَ منَ الشهرِ ثلاثةَ أيامٍ ، فصُمْ ثلاثةَ عشَرَ وأربعةَ عشَرَ وخمسَةَ عشَرَ
আবু যর আল-গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—” “রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রতি মাসে তিনটি ‘আইয়ামে বীয’ রোজা রাখতে—যথা তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখ।”
(আইয়ামে বীয বলতে হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ বোঝায়, যখন চাঁদ পূর্ণ থাকে 🌕)
আর তাঁর থেকে বর্ণিত আরেকটি বর্ণনায় এসেছে—রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বলেছেন:
তুমি যদি মাসে তিন দিন রোজা রাখো, তবে তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখে রোজা রাখো।”
হাদিস বিশারদের সারসংক্ষেপমূলক সিদ্ধান্ত:
আবু যুর‘আ (রহ.) এর সূত্রে এটিকে মওকূফ হিসেবে সহিহ বলেছেন।
হাফেজুল হাদীস শায়েখ ইবনে হাজর আল-আসকালানি (রহ.)
গ্রন্থ: আত-তালখীসুল হাবীর হাদীস -২/৮২০
সুনানুত-তিরমীজি হাদিস-৭৬১,সুনানু আন-নাসায়ী হাদীস -২৪২২, মুসনাদে আহমদ হাদীস -২১৫৩৭ সামান্য পার্থক্যসহ বর্ণনা করেছেন।
আর এই বর্ণনাটি দাইলামি তাঁর আল-ফিরদাউস গ্রন্থে (হাদীস- ৮৩৭১) উল্লেখ করেছেন।
🖋️কলামঃ
মুফতি শামসুল আরেফিন