Mufti Shamsul Arefin Shahin

Mufti Shamsul Arefin Shahin আসসালামু আলাইকুম🌿
তাফসিরুল কোরআন ও ওয়াজ মাহফিল এর জন্য,
অগ্রিম বুকিং 📞01915-899608 / 01994-035724 🚀

18/03/2026

❣️তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম,,,
* দেশ এবং দেশের বাইরে, সর্বস্তরের জনগণ, সকল কে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের অগ্রিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন,
🥀ঈদ মোবারক 🥀

এখন প্রশ্ন তারাবির নামাজ ৮ নাকি ২০ রাকাত, এই ব্যাপারে যদি আমরা ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসের কিতাব থেকে দেখি সেখান...
14/02/2026

এখন প্রশ্ন তারাবির নামাজ ৮ নাকি ২০ রাকাত, এই ব্যাপারে যদি আমরা ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসের কিতাব থেকে দেখি সেখানে স্পষ্টভাবে তিনি দুইটা মত বর্ণনা করেছেন প্রথমটা বিতিরসহ ৪১ রা'কাতের কথা বলেছেন আর দ্বিতীয় মতটি ২০ রা'কাতের কথা বলেছেন, সুতরাং ৮ রা'কাতের কোন কথাই নেই ,,

قال الإمام الترمذي رحمه الله في سننه(٣/١٦٩)
وَاخْتَلَفَ أَهْلُ العِلْمِ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ ، فَرَأَى بَعْضُهُمْ : أَنْ يُصَلِّيَ إِحْدَى وَأَرْبَعِينَ رَكْعَةً مَعَ الوِتْرِ، وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ المَدِينَةِ ، وَالعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَهُمْ بِالمَدِينَةِ، وَأَكْثَرُ أَهْلِ العِلْمِ عَلَى مَا رُوِيَ عَنْ عُمَرَ، وَعَلِيٍّ، وَغَيْرِهِمَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِشْرِينَ رَكْعَةً ، وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ، وَابْنِ المُبَارَكِ، وَالشَّافِعِيِّ ، وقَالَ الشَّافِعِيُّ : «وَهَكَذَا أَدْرَكْتُ بِبَلَدِنَا بِمَكَّةَ يُصَلُّونَ عِشْرِينَ رَكْعَةً»
ইমাম তিরমিযী (রহঃ) তাঁর সুনান গ্রন্থে (খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৬৯) বলেন:
“রমযানের কিয়াম (তারাবীহ নামাজ) বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মত দিয়েছেন যে, বিতরসহ একচল্লিশ (৪১) রা'কাআত নামাজ আদায় করেছেন। এটি মদীনাবাসীদের মত, এবং মদীনায় তাদের মধ্যে এভাবেই আমল চলে আসছে।
আর অধিকাংশ আলেমের মত হলো—উমর (রাঃ), আলী (রাঃ) এবং নবী ﷺ–এর অন্যান্য সাহাবীদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তার ভিত্তিতে বিশ (২০) রাকাআত নামাজ আদায় করেছেন। এটিই সুফিয়ান সাওরী, আবদুল্লাহ ইবন মুবারক ও ইমাম শাফেয়ী (রহঃ)-এর মত।
ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) আরও বলেন: ‘আমি আমাদের শহর মক্কায় এভাবেই (২০ রাকাআত) নামাজ আদায় করতে দেখেছি।’”

আর যারা তারাবির নামাজকে ৮ রাকাত বলে দাবি করেন তা তারাবির নামাজ নয় সেটা রাসূলুল্লাহ ( সা.) ১২ মাস পড়তেন,
আর এই নামাযকে ফুকাহায়ে-কেরাম ও মুহাদ্দিসিনগন তাহাজ্জুদ নামায বলেছেন, আর ইসলামের স্বীকৃত চার মাযহাবের কোন মাযহাব ৮ রাকাত গ্রহণ করেননি সবাই ২০ রাকাত প্রাধান্য দিয়েছেন, তবে ইমাম মালিক (রাঃ) বিতিরসহ ৪১ রা'কাত পছন্দ করতেন,,

☘️তাহলে এখন প্রশ্ন তারাবিহ ও তাহাজ্জুদ কি একই নামায,
♦️(١) তারাবীহ তাহাজ্জুদ এক নামায দাবিটি কতটুকু দলীল সম্মত,,

তারাবীহ তাহাজ্জুদকে এক নামায বলা মুর্খতা ছাড়া আর কিছু নয়। তারাবী ও তাহাজ্জুদ সম্পূর্ণই ভিন্ন দু’টি নামায। আমরা পরিস্কার কিছু পার্থক্য তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ বিষয়ে নিম্নে উপস্থাপন করছি।
১-দু’টির শরয়ী উৎস আলাদা!
তাহাজ্জুদ নামায কুরআন দ্বারা প্রমাণিত। যথা পবিত্র কুরআনের আয়াত-
وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ عَسَىٰ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا [١٧:٧٩]
রাত্রির কিছু অংশ কোরআন পাঠসহ জাগ্রত থাকুন। এটা আপনার জন্যে অতিরিক্ত। হয়ত বা আপনার পালনকর্তা আপনাকে মোকামে মাহমুদে পৌঁছাবেন। {আলইসরা-৭৯}

আর তারাবী নামায রাসূল সাঃ এর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন-

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-
شَهْرٌ كَتَبَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ، وَسَنَنْتُ لَكُمْ قِيَامَهُ،
এটি এমন মাস যাতে আল্লাহ তা'য়ালা তোমাদের জন্য রোযাকে ফরজ করেছেন, আর আমি তোমাদের জন্য এর রাতের নামাযকে সুন্নত করেছি। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৩২৮, সুনানে নাসায়ী, হাদীসস নং-২২১০}

সুতরাং দু’টি এক নামায হয় কি করে?

২-মাশরূ তথা শরীয়ত সিদ্ধান্ত ইবাদত হবার স্থানও আলাদা!
তাহাজ্জুদ মক্কায় থাকা অবস্থায় শরীয়ত সিদ্ধান্ত ইবাদত সাব্যস্ত হয়, আর তারাবী মাশরূ হয় মদীনায়।
তাহলে এক কিভাবে হল?

♦️(٢) ১১ রা'কাতের বর্ণনা উল্লেখ করা হলো

عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللهِ فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ قَالَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي

২০১৩. আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করেন যে, রমাযানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত কিরূপ ছিল? তিনি বললেন, রমাযান মাসে ও রমাযানে ব্যতীত অন্য সময়ে (রাতে) তিনি এগার রাক‘আত হতে বৃদ্ধি করতেন না।[1] তিনি চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি চার রাক‘আত পড়েন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। এরপর তিন রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। আমি [‘আয়িশাহ (রাযি.)] বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বিতর আদায়ের আগে ঘুমিয়ে যাবেন? তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ্! আমার দু’চোখ ঘুমায় বটে কিন্তু আমার কালব নিদ্রাভিভূত হয় না। (১১৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৮৩)

১-দুই নামাযের স্হান ও সময় কাল আলাদা তাহাজ্জুদ মাশরূ হয় হিজরতের আগে। আর তারাবী হয় হিজরতের পরে
২-হাদীসের আলোচ্য বিষয় হল রমজান ও গায়রে রমজান তথা সারা বছরে পড়া রাতের নামায তাহাজ্জুদ বিষয়ের।
৩-আর তারাবিহ সারা বছর পড়া হয়না শুধু রমজান মাসে পড়া হয়।
৪-যে নামায রাসূল সাঃ চার রাকাত করে পড়তেন।
৫-আট রাকাত পড়তেন সারা বছর।
৬-শেষে এসে রাসূল সাঃ তিন রাকাত বিতর পড়তেন।
৭-রাসুল্লাহ (সাঃ) এর জামাতের সাথে পড়া তারাবির নামাজ সম্পর্কে সহিহ হাদিসে রাকাত সংখ্যা উল্লেখ নেই
৮- তাহাজ্জুদ সারা বছর যে নামাজ পড়তেন (রমজান এবং রমজানের বাহিরে) সেখানে রাকাত সংখ্যা উল্লেখ আছে বিতিরসহ ১১ রাকাত
৯- তাহাজ্জুদ নামাজের নির্দিষ্ট রাখার সংখ্যা নেই এক হাদীসের এক বর্ণনায় বিতিরসহ ১১ রাকাত ,,
আরেক বর্ণনায় বিতিরসহ ১৩ রাকাত উল্লেখ করা হলো,
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِاللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً ثُمَّ يُصَلِّي إِذَا سَمِعَ النِّدَاءَ بِالصُّبْحِ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ.

১১৭০. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, অতঃপর সকালে আযান শোনার পর সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। (৬২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১০১)

১০- আরেক বর্ণনায় বিতির ছাড়া ১২ রাকাত পড়েছেন পরে বিতির পড়েছেন

ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ أَوْتَرَ، ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى جَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ، خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ‏.‏
৯৯২:অতঃপর তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দু’ রাক‘আত, অতঃপর দু‘ রাকা’আত, অতঃপর দু‘ রাক‘আত, অতঃপর দু‘ রাক‘আত, অতঃপর দু’ রাক‘আত। অতঃপর বিতর আদায় করলেন। অতঃপর তিনি শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুআয্যিন তাঁর নিকট এলো। তখন তিনি দাঁড়িযে দু‘ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বের হয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। (১১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৩৮)

✅ পূর্ণ বর্ণনাটা উল্লেখ করা হলো
أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، بَاتَ عِنْدَ مَيْمُونَةَ، وَهْىَ خَالَتُهُ، فَاضْطَجَعْتُ فِي عَرْضِ وِسَادَةٍ، وَاضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَهْلُهُ فِي طُولِهَا، فَنَامَ حَتَّى انْتَصَفَ اللَّيْلُ أَوْ قَرِيبًا مِنْهُ، فَاسْتَيْقَظَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ، ثُمَّ قَرَأَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ آلِ عِمْرَانَ، ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ، فَتَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي فَصَنَعْتُ مِثْلَهُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ، فَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رَأْسِي، وَأَخَذَ بِأُذُنِي يَفْتِلُهَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ أَوْتَرَ، ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى جَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ، خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ‏.‏

৯৯২. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর খালা উম্মুল মু‘মিনীন মাইমূনাহ (রাযি.)-এর ঘরে রাত কাটান। (তিনি বলেন) আমি বালিশের প্রস্থের দিক দিয়ে শয়ন করলাম এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবার সেটির দৈর্ঘ্যের দিক দিয়ে শয়ন করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের অর্ধেক বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত ঘুমালেন। অতঃপর তিনি জাগ্রত হলেন এবং চেহারা হতে ঘুমের রেশ দূর করলেন। পরে তিনি সূরাহ্ আলু-ইমরানের (শেষ) দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঝুলন্ত মশ্কের নিকট গেলেন এবং উত্তমরূপে উযূ করলেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। আমিও তাঁর মতই করলাম এবং তাঁর পাশেই দাঁড়ালাম। তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার কান ধরলেন। অতঃপর তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দু’ রাক‘আত, অতঃপর দু‘ রাকা’আত, অতঃপর দু‘ রাক‘আত, অতঃপর দু‘ রাক‘আত, অতঃপর দু’ রাক‘আত। অতঃপর বিতর আদায় করলেন। অতঃপর তিনি শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুআয্যিন তাঁর নিকট এলো। তখন তিনি দাঁড়িযে দু‘ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বের হয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। (১১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৩৮)

♦️(٣) তারাবীর পর তাহাজ্জুদ পড়তে হযরত উমর রাঃ এর উৎসাহ প্রদান

হযরত উমর রাঃ যখন হযরত উবাই বিন কাব রাঃ কে তারাবীহ নামাযের ইমাম নিযুক্ত করলেন, তখন তিনি রাতের শুরুভাগে ইশার পর তারাবী পড়াতেন। তখন হযরত উমর রাঃ তারাবী ছাড়া তাহাজ্জুদ পড়ার উৎসাহ প্রদান করে বলেন,-

وَالَّتِي تَنَامُونَ عَنْهَا أَفْضَلُ مِنَ الَّتِي تَقُومُونَ. يَعْنِي آخِرَ اللَّيْلِ. وَكَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ أَوَّلَهُ.

যে নামায থেকে তোমরা ঘুমিয়ে যাও [তাহাজ্জুদ]যা তোমরা আদায় করতে শেষ রাতে, সেটি এ নামায থেকে উত্তম যা তোমরা আদায় করছো।তথা তারাবীহ। আর লোকজন প্রথম রাতে তারাবীহ পড়তো। {মুয়াত্তা মালিক-৩৭৮, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১১০০}

স্বয়ং হযরত ইমাম বুখারীও তারাবী ও তাহাজ্জুদ আলাদা পড়তেন,

كَانَ مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ يجْتَمع إِلَيْهِ أَصْحَابه فيصلى بهم وَيقْرَأ فِي كل رَكْعَة عشْرين آيَة وَكَذَلِكَ إِلَى أَن يخْتم الْقُرْآن وَكَانَ يقْرَأ فِي السحر مَا بَين النّصْف إِلَى الثُّلُث من الْقُرْآن فيختم عِنْد السحر فِي كل ثَلَاث لَيَال

মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী রহঃ যখন রমজানের প্রথম রাত আসতো তখন তার সাথীরা তার কাছে একত্র হয়ে যেতো। তারপর তিনি তাদের নিয়ে [তারাবী]নামায পড়তেন। আর প্রতি রাকাতে তিনি বিশ আয়াত তিলাওয়াত করতেন। আর এভাবে তিনি খতম করতেন। আর যখন সেহরীর সময় হতো, তখন তিনি অর্ধেক থেকে কুরআনের এক তৃতিয়াংশ তিলাওয়াত করতেন। এভাবে সেহরীতে তিন দিনে খতম করতেন। {হাদয়ুস সারী মুকাদ্দিমা ফাতহুল বারী-৬৬}

ইমাম বুখারী রহঃ। যিনি নিজে হযরত আয়শা রাঃ এর এগার রাকাত ওয়ালা হাদীস তার কিতাবে এনেছেন।

কিন্তু মজার ব্যাপার হল আমাদের দেশের লা-মাযহাবীদের মত উক্ত হাদীস দ্বারা ইমাম বুখারী নিজেই তারাবী তাহাজ্জুদ এক নামায বুঝতে পারেননি। তাই তিনি শুরু রাতে তারাবী আবার শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়তেন।

আজ আরবী ১৫'ই শা'বান, ০৪/০২/২৬ ইং, ২১/১০/১৪৩২ মাঘ,,(১)শা'বান মাসের ফজিলত সম্পর্কে সহীহ হাদীসের আলোকে প্রিয় নবীজি (সাঃ) এ...
30/01/2026

আজ আরবী ১৫'ই শা'বান, ০৪/০২/২৬ ইং, ২১/১০/১৪৩২ মাঘ,,
(১)শা'বান মাসের ফজিলত সম্পর্কে সহীহ হাদীসের আলোকে প্রিয় নবীজি (সাঃ) এর ভবিষ্যৎবাণী,,

(২)সহীহ হাদীসের আলোকে ১৫'ই শা'বানের, তাৎপর্য ও ফজিলত,

(১) ☘️ শাবান মাসের ফজিলত সম্পর্কে সহীহ হাদীস
♦️১/দলিল
عَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهُا قَالَتْ : مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ اسْتَكْمَلَ
صِيَامَ شَهْرٍ إِلَّا رَمَضَانَ وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ

(১১১৫) আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রমযান ছাড়া অন্য কোন মাস সম্পূর্ণ সিয়াম রাখতে দেখিনি। আর শা’বান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসের অধিকাংশ দিনগুলিতে তাঁকে সিয়াম রাখতে দেখিনি।
(মুসনাদে আহমাদ হাদীস -১১১৫, সহীহ বুখারী হাদীস -১৯৬৯, সহীহ মুসলিম হাদীস -২৭৭৭, সুনানুত-তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজাহ) হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

♦️২/ দলীল
عَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهُا قَالَتْ : لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَصُومُ مِنْ شَهْرٍ أَكْثَرَ مِنْ شَعْبَانَ فَإِنَّهُ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ وَفِيْ رِوَايَةٍ : كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ إِلاَّ قَلِيلاً متفقٌ عَلَيْهِ

তিনি বলেন, ‘নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শাবান মাস চাইতে বেশি নফল সিয়াম অন্য কোন মাসে রাখতেন না। নিঃসন্দেহে তিনি পূর্ণ শাবান মাস সিয়াম রাখতেন।’
অন্য বর্ণনায় আছে, ‘অল্প কিছুদিন ছাড়া তিনি পূর্ণ শাবান মাস সিয়াম রাখতেন।’ (সহীহ বুখারী হাদীস-১৯৭০, সহীহ মুসলিম হাদী -২৭৭৮ সুনান আন-নাসায়ী হাদীস-২৩৫৭)

♦️ ৩/দলিল
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَعْبَانَ إِلاَّ قَلِيلاً ‏.‏

আমর ইবনু হিশাম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েক দিন ব্যতীত পূর্ণ শাবান মাসের সাওম পালন করতেন।
সুনান আন-নাসায়ী: ২৩৫৭
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

♦️৪/দলিল
أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَمْ أَرَكَ تَصُومُ شَهْرًا مِنَ الشُّهُورِ مَا تَصُومُ مِنْ شَعْبَانَ، قَالَ: «ذَلِكَ شَهْرٌ يَغْفُلُ النَّاسُ عَنْهُ بَيْنَ رَجَبٍ وَرَمَضَانَ، وَهُوَ شَهْرٌ تُرْفَعُ فِيهِ الْأَعْمَالُ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ، فَأُحِبُّ أَنْ يُرْفَعَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ»
২৩৫৯। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আপনাকে তো শা’বান মাসে যে পরিমাণ রোযা পালন করতে দেখি বছরের অন্য কোন মাসে সে পরিমাণ রোযা পালন করতে দেখি না। তিনি বললেন শা’বান মাস রজব এবং রমযানের মধ্যবর্তী এমন একটি মাস যে মাসের (গুরুত্ব সম্পর্কে) মানুষ খবর রাখে না অথচ এ মাসে আমলনামা সমূহ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকটে উত্তোলন করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, আমার আমলনামা আল্লাহ তাআলার নিকটে উত্তোলন করা হবে আমার রোযা পালনরত অবস্থায়।
সুনান আন-নাসায়ী: হাদীস -২৩৫৯
(মুসনাদে আহমাদ হাদীস -২১৭৫৩, সুনান আন-নাসায়ী হাদীস -২৩৫৭, সহীহ আত -তারগীব হাদীস-১০০৮, তামামুল মিন্নাহ হাদীস -৪১২পৃঃ)
হাদীসের মান: সহীহ (Sahih)
বর্ণনাকারী:হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি. (মৃত্যু: ৫৪ হিজরি)

(২) ☘️ অর্ধ: সাবানের ফজিলত সম্পর্কে সহি হাদিস

❣️৫/দলিল
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَطْلُعُ اللَّهُ إِلَى خَلْقِهِ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ»
অর্থ : হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শা’বানের রাতে (শা’বানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতিত সবাইকে ক্ষমা করে দেন।

-সহীহ ইবনে হিব্বান-১২/৪৮১, হাদীস-৫৬৬৫,সুনান ইবনে মাজাহ হাদীস ১৩৯০, কিতাবুস সুন্নাহ-১/২২৪, হাদীস-৫১২, আল ইহসান-৭/৪৭, মাওয়ারিদুয যমআন/-৪৮৬ পৃঃ, হাদীস-১৯৮০, মাজমাউ যাওয়াইদ-৮/৬৫, সিলসিলাতুস সহীহা-৩/১৩৫, হাদীস-১১৪৪, শোয়াবুল ঈমান-৩/৩৮২, হাদীস-৩৮৩৩, আল মু’জামুল কাবীর-২০/১০৮,১০৯, আততারগীব-২/২৪২ ইত্যাদি অসংখ্য কিতাব।
হাদীসটির মান:

হাদীসটি সম্পূর্ণ সহীহ
০১. ইমাম ইবনে হিব্বান (রহ.-৩৫৪) বলেন, হাদীসটি সহীহ। সহীহ ইবনে হিব্বান-১২/৪৮১, হাদীস-৫৬৬৫।

০২. শায়খ নাসীর উদ্দীন আলবানী (১৪২০) বলেন-

سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها (3/ حديث صحيح، روي عن جماعة من الصحابة من طرق مختلفة يشد بعضها بعضا وهم معاذ ابن جبل وأبو ثعلبة الخشني وعبد الله بن عمرو وأبي موسى الأشعري وأبي هريرة وأبي بكر الصديق وعوف ابن مالك وعائشة.

উক্ত হাদীসটি সহীহ, যা সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর এক বড় জামাত বর্ণনা করেছেন এবং একটি হাদীস অন্য হাদীস এর সনদকে আরো মজবুত করে তুলে। সাহাবীদের থেকে বর্ণনাকারীগন

০১/ হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)
০২/ আবূ সালাবা আল খাসানী (রা.)
০৩/ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর
০৪/ আবূ মূসা আল আশআরী (রা.)
০৫/ আবূ হুরায়রা (রা.)
০৬/ আবূ বকর সিদ্দীক (রা.)
০৭/ আউফ ইবনে মালেক (রা.)
০৮/ হযরত আয়েশা (রা.)

সিলসিলাতুস সহীহা-৩/১৩৫, হাদীস-১১৪৪।

০৩. আল্লামা মুনজেরী (রহ.-৬৫৬) বলেন উক্ত হাদীসটি সহীহ। আত তারগীব ওয়াত তারহীব-২/৭৩, হাদীস-১৫৪৬।

০৪. আল্লামা হায়সামী (রহ.-৮০৭) বলেন-
مجمع الزوائد ومنبع الفوائد (8/ 65)
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَالْأَوْسَطِ وَرِجَالُهُمَا ثِقَاتٌ.
উক্ত হাদীসটি ইমাম তাবরানী তার মুজামুল কাবীর ও আওসাতে সংকলন করেছেন, এবং সংকলিত হাদীস এর সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।

☘️প্রিয় পাঠকবৃন্দ আমরা এই রাতকে বাড়া-বাড়ি এবং
ছাড়া-ছাড়ির মাঝখানে রাখি,লাইলাতুন নিসফে সা'বানের ফযীলত নির্ভরযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। সম্মিলিত কোন রূপ না দিয়ে এবং এ রাত উদযাপনের বিশেষ কোন পন্থা উদ্ভাবন না করে শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী ইবাদত করা অন্যান্য দিনের মতো কিছু নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, করা যেতে পারে,,

সহীহ বুখারীর আরেক বর্ণনায় এসেছে
রাতের এক তৃতীয় অংশের শেষে আল্লাহ তায়ালা নিকটবর্তী আসমানে নেমে আসেন

♦️৬/দলিল
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الْآخِرُ يَقُولُ: مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ؟ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ؟ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ؟
وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: ثُمَّ يَبْسُطُ يَدَيْهِ وَيَقُولُ: «مَنْ يُقْرِضُ غَيْرَ عَدُومٍ وَلَا ظَلُومٍ؟ حَتَّى ينفجر الْفجْر»
ক্বিয়ামুল লায়ল-এর প্রতি উৎসাহ দান

১২২৩-[৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ প্রতি রাত্রে শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের মর্যাদাবান বারাকাতপূর্ণ রব দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, ’যে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দেব। যে আমার নিকট কিছু প্রার্থনা করবে আমি তাকে তা দান করব। যে আমার নিকট মাফ চাইবে আমি তাকে মাফ করে দেব।’ (সহীহ বুখারী হাদীস -১২২৩, মুসলিম)[1]
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, তারপর তিনি হাত বাড়িয়ে দেন এবং বলেন, কে আছে যে এমন সত্তাকে কর্য দেবে যিনি ফকীর নন, না অত্যাচারী এবং সকাল পর্যন্ত এ কথা বলতে

[1] সহীহ বুখারী হাদীস-১১৪৫, ৭৪৯৪, সহীহ মুসলিম হাদীস-১৮০৮, সুনান আরবাআহ, মিশকাতুল মাসাবীহ হাদীস-১২২৩। সুনানে আবু দাউদ: ৪৭৩৩; জামে' তিরমিযী: ৪৪৬; সুনানে ইবন মাজাহ : ১৩৬৬; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ৭৭২০; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ২১০৬; মুসনাদে আহমাদ: ৭৫০১; সহীহ ইবনে হিব্বান: ২১২; তাবারানী, আলা মু'জামুল কাবীর : ৪৫৫৭; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ৪৬৫২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

☘️আইয়ামে বীযের রোজার ফজিলত সম্পর্কে

♦️৭/ দলিল
عَنْ ابْنِ مِلْحَانَ الْقَيْسِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُنَا أَنْ نَصُومَ الْبِيضَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ، وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ، وَخَمْسَ عَشْرَةَ، قَالَ: وَقَالَ هُنَّ كَهَيْئَةِ

পরিচ্ছেদঃ ৬৯. প্রতি মাসে তিন সওম পালন
২৪৪৯। ইবনু মিলহান আল-কায়সী (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আইয়ামে বীয অর্থাৎ চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে সওম পালনে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এগুলো সারা বছর সওম রাখার সমতুল্য। (সহীহ বুখারী হাদীস -১৯৭৯, সহীহ মুসলিম হাদীস ২৭৯৩ [1] সহীহ মুসলিম ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৫৪২, ইসলামীক সেন্টার ১৫৪৯) , সুনানে হাদীস-আবূ দাঊদ ২৪৫১, সুনান আন-নাসায়ী হাদীস-২৪৪৯।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

♦️৮/ দলিল
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : أَوْصَانِي خَلِيلِي ﷺ بِثَلاَثٍ : صِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ
مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَكْعَتَي الضُّحَى وَأَنْ أُوتِرَ قَبْلَ أَنْ أنَامَ متفقٌ عَلَيْهِ

(১০৯৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি কাজের অসিয়ত করেছেন; প্রত্যেক মাসে তিনটি করে সিয়াম পালন করা। চাশতের দু’ রাকআত নামায আদায় করা এবং নিদ্রা যাবার পূর্বে বিতর নামায পড়া।

(বুখারী ১১৭৮, মুসলিম ১৭০৫) (মুসলিম ১৭০৮)
সুনান আত-তিরমিযী হাদীস ৭৬১,,সুনান আবূ-দাঊদ হাদীস ২৪৫১,সুনান আন-নাসাঈ হাদীস-২৩৪৫, (মুসনাদে-আহমাদ হাদীস-২৩০৭০ আ’রাবী থেকে,,মুসনাদে-বাযযার হাদীস -৬৮৮ আলী থেকে, সহীহ আত-তারগীব হাদীস -১০৩২)সুনান ইবনে মাজাহ ১৭০৮
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

♦️৯/ দলীল
وفيه يَقولُ أبو ذرٍّ الغِفاريُّ رَضِي اللهُ عَنه: "أمَرَنا رسولُ اللهِ صلَّى اللهُ علَيه وسلَّم أن نَصومَ مِن الشَّهرِ ثلاثةَ أيَّامِ البِيضِ: ثلاثَ عَشْرةَ، وأربعَ عشْرةَ، وخمسَ عشْرةَ" ، وفي روايةٍ عنه قال لي رسولُ اللهِ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم: إذا صُمتَ منَ الشهرِ ثلاثةَ أيامٍ ، فصُمْ ثلاثةَ عشَرَ وأربعةَ عشَرَ وخمسَةَ عشَرَ

আবু যর আল-গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—” “রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রতি মাসে তিনটি ‘আইয়ামে বীয’ রোজা রাখতে—যথা তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখ।”
(আইয়ামে বীয বলতে হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ বোঝায়, যখন চাঁদ পূর্ণ থাকে 🌕)
আর তাঁর থেকে বর্ণিত আরেকটি বর্ণনায় এসেছে—রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বলেছেন:
তুমি যদি মাসে তিন দিন রোজা রাখো, তবে তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখে রোজা রাখো।”

হাদিস বিশারদের সারসংক্ষেপমূলক সিদ্ধান্ত:
আবু যুর‘আ (রহ.) এর সূত্রে এটিকে মওকূফ হিসেবে সহিহ বলেছেন।
হাফেজুল হাদীস শায়েখ ইবনে হাজর আল-আসকালানি (রহ.)
গ্রন্থ: আত-তালখীসুল হাবীর হাদীস -২/৮২০

সুনানুত-তিরমীজি হাদিস-৭৬১,সুনানু আন-নাসায়ী হাদীস -২৪২২, মুসনাদে আহমদ হাদীস -২১৫৩৭ সামান্য পার্থক্যসহ বর্ণনা করেছেন।
আর এই বর্ণনাটি দাইলামি তাঁর আল-ফিরদাউস গ্রন্থে (হাদীস- ৮৩৭১) উল্লেখ করেছেন।

🖋️কলামঃ
মুফতি শামসুল আরেফিন

আলহামদুলিল্লাহ গতকাল ১৪/১২/২৫ ইং হাসাদাহ, তান্নিবাসের দোয়া মাহফিল সুন্দর ভাবে সমাপ্ত হয়েছে,,
15/12/2025

আলহামদুলিল্লাহ গতকাল ১৪/১২/২৫ ইং হাসাদাহ, তান্নিবাসের দোয়া মাহফিল সুন্দর ভাবে সমাপ্ত হয়েছে,,

11/12/2025

🖋️ডক্টর মিজানুর রহমান আযহারী সাহেবের গাওয়া একটি সংগীত নিজের কন্ঠে গাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম।☎️যোগাযোগঃ ০১৯৯৪-০৩৫৭২৪
✅ তাফসিরুল কোরআন মাহফিল -২০২৫
💠 মুফতি শামসুল আরেফিন (চুয়াডাঙ্গা)।

10/12/2025

🖋️পৃথিবীর হাজারো কাজের ভিড়ে একামতে দ্বীনের এই কাজ যেন আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হয়!
✅ তাফসিরুল কোরআন মাহফিল -২০২৫
💠 মুফতি শামসুল আরেফিন (চুয়াডাঙ্গা)।
☎️যোগাযোগঃ ০১৯৯৪-০৩৫৭২৪

07/12/2025

আত্মা সম্পর্কে গবেষণা মুফতি শামসুল আরেফিন চুয়াডাঙ্গা

24/11/2025

আলোচনার শুরুতে গাওয়া একটি ইসলামী সংগীত,,,

02/09/2025

আজান নিয়ে ব্যাঙ্গকারীদের কঠিন ধোলাই,,
মুফতি শামসুল আরেফিন চুয়াডাঙ্গা

02/09/2025

এই সমাজে অনেক সুশীল ব্যক্তি বর্গ আছে, যারা তাদের বাবা-মায়ের জানাজর নামাজ পাড়াতেও পারে না এবং নিজে ইমামের সঠিক ভাবে পড়তেও পারে না , এবং অনেক সন্তান বাবা-মায়ের উপর রাগ করে বাড়িতেও আসে না,,,

28/08/2025

বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা: মুফতি শামসুল আরেফিন চুয়াডাঙ্গা ,,

Address

জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা/জেলা
Jhenida
7330

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mufti Shamsul Arefin Shahin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category