01/04/2013
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে, গুলি করে ও বোমা মেরে হত্যা প্রতিবাদে পুলিশ ক্যাম্প ঘেরাও, সড়ক অবরোধ, আহত ১৫ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রউফকে (৫০) সোমবার প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে, গুলি করে ও বোমা মেরে হত্যা করা হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। তারা স্থানীয় বারোবাজারে দু’গ্র“পে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় ব্যাপক বোমাবাজি ও ইট-পাটকেলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বারোবাজার এলাকা। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৫-৩০ রাউন্ড শর্টগান ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। নিহত আব্দুর রউফ কালীগঞ্জ উপজেলার টিকদাঙ্গা গ্রামের রইচ উদ্দিনের ছেলে। নিহতের ছেলে জাহিদ হোসেন জানান, তার পিতা আব্দুর রউফ সোমবার দুপুরের দিকে মোটর সাইকেলযোগে নিজেদের ইটভাটায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বারোবাজার বাসস্ট্যান্ডে পাশে আসলে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাকে কুপিয়ে, গুলি করে ও বোমা মেরে ফেলে রেখে যায়। তাকে উদ্ধার করে যশোর আড়াইশ’ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করার পর তিনি মারা যান। তিনি আরো জানান, তারা পিতার কোন শত্র“ ছিল না। তিনি আওয়ামী লীগের নিবেদিত কর্মী ছিলেন। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তার দলীয় প্রতিপক্ষ গ্র“পের লোকজন এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিয়াকত হোসেন ও এলাকাবাসী জানান, কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগরে মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্ব চলে আসছে। এদের এক গ্র“পের নেতৃত্ব দেন কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান এমপি ও অপর গ্র“পের নেতৃত্ব দেন কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আজিম আনার। এই দুই নেতার দ্বন্দ্বে সমগ্র উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে রয়েছে। এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে সোমবার দুপুরে প্রতিপক্ষ গ্র“পের লোকজন আওয়ামী লীগনেতা আব্ুর রউফকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগের দু’গ্র“পের মধ্যে নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনতা বারবাজার হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ঘোরা ও সড়ক অবরোধ করে। কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগরে সভাপতি আব্দুল মান্নান এমপি জানান, বারোবাজার ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল হোসেন ভিজিএফ কার্ডের চাল দেওয়াকে কেন্দ্র করে আব্দুর রউফের সাথে তার তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আব্দুর রউফ নিহত হয়। তারা দু’জনই স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা বলে তিনি জনাান। কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগরে সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আজিম আনার জানান, নিহত আব্দুর রউফ বারোবাজার ইউপি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিরক সম্পাদক। সে আমার গ্র“পের লোক। আব্দুল মান্নান এমপি গ্র“প সমর্থিত জয়নাল ও তার লোকজন হামলা করে আমার দলীয় নেতাকে হত্যা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এদিকে এ হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরো সহিংস ঘটনার আশঙ্কা করেছেন অনেকেই।
courtesy : @ঝিনাইদহের চোখ