14/02/2017
১৪ ই ফেব্রুয়ারী ১৯৮৩.. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবন বুয়েট পলাশী ফুলার রোড এলাকা রণক্ষেত্র.. মুহুর্মুহু গুলি শত শত টিয়ার শেলএর ধোঁয়ায় অন্ধকার পুরো এলাকা.. হাজার হাজার ছাত্র এরশাদের পুলিশ পেটোয়া বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে.. মারা গেছে জাফর, জয়নাল, দিপালী সাহা.. বিকেলে কলাভবনে লাশ নিয়ে মিছিল জানাজায় আরেক দফা হামলা.. সন্ধ্যায় গোটা শহর জুড়ে আর্মি নেমে গেছে.. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট পলাশী এলাকায় কারফিউ অবস্থা..
১৫ ফেব্রুয়ারী ভোরে বুয়েট সোহরাওয়ার্দী হলের ৩-৪ তলায় কয়েকজন ছাত্রপশ্চিম প্রান্তের শৌচাগার ব্যবহার করতে গিয়ে দেখে নিচে রাস্তায় আর্মির কনভয়.. গিজগিজ করছে সেনা সদস্য.. ছাত্রদের মধ্যে অতি সাহসী কয়েকজন ৪ তলা থেকে ডাস্টবিন ছুড়ে ফেলেছে নিচে সেনা সদস্যদের উপর.. অতি উত্সাহী কে নাকি লুঙ্গি উঁচু করে তাদেরকে গোপন প্রত্যঙ্গ দেখিয়েছে.. আর যাবে কোথায় ! হল এর বেশিরভাগ ছাত্র তখোনো ভোরের আয়েশী ঘুমে.. আর্মির লোকেরা হলএ ঢুকে পড়েছে পিপড়ার মত.. নিচের কলাপসিবল গেট বন্ধ করে লাথি মেরে দরজা ভেঙ্গে রুম রুম ঢুকে ঘুমন্ত ছাত্রদের আচ্ছামত পিটিয়ে নিচে জড়ো করছে.. কেউ বুঝতে পারছিলনা কি ঘটে চলছে এসব.. সেকি নির্বিচার পিটুনি..! বুয়েটে তখন আর্মি নেভি থেকে আসা ক্যাপ্টেন মেজর পদবির কিছু অফিসার পড়ত.. সিপাইদের হাতে তাদেরকেও বেদম পিটুনি খেতে দেখে এই ভয়াবহ ত্রাস কষ্টের মধ্যেও সবাই অনেক আমোদ বিনোদন লাভ করেছে.. ওরা যতই বলে নিজের পরিচয়.. যতই রুখতে চেষ্টা করে মারের পরিমান তত বাড়ে ! সেম সাইড ! আনন্দই আনন্দ ! আমি ছোট সাইজের মানুষ.. দশাশই দুই বড়ভাইয়ের চিপায় আটকে রক্ষা পেয়েছি.. গজারির লাঠি লাথি উনাদের উপর দিয়ে গেছে..
৮৬ বা ৮৭ সালের দিকে স্যাঁত স্যাঁতে রসে ভেজা এক বুড়ো শালিক লাল গোলাপ হাতে তরুণ তরুনীদের কাছে উদ্ভট এক প্রেমের গল্প ফেঁদে ব্যবসা শুরু করেন..
সেই থেকে এদেশে ভালবাসার বেসাতি শুরু.. তার আগে ১৪ই ফেব্রুয়ারী আমরা দেশকে ভালবাসার দিবস পালন করতাম.. অনেকে জানেনিনা যে স্বাধীন দেশে গণতন্ত্রের আকাঙ্খা অভিযাত্রা সেদিন থেকেই শুরু হয়েছিল..
লেখা- আনোয়ার সেলিম