28/05/2026
শুধু বাংলাদেশের পলিটিক্সে নয়, সাউথ এশিয়ার পলিটিক্সে সালাহউদ্দিন আহমেদ একজন ঝানু প্লেয়ার, সেটা আজকে একটা মহিষ নিয়ে নীরব কূটনৈতিক চাল থেকেই বুঝা যায়।
দেখতে কিছুটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো, নামও রাখা হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই পশু বাংলাদেশ ছাড়িয়ে পৃথিবীজুড়েই আলোচিত খবর। হাসি-ঠাট্টার মধ্যে সিরিয়াস আলোচনার টপিকে পরিণত হয়েছে।
সময়ের আলোচিত অ্যালবিনো প্রজাতির এই মহিষ কেবল এখন আর একটা পশু (মহিষ) নয়, এটা কূটনৈতিক চালের বড় হাতিয়ারও হতে পারে, যদি আমরা ঠিকঠাকমতো চাল দিতে পারি।
চুড়ান্ত মুহুর্তে সালাহউদ্দিন আহমেদ সেটা ভালোভাবেই রিয়েলাইজ করতে পেরেছেন। এই কারণে কুরবানির আগ মুহূর্তে তিনি মহিষটার কুরবানি ঠেকিয়েছেন।
আগামীকালই কুরবানির মধ্যদিয়ে হয়ত-বা সমাপ্ত হয়ে যেত মহিষটা নিয়ে আলোচনা, বাট সেটাকে জিইয়ে রেখে দিলেন জিও-পলিটিক্সের চাল দিতে৷ কতটুকু, কীভাবে কোন সাইড থেকে খেলতে পারেন, সেটা সামনেই বুঝা যাবে। বাট বলাই যায়, সরকারের আওতাধীন রেখে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নেয়ার ব্যাপারটা সেরা স্ট্রেটেজি সালাহউদ্দিন আহমেদের।
সরকার-বিরোধীরা তাদের ব্যর্থতার গ্লানি ঢাকতে ‘বিএনপির নিয়ন্ত্রণ সালাউদ্দিনের হাতে’, ‘তারেক রহমান পুতুল পিএম’ এই টাইপের সস্তা কথাবার্তা বলে বিএনপির তথা সরকারের ভেতরে ফাটল ধরাতে যেই অপচেষ্টা চালাচ্ছে তাতে অনেক কর্মীরাও দ্বিধাদ্বন্দে ভুগেন, বিএনপি আসলেই সালাহউদ্দিন সাহেবের কব্জায় পড়ে গেল নাকি!
এটা সবার জানা দরকার, ভেতরে এবং বাহিরে থেকে যেই পরিমাণ ষড়যন্ত্র এবং গুটি চালা হয়েছে যদি সালাহউদ্দিন লিড না করতেন, তাহলে আজকের বিএনপির এই পর্যায়ে আসাটা এতোটা স্মুথলি হতো না।
৫ আগস্ট-পরবর্তী থেকে এই পর্যন্ত বিএনপি এগিয়েছে এই সালাহউদ্দিনের কাঁধে ভর করে। কিছুতেই উচ্চবাচ্য করেন নাই, প্রয়োজনের বাইরে নিজেকে ক্যামরার সামনে জাহির করেন নাই, নীরবে কাজ করে গেছেন।
ভেতরে-বাইরে যে যেভাবে কূটচাল দিতে ট্রাই করেছে, এক সালাহউদ্দিনের ধাবার চালে কপোকাত হয়ে যেতে হয়েছে।
ভবিষ্যত আমরা বলতে পারি না, কেবল এর অনুমান করতে পারি। কোন একটা সময়ে আজকের সালাহউদ্দিনের ব্রেইন নিয়ে বিস্তার রিসার্চ হতে পারে। কীভাবে এক ব্রেইনে এট দ্য সেইম টাইমে এতো বিষয়ে ফাংশন করেছে!