07/06/2026
কুষ্টিয়া জেলা কুমারখালী উপজেলা যদুবয়রা ইউনিয়ন অন্তগত মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ভ্যান হারিয়ে চরম বিপদে পড়েছেন প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক মো. মোশারফ হোসেন (৬৫)। ভ্যানটি চুরির পর থেকে পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে জীবনযাপন করছেন তিনি।
কুমারখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ মোশাররফ হোসেন মাঠপাড়া এলাকার বাসিন্দা। গত ২ জুন উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া বড় জামে মসজিদের সামনে ভ্যান রেখে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে যান। নামাজ শেষে বের হয়ে দেখেন, প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ভ্যানটি চুরি হয়ে গেছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানের সন্ধান না পেয়ে ০৩/০৬/২০২৬ ইং তারিখে কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
শনিবার সকালে কুমারখালী থানা চত্বরে কথা বলতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোশারফ বলেন, 'নামাজ পড়ে আসে দেখি ভ্যানটা নাই। চারদিন ধরে চেয়ারম্যান, নেতা, থানা, পুলিশ ঘুরতেছি। কোনো লাভ হচ্ছেনা। ভ্যানটার ওপরই সংসার চলতো। বাড়িতে চাউল আছে তরকারি নাই। এহন পান্তা খাচ্ছি। আমি অসুস্থ, বউডা অসুস্থ, বৃদ্ধ মা অসুস্থ। একদিন পরপর ১২০ টাহার ওষুধ লাগে টেনশনে দেহ শুকো যাচ্ছে।
জানা গেছে, তিন বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাঁ পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে খুঁড়িয়ে চলাফেরা করেন তিনি। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে ভ্যান চালানো ছাড়া অন্য কোনো কাজ করতে পারেন না। প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেই সংসার চলত।
সরেজমিনে দেখা যায়, খয়েরচারা বাজার-ফুলতলা সড়কের পাশে একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস করেন মোশারফ। সেখানে অসুস্থ মা নবিরন নেছা, স্ত্রী আলেয়া খাতুন ও এক বেকার ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি।
স্ত্রী আলেয়া খাতুন বলেন, 'আমি স্ট্রোক করিছি দুইবার। শ্বাশুড়ির মাঝা ভাঙা। আজ কয়দিন ওষুধ খাইতে পারতিছিনে। বাজার খাতি পারতিছিনে। ওর (ভ্যান) পরই নির্ভর আমার। ভ্যান চালা কয়ডা ওষধ এনে দিতো তাই খায়। ভ্যানডা চুরির পর তা আর পারতেছেনা। সকলে মিলে একটি গাড়ি দিলে ভাল হয়।'
প্রতিবেশী মো. পান্না বলেন, ‘ভ্যান হারিয়ে মোশারফ পরিবার নিয়ে খুব অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নতুন ভ্যান কেনার সামর্থ্য নেই। সরকার একটি ভ্যানের ব্যবস্থা করে দিলে পরিবারটি খেয়েপরে বাঁচতে পারবে।’
জোতমোড়া বড় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম, ‘সেদিন মাগরিব নামাজের সময় ভ্যানটি চুরির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফ্রুটেজে সে দৃশ্য ধারণ আছে। তবে চোরকে চেনা যাচ্ছেনা। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে সাধ্যমত সহযোগীতা করা হবে বলে জানান।
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে দ্রুত আইনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কুমারখালী উপজেলা প্রশাসন ইউএন মহোদয় ফারজানা আখতার বলেন, ‘খোঁজখবর নিয়ে সাধ্যমত সহযোগীতা করা হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।