Kushtia - Our Pride

Kushtia - Our Pride কুষ্টিয়া জেলার আয়তন ১,৬২১.১৫ বর্গ কি
(1)

কুষ্টিয়া একটি প্রাচীন জনপদ। পূর্বে কুষ্টিয়া নদীয়া জেলার একটি মহকুমা ছিল। এর উত্তরে রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা, দক্ষিণে চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলা, পূর্বে রাজবাড়ী এবং পশ্চিমে মেহেরপুর জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।
কুষ্টিয়ার ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রধান নদীগুলো হল পদ্মা, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, কালীগঙ্গা ও কুমার। এ কারণে দেখার মত অনেক স্থান কুষ্টিয়ায় রয়েছে।

***রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ী: কুমারখা

লি উপজেলার শিলাইদহ কুঠিবাড়ী রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত। এখানে আম্রকাননে কবিগুরু অনেক গান ও কবিতা রচনা করেছেন। সংস্কারের অভাবে বর্তমানে কূঠিবাড়ীর অবস্থা খারাপ। তবুও কবিপ্রেমীরা এখানে এসে কবি সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন। কুঠিবাড়ীটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
***ফকির লালন সাঁইজির মাজার: বাংলার বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁই এই কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া গ্রামে কর্ম সম্পাদন করেছিলেন । তার মাজার বর্তমানে বাউলদের আখড়া হিসেবে পরিচালিত আছে । লালন ভক্তের কাছে তাই অঞ্চলটি পূণ্যভূমি রূপে পরিগণিত।
***পাকশী রেল সেতু: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু পাকশী রেল সেতু কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আছে। হার্ডিঞ্জ ব্রীজ সেতুর একটি স্প্যান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিমানের গোলায় ধ্বংস হয়ে যায়।
***লালন শাহ সেতুঃ বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু হিসেবে "লালন শাহ" সেতুটি কুস্টিয়া জেলার পদ্মা নদীর উপর ২০০১ সালের ১৩ জানুয়ারি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেতুটি উদ্ধোধন করেন । ২০০৪ সালের ১৮ মে যান চলাচল শুরু হয় । সেতুটি বাংলাদেশ ও জাপান যৌথভাবে নির্মিত হয় । সেতুটির চারপাশের মনোরম পদ্মা নদীর দৃশ্য প্রতিটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায় । অনেক দর্শনার্থী সেতুটি পরিদর্শনের জন্য সেতুর চারপাশে প্রতিদিন বিরাজমান ।

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বঃ
*সাধক লালন ফকির: ধারনা করা হয় কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ভাঁড়রা গ্রামে তার জন্ম আনুমানিক জন্ম -১৭৭৪ ইং, মৃত্যু- ১৮৯০ ইং।তিনি তাঁর বাউল গানের জন্য বিখ্যাত। তাঁর বাঁধা মরমী গানগুলো আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত।
*প্যারী সুন্দরী: মিরপুর উপজেলার সদরপুরের অধিবাসী। জন্ম-১৮০০, মৃত্যু-১৮৭০। নীলকর টমাস আইভান কেনির কৃষকদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন করেন।
*কাঙাল হরিনাথ মজুমদার: জন্ম কুমারখালি পৌর এলাকার কুণ্ডুপাড়ায় ১৮৩৩ ও মৃত্যু-১৮৯৬ । একাধারে সাময়িক পত্রসেবী , সমাজ বিপ­বী ও বাউল কবি ছিলেন। তাঁর রচিত বিজয়বসন্ত বাংলা ভাষা সাহিত্যের উল্লখযোগ্য গ্রন্থ।
*মোহিনী মোহন চক্রবর্তী: কুমারখালি এলঙ্গী গ্রামেজন্ম-১৮৩৮ ও মৃত্যু-১৯২১। তিনি একাধারে চাকুরীজীবি ও ব্যবসায়ী ছিলেন । তিনি চক্রবর্তী এন্ড সন্স নামে পূর্ববাংলার সর্ববৃহৎ কাপড়ের কল নির্মান করেন।
*গগন হরকরা: অনুমান করা হয় কুমারখালির শিলাইদহের গোবরখালী কসবা গ্রামে তার জন্ম। আনুমানিক জন্ম-১৮৪৫মৃত্যু-১৯১০। ডাকহরকরা ও পিওন হওয়া সত্বেও গানে পারদর্শী ছিলেন। তার লিখিত ‘আমি কোথায় পাব তারে ,আমার মনের মানুষ যেরে’ গানটির আঙ্গীক ও সুরের অনুসরনে রবীন্দ্রনাথ জাতীয় সঙ্গীত রচনা করেন।
*মীর মশাররফ হোসেন: কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের লাহিনীপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম । জন্ম-১৮৪৭,মৃত্যু-১৯১১। বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান অনসীকার্য। তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্রন্থ ‘‘বিষাদ সিন্ধু’’।
*অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়: মিরপুর থানার শিমুলিয়া গ্রামে জন্ম-১৮৬১, মৃত্যু-১৯৩০। ইতিহাসবিদ,আইনজীবি ও সাহিত্যিক। তাঁর আলোচিত দু’টি গ্রন্থ হচ্ছে সিরাজদ্দৌলা ও মীর কাশিম। বিজ্ঞান সম্মত প্রণালীতে বাংলা ভাষায় ইতিহাস রচনায় পথিকৃত।
*যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়: ওরফে বাঘা যতীন কুমারখালি উপজেলার কয়া গ্রামেজন্ম-১৮৭৯, মৃত্যু-১৯১৫। দেশকে ইংরেজের কবল থেকে মুক্ত করতে এই স্বদেশী নেতা সশস্ত্র সংগ্রামের পরিকল্পনা করেন।
*ড. রাধা বিনোদ পাল: কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কাকিলাদহ গ্রামে জন্ম।জন্ম-১৮৯৬,মৃত্যু- ১৯৬৭। তিনি আইন সম্পর্কিত বহু গ্রন্থের রচনা করেন। এছাড়া তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক সামরিক আদালতের বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
*ড. কাজী মোতাহার হোসেন: কুমারখালি উপজেলার লক্ষিপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।জন্ম- ১৮৩৭,মৃত্যু- ১৯৮১। একাধারে সাহিত্যিক,শিক্ষাবিদ,সঙ্গীতজ্ঞ ও দাবাড়ু ছিলেন।১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমী ও ১৯৭৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
*মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা: পৈতৃকনিবাস কুমারখালি উপজেলার নিয়ামতবাড়ীয়া গ্রামে।জন্ম- ১৯০৬, মৃত্যু- ১৯৭৭।বাঙ্গালী মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম সনেট ও গদ্য ছন্দে কবিতা লিখেছেন।বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার ১৯৬৭ এবং একুশে পদক ১৯৭৭।
*আজিজুর রহমান: কুষ্টিয়া থানার হাটশহরিপুর গ্রামেজন্ম- ১৯১৪, মৃত্যু-১৯৭৮।একাধারে কবি, গীতিকার ও কুষ্টিয়ার ইতিহাস সন্ধানী। তার রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০০।১৯৭৯ সালে একুশে পদক পান।
*আকবর হোসেন: কুমারখালি উপজেলার কয়া গ্রামে জন্ম- ১৯১৭, মৃত্যু- ১৯৮১।তিনি ছিলেন জনপ্রিয় উপন্যাসিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অবাঞ্জিত,কি পাইনি,নতুন পৃথিবী প্রভৃতি।
*রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানায় জন্ম- ১৯২৫, মৃত্যু- ১৯৯৯। খ্যাতনামা শিশু সংগঠক।শিশু সাহিত্যে ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান।
*কাজী আরেফ আহমেদ: কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার কচুবাড়ীয়া গ্রামে জন্ম- ৮ই এপ্রিল ১৯৪২ , মৃত্যু- ১৯৯৯ ।১৯৬২ এর নিউক্লিয়াসের সদস্য ও মুজিব বাহিনীর অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি ।পশ্চিমাঞ্চলীয় সেক্টরে মুজিব বাহিনীর ডিপুটি প্রধান হিসাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন কাজী আরেফ, মুক্তিযুদ্ধের বিশিষ্ট সংগঠক ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার রূপকার।
*শিবেন্দ্রমোহন রায়: (? - ৯ ডিসেম্বর, ১৯৪৯) ছিলেন ব্রিটিশ আমলের কমিউনিস্ট কর্মী এবং মানবিক অধিকার আন্দোলনের শহীদ।
*শাহ আজিজুর রহমান: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।শাহ আজিজুর রহমান কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলাই জন্মগ্রহণ করেন।
*খন্দকার আব্দুল ওয়াহেদ: কুষ্টিয়া জেলার শ্রমিক মেহনতি মানুষের নেতা ছিলেন। তিনি শ্রমিক আন্দলনের কারনে অনেক বার কারা বরন করেন। তিনি কুষ্টিয়া জেলা গনতন্ত্রি পার্টির জেলার সভাপতি ছিলেন। তার রাজনেতিক সহচর ছিলেন কমরেড রওশন আলি নির্মল সেন মনি, সিংহ সৈয়দ মাসুদ রুমি সহ আর অনেকে।

Address

Kushtia District
Kushtia
7002

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Kushtia - Our Pride posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share