28/08/2026
চরম অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে পাকশী কন্ট্রোল...
লোকাল/কমিউটার ট্রেনকে প্রচন্ড রকমের তুচ্ছজ্ঞান করছে। যেন আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রীদের সময়ের মূল্য অনেক, লোকাল/ কমিউটার ট্রেনের যাত্রীদের সময়ের কোনোই মূল্য নেই।
মূল ঘটনায় আসিঃ
গতকাল মধুমতি এক্সপ্রেসের কাপলিং সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় পোড়াদহ জংশনের ৪ নং প্লাটফর্মের দাড়িয়ে থাকে (পাশের ৩ নাম্বার লাইন ফাঁকা ছিলো)। মধুমতি এক্সপ্রেস পোড়াদহতে অবস্থান করায় কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে এসে শাটল পোড়াদহ এর আউটারে (স্টেশনের বাহিরে) দাড়িয়ে থাকে। তখন সময় রাত- ০৮.২০ ±
৫ মিনিট, ১০ মিনিট, ২০ মিনিট করে প্রায় ১ ঘন্টা কেটে যায়।
তবুও মধুমতির সমস্যা সমাধান হয় না, শাটলও স্টেশনে প্রবেশ করতে পারে না। তখন সময় রাত- ০৯.৩৭, সমস্যা সমাধানের কোনো আশার বাণী পাওয়া যায় না। এভাবে যেতে যেতে রাত- ১০.০০ টা পাড়।
শাটলের বিলম্ব তখন ২ ঘন্টা +
ট্রেনে থাকা যাত্রীদের মাঝে তীব্র অস্বস্তি। কুষ্টিয়া, কুমারখালি, খোকসাসহ পরবর্তী স্টেশনে যাত্রীদের মাঝে ধোঁয়াশা। কখন আসবে ট্রেন কখন আসবে ট্রেন ? যাত্রীরা এসে স্টেশনের স্টাফদের প্রতি চড়াও হয়, মার মুখী আচরণ করে- কেনো এত সময় লাগছে ? এ ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনার সম্পূর্ণ দায় কন্ট্রোলকে নিতে হবে।
কেননা, তারা চাইলেই সমাধান করতে পারতো,
এর উত্তম ও সহজ সমাধান ছিলো। যে বুদ্ধি শাটলে থাকা অল্পজ্ঞানের, শ্রমজীবি, দিনমজুর যাত্রীর মাথায় এসেছে। কিন্তু পাকশীর ডিগ্রিধারী মহান ট্রেন কন্ট্রোলারদের মাথায় আসেনি।
যাত্রীরা মতামত দেন যে-
পোড়াদহের ৩ নাম্বার লাইন তো ফাঁকা আছে। শাটলকে স্টেশনের বাইরে ফেলে না রেখে হালসা নিয়ে যাক। তারপর হালসা থেকে ইঞ্জিন বদল করে আবার পোড়াদহ নিয়ে আসুক। যেহেতু পোড়াদহতে এখন ইঞ্জিন বদলের অবস্থা নাই। কতই না উত্তম সমাধান..!!! যা সাধারণ দিনমজুর শ্রমিক দিলেন অথচ, মহান ট্রেন কন্ট্রোলারা দিতে পারলেন না।
রাত প্রায় তখন ১১ টা ছুঁই ছুঁই,,
কাপলিং করতে ব্যর্থ হয়ে মধুমতি পাওয়ার পোড়াদহ রেখেই চলে যায়। অর্থাৎ তখনও পোড়াদহ জংশনের ৪ নাম্বার লাইন ব্লক। এখনও শাটলের ইঞ্জিন বদলের সুযোগ নাই।
এবার ঘটলো মজার ঘটনা 😃
শাটলকে প্রায় ৩ ঘন্টা স্টেশনের বাইরে বসিয়ে রেখে পোড়াদহ স্টেশনে আনা হয়। কিন্তু ইঞ্জিন বদলের তো উপায় নাই, তাহলে কি করা যায় ? তখন মহান ট্রেন কন্ট্রোলারদের বুদ্ধির বাতি জ্বলতে থাকে। তারা সিদ্ধান্ত নেয়- শাটলকে ইঞ্জিন পরিবর্তনের জন্য হালসা পাঠাবে 😆
চিন্তা করতে পারেন ?
কতটা অপেশাদার, অদক্ষতার পরিচয় এটা !
আসল কথা হলো- তারা চাইলেই এ কাজটা আগেই করতে পারতো। কিন্তু ৩ ঘন্টা যাবৎ তারা শাটল এবং শাটলের যাত্রীদের কথা চিন্তাই করে নি। তীব্র থেকে তীব্র ঠিক্কার জানাই ✊
যে কাজ ৩ ঘন্টা আগেই করা যেতো,
উপায় থাকার পরেও সে কাজ কেনো করলেন না?
এটা আপনাদের চূড়ান্ত লেভেলের অপেশাদার ও গুরুত্বহীনতার পরিচয়।
শুধু এই ঘটনায় নয়,
আরও বহু এমন নজির রয়েছে যে, ভুল ক্রসিং মুভমেন্ট দিয়ে আপনার একটি স্টেশনে একটি গাড়িকে ৪০/৪৫ মিনিট পর্যন্ত বসিয়ে রাখেন। অথচ সে গাড়ি অনায়াসে পাড় করে দেওয়া সম্ভব। কেনো রে ভাই ? লোকাল/কমিউটার বলে কি তাদের যাত্রীর সময়ের দাম নেই ?
আপনাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে,
আপনাদেরই সহকর্মীরা যাত্রীদের রোষানলে পড়ে। অন্তত এটুকু বিবেচনা করেও তো অন্তত দায়িত্বশীল আচরণ করতে পারেন।
আমরা আশা করবো,
আপনারা পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, গুরুত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করবেন। জনগণ আর আপনাদের খামখেয়ালি সহ্য করবে না।
[বি:দ্র: শাটল বলতে- পোড়াদহ/গোয়ালন্দ কমিউটারকে বোঝানো হয়েছে। যেহেতু এ অঞ্চলের মানুষ এ নামের সাথে অভ্যস্ত, তাই শাটল নামটি ব্যবহার করা হয়েছে]