15/08/2025
১৪ আগস্ট ১৯৪৭
দুই শতকের শেকল ভেঙে, ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ ও অত্যাচারী জমিদারদের কবল থেকে মুক্ত হয় এই ভূমি। দুই শতকের জুলুম, দুঃশাসন আর শোষণের অন্ধকারে ডুবে থাকা মানুষ আজ নতুন সূর্যোদয় দেখে।মুসলমানদের জন্য নতুন রাষ্ট্রের স্বপ্নে জন্ম নেয় পাকিস্তান,যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে রক্ত, ঘাম আর প্রাণের সর্বাধিক অংশীদার ছিলো বাংলার জনতা। কিন্তু আমাদের ইতিহাস কেবল সাতচল্লিশে শুরু হয়নি এটি শত শত বছরের আজাদির কাব্য,
যেখানে প্রতিটি অধ্যায় রচিত হয়েছে রক্তে, ইমানের শপথে, আর জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে।
ইখতিয়ারের বঙ্গবিজয়ে শুরু,যেখানে তলোয়ার হাতে লিপিবদ্ধ হলো ইসলামের আলোয় ভাসা নতুন বাংলার পৃষ্ঠা। শাহ-ই-বাংলা, অলিয়া-আউলিয়ার দাওয়াতি দাওয়াত,
মানুষের অন্তরে জেগে ওঠা তাওহিদের শপথ,
ন্যায়ের বারতা পৌঁছে দিলো গাঁ-গাঁর, নগর-নগরে।
উনিশ শতকে হাজী শরিয়তুল্লাহ ফরায়েজি আন্দোলনের পতাকা উঁচিয়ে বললেন,"তাওহিদের পথে ফিরে যাও, জমিদারের জুলুম মানা যাবে না।"
তারই উত্তরসূরী তিতুমীর বাঁশের কেল্লা গড়ে তুললেন,ব্রিটিশ আর নীলকর জমিদারের বিরুদ্ধে এক অদম্য যুদ্ধের দুর্গ। ১৮৫৭-র সিপাহী বিপ্লবে বাংলার মাটিও গর্জে উঠেছিল, যেখানে মুসলিম সিপাহীরা "আল্লাহু আকবর" ধ্বনি তুলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তারপর এল পাকিস্তান আন্দোলন যেখানে আল্লামা শামসুল হক ফারিদপুরী, আতাহার আলী, আবুল হাসানাত,
এবং হাজারো ইসলামপ্রাণ নেতা-জনতা লড়লেন মুসলমানের জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের দাবিতে। রক্ত ঝরল, কারাগারে গললো দিনরাত, কিন্তু পতাকা উড়ল সবুজ-সাদা। সাতচল্লিশের পরও সংগ্রাম থামেনি,পঞ্চাশের ভাষা আন্দোলন, যেখানে রফিক-বরকত-সালাম-শফিউরের বুকের রক্ত মিশে গেছে বাংলা মাটিতে। একাত্তরে নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধ হাজারো আলেম, মুজাহিদ, সাধারণ মানুষ শহীদ হলেন স্বাধীনতার জন্য। এরপর চব্বিশ, বিরানব্বই, দুই হাজার ছয়, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান প্রতিবারই বাংলার রাস্তায় নেমেছে মানুষ, প্রতিবারই স্লোগান উঠেছে "জুলুম মানি না, অন্যায় সহি না, আধিপত্যবাদ স্বীকার করি না!"
আমাদের ইতিহাসের মর্ম একটাই পলিটিক্যাল হোক বা কালচারাল যে কোনো হেজিমনি, অন্যায়, শোষণ ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আমাদের সত্তা। এই মাটির মানুষ আজাদিকে শুধু ভালোবাসে না। আজাদি তাদের ঈমানের অংশ, শাহাদাত তাদের তামান্না।যতদিন পৃথিবীতে জুলুম থাকবে,
ততদিন বাংলার আকাশে প্রতিধ্বনি হবে
"আমরা প্রতিরোধ করবো, আমরা আজাদ হবো, ইনশাআল্লাহ!"