30/10/2015
# গল্প
রাত ৩.৪০
হটাৎ ঘুম ভেঙে যায় মিলার।
এসি চলছে
তবুও ঘেমে যাচ্ছে। হটাৎ নুপুরের
শব্দ শুনতে
পায় ও। কোথাথেকে আসে? মনে
হচ্ছে
কিচেন থেকে,কিন্তু কার
পায়ের
আওয়াজ?
শব্দটা পুরো ঘর ছেয়ে গেছে,
প্রতিধ্বনি
হচ্ছে!
মিলার পাশে শুয়ে আছে
মিস্টার রায়ান
খান। বয়স ৩১বছর, অবুর্ব মায়াবি
চেহারা!
মিলা ভয়ে অস্থির হয়ে
রায়ানকে ডেকে
তোলে।
-ঘামছ কেন?
মিলা তোতলাতে তোতলাতে
বলে নুপুর!!
নুপুরের শব্দ!
-কোথায়? কোনো আওয়াজই তো
শুনতে
পাচ্ছি না, তুমি নিশ্চয় স্বপ্ন
দেখছ।
ঘুমিয়ে পড়।
শেষমেশ কম্বল গায়ে দিয়ে
শুয়ে পড়ল
মিলা।
এভাবে প্রতি রাতেই একই ঘটনা
ঘটতে
থাকে, শব্দ শুধু মিলা-ই শুনতে
পায়।
একদিন রাতে মিলা সাহস করে
ওই শব্দের
উৎস খুজতে যায়।
রান্না ঘরের দরজা খুলতেই
মিলা যা দেখল
তা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত
ছিল না।ও
দেখল যে একটা মেয়ে
কিচেনের সিলিং
এ ঝুলছে তার এক পায়ে নুপুর
পরা!
চোখের পলক ফেলতেই মিলা
দেখল
মেয়েটি নিচে দারিয়ে আছে,
অবস্থা
বুঝে উঠার আগেই দেখল
মেয়েটি আরেক
জায়গায় যেমন টা হরর
সিনেমায় ঘটে
থাকে।
মিলা সাহস করে জিজ্ঞেস
করল কে তুমি?
মেয়েটি বলল আমার নাম ঝুমু,
*সাত বছর আগে,
ফেসবুকে পরিচয় ঝুমু আর
রায়ানের।দুজনেই
স্টুডেন্ট, একদিন দুইদিন কথা
হওয়ার পর
থেকে আস্তে আস্তে
ভালোলাগা তারপর
ভালবাসা!
অনেক ভালবাসত দুজন দুজনকে,
কিন্তু
সময়ের সাথে সবকিছু যেন কেমন
ক হয়ে
যেতে লাগল। রায়ান এখন খুব
ব্যস্ত থাকার
কথা বলে,কিন্তু ঝুমুর ধারনা ও
বিজি না।
এই নিয়ে খুব অভিমান। কিন্তু
রায়ান যদি
একদিন ভাল করে কথা বলে
তাহলে সব
ভুলে যায় ও।
হটাৎ একদিন রায়ান ঝুমুকে বলে
যে ঢাকায়
আসো,আমরা বিয়ে করব। হটাৎ
রায়ানের
এই কথা শুনে ঝুমু মনে করে
রায়ান তাকে
আসলেই খুব ভালবাসে,এই সুযোগ
হাতছাড়া
করা যাবে না। ভালবাসায় অন্ধ
ঝুমু সব
ফেলে ভালবাসার টানে ছুটে
আসে
ঢাকায়। বাড়িতে জানানোর পর
বাড়ির
লোকজন খুব কষ্ট পায় এবং
ঝুমুকে বলে যে
মেয়ে আমাদের মুখে চুনকালি
মেয়ে বাড়ি
থেকে বেরিয়ে যেতে পারে
সেরকম মেয়ে
থাকার চেয়ে না থাকা ভাল
তাই তারা
ঝুমুকে ত্যাজ্য করে।ঝুমু কিছুটা
কষ্ট
পেলেও ভাবে যে রায়ান তো
আছেই।এক
সময় সব কিছু মেনে নেবে।
তারপর রায়ান বলে যে এখন তো
তুমি বাড়ি
ফিরে যেতে পারবে না তাহলে
তো
তোমাকে নিয়ে থাকার সমস্যা
হবে।চল
কুমিল্লা যাই।ওখানে আমাদের
একটা
বাংলো বাড়ি আছে। পরেরদিন
রায়ান ঝুমু
আর বিয়ের সাক্ষী হিসেবে
রায়ানের
একটা বন্ধুও যায়। কুমিল্লা
পৌছতে সন্ধ্যা
হয়ে যায়।ওদের বাড়িতে গিয়ে
ফ্রেশ
হওয়ার পর রায়ানের বন্ধুটি বলে
রাত তো
হয়ে গেল,আজ তো বিয়ে করা
সম্ভব না।
কালকে কাজি অফিসে গিয়ে
বিয়ে
করতে হবে।তখন রায়ান বলে
আমি বিয়ে
করব না। ঝুমু শুনে তো হতবিহ্ব্ল!
রায়ান
ঝুমুকে বলে, কি মনে করেছ?
তোমাকে
বিয়ে করব আমি? হা হা হা!
তোমার থেকে
সুন্দরি ধনীর মেয়েরা আমার
জন্য পাগল!
তুমি কি না সেখানে...
ঝুমুর আর বুঝতে কিছুই বাকি
থাকে না
কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে
এখন আর
কিছুই করার নাই। সারারাত ওই
দুই নরপশু
অমানুষিক নির্যাতন করে। সকাল
হলে
তারা দেখে যে ঝুমুর জ্ঞান
ফিরছে
না,ভাবে যে মনে হয় মারা
গেছে তাই ওরা
ঝুমুকে কিচেনের সিলিং এ
ঝুলিয়ে দিয়ে
চলে আসে যাতে মারা না
গেলেও মারা
যায়। তারপর রায়ান পড়ালেখার
জন্য
বিদেশ চলে যায়।
কয়েকদিন পর ওই বাংলো
বাড়ির সামনে
দিয়ে চলাচলকারী এক
পথযাত্রী মৃত
মানুষের গন্ধ পেয়ে লোকজন
ডাকে। শেষ
পর্যন্ত তারা ওই বাংলো বাড়ির
কিচেনে
লাশ আবিষ্কার করে, পুলিশে
খবর দিলে
পুলিশ আসে, কিন্তু লাশটা এত
বেশি পচে
গেছিল যে কোনো আলামত
সংগ্রহ করা
যায়নি। তারপরও কেস হয় কিন্তু
রায়ানের
বাবা টাকা খাইয়ে মামলা
ধামাচাপা
দিয়ে দেয়। আর স্থানীয়
লোকজন লাশ ওই
বাড়ির সামনে পুতে দেয়।
মাঝে মাঝেই ওই রাস্তার
আশেপাশে
রাতের বেলা একটা মেয়েকে
ঘুরাঘুরি
করতে দেখা যায়
সাত বছর পর রায়ান তাদের
কম্পানির
কুমিল্লা শাখার দায়িত্বে
এখানে বউ
নিয়ে আসে। সাথে এক বুয়া র
তার ছোট্ট
মেয়ে।
* মিলা বলে,তুমি তাহলে মরে
গেছ কিন্তু
আমি তো দেখতে পাচ্ছি
তোমাকে! কি
চাও তুমি?
-শোন মেয়ে, আমার বোঝাপড়া
রায়ানের
সাথে।বাঁচতে চাইলে পালাও
তারপর থেকে ওই বাড়িতে
আজগুবি সব
ঘটনা ঘটতে থাকে! বুয়া
পালিয়েছে। গত
কয়েকদিন দিন ধরে মিলা খুব
অসুস্থ।
রায়ান অফিসের কাজ গুছিয়ে
ঢাকায় চলে
যাওয়ার চেষ্টা করতে লাগল।
রবিবার রায়ান ঢাকার অফিসে
জয়েন
করবে। কিন্তু শনিবার অফিসের
কাজ
গুছিয়ে দিতে দেরি হয়ে যায়।
তারপর ও
ফিরতে হবে। সাথে গাড়ি আছে,
ব্যাপার
না।
মিলা আর রায়ান সন্ধ্যার পরই
বের হয়ে
যায়। শীত পরেছে,রাস্তায়
কুয়াশাও আছে।
কিছুদূর যাওয়ার পর রায়ান
দেখতে পায়
সামনে একটা মেয়ে দারিয়ে
আছে। গাড়ি
থামাতেই রায়ানের চোখ
ছানাবড়া!
-ঝুমু!! তুমি!
- হ্যা আমি
মিলা চিৎকার দিয়ে
বলে,আমরা চলে
যাচ্ছি, ছেড়ে দাও আমাদের।
তুমি চলে
যাও।
ঝুমু বলে,আমি তো অনেক আগেই
চলে
গেছি।কিন্তু একা ভাল লাগে
না। এই
রায়ান,তুমি না বলেছিলে
সারাজিবন
আমার পাশে থাকবে এখন কেন
এই মেয়ের
সাথে সংসার করছ?? আমি কি
দোষ
করেছিলাম? কেন আমায় বাঁচতে
দিলে
না? তুমি আমায় ভালবাস না
এতা বল্লেই
পারতে, মেরে ফেললে কেন?
আমি আমার
বাবা মা সবাইকে ছেড়ে
তোমার সাথে
বাঁচতে চেয়েছিলাম আর তুমিই
কি না..!!
নাহ আমি তোমায় ছাড়ব
না,আমি তো এত
মহৎ না! এই বলেই ঝুমু রায়ানের
গলা ধরে উঁচু
করে ফেলে, মিলা বাঁচাতে
গেলে ওকে
ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।
মিলা আর
উঠতে পারে না। ঝুমু রায়ানকে
কঠিন
থেকে কঠিনতমভাবে খুন করে।
মিলার জ্ঞান ফিরলে সে
হাসপাতালের
বেডে নিজেকে আবিষ্কার
করে।পাশে
রাখা নিউজপেপারে দেখে যে
মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়
বিশিষ্ট
শিল্পপতি পুত্র রায়ান খানের
মৃত্যু।
মিলা এখন মানসিক
হাসপাতালে।
গল্পটা অন্যরকমও হতে
পারত,প্রতিশোধটা
মিলাও নিতে পারত।
সম্পুর্ন কাল্পনিক গল্প
লেখা- Jobayda jahan sowa
(স্বপ্নময়ী ছোঁয়া)