06/08/2024
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় দেশবাসি, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু, শুভ্যানুধ্যায়ী, সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে আমি পরিবার নিয়ে ভাল আছি। কিন্তু হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, ছটফট করছি প্রতিনিয়ত।
গত ১৬ জুলাই আবু সাঈদের শহীদ হওয়া সহ সকল মৃত্যুতে ক্রোধান্বিত আমি গভীর কষ্ট পেয়েছি। চাকুরী জীবনের অধিকাংশ সময় ট্রেনিং সেন্টারে ছিলাম। এরকমতো আমরা কোন পুলিশ সদস্য কে শিক্ষা দেইনি। কারা এই ঘৃন্য হত্যাকান্ডে পুলিশকে ঠেলে দিল তা জানি।
২০০৫ সাল থেকে এই বাহিনীতে আছি। গত পনের বছর পুলিশের তাবেদারী নেতৃত্বকে দেখেছি যারা সৎ, আদর্শবান তাদেরকে অবমুল্যায়ন করতে। সততা, দক্ষতা ও যোগ্যতার যদি মূল্যায়ন হতো তা হলে আজ হয়ত এই বিপর্যয় হতো না।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা আজকে একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশকে সাম্যের ভিত্তিতে বিনির্মাণের। যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের আত্মার শান্তি কামনা করি।
সকলের জ্ঞাতার্থে জানাই অন্যান্য বিভাগের মত পুলিশেও সীমাহীন বৈষম্য। তাই ঢালাওভাবে পুলিশ সদস্যদেরকে দায়ী ভাববেন না। মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ করেন তারা হুকুমের দাস। তাদের প্রতিটি অন্যায় ও বিচ্যুতির বিচার সহ সকল দোষীদের বিচার হবে, আমাদের ঢেলে সাজানো পুলিশ প্রশাসন সেই বিচারে সর্বোচ্চ সহযোগীতা করবে ইনশাল্লাহ।
এতদিন জীবন জীবিকার তাগিদে বা বলতে পারেন কাপুরষতার জন্য পুলিশ বিভাগের ভিতর সঠিক প্রতিবাদ করতে পারিনি, তাই সকলের কাছে পুলিশের একজন সদস্য হিসেবে করজোরে ক্ষমা চেয়ে আহবান করছি আর পুলিশের প্রতি ক্ষোভ রাখবেন না। পুলিশে যারা চাকুরী করেন তারা আপনার মত কারো আত্মীয়, স্বজন বা বন্ধু।
আর প্রিয় সহকর্মী পুলিশ ভাই বোনদের প্রতি অনুরোধ জনগনকে প্রতিপক্ষ ভাববেন না। যাদের আদেশে আমাদের কিছু সদস্যগন জঘন্য পুলিশিং করেছেন তাদেরকে বিপদে কাছে পাওয়া যায়নি, যাবে না। বুঝা উচিৎ,
অন্যায় আদেশ মানতে আমরা কেউ বাধ্য নই। আমাদের প্রতিটি কাজের হিসেব হবে।
২৪ তম বিসিএস (পুলিশ) এর সদস্য, কমাড্যান্ট(পুলিশ সুপার), ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, সাতক্ষীরা।