হিকমাহ্

হিকমাহ্ Beauty is not in the face,beauty is light in the mind. Character is wealth and power.

ইলা মিত্রের স্ক্যামে মুসলমানরা - ১) ব্রিটিশ আসার আগে জমির মালিক ছিল কৃষক। মুঘল আমলে জমিদারের ভূমিকা ছিল আজকের দিনের ডিসি...
24/08/2026

ইলা মিত্রের স্ক্যামে মুসলমানরা -

১)

ব্রিটিশ আসার আগে জমির মালিক ছিল কৃষক। মুঘল আমলে জমিদারের ভূমিকা ছিল আজকের দিনের ডিসির মত। জমিদার জমির মালিক ছিল না। সে ছিল খাজনা আদায়কারী। কৃষক যে ফসল ফলার তার দশ ভাগের এক ভাগ মাত্র খাজনা হিসাবে মুঘলদের দিতে হত।

২)

ব্রিটিশ ক্ষমতা দখল করে ইউরোপে প্রচলিত ভূস্বামী প্রথা ভারতে নিয়ে আসে। ব্রিটিশ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে মুসলমান চাষীদের থেকে জমির মালিকানা কেড়ে নেয়। জমির মালিক করে দেওয়া হয় হিন্দু জমিদারদের। মূলত মুঘল আমলে বাংলার অধিকাংশ জমিদার ছিল হিন্দু। কিন্ত শাসক যেহুতু মুসলমান আর জমিদারদের যেহুতু জমির উপর মালিকানা ছিল না, খাজনা যেহুতু মুঘল বাদশাহ কর্তৃক নির্ধারিত ছিল, তাই হিন্দু জমিদারদের ক্ষমতা ছিল সীমিত।

কিন্ত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে যে জমিতে মুসলিম চাষী শত শত বছর ধরে বসবাস করছে, রাতারাতি তার মালিক হয়ে যায় কোন হিন্দু জমিদার। মুসলিম জমিদাররা যেহুতু খানকা, দরগার উপর গলায় পা রেখে খাজনা আদায় করতে পারত না, তাই তারা দ্রুত জমিদারি হারাতে থাকে। সেখানে নতুন হিন্দু জমিদার শ্রেণীর উতপত্তি হয়।

৩)

এই অবস্থা পরের ২০০ বছর অব্যাহত থাকে। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরে এটা পরিষ্কার হয় যে ব্রিটিশ ভারত থেকে চলে যাবে। তখন ভারতীয় রাজনীতিতে দুইটা প্রধান ধারা হয়। একটি কংগ্রেস , অপরটি মুসলিমলীগ।

৪)
মুসলিম লীগ পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান আন্দোলনের ম্যান্ডেট হিসাবে ঘোষণা দেয় যে পাকিস্তান কায়েম হলে জমিদারি প্রথা বাতিল করা হবে। শুধু জমিদারি বাতিল করা হবে না, জমিদারদের জমি কেড়ে নিয়ে দখলসত্ব অনুসারে জমি কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে। অর্থাৎ মুঘলদের আমলে জমির মালিক যেমন কৃষক ছিল, তেমন পাকিস্তান আমলে জমির মালিকানা আবার কৃষকের কাছে ফেরত যাবে।

৫)
কংগ্রেস জমিদারি বিলুপ্তির পক্ষে ছিল। কিন্ত জমির মালিকানা কৃষকদের কাছে ফেরত দেবার পক্ষে ছিল না। কারণ এর ফলে জমির মালিকানা মুসলিমদের হাতে চলে যাবে। যেহুতু জমিদাররা হিন্দু কিন্ত প্রজারা মুসলিম।

৬)
তখন হিন্দু এলিট শ্রেণী দেখল, সর্বনাশ। পাকিস্তান কায়েম হলে তো তাদের তালুকদারি থাকবে না। জমিদারি হারানো বড় সমস্যা না। কিন্ত হাজার হাজার বিঘা জমির মালিকানা হারানো তো বিরাট সমস্যা।

৭)
তখন এলিট হিন্দুদের সন্তানেরা কম্যুনিস্ট পার্টিতে যোগ দেয়। এই কম্যুনিস্ট পার্টির এক নেত্রীর নাম ইলা মিত্র। সে পাকিস্তান আন্দোলন থেকে জনমতকে ঘুরাতে তে-ভাগা নামক এক আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনের মূল কথা ছিল, জমিতে যে ফসল হবে, তার তিন ভাগের দুই ভাগ পাবে কৃষক। এক ভাগ পাবে জমিদার।

৮)

ভালমত খেয়াল করেন। পাকিস্তান আন্দোলন বলছে, পাকিস্তান কায়েম হলে পুরো জমিদারি বাতিল হয়ে , জমির মালিকানা চলে যাবে কৃষক এর হাতে। সেখানে তেভাগা আন্দোলন বলছে, বাপু জমির মালিকানা জমিদারের হাতেই থাকুক। শুধু তিন ভাগের দুই ভাগ ফসল কৃষকক দিলেই হবে।

৯)

যা হোক, পবিত্র শবে কদরের রাতে আল্লাহর রহমতে পাকিস্তান কায়েম হল। এরপর মাত্র আড়াই বছরে মুসলিম লীগ সরকার জমিদারি প্রথা বাতিল করে দেয়। জমির মালিকানা কৃষকদের হাতে দিয়ে দেয়।

১০)

কিন্ত এই ক্ষত হিন্দু এলিটরা সহ্য করতে পারে নাই। পাকিস্তান কায়েম হবার কারনে সূর্যসেনের সন্তানদের জংগি দল অনুশীলন বা হিন্দু মহাসভা করার পথ বন্ধ হয়ে যায়। তখন তারা দলে দলে বাম দলে যোগ দেয়। এই বাম দলগুলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিষ ঢালতে থাকে। এরাই ভাষা আন্দোলনের মত কৃত্রিম ইস্যুকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করে তোলে। ৭১ ও এদের মগজজাত।

হিন্দু লবি কিভাবে পূর্ব পাকিস্তানকে আলাদা করার রোড ম্যাপ করেছিল, তার বিস্তারিত জানতে হলে ডাক্তার কালিদাস বৈদ্য এর লেখা " বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের অন্তরালে শেখ মুজিব" বইটি পড়তে পারেন।

আমারা এতই অভাগা যে এই দেশে এখন ইলা মিত্র হল বীর আর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ হলেন ভিলেন।

রথসচাইল্ড পরিবারের নাম আমরা অনেকেই শুনেছি। কিন্তু তাদের সম্পদের পাহাড়ের নিচে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার আর পঙ্গু করে দেওয়া এ...
08/08/2026

রথসচাইল্ড পরিবারের নাম আমরা অনেকেই শুনেছি। কিন্তু তাদের সম্পদের পাহাড়ের নিচে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার আর পঙ্গু করে দেওয়া এক জিনগত অভিশাপের কথা হয়তো আমাদের অনেকেরই অজানা। একটি দীর্ঘ বিশ্লেষণধর্মী ডকুমেন্টারি দেখার পর আমার মনে হলো, এই অদ্ভুত আর ভয়ংকর আখ্যানটি নিয়ে আপনাদের সাথে কথা বলা প্রয়োজন।

আমি বরাবরই পর্দার আড়ালের সত্য আর মানুষের মানসিকতার চরম পরিণতিগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পছন্দ করি। আজকের আলোচনাটিও ঠিক তেমনই একটি বিষয় নিয়ে, যেখানে সম্পদের পাহাড় গড়তে গিয়ে একটি পরিবার নিজেদের রক্তকেই কীভাবে এক অদৃশ্য খাঁচায় বন্দি করেছিল, তার এক নিখুঁত এনালাইসিস আমরা করব।

সতেরোশো চুয়াল্লিশ সালের ফ্রাংকফুর্টের এক অন্ধকার আর স্যাঁতসেঁতে বস্তি জুডেনগাসাতে জন্ম নিয়েছিল মেয়ার আমশেল। সেই সময়কার ইহুদিদের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া ছোট্ট এক চিলতে গলিতে চার হাজার মানুষের দমবন্ধ করা বাসভূমি ছিল সেটি, যেখানে জায়গা ছিল মাত্র পাঁচশো জনের। দিনের আলো সেখানে ঠিকমতো পৌঁছাতো না আর রাতের বেলা বাইরের জগৎ থেকে পুরো গলিটাকে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো।

আমি যখন এই দমবন্ধ করা পরিবেশটার কথা ভাবছিলাম, তখন আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠলো, কেন মেয়ার আমশেলের ভেতরে এমন এক তীব্র জেদ আর টিকে থাকার অমানবিক প্রবৃত্তি তৈরি হয়েছিল। সে ছোটবেলা থেকেই দেখেছিল, তার বাবাকে রাস্তায় খ্রিস্টানদের সামনে মাথা নিচু করে অপমান সহ্য করতে। আইন বা সমাজ তাকে কোনো নিরাপত্তা দেয়নি বরং পদে পদে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, সে সেখানে অবাঞ্ছিত।

এই নিষ্ঠুর পরিবেশে বেড়ে ওঠা একটি ছেলে খুব দ্রুতই বুঝে গিয়েছিল, পৃথিবীতে সম্মান আর নিরাপত্তা আদায় করার একটাই অস্ত্র রয়েছে, আর তা হলো, মূলধন। বারো বছর বয়সে মহামারি তার বাবা মাকে কেড়ে নিলে এই অনাথ ছেলেটি নিজের বেঁচে থাকার তাগিদেই এক অনন্য পথ বেছে নেয়। সে বুঝতে পারে, রাজপরিবারের মানুষদের অনেক জমিজমা থাকলেও তাদের কাছে নগদ অর্থের অভাব থাকে। আর ঠিক এই দুর্বলতাকেই সে নিজের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে। দুর্লভ কয়েন বিক্রির মাধ্যমে সে রাজদরবারে প্রবেশ করে এবং অপমান সহ্য করেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেয়।

এখান থেকেই শুরু হয় এক বিশাল সাম্রাজ্যের ভিত গড়া।

মেয়ার আমশেলের দশটি সন্তান বেঁচে ছিল, যা সেই সময়ের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রায় অকল্পনীয় ব্যাপার ছিল। সে তার পাঁচ ছেলেকে ইউরোপের পাঁচটি প্রধান শহরে পাঠায়। লন্ডন থেকে প্যারিস এবং ভিয়েনা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে তাদের বিশাল নেটওয়ার্ক।

ফরাসি বিপ্লব আর নেপোলিয়নিক যুদ্ধের ডামাডোলে যখন পুরো ইউরোপ জ্বলছে, তখন এই পরিবারটি যুদ্ধের রসদ জুগিয়ে নিজেদের সম্পদকে এক অকল্পনীয় উচ্চতায় নিয়ে যায়।

রাজপরিবারের মানুষেরা তাদের সম্পদ লুকানোর জন্য এই পরিবারের দ্বারস্থ হতো।

তারা অন্যের সম্পদকে নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। কিন্তু যত তাদের সম্পদ বাড়তে থাকে, মেয়ার আমশেলের মনে তত বেশি ভয় বাসা বাঁধে। সে বুঝতে পারে, তার মেয়েদের বিয়ে হলে তাদের সাথে সম্পদের একটা বিশাল অংশ অন্য পরিবারে চলে যাবে।

আঠারোশো বারো সালে মৃত্যুর আগে সে এমন এক উইল করে যায়, যা ছিল একাধারে তাদের সাম্রাজ্যের ব্লুপ্রিন্ট আর অন্যদিকে এক ভয়ংকর অভিশাপ। সে নির্দেশ দেয়, ব্যবসার সমস্ত নিয়ন্ত্রণ থাকবে কেবল পুরুষদের হাতে এবং বাইরের কোনো মানুষ যেন কখনো তাদের সম্পদের প্রকৃত আকার জানতে না পারে।

কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর যে নিয়মটি সে বেঁধে দিয়েছিল তা হলো, নিজেদের সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবারের ভেতরেই বিয়ে করতে হবে। সে একটি আবদ্ধ সিস্টেম তৈরি করতে চেয়েছিল, যেখানে কোনো অর্থ বাইরের পরিবেশে হারিয়ে যাবে না। চাচা বিয়ে করবে ভাতিজিকে আর কাজিন বিয়ে করবে কাজিনকে।

পরিবারের কোনো মেয়ে যখন বাড়ি ছাড়বে, তখন সে আসলে নিজের চাচার বাড়ি বা কাজিনের বাড়িতেই ঢুকবে এবং তার যৌতুকের অর্থ পুনরায় তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকেই ফিরে আসবে। সম্পদ ধরে রাখার এই অমানবিক লোভ তাদের রক্তকে এক বদ্ধ কারাগারে পরিণত করে।

একটু লক্ষ্য করে দেখুন, কীভাবে একটি মানুষ তার সম্পদের মোহে নিজের পুরো প্রজন্মকে এক জিনগত বন্দিশালায় আটকে দিয়েছিল। সেই সাথে আরও একটি বিষয়! যে হিন্দুরা কাজিন বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে সারাদিন মুসলিমদের পিছনে পরে মরে, ঠিক সেই একই হিন্দুরা কাজিন + ভাতিজী বিয়ে করা ইহুদিদের পা চাটে! সো এ থেকেই স্পষ্ট, এরা কতটা অন্ধভক্ত! যাইহোক, একটা তথ্য দিয়ে রাখি, ইহুদিরা ভাতিজী বিয়ে করে, আর হিন্দুরা করে ভাগ্নি! আবার অনেকে তো… থাক আর না বলি!

যাইহোক, এই নিয়মের যাঁতাকলে পড়ে আঠারোশো চব্বিশ থেকে আঠারোশো সাতাত্তর সাল পর্যন্ত তাদের পরিবারের একুশটি বিয়ের মধ্যে পনেরোটিই হয়েছিল আপন কাজিনদের মধ্যে। প্যারিসে জেমস ডি রথসচাইল্ড তার নিজের ভাইয়ের উনিশ বছর বয়সী মেয়ে বেটিকে বিয়ে করে।

প্রথমদিকে এই বদ্ধ পদ্ধতি জাদুকরীভাবে কাজ করেছিল। তাদের সম্মিলিত সম্পদ দিয়ে তারা ইউরোপের শিল্পবিপ্লবে সরাসরি অর্থায়ন করে। স্টিম ইঞ্জিন থেকে শুরু করে বিশাল রেললাইন নেটওয়ার্ক সবকিছুই তাদের ব্যক্তিগত টাকায় তৈরি হতে থাকে। তারা হয়ে ওঠে আধুনিক বিশ্বের স্থপতি।

কিন্তু তারা খেয়াল করেনি যে, সম্পদের এই প্রাচীর তাদের জিনগত কাঠামোকে ভেতর থেকে কতটা দুর্বল করে দিচ্ছে। প্রকৃতি কখনো তার ঋণ ছাড়ে না। যখন একই রক্ত বারবার নিজেদের মধ্যে ঘুরতে থাকে, তখন সেই রক্ত তার আদি অকৃত্রিম জীবনীশক্তি হারিয়ে ফেলে।

আমি অবাক হয়ে ভাবছিলাম এবং এখনও ভাবছি, এই নিয়মের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে মানুষের আবেগ ঠিক কতটা বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারে। হানা মেয়ার নামের এক নারী প্রথম এই লৌহকঠিন নিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। সে লন্ডনের বিশাল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী হয়েও তার কাজিনদের মধ্যে কাউকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। সে একজন বাইরের সাধারণ অভিজাত ব্যক্তিকে ভালোবেসে ফেলে, যার হয়তো পদবি ছিল, কিন্তু রথসচাইল্ডদের মতো সম্পদ ছিল না।

পরিবার তাকে বাধা দেয় এবং এক চরম শর্ত ছুঁড়ে দেয়।

যদি সে বাইরের কাউকে বিয়ে করে, তবে তাকে পরিবারের খাতা থেকে চিরতরে মুছে ফেলা হবে। হানা অর্থের চেয়ে প্রেম আর মুক্তিকে বেছে নিয়েছিল। তাকে আক্ষরিক অর্থেই একঘরে করে দেওয়া হয়। তার বিয়ের দিন পুরো পরিবার এমনভাবে শোক পালন করেছিল, যেন কেউ মারা গেছে। এরপর তার নাম আর কখনো কেউ মুখে আনেনি। এমনকি সে যখন সন্তান জন্ম দিয়েছে বা অসুস্থ হয়েছে তার মা তার চিঠির কোনো উত্তর দেয়নি।

এই ভয়ংকর নীরবতা আর বিচ্ছিন্নতা প্রমাণ করে যে, তাদের কাছে রক্ত বা ভালোবাসার চেয়ে নিজেদের তৈরি করা নিয়মের প্রাচীর অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

হানার এই বিদ্রোহ পরিবারটিকে আরও বেশি ভীত করে তোলে এবং তারা নিজেদের আরও শক্তভাবে গুটিয়ে নেয়। তারা নিজেদের জন্য বিশাল সব প্রাসাদ আর প্রাইভেট এস্টেট তৈরি করে, যেখানে বাইরের কোনো মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল না।

কিন্তু ততদিনে জিনগত বিপর্যয় শুরু হয়ে গেছে।

আঠারোশো পঞ্চাশ সালে নাথানিয়েল এবং এমা নামের দুই ডাবল কাজিনের বিয়ে হয়।

তাদের জিনগত মিল এত বেশি ছিল যে, তা প্রায় ভাইবোনের বিয়ের সমতুল্য ছিল। তাদের নতুন প্রজন্ম অত্যন্ত মেধাবী হলেও, শারীরিকভাবে ভঙ্গুর হতে থাকে। তাদের মধ্যে মাইগ্রেন থেকে শুরু করে নানা ধরনের মানসিক জটিলতা দেখা দিতে শুরু করে এবং জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। আর এই জিনগত বিপর্যয়ের সবচেয়ে মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে জন্ম নেয়, লিওনেল ওয়াল্টার রথসচাইল্ড।

আমি এই মানুষটির জীবন নিয়ে খুব গভীরভাবে চিন্তা করেছি। সে এমন এক পরিবারে জন্মেছিল, যারা কথায় আর যুক্তিতে পুরো বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করতো, অথচ সে নিজে একটা বাক্যও ঠিকমতো বলতে পারতো না। তার তীব্র তোতলামি ছিল। তার বাবা ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি আর ওয়াল্টার ছিল এক অদ্ভুত একাকীত্বের শিকার। তাকে জোর করে ব্যাংকের ডেস্কে বসানো হয়েছিল, কিন্তু ব্যাংকের নিষ্ঠুর পরিবেশে টিকতে না পেরে সে নিজেকে গুটিয়ে নেয়।

ওয়াল্টার তার পুরো জীবন আর সম্পদ উৎসর্গ করে এক বিশাল মিউজিয়াম তৈরিতে।

সে সারা বিশ্ব থেকে মৃত প্রাণী সংগ্রহ করতে থাকে। তার কাছে মনে হয়েছিল মৃত প্রাণীরা তাকে বিচার করবে না। তারা তার কাছে ঋণ চাইবে না বা তাকে কোনো কঠিন শর্তে বেঁধে ফেলবে না।

সে লন্ডনের রাস্তায় চারটি বুনো জেব্রা দিয়ে টানা এক গাড়ি চালিয়ে বের হতো। বাইরের মানুষের কাছে এটি কেবলই এক ধনীর পাগলামি মনে হলেও, মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে এটি ছিল এক চরম বিষণ্ণ মানুষের স্বীকৃতি পাওয়ার আকুতি। সে বোঝাতে চাইতো, সে হয়তো ব্যাংকের হিসাব মেলাতে পারে না, কিন্তু সে বন্যতাকে বশ করতে পারে। তার এই জেব্রা চালানো আসলে তার ভেতরের নিঃশব্দ কান্নারই এক বহিঃপ্রকাশ ছিল। তার কোনো স্বাভাবিক মানবিক সম্পর্ক ছিল না। একাকিত্ব ঘোচাতে গিয়ে সে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয় এবং নিজের জমানো সংগ্রহের অনেক কিছুই তাকে বিক্রি করে দিতে হয়, কেবল নিজের সম্মান বাঁচানোর জন্য। সে মারা যায় একাকী আর নিঃসন্তান অবস্থায়। তার সাথে সাথেই শেষ হয়ে যায় তাদের সেই আদি অকৃত্রিম রক্তধারা।

কিন্তু রথসচাইল্ড পরিবারের এই বদ্ধ জগতের পতন কেবল জিনগত কারণেই হয়নি। ইতিহাসের পালাবদল তাদের শিখিয়ে দেয় যে, সম্পদের দেয়াল কখনোই চূড়ান্ত নিরাপত্তা দিতে পারে না।

উনিশশো আটত্রিশ সালে নাৎসিরা যখন অস্ট্রিয়া দখল করে, তখন তাদের ভিয়েনার প্রধান লুই ডি রথসচাইল্ডকে গ্রেপ্তার করা হয়। যে পরিবারটি ভাবতো তাদের সম্পদ তাদের যেকোনো বিপদ থেকে বাঁচাবে, তারা দেখলো, কীভাবে একদল হায়েনা তাদের সমস্ত সাজানো বাগান তছনছ করে দিচ্ছে।

নাৎসিরা তাদের প্রাসাদগুলো দখল করে নেয় এবং তাদের অমূল্য শিল্পকর্ম লুট করে। তাদের বিশাল অঙ্কের মুক্তিপণ দিয়ে লুইকে ছাড়িয়ে আনতে হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তাদের বুঝিয়ে দেয় যে, নিজেদের গুটিয়ে রাখাটা আদতে আত্মহত্যারই সামিল। যুদ্ধের পর এই পরিবারটি অবশেষে বুঝতে পারে যে, টিকে থাকতে হলে তাদের এই কাজিন বিয়ের প্রথা ভাঙতে হবে। তারা বাইরের মানুষদের সাথে মিশতে শুরু করে। নতুন রক্তের মিশ্রণে তাদের জিনগত দুর্বলতাগুলো ধীরে ধীরে কেটে যায়। তারা আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ায়।

কিন্তু সেই পুরোনো প্রথার রেশ আজও তাদের পিছু ছাড়েনি।

তারা এখনও নিজেদের অত্যন্ত গোপন রাখে।

মেয়ার আমশেল চেয়েছিল, তার পরিবারকে সবার থেকে আলাদা করে রাখতে, আর সে এতটাই সফল হয়েছিল যে, আজ তারা মানুষের চোখে কেবলই এক মিথ বা রূপকথার খলনায়কে পরিণত হয়েছে। তারা পুঁজিবাদের খেলায় জিতেছিল, কিন্তু প্রকৃতির কাছে তারা হেরে গিয়েছিল নিদারুণভাবে।

@ Touhidul Islam

- বাড়িতে লুবান / ধূপ ব্যবহার করুন।🔰 আলী (রাযিয়াল্লাহু 'আনহু)-এর কাছে এক ব্যক্তি স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার অভিযোগ করলে ...
23/07/2026

- বাড়িতে লুবান / ধূপ ব্যবহার করুন।
🔰 আলী (রাযিয়াল্লাহু 'আনহু)-এর কাছে এক ব্যক্তি স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার অভিযোগ করলে তিনি বলেন:

"তুমি লুবান* গ্রহণ করো। কারণ এটি হৃদয়কে শক্তিশালী করে এবং স্মৃতিভ্রংশ (ভুলে যাওয়া) দূর করে।"

- [ যাদুল মা'আদ : খন্ড : 3 পৃষ্ঠা : 356 ]

* = লুবান হলো এক প্রকার সুগন্ধি। যেটাকে আমরা ধূপ বলে চিনি ইংরেজিতে বলা হয় (frankincense)

"এমন একজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন যিনি ১৯৬৫ সালে নিজের একটি ৪ চাকার গাড়ি ক্রয় করতে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে মাত্র ৫ হ...
27/05/2026

"এমন একজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন যিনি ১৯৬৫ সালে নিজের একটি ৪ চাকার গাড়ি ক্রয় করতে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে মাত্র ৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, জীবদ্দশায় সেই ঋণের একটি কিস্তিও উনি জমা করতে পারেননি ।
১৯৬৬ সালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ উনার বাড়িতে নোটিশ পাঠান। নোটিশ পেয়ে উনার স্ত্রী নিজের পেনশনের টাকা থেকে ঐ ঋণের সকল কিস্তি জমা করেন।

যার কথা বলছি উনি আর কেউ নন, উনি লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। উনার সহধর্মিণী ললিতা শাস্ত্রীও ঠিক উনারই মতো সৎ স্বভাবী ছিলেন এবং সারা জীবন একজন প্রকৃত জীবনসঙ্গীর মতোই পাশে ছিলেন।

শাস্ত্রীর ঐ ৪ চাকার গাড়িটি আজও রয়েছে জনপথের আবাসে (বর্তমানে সংগ্রহশালা)!

এবার এখানে একটু থামুন, আর ভাবুন কিছু এমন লোকের কথা যারা ব্যাঙ্ক এর ঋণের কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা। এমন আর একটি ঘটনার কথা আজ বলা খুব দরকার।

১৯৬২ সালের কথা, সেসময় শাস্ত্রীজি অখিল ভারতীয় কংগ্রেস কমিটির মহাসচিব।

তখন প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহেরু। উনার কোনো এক কাজের দরুন কাশ্মীর যাওয়ার দরকার ছিল। নেহরু উনাকে কাশ্মীর যেতে লাগাতার অনুরোধ করলেও তিনি বার বার যেতে অস্বীকার করেন। পণ্ডিত নেহরুও হতচকিত। কেন উনি যেতে রাজী হচ্ছেন না।

রীতিমত অবাক পণ্ডিত নেহরু। পণ্ডিত নেহরু কিন্তু উনাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভালবাসেন। তখন নেহরু উনাকে কাশ্মীর না যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। প্রথমে তো উত্তর দিতেই নারাজ। শুধু একটাই কথা আমি যাবো না।

কিন্তু বহু বার অনুরোধ করার পর উনি যে উত্তর দিলেন তাতে নেহরুর চোখে জল চলে আসে। শাস্ত্রী বললেন, কাশ্মীরে খুব ঠাণ্ডা পড়ছে। আর তার কাছে গরম পোষাক-আশাক নেই।

পণ্ডিত নেহরু অত্যন্ত ভাবুক হয়ে পড়েন এবং নিজের একখানা গরম বস্ত্র উনাকে দেন। পণ্ডিত নেহরুও এই কথাটি আর কাউকে বলেননি।

এই লাল বাহাদুর শাস্ত্রী যখন প্রধানমন্ত্রী হন তখন সেদিনের নেহরুর দেওয়া ঐ কোটটি পরিধান করেই শপথ নেন। এই একটি কোট দুই প্রধানমন্ত্রী ব্যবহার করেছিলেন।

এবার এখানে আবারও একটু থামুন, এবং ভাবুন- আজকের নেতারা দশ লাখের স্যুট পরিধান করে নিজে কে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গরিব বলে দাবী করেন।কত বাহুল্য! কত রঙ্গ! কত বিলাসিতা!"

অতি চমৎকার এই লেখাটি লিখেছিলেনঃ Adeeb Mahmood

উপমহাদেশের সেই বিখ্যাত আলেম…যার ভয়ে খ্রিস্টান মিশনারীরা ভয়ে পালিয়ে থাকতো..নামা:  রহমতুল্লাহ কিরানভী (রাহ.) (১৮১৮–১৮৯১)।ত...
27/04/2026

উপমহাদেশের সেই বিখ্যাত আলেম…যার ভয়ে খ্রিস্টান মিশনারীরা ভয়ে পালিয়ে থাকতো..
নামা: রহমতুল্লাহ কিরানভী (রাহ.) (১৮১৮–১৮৯১)।

তিনি ছিলেন এমন একজন আলেম, যিনি শুধু মসজিদ বা মাদরাসার ভেতর সীমাবদ্ধ থাকেননি..বরং ঔপনিবেশিক যুগে ইসলামের বিরুদ্ধে উঠা বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সামনের সারিতে দাঁড়িয়েছিলেন। উপমহাদেশে যখন খ্রিস্টান মিশনারিরা ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি কুরআন, হাদীস ও প্রতিপক্ষের নিজস্ব গ্রন্থ থেকেই শক্তিশালী জবাব দেন।
তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মুহাদ্দিস, তীক্ষ্ণ মেধাসম্পন্ন গবেষক এবং শক্তিশালী মুনাযির। তাঁর সাথে ইলমী মোকাবিলা করা সহজ ছিল না—কারণ তিনি আবেগ দিয়ে নয়, দলিল দিয়ে কথা বলতেন; দাবি নয়, প্রমাণ উপস্থাপন করতেন।
তৎকালীন বিখ্যাত খ্রিস্টান মিশনারি
কার্ল গটলিব ফান্ডার

কার্ল গটলিব ফান্ডার (আসল নাম: Karl Gottlieb Pfander) (১৮০৩- ১৮৬৫) ছিলেন একজন খ্রিস্টান মিশনারি ও ধর্মতাত্ত্বিক।

তিনি মূলত ইসলাম ও খ্রিস্টধর্ম নিয়ে বিতর্কমূলক লেখালেখি ও মিশনারি কার্যক্রমের জন্য পরিচিত ছিলেন।
ভারতবর্ষে এসে ইসলামবিরোধী প্রচারণা শুরু করলে, রহমতুল্লাহ কিরানভী (রাহ.) তার বিরুদ্ধে দাঁড়ান। ১৮৫৪ সালে আগ্রায় তাদের মধ্যে ঐতিহাসিক মুনাযারা অনুষ্ঠিত হয়।
এই মুনাযারায় তিনি বাইবেলের বিভিন্ন সংস্করণ, ঐতিহাসিক তথ্য ও খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করে দেখান..গ্রন্থগত অসঙ্গতি ও পরিবর্তনের বিষয়। তাঁর উপস্থাপিত যুক্তি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, মিশনারি পক্ষকে বারবার রক্ষণাত্মক অবস্থান নিতে হয়। এই ঘটনার পর মুসলিম সমাজে নতুন করে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি হয় এবং ইসলামবিরোধী প্রচারণা অনেকাংশে দুর্বল হয়ে পড়ে।
এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি রচনা করেন বিখ্যাত গ্রন্থ
ইযহারুল হক
যা আজও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে (Comparative Religion) একটি শক্তিশালী রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে তিনি অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে খ্রিস্টানদের বিভিন্ন দাবির জবাব দেন এবং ইসলামের সত্যতা তুলে ধরেন।
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ, এর পর ব্রিটিশরা অনেক আলেমের মতো তাঁর প্রতিও কঠোর অবস্থান নেয়। ফলে তিনি হিজরত করে মক্কায় চলে যান। সেখানে তিনি থেমে থাকেননি..বরং নতুনভাবে দাওয়াহ ও ইলমের কাজ শুরু করেন।
মক্কায় তিনি মাদরাসা সাওলাতিয়া প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে হিজাজ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইলমী কেন্দ্র হয়ে ওঠে। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা বহু ছাত্র পরবর্তীতে ইসলামী জ্ঞান প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তিনি এমন একজন আলেম ছিলেন..যেখানে অনেকে চুপ থেকেছে, তিনি সেখানে কথা বলেছেন;
যেখানে অনেকে আপস করেছে, তিনি সেখানে হকের উপর অটল থেকেছেন।
তাঁর লেখনী ছিল গভীর গবেষণাভিত্তিক, তাঁর যুক্তি ছিল সুসংহত, আর তাঁর দাওয়াহ ছিল খাঁটি তাওহীদ ও সহীহ সুন্নাহর উপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি প্রমাণ করে গেছেন—ইসলাম শুধু বিশ্বাসের ধর্ম নয়, বরং শক্তিশালী যুক্তি ও জ্ঞানের উপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা।
তিনি ইন্তেকাল করেছেন… কিন্তু তাঁর কিতাব, তাঁর দাওয়াহ, তাঁর ইলম আজও জীবিত। তাঁর লেখা আজও বাতিলের বিরুদ্ধে দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং মানুষকে সত্যের পথে আহ্বান জানায়।
তিনি শুধু একজন মুনাযির ছিলেন না, বরং একজন বড় মাপের দাঈ ও সংস্কারক, যিনি জ্ঞানের মাধ্যমে উম্মাহকে শক্তিশালী করেছেন। এমনকি তাঁর বিরোধীরাও স্বীকার করত..তাঁর যুক্তি ও দলিলের সামনে দাঁড়ানো সহজ ছিল না।
আধুনিক যুগের প্রখ্যাত দাঈ ড. জাকির নায়েক এবং আহমেদ দীদার তাঁদের দাওয়াহ ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের আলোচনায় ইমাম রহমতুল্লাহ কিরানবী (রহ.)-এর বিখ্যাত গ্রন্থ ইযহারুল হক থেকে বিভিন্ন প্রামাণ্য রেফারেন্স ও দলিল ব্যবহার করে থাকেন।
আল্লাহ তা’আলা… রহমতুল্লাহ কিরানভী (রাহ.)-কে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন, তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন, তাঁর মর্যাদা উচ্চ করুন এবং আমাদেরকেও তাঁর মতো হকের উপর অটল থাকার তাওফীক দান করুন।
আমিন।

১একজন পরামর্শ দিলেন, বিয়ে করবেন ভেবেচিন্তে। যোগ্য একজন মেয়ে খুঁজে নিবেন। যিনি আপনার কথা বুঝতে পারবেন। পরামর্শ যিনি দিয়েছ...
25/04/2026


একজন পরামর্শ দিলেন, বিয়ে করবেন ভেবেচিন্তে। যোগ্য একজন মেয়ে খুঁজে নিবেন। যিনি আপনার কথা বুঝতে পারবেন। পরামর্শ যিনি দিয়েছেন তিনি আমার প্রতি আন্তরিক। পরামর্শটাও দিয়েছেন আমার ভালোর জন্যই। সমস্যা হলো, তিনি ধরে নিয়েছেন বিয়ের পর আমি বউয়ের সাথে হিব্রু ভাষায় কথা বলবো। যে কথা বউ বুঝবে না সেই কথা বউকে বলারই বা কী দরকার। আর বউ কিছু বুঝবে না এটাই বা কেমন কথা? বউরা তো সবই বুঝে। চেহারা দেখেই বলে দিতে পারে সব। আরেকজন পরামর্শ দিলেন, ভাই একটু শান্ত মেয়ে দেখে নিবেন। অনেক মেয়ে আছে খুব রাগী। স্বামীকে একেবারে করায়ত্ত করে রাখে। এইটাও তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ না।

একটু-আধটু করায়ত্ত থাকলে কী এমন অসুবিধে। আলাউদ্দিন কাসানির মতো জগদ্বিখ্যাত ফকিহও তো স্ত্রীর কথার এদিক-সেদিক করতেন না। আলাউদ্দিন কাসানি। হানাফী ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ বাদায়িউস সানায়ে’র লেখক। মূলত এই গ্রন্থটি হলো তার উস্তাদ ও শ্বশুর মুহাম্মদ সমরকন্দীর লেখা তুহফাতুল ফুকাহা গ্রন্থের ব্যখ্যাগ্রন্থ। তার বিয়ের মোহরই ছিল এই গ্রন্থটি। স্ত্রী ফাতেমা ছিলেন ফিকাহশাস্ত্রে দক্ষ।

আলাউদ্দিন কাসানিও স্ত্রীকে সম্মান করতেন। আলাউদ্দিন কাসানি বসবাস করছিলেন হালাবে। স্ত্রী বললেন, চলুন, আমরা কাসান ফিরে যাই। আলাউদ্দিন কাসানি মেনে নিলেন এই আবদার। সংবাদ পেয়ে চমকে গেলে সুলতান নুরুদ্দিন জেংগি। ডেকে নিলেন আলাউদ্দিনকে। বললেন , এ হতে পারে না। আপনি এখানেই থাকুন। আলাউদ্দিন কাসানি বললেন, আমার স্ত্রী এখানে থাকতে চাচ্ছেন না। তিনি আমার উস্তাদের মেয়ে। আমি তার ইচ্ছার বিরোধিতা করব না। সুলতান একজন মহিলাকে পাঠালেন ফাতেমা বিনতু মুহাম্মদ সমরকন্দীর কাছে। শেষে ফাতেমা রাজি হলেন হালাবে থাকতে। আলাউদ্দিনও আর নড়লেন না। হালাবেই থেকে গেলেন মৃত্যু পর্যন্ত। (১)

আলাউদ্দিন কাসানির ঘটনা থেকে বুকে বল পাচ্ছি। মানে একটু-আধটু বউয়ের ন্যাওটা হওয়া মন্দ কিছু নয়। এখন কথা হলো বউ স্বামীর ন্যাওটা হবে কিনা তা বুঝা যাচ্ছে না। গুরুজন ও অগ্রজদের এ প্রশ্ন করে সদুত্তর পাইনি। কিন্তু বেশি ন্যাওটা হলেও সমস্যা। পড়াশোনা লাটে উঠবে। এমনিতেই বিশরে হাফি বলে গেছেন, ذُبِحَ العلم على أفخاذ النساء । কী কঠিন আরবীরে বাবা। তরজমা করলে আইডি থাকবে না। কাছাকাছি ধরণের কথাই বলেছেন ইমাম সুফিয়ান সাওরিও।

তিনি বলেছেন, مَنْ أَحَبَّ أَفْخَاذَ النِّسَاءِ، لَمْ يُفْلِحْ. । (২) এটাও তরজমা করার সাহস পাচ্ছি না। এর চেয়ে আবু নসর সিযযির কথাটাই বলা যাক। তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এক মহিলা। জবাবে তিনি বলেছিলেন, আমি সিজিস্তান থেকে বের হয়েছি ইলমের জন্য। এখন বিয়ে করলে তালিবুল ইলমের খাতা থেকে আমার নাম বাদ পড়বে। (৩)

এটুকু শুনেই যারা ভয়ে কেঁপে উঠেছেন তাদের বলছি, ভয়ের কিছু নেই। বিয়ের পরেও ব্যাপক পড়াশোনা করেছেন এমন উদাহরণও আমাদের সামনে আছে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ গ্রন্থের লেখক ইবনে রুশদের কথাই ধরা যাক। তার জীবনিতে এসেছে, জ্ঞান-বুদ্ধি হওয়ার পর শুধু দুইটি রাতে তিনি পড়াশোনা বাদ দিয়েছিলেন। একটি তার পিতার মৃত্যুর রাত। অপরটি তার বাসর রাত। (৪)

কিন্তু কথা হলো বউ আপনাকে পড়তে দিবে কিনা কে জানে। এমনিতেই মাহমুদুদ্দৌলা ইবনে ফাতিকের বউ ছিল তার উপর ক্ষেপা। ইবনে ফাতিক সারাদিন বই পড়তেন, বউকে সময় দিতেন কম। স্বামী জীবিত থাকতে কিছু বলতে পারেননি। স্বামী মারা গেলে সব বই ফেলে দিয়েছেন হাউজের পানিতে। (৫)

দেখা যাচ্ছে ‘পড়ুয়া মেয়েটিকে বধুয়া করো’ শ্লোগান যারা দিচ্ছেন তারা আমাদের কাছে কিছু কিছু বিষয় আড়াল করছেন। বধুয়া আর পড়ুয়ার আলাপ বাদ। মুজতবা আলী যে পয়লা রাতে বিড়াল মারতে বললেন, সেটার কী হবে? সম্ভবত এটা কোনো কাজের কথা নয়। কারণ, প্রতিদিন এত মানুষ বিয়ে করার পরেও রাস্তাঘাটে এখনো এত বিড়াল দেখা যাচ্ছে কীভাবে?

আধুনিক গবেষকদের অনেকের মতে, জীবনের সবচেয়ে চ্যাতা সময় হলো যখন বিয়ের জন্য কথাবার্তা শুরু হয়। সেটা নাকি অন্য এক জগত। পরে একদিন সেই জগত থেকেও আমরা ঘুরে আসবো।


বিয়ে করতে কমবেশি সবাইই আগ্রহী। এমনকি যারা করে ফেলেছেন তারাও বিয়ে নিয়ে লেখা পড়তে আগ্রহী। কিন্তু বিয়ে করা কি এতই সহজ? আমাদের সমাজে বিয়ে মানে কাড়ি-কাড়ি টাকার খেলা। এজন্য তরুণ তুর্কীরা এক কদম আগায় তো দশ কদম পেছায়। তবে সাইদ ইবনুল মুসাইয়্যিবের মত শ্বশুর পেলে বিয়ে করা সহজই হয়ে যায়। সাইদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, আলি ইবনুল মাদিনী যার সম্পর্কে বলেছেন, তাবেয়ীদের মধ্যে এত প্রশস্ত ইলমের অধিকারী আর কাউকে চিনি না। কাতাদাহ বলেছেন, আমি তার চেয়ে বড় কোনো আলেম দেখিনি।

সাইদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, অসামান্য সাহসিকতার অধিকারী এই তাবেয়ী কখনো অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি। জাবির বিন আসওয়াদ যখন আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইরের পক্ষে বাধ্যতামূলক বায়াত নেয়া শুরু করেন, তখন সাইদ কঠোরতার নিন্দা জানান। পরিনামে জাবির তাকে বেত্রাঘাত করেন। তখনো তিনি হকের পক্ষে অনড় ছিলেন। জাবিরের ছিল চার স্ত্রী, পরে এক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ইদ্দত চলাকালীন পঞ্চম স্ত্রী গ্রহণ করেন, যা ছিল স্পষ্ট হারাম। সাইদ নির্যাতিত অবস্থাতেও এই অনাচারের প্রতিবাদ করেন। এই সাইদ ইবনুল মুসাইয়্যিব তার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন তার ছাত্র আবু ওয়াদাআর কাছে।

আবু ওয়াদাআর প্রথম স্ত্রী ইন্তেকাল করেন। এই কারনে তিনি কয়েকদিন দরসে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি দরসে উপস্থিত হলে সাইদ নিজের মেয়ের সাথে তার বিয়ে দেন। আবু ওয়াদাআ আর্থিকভাবে দুর্বল ছিলেন। কিন্তু সাইদ সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে নিজের মেয়েকে তুলে দেন তার হাতে। মেয়েও যেমন তেমন মেয়ে নয়। আবু ওয়াদাআ নিজের স্ত্রী সম্পর্কে বলেছেন, আমার সৌভাগ্য আমি এমন স্ত্রী পেয়েছি যিনি হাফেজা এবং হাদীস শাস্ত্রেও পারদর্শী। সৌন্দর্যেও অতুলনীয়া। সাইদের এই মেয়ের জন্য উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ানের ছেলে ওয়ালিদের বিবাহের প্রস্তাব এসেছিল। সাইদ তা ফিরিয়ে দেন। (৬)

এই সুযোগে আমরা একটু সিরিয়াস আলাপ করে ফেলি। আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ানের ছেলের প্রস্তাব সাইদ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এখানে ওয়ালিদের বিশেষ যোগ্যতা ছিল দুটি। প্রথমত, তিনি মুসলিম বিশ্বের যুবরাজ। দ্বিতীয়ত, তিনি ‘বড় আলেমের ছেলে’ (সহজ ভাষায় বলতে গেলে সাহেবজাদা)। আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা কথা থাকতে পারে কিন্তু ইলমি দুনিয়ায় তিনি যে শাহেনশাহ ছিলেন তাতে কারো দ্বিমত নেই। তার সম্পর্কে ইবনু উমর বলেছেন, মারওয়ানের ছেলে একজন ফকিহ। তোমরা তাকে প্রশ্ন করো (অর্থাৎ মাসআলা জিজ্ঞেস করো)।

অন্যবার তিনি বলেছিলেন, মানুষ তার সন্তান জন্ম দেয় কিন্তু মারওয়ান তার পিতাকে জন্ম দিয়েছে (৭)। এমন একজন পিতার সন্তান হিসেবে ওয়ালিদ বাড়তি সুবিধা পাবেন এটাই স্বাভাবিক ছিল। সাইদ ইবনুল মুসাইয়্যিব যেহেতু দুনিয়াদার নন, তাই হয়তো যুবরাজের প্রতি আগ্রহ দেখাননি এটা স্বাভাবিক। কিন্তু ‘বড় আলেমের ছেলে’ হিসেবে তো ওয়ালিদ এগিয়ে ছিল। কিন্তু সাইদ ইবনুল মুসাইয়্যিব এটাকেও গুরুত্ব দেননি। আমাদের সমস্যা দুইটাই। পয়সাওয়ালা দেখলেই আমরা চমকে যাই। আমাদের অবস্থান হলো, টাকা-পয়সা আছে? ওকে বিয়ে দাও। পরে দোয়া করবো যেন দ্বীনদার হয়ে যায়। অনেকে এই পয়েন্টে বেঁচে যান কিন্তু তারা ধরা খান শেষে এসে। বড় আলেমের ছেলে এই কারণে মেয়ে তুলে দেন ‘বড় আলেমের অযোগ্য ছেলে’র হাতে।

অনেকতো ভারী আলাপ হলো, চলুন এবার হালকা আলাপে যাই। হালকা আলাপের সারকথা হলো বিয়ে করে ফেলুন। অশান্তি লাগছে? বিয়ে করুন। অর্থাভাবে আছেন? বিয়ে করুন। ফেসবুকে বেশি সময় নষ্ট করছেন? বিয়ে করুন। এই লেখাটা ভালো লাগছে? বিয়ে করুন। বিয়ে করা মানে আরেকজনের দায়িত্ব নেয়া (এটা অবশ্য আমি বলার আগ থেকেই আপনারা জানেন। আমি বললাম ফরমালিটি রক্ষা করার জন্য)। আসল কাহিনী কিন্তু বিয়ের পরেই। সব কাজ করতে হবে উনাকে খুশি করে। উনি বেজার হলেই সব শেষ। আবার উনি খুশি হবেন কী করে তা বোঝাও কঠিন। আপনি যেটাকে উত্তম ভাবছেন, তিনিও সেটাকে উত্তম ভাববেন এমন কোনো কথা নেই।

মাইসুন বিনতু বাহদালের কথাই ধরা যাক। তিনি বেড়ে উঠেছিলেন শামের মুক্ত প্রকৃতিতে। হযরত মুয়াবিয়া (রা) শামে এলে মাইসুনকে বিবাহ করেন। তার জন্য একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন। কিন্তু মাইসুন বিনতু বাহদাল এই প্রাসাদের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেননি। তার মনে হত দম বন্ধ হয়ে আসছে। (৮)

সুতরাং, হে যুবক, তোমাকে হতে হবে সতর্ক। বুঝতে হবে অপরজনের মনস্তত্ব। অপরজনের মনস্তত্ব না বুঝে অযথাই অভিযোগ করা যাবে না। মনস্তত্ব না বুঝলে অযথাই কষ্ট পেতে হবে। কষ্ট পেয়েছিলেন খলিফা মুতাযিদ বিল্লাহও। বাসররাতে নববধু কতরুন নাদা তাকে রেখে চলে আসেন কামরার বাইরে। মাঝরাতে খলিফার ঘুম ভেঙ্গে যায়। পাশে স্ত্রীকে না পেয়ে অবাক হন তিনি। উঠে দেখেন স্ত্রী পাশের কামরায়। প্রশ্ন করতেই স্ত্রী জানালেন, আমি পাশে থাকলে যদি আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, এই জন্য উঠে এসেছি (৯)। খলিফা শান্ত হলেন।

কিন্তু আমাদের অশান্ত মনে ঠিকই ঘুরঘুর করছে একটা প্রশ্ন। খলিফা কেনো বাসর রাতে ঘুমাতে গেলেন? আমরা হলে তো ইমরাউল কায়েসের কবিতা পড়তাম, ইয়া লাইলু তুল, ইয়া নাউমু যুল (রাত লম্বা হ, ঘুমের বাচ্চা ঘুম ভাগ)। খলিফাকে বাসরঘরে রেখে আমরা একটু ভিন্ন আলাপে যাই। বাসরঘর শুনলেই যারা শিহরিত হয় সেইসব তরুণদের বলছি, সেখানে কিন্তু বিপদের আশংকাও আছে। বহুবার এই ভূমিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, আরবী বইয়ের উপর বাংলা বই রাখা জায়েজ আছে কি না?


কলেজে পড়ার সময় একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল। একরাতে স্বপ্নে দেখলাম আমার বিয়ে হচ্ছে। গাড়িতে করে নববধু সহ কোথাও যাচ্ছি। ঘুম থেকে উঠার পর মেয়েটার চেহারা চোখে ভেসে রইলো। এই মেয়েকে কখনো দেখিনি, পরিচিত কেউও নয়, কিন্তু স্বপ্নে দেখা মেয়ের প্রেমে পড়ে গেলাম। কয়েকদিন খুব বিষন্ন ছিলাম। ক্লাস বাদ দিয়ে আটি আর ওয়াশপুর গিয়ে একা একা হাটাহাটি করলাম। খুবই অদ্ভুত ব্যাপার। যাকে দেখিনি কখনো, যার অস্তিত্বই নেই, তার প্রেমে পড়ে গেলাম। ব্যাপারটা কখনো কারো সাথে শেয়ার করিনি। লোকে পাগল ভাববে, এই ভয়ে। তখন জানা ছিল না, ইবনু হাযম আন্দালুসি প্রায় এক হাজার বছর আগে এ বিষয়ে লিখে গেছেন।

তিনি প্রেম-ভালোবাসার নানা প্রকারের আলোচনা করতে গিয়ে লিখেছেন, প্রত্যেক ভালোবাসার জন্য একটি যৌক্তিক কারণ আবশ্যক। কিন্তু কখনো এর ব্যতিক্রমও ঘটে। আমি নিজে এ বিষয়ে প্রত্যক্ষ না করলে তা উল্লেখ করতাম না। এরপর তিনি আবুস সারা আম্মার বিন যিয়াদের ঘটনা উল্লেখ করেছেন। একদিন ইবনু হাযম গেলেন আবুস সারা আম্মার বিন যিয়াদের সাথে দেখা করতে। তিনি দেখলেন আবুস সারা খুব চিন্তিত ও বিষণ্ণ। কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, কিছুদিন আগে এক মেয়েকে স্বপ্নে দেখেছি। ঘুম থেকে উঠার পর দেখি তার ভালোবাসা আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। অথচ আমি তাকে চিনিও না। ইবনু হাযম বললেন, আপনি নিজেকে এমন বিষয়ে জড়িয়ে ফেলছেন যার কোনো বাস্তবতাই নেই। (১০)

স্বপ্ন থেকে বাস্তবে ফিরে আসা যাক। স্বপ্ন তো নানারকমের হয়। একটা হলো ঘুমের স্বপ্ন। আরেকটা হলো জেগে থেকে দেখা স্বপ্ন। বিয়ে নিয়েও মানুষের মনে থাকে নানা স্বপ্ন। বউ কেমন হবে না হবে, এসব আর কী। বিয়ে সংক্রান্ত সব স্বপ্নের মূলকথা কিন্তু একটাই, মনের মত বউ চাই।

মনের মত বউ পেয়েছিলেন তাবেয়ী শুরাইহ বিন হারেস বিন কাইস আল কিন্দি। বিয়ে করেছিলেন বনু তামিমের মেয়ে যয়নবকে। বিশ বছর সংসার করে তিনি বলেছেন, যয়নবের সাথে সংসার করে প্রতিদিন আমি আগেরদিনের চেয়ে বেশি আনন্দিত ছিলাম। বিশ বছরে কখনো আমি তার উপর রাগ করিনি (অর্থাৎ সে এমন কোনো কাজ করেনি যাতে আমি ক্রোধান্বিত হব)। একবার তার উপর রাগ করেছিলাম, কিন্তু সেদিনও তার কোনো দোষ ছিল না। এরপর শুরাইহ কবিতা আবৃত্তি করেছেন, আমি দেখি লোকেরা তাদের স্ত্রীকে প্রহার করে। আমি যদি যয়নবের গায়ে হাত তুলি তাহলে আমার ডান হাত অবশ হয়ে যাক। (১১)

শুরাইহ’র কথা শুনে কারা কারা বিয়ের জন্য প্রস্তুত হয়েছেন, দাঁড়িয়ে যান, দু’হাত তুলে দেখান।

বিয়ে আসলে মজার জিনিস। ঠিক কতটা মজার সেটা তো বিয়ে না করে বোঝানোর উপায় নেই। বাকি বিয়ে করেছেন এমন একজনের কথা শোনা যাক। আহমদ বিন তৈয়ব সারাখসি নামে এক ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, দুনিয়ার মজা কিসে? তিনি সরাসরি বলে বসেছেন,

لذات الدنيا ثلاث: أكل اللحم، وركوب اللحم، وإدخال اللحم في اللحم

উফ কী ভয়ংকর কথাবার্তা। মোবাইল পর্যন্ত গরম হয়ে গেছে। এই কথা শুনে এক কবি আবার কবিতাও বানিয়ে ফেলেছে।(১২)

ألم تر لذّة الدّنيا ثلاثاً ... إليها مال كلٌّ بالطّباع
فذلك كلّها في اللّحم توجد ... بأكلٍ أو ركوبٍ أو ج**ع

যাক, আমরা নীরস মানুষ। এইসব কবিতার সাথে আমাদের কোনো লেনাদেনা নেই। আমরা বরং আগের আলোচনাতেই ফিরে যাই। মনের মত বউ। মনের মত বউ পাবেন কিনা, আর পেলে আপনি তার মনের মত স্বামী হতে পারবেন কিনা এ বিষয়ে বিজ্ঞজনরা নীরব। এ প্রশ্ন উঠলেই তারা অস্বস্তিতে নড়েচড়ে বসেন। ‘আরো কত দরকারি কাজ আছে সে সব বাদ দিয়ে এই আলোচনা কেন?’ বলে তারা সবকিছু উড়িয়ে দিতে চান। তাদের নীরবতা আমাদের আতংকিত করে , কিন্তু একইসাথে আমরা সবাইই দিল্লির লাড্ডু খেয়ে পস্তাতে আগ্রহী, না খেয়ে সান্ত্বনা নিতে আমাদের কোনো আগ্রহই নেই।

মনের মত বউ পেয়ে তাকে রানী করবেন বলে যারা ভাবছেন তারা হয়তো নুরজাহানের কথা ভুলে গেছেন। ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের এক কর্মকর্তার মেয়ে। যৌবনের শুরুতে কাবুলে শাহজাদা জাহাংগিরের সাথে দেখা। এরপর তো ইরাবতি আর যমুনায় অনেক জল গড়ালো। নুরজাহানের বিয়ে হলো। স্বামীর সাথে বাংলায় এলেন। স্বামী নিহত হলেন, এতে জাহাংগিরের হাত থাকুক বা না থাকুক, ফলাফল হিসেবে হিসেবে নুরজাহান উপস্থিত হলেন মুঘল হেরেমে। বিয়ে হলো জাহাংগিরের সাথে। ধীরে ধীরে সাম্রাজ্যের কতৃত্ব বুঝে নিলেন নুরজাহান। দেখা গেল সম্রাটের আড়ালে থেকে সাম্রাজ্য পরিচালনা করছেন তিনিই। যুবরাজ খুররম বিদ্রোহী হয়ে উঠলে তাকে দমনের জন্য সম্রাটের সাথে থাকলেন নুরজাহান। খুররমের সাথেও ছিলেন আরেক নারী। যিনি সারাজীবন স্বামীর সাথে প্রতিটি সফরে অংশগ্রহণ করেছেন। এমনকি, ১৬৩১ খ্রিস্টাব্দে, খুররম ততদিনে সম্রাট শাহাজাহান, স্বামীর সাথে তিনি চলে গেলেন বোরহানপুর। লড়াই হচ্ছিল সেখানে আর তিনি ছিলেন গর্ভবতী। গ্রীষ্মের প্রখর রোদ, যুদ্ধের অনিশ্চয়তা, শারিরিক দূর্বলতা সবকিছু ভুলে গিয়ে জেদ করেই তিনি স্বামীর সাথে ছিলেন এই সফরে। এই সফরেই তিনি মারা যান, চৌদ্দতম সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে। তিনি মমতাজ মহল। বাল্যকালে মিনাবাজারে তাকে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন শাহজাহান। (১৩)


অনেক ফেসবুকারকেই দেখি বিয়েশাদী নিয়ে কিছু বিপ্লবী চিন্তাধারা প্রচার করছেন। এদের বেশিরভাগের লেখাজোঁকা পড়লে জানা যায়, তারা উম্মাহর বিবিধ কল্যান নিয়ে খুবই পেরেশান এবং ইয়াসির আরাফাতের মত বিয়ে না করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাহ্যিক দৃষ্টিতে তাদেরকে সাহসী ফেসবুকার মনে হলেও, বিশ্লেষকরা তাদের ব্যাপারে তেমন একটা আশাবাদী নন। অতীতেও এই ধরণের সাহসী তরুণদের দেখা গেছে, যাদের বেশিরভাগই এখন রেশম কোমল চুলে বাঁধা পড়ে আছে । মা’মার বিন রাশেদের কথাই ধরা যাক। যুগের সেরা এই আলেম সম্পর্কে হিশাম বিন ইউসুফ বলেছেন, মা’আমার আমাদের মাঝে ২০ বছর বসবাস করেছেন। কখনো তাকে দেখিনি কিতাব হাতে নিয়ে কিছু বলছেন। অর্থাৎ তিনি যা বলতেন তার স্মৃতিশক্তি থেকেই বলতেন। এই মা’মার গেলেন সানআ শহরে। তাকে পেয়ে খুশি হলো শহরবাসী। তাদের একটাই কথা। মা’মার আমাদের মাঝে থেকে যাক। কিন্তু মা’মার তো থাকতে আসেননি। কী করে তাকে আটকে রাখা যায়? একজন পরামর্শ দিল, তাকে বন্দী করে ফেলুন। সবাই বুঝে ফেললো কী করে তাকে বন্দী করতে হবে। মা’মারকে সানআর এক মেয়ের সাথে বিবাহ করিয়ে দেয়া হলো। (১৪)

বিয়েশাদী নিয়ে লিখতে গেলেই অনেকে ক্ষেপে যান। তাদের মতে, আরো কত দরকারী কাজ আছে, এসব লেখার দরকার কী? লেখার দরকার আছে। তউস ইবনু কাইসান রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, বিয়েশাদী করার আগ পর্যন্ত যুবকদের ধার্মিকতা পরিপূর্নতা পায় না। একবার তিনি ইবরাহিম বিন মাইসারাহকে ধমকের সুরে বলেছিলেন, বিয়ে করো। নইলে আমি তোমাকে সেই কথা বলবো, আবুয যাওয়ায়েদকে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) যা বলেছিলেন। তিনি (উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন, বিয়ে করছো না কেন? তুমি কি বৃদ্ধ হয়ে গেছ? নাকি তুমি লম্পট? (১৫)

বিশর বিন হারেস ইন্তেকাল করার পর ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল আফসোস করে বলেছিলেন, আহ তিনি যদি বিয়ে করতেন। বড় খান্দানে সম্পর্ক করা দূষণীয় নয়, তবে কেউ যদি উরুজ বিল ফুরুজের উদ্দেশ্যে সম্পর্ক করে সেটা ভিন্ন কথা। নিকট অতীতে উরুজ বিল ফুরুজের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলেন নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান। ভূপালের রানীকে বিয়ে করে নওয়াব হয়েছিলেন। অবশ্য মন্দ কী? রাজ্য আর রাজকন্যা যখন একসাথে পাওয়া যায়, সেটা দূরে ঠেলে দেয়ার মত বোকামি খুব কম মানুষই করেন। বোকামি করেননি জালালুদ্দিন খাওয়ারেজম শাহও। ৬২২ হিজরির রজব মাসে তাবরিয অবরোধ করেছিলেন তিনি। শহরে অবস্থান করছিলেন তুগরিল বিন আলপ আরসালানের কন্যা। তিনি পত্র লিখে জানালেন, শহর আপনার হাতে তুলে দিব। শর্ত হলো আমাকে বিয়ে করতে হবে। এমন শর্তে দ্বিমত করার সুযোগ নেই। জালালুদ্দিনও করলেন না। শর্ত মেনে শহরের দায়িত্ব বুঝে নিলেন তিনি। কিছুদিন পর জর্জিয়ার অভিযান থেকে ফিরে বিয়ে করে নিলেন রাজকন্যাকে। (১৬)

রাজ্য ও রাজকন্যা জয়ের আরেক নায়ক হলেন শিহাবুদ্দিন ঘুরি। ৫৭২ হিজরিতে তিনি মুলতানের কাছে উচার দুর্গ অবরোধ করেন। বৃদ্ধ রাজা অসুস্থ। রানী বললেন, রাজ্য তুলে দিব আপনার হাতে, শর্ত হলো রাজকন্যাকে আপনি বিয়ে করবেন। এ রাজ্যের দায়িত্বও তার হাতেই তুলে দিবেন। কদিন বাদে খুলে গেলো কেল্লার দরজা। আফগান থেকে আসা বাহিনী বিজয়ী বেশে ঢুকলো কেল্লায়। মুহাম্মদ ঘুরি বিয়ে করেছিলেন রাজকন্যাকে।(১৭)

সমস্যা হলো আজকাল রাজ্য নাই, রাজকন্যাও নাই। ফলে নিজের বউকেই রাজকন্যা কল্পনা করে সান্ত্বনা পেতে হয়। ভাবলে অবাক লাগে, এতবড় একটা দেশ, কিন্তু কোথাও ছোটখাটো একটা রাজ্যও নেই, রাজকন্যা তো দূর কী বাত। ফলে উঠতি তরুণরা, যারা খানিকটা ভাবাবেগে ভোগে, তাদের জন্য রাজকন্যার সন্ধান পাওয়া বেশ কঠিনই বটে।

সূত্র :
---------------
১। সাল্লাবি, আলি মুহাম্মদ, আদ দাওলাতুয যিংকিয়্যাহ, পৃ-৩২, (কায়রো, দার ইবনিল জাওযি)
২। যাহাবী, শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন উসমান (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরী), সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৭/২৫৮, (বৈরুত, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, ১৪১৭ হিজরী)
৩। শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (মৃত্যু ১৪১৭ হিজরী), আল উলামাউল উযযাব, পৃ- ৬৩, (হালাব, মাকতাবাতুল মাতবুয়াতিল ইসলামিয়্যাহ, ১৪০২ হিজরী)
৪। যাহাবী, শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন উসমান (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরী), সিয়ারু আলামিন নুবালা,২১/৩০৮, (বৈরুত, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, ১৪১৭ হিজরী)
৫। ড. ইয়াহইয়া ওহাইব জুবুরি, আল কিতাব ফিল হাদারাতিল ইসলামিয়্যাহ, পৃ-২৯৫ পৃষ্ঠা, (বৈরুত, দারুল গরবিল ইসলামি, ১৪১৮ হিজরী)
৬। যাহাবী, শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন উসমান (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরী), সিয়ারু আলামিন নুবালা,৪/২৩৪, (বৈরুত, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, ১৪১৭ হিজরী)
৭। প্রাগুক্ত ৪/২৪৭
৮। আহমদ খলিল জুমআ, নিসাউন ফি কুসুরিল উমারা, পৃ-৫৪৩ পৃষ্ঠা, (দিমাশক, দারুল ইয়ামামা, ১৪২১ হিজরী)
৯। প্রাগুক্ত, পৃ-৪৫১
১০। আন্দালুসি, আবু মুহাম্মদ আলি বিন আহমাদ বিন সাইদ বিন হাযম (মৃত্যু ৪৫৬ হিজরী), তওকুল হামামাহ, পৃ-১৯, (মিতবাআহ হিজাজি, ১৩৬৯ হিজরী)
১১। ইবনু আসাকির, আবুল কাসেম আলি বিন হাসান ইবনু হিবাতিল্লাহ বিন আবদিল্লাহ শাফেয়ী (মৃত্যু ৫৭১ হিজরী), তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ২৩/৫৩, (বৈরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৫ হিজরী)
১২। কাযভিনি, যাকারিয়া বিন মুহাম্মদ বিন মাহমুদ (মৃত্যু ৬৮২ হিজরী), আসারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ, পৃ-৩৯০, (বৈরুত, দার সাদের)
১৩। দেহলভী, শামসুল উলামা মৌলভী মুহাম্মদ যাকাউল্লাহ, তারীখে হিন্দুস্তান, ৭ম খন্ড, (দিল্লি, শামসুল মাতাবি, ১৮৯৭)
১৪। যাহাবী, শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন উসমান (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরী), সিয়ারু আলামিন নুবালা,৭/৫-১৮, (বৈরুত, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, ১৪১৭ হিজরী)
১৫। যাহাবী, শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন উসমান (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরী), সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/৩৮, (বৈরুত, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, ১৪১৭ হিজরী)
১৬। ইবনুল আসির, আলি বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল করিম বিন আবদুল ওয়াহিদ শাইবানি আল জাযারি (মৃত্যু ৬৩০ হিজরি), আল কামিল ফিত তারিখ, ৮/৪৩২, (বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, ১৪০৭ হিজরী)
১৭। ফেরেশতা, মুহাম্মদ কাসিম , তারিখে ফেরেশতা, ১/৪৫ (লাহোর, আল মিযান পাবলিশার্স, ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ)

লিখেছেন, ইমরান রাইহান ভাই

Address

Noya Hat নয়া হাট, Https://maps. App. Goo. Gl/gYYAcw1WfqW9TpHA 7
Mithapukur
8308647

Telephone

+8801304622148

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when হিকমাহ্ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to হিকমাহ্:

Shortcuts

Share