17/09/2023
চট্টগ্রামে বড় হওয়া প্রতিটি ছেলেমেয়ে পড়াশোনা কিংবা চাকরি অথবা ব্যবসার সুবাদে যখন চট্টগ্রাম ছেড়ে বাইরে যায় তখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারেনা যে তারা এক টুকরো স্বর্গ ছেড়ে চলে যাচ্ছে, যেখানে সবাই আর পারমানেন্টলি ফিরতে পারবে না। অন্য শহরে পড়তে যাওয়ার বা নতুন নতুন চাকরি বা ব্যবসার আনন্দ এতোটাই প্রবল থাকে যে এই মায়ার নগরী ছেড়ে যাওয়ার দুঃখবোধটা শুরুতে আন্দাজ করা যায় না খুব একটা।
পাহাড়, সমুদ্র, সমতলে একাকার ভালোবাসার এই বন্দরনগরী।
ঢাকার মতো এতো এতো আলোর ঝলকানি হয়তোবা নেই, নেই এতো প্রশস্ত রাস্তা,অলিগলি। তবে এখানের অলিগলিতে এখনো পাড়া-মহল্লা কেন্দ্রীক আড্ডা হয়, ফুটবল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হয়।এখানকার মেজবান, বিয়ে-গায়ে হলুদের খাওয়ার স্বাদ ছাড়িয়া যাবে ঢাকার যেকোন নামি-দামি রেস্টুরেন্টকে। এখানে কারো বাড়িতে অতিথি হতে দাওয়াত পেতে হয় না।
এখানে এখনো টিকে আছে একান্নবর্তী পরিবারের মায়া-মমতা। বাবা-মা, দাদা-দাদি, থেকে শুরু করে বড় চাচা থেকে ছোট চাচা, বড় চাচি থেকে ছোট চাচি, নতুন বাড়ী পুরান বাড়ী, ফুফু দাদু (বাবার ফুফু) (বাবার চাচা) ওনাদের বংশধরদের নিয়েই পরিবার। এখানে 'কাজিন' বলে কিছু নেই, এখানে সবাই ''ভাই'', সবাই ''বোন''।এখানে ফ্যামিল গেট টুগেদার হয় ১৫০/২০০ জনের তাও বাড়ীর উঠানে।
এখানে জীবন ঢাকার মতো এতো যান্ত্রিক না। এখানে ইচ্ছে হলেই আকাশ দেখা যায়, আকাশের তারা গোনা যায়, মন খারাপের সময়টুকু কর্ণফুলীর মোহনায় কিংবা পতেঙ্গার তীরে বসে কাটিয়ে দেওয়া যায়। চাইলেই কোন এক পাহাড়ের কিনারায় অগোছালো জীবনের হিসাব নিকাশ নিয়ে বসে পড়া যায়।
এ নগরীতে ঘড়ি জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে না, এখানে জীবন নিয়ন্ত্রণ করে সময়কে। এখানে আপনি নিঃশ্বাস নিতে পারবেন দুচোখ বন্ধ করে। এই শহরে কেউ দমবন্ধ হয়ে মরে না। এখানের হাসপাতালে অসুস্থ রোগীর আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের ভীড় বেশি থাকে। এখানে খাবেন আপনি, তৃপ্তি পাবে আপ্যায়নকারী। আমার কাছে এই শহর, এই নগরী একটা জাদুর নাম, যে জাদুর স্পর্শে নতুন করে বাঁচার সাধ জাগে বারবার।
চট্টগ্রাম আর চট্টগ্রামের বাইরের জীবনের মধ্যে যে আকাশ পাতাল ফারাক তা বুঝতে হলে আপনাকে কিছুদিন চট্টগ্রামের বাইরে থাকতে হবে। ছুটি কাটাতে এই শহরের বাইরে গিয়েই দেখেন না, কয়েকদিনের মধ্যেই ফিরে আসার জন্য মনটা কী রকম আনচান আনচান শুরু করে!
তোমরা যারা চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকা কিংবা দেশের বাইরে স্থায়ী হয়েছো, তোমারা কি আসলেই সেখানে শান্তি খুঁজে পাও?
তোমাদের মেগাসিটির কোলাহল কি চকবাজার, জামালখান, সিআরবি, জিইসি, কাজির দেউরি, ২ং গেইট, শিল্পকলা জামিয়াতুল ফালাহ, প্যারেড গ্রাউন্ডের কোলাহলের চাইতে বেশি জীবন্ত???
রাজধানীর অসহনীয় জ্যামে যখন তোমাদের দম বন্ধ হয়ে আসে, তখন ইচ্ছা করেনা ভাটিয়ারীর আঁকাবাকা পাহাড়ি ঢালে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে?
অথচ এই নগরী ছেড়ে যেতে আমার পেট পুড়ে খুব!
আজ জীবিকার প্রয়োজনে এ শহর ছেড়ে যাচ্ছি। তবে, জীবনের প্রয়োজনেই বারবার ফিরে আসবো ইনশাআল্লাহ....
Till then adios Chattogram ❤️❤️