27/05/2026
কুরবানীর পশুকে খোঁচা মারছেন না তো?
মাওঃমশিউর রহমান খুলনাভী
ছোট্ট একটি ভুলে নষ্ট হতে পারে কুরবানীর সৌন্দর্য ও সুন্নতি পদ্ধতি
পবিত্র ঈদুল আযহা মুসলিম উম্মাহর ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর আনুগত্যের এক মহান নিদর্শন। কুরবানী শুধুমাত্র পশু জবেহ করার নাম নয়; বরং এটি একটি ইবাদত, যা আদায় করতে হয় রাসূল ﷺ এর দেখানো নিয়ম অনুযায়ী।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে প্রতি বছর কুরবানীর সময় একটি ভুল অনেক জায়গায় দেখা যায়
পশু জবেহ করার পর দ্রুত শান্ত বা মৃত করার উদ্দেশ্যে গলার নিচে কিংবা মেরুদণ্ডে ধারালো ছুরি বা লোহার খোঁচা মারা হয়। অনেকেই মনে করেন এতে পশুর কষ্ট কমে, অথচ ইসলামী শরীয়তে পশুকে অযথা কষ্ট দেওয়া কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
ইসলামের নির্দেশনা কী?
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক কাজের মধ্যে ইহসান (সুন্দর আচরণ) নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং যখন তোমরা জবেহ করবে, উত্তমভাবে জবেহ করবে।”
— সহীহ মুসলিম
অর্থাৎ, কুরবানীর পশুর সাথেও কোমল ও উত্তম আচরণ করতে হবে।
জবেহের পর অতিরিক্ত আঘাত, খোঁচা বা মেরুদণ্ড ভেঙে দ্রুত মেরে ফেলার চেষ্টা সুন্নতি আদবের পরিপন্থী।
ফিকহের কিতাবসমূহে উল্লেখ রয়েছে, পশু পুরোপুরি নিস্তেজ হওয়ার আগে মাথা বিচ্ছিন্ন করা বা মেরুদণ্ডে আঘাত করা মাকরূহ। তাই জবেহের পর পশুকে স্বাভাবিকভাবে শান্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
কেন সতর্ক হওয়া জরুরি?
বিশেষজ্ঞ আলেমগণ বলেন, শরীয়তসম্মতভাবে জবেহের রগসমূহ কেটে দিলে পশু স্বাভাবিক নিয়মেই অল্প সময়ের মধ্যে মারা যায়। অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো করে খোঁচাখুঁচি করা অমানবিক আচরণের মধ্যে পড়ে এবং কুরবানীর সৌন্দর্য নষ্ট করে।
ইসলাম দয়া, সহমর্মিতা ও উত্তম আচরণের শিক্ষা দেয়। এমনকি পশু জবেহের ক্ষেত্রেও ইসলাম দয়া ও শিষ্টাচার বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছে।
করণীয়
ধারালো ছুরি ব্যবহার করুন, জবেহ সুন্নতি নিয়মে সম্পন্ন করুন,জবেহের পর পশুকে অযথা খোঁচা দিবেন না, পশু সম্পূর্ণ শান্ত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, অভিজ্ঞ ও শরীয়ত সম্পর্কে জানা কসাই দ্বারা কুরবানী করান।
#কুরবানী #ঈদুলআযহা #সুন্নতি_জবেহ
#ইসলামিক_সচেতনতা #কুরবানীর_মাসআলা
#মানবিক_কুরবানী