05/04/2026
নিখোঁজ ক্রুকে আমেরিকা ঠিকই খুঁজে বের করে উদ্ধার করে নিয়ে গেল, কিন্তু ইরানিরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও তাকে ধরতে পারল না। এর কারণ কী?
ওই ক্রুকে খুঁজে বের করা ইরানিদের জন্য ছিল খড়ের গাঁদায় সুঁই খোঁজা, কিন্তু মার্কিনরা তার একেবারে নিখুঁত অবস্থান জানত।
মার্কিন পাইলট ও ক্রুদের জ্যাকেটে এমন কিছু উন্নত সারভাইভাল রেডিও ও জিপিএস বীকন থাকে, যা কেবল মার্কিন স্যাটেলাইট বা বিশেষ বিমানেই ধরা পড়ে। ক্রুর অবস্থান পরিবর্তন হলেও এটি নিখুঁতভাবে তা জানাতে থাকে। ইরানিরা হয়তো বড় এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছিল, কিন্তু মার্কিনরা জানত ঠিক কোন্ ঝোপের আড়ালে বা পাহাড়ের খাঁজে তাদের লোকটা আছে।
এটি এক ধরনের অত্যন্ত উন্নত এবং সামরিক গ্রেডের জিপিএস ট্র্যাকার। সাধারণ জিপিএসের চেয়ে এর কাজের ধরন অনেক বেশি জটিল ও নিরাপদ। একে সামরিক ভাষায় বলা হয় Combat Survivor Evader Locator (CSEL), সংক্ষেপে বীকন (Beacon)।
আমাদের ফোনের জিপিএস চলে ইন্টারনেটের ওপর ভিত্তি করে, কিন্তু এই সামরিক বীকন সরাসরি মহাকাশে থাকা বিশেষ মিলিটারি স্যাটেলাইটের সাথে যুক্ত থাকে। এটি কাজ করার জন্য কোনো টাওয়ার বা নেটওয়ার্কের প্রয়োজন হয় না। এটি পৃথিবীর যেকোনো দুর্গম মরুভূমি বা পাহাড়ের খাঁজ থেকে সিগন্যাল পাঠাতে পারে।
কেন ইরানিরা ধরতে পারল না?
সাধারণ ট্র্যাকার অনবরত সিগন্যাল পাঠায় যা শত্রুপক্ষ সহজেই 'রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি স্ক্যানার' দিয়ে ধরে ফেলতে পারে। কিন্তু এই বীকনটি 'বার্স্ট ট্রান্সমিশন' পদ্ধতিতে কাজ করে। অর্থাৎ এটি সারাদিন চুপ থাকে, কেবল কয়েক মিলিসেকেন্ডের জন্য একটি অতিক্ষুদ্র ডেটা প্যাকেট উপগ্রহে পাঠায়। ইরানিরা যখন তাদের সিগন্যাল ডিটেক্টর দিয়ে আকাশ স্ক্যান করছিল, ততক্ষণে সিগন্যাল পাঠানো শেষ! একে বলা হয় LPI (Low Probability of Intercept) প্রযুক্তি।
অধিকন্তু, এই বীকন থেকে যে-তথ্য যায়, তা অত্যন্ত শক্তিশালী এএস-২৫৬ লেভেলের কোড দিয়ে লক করা থাকে। যদি ইরানিরা কোনোভাবে সিগন্যালটা ধরেও ফেলে, তবে তারা সেখান থেকে শুধু 'নয়েজ' বা জিজ-জিজ শব্দ শুনবে। সেই কোড ভাঙার মতো সুপার কম্পিউটার বা প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে ইরানি সেনাদের কাছে থাকে না। ফলে আমেরিকানরা সুনির্দিষ্টভাবে জানত তাদের লোক কোথায়, কিন্তু ইরানিরা অনির্দিষ্টভাবে শুধু এলাকাটি আন্দাজ করতে পেরেছিল।
এ ছাড়াও, ইরানি সেনাবাহিনী যখন ওই ক্রুকে ধরার জন্য কনভয় নিয়ে এগোচ্ছিল, তখন আকাশ থেকে মার্কিন এ-১০ এবং ড্রোন অনবরত ইরানিদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ফলে ইরানিরা চাইলেও ক্রুর কাছে পৌঁছুতে পারছিল না। এই ‘এয়ার সাপোর্ট’ আমেরিকার জন্য বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
এভাবে, আধুনিক যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির যুদ্ধ।