15/08/2025
গত শোক দিবসে ধানমন্ডি ৩২-এ যে কাজটি বর্তমান এনসিপি করেছিল, সেই একই কাজ এবার দলগতভাবে করেছে বিএনপি। অথচ জামায়াত কিংবা এনসিপিও এবার “দলগতভাবে” শোক দিবসে বাধা দিতে সেখানে যায়নি।
প্রথমে মনে হয়েছিল, হয়তো স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা অতিউৎসাহী হয়ে সেখানে গেছেন। কিন্তু বিএনপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি দেখে বোঝা গেল—এটা আসলে দলগত সিদ্ধান্ত। প্রশ্ন জাগে, ১৫ আগস্টে বাধা দেওয়ার দায় বিএনপি কেন নিল, এবং তাদের কি লাভ হলো?
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের দায় তারা আগেও নিয়েছিল—বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বারবার পুরস্কৃত করে। এ কারণেই আজ পর্যন্ত বিএনপি জোর দিয়ে বলতে পারে না যে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন না; যুক্তি ও প্রেক্ষাপটের পরীক্ষায় তারা হেরে যায়। এবার আবারো শোক দিবসে বাধা দিয়ে সেই দায় নিলো। কেন?
বিএনপির কেউ হয়তো বলবেন, আওয়ামী লীগ “সরকার” বিএনপির সাথে অনেক কিছু করেছে। মেনে নিলাম। কিন্তু সরকার পরিচালনা করে বহু ব্যক্তি, বহু সংস্থা, বহু বিভাগ, বহু মত, বহু পথ, এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সেখানে নানা সিদ্ধান্ত হয়। সরকার ও দলকে আমি কখনো এক করে দেখি না।
কারণ, রাজনৈতিক দল চলে একটি সুনির্দিষ্ট আদর্শের ভিত্তিতে। গত ১৫ আগস্টে ইউনূস সরকার এনসিপি ও জামায়াতকে ব্যবহার করেছিল—তখন বিএনপির কেউ কেউ প্রকাশ্যে এর সমালোচনা করেছিলেন। অথচ এবার একই কাজটি বিএনপি নিজেরাই করল।
আওয়ামী লীগ কি কখনো জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে গিয়ে বাধা দিয়েছে? বিএনপির মনে রাখা উচিত—১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে দুইবার নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে বিএনপির পতনের পরও, জিয়াউর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগ বাধা দিতে যায়নি। সেই দুইবারও বর্তমানের মতো সরকার ক্ষমতায় ছিল।
হয়তো গণমামলার ভয় বা রাজনৈতিক চাপে অনেকে কিছু বলেন না। কিন্তু রাজনীতিবিদদের অন্যতম গুণ হলো, জনগণের মন পড়তে পারা। বিএনপি চাইলে এখনই জরিপ করে দেখতে পারে—তাদের এই সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য ছিল। জরিপে কষ্ট হলে অন্তত ফেসবুকের নিউজফিডগুলো দেখলেই কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে।
সবশেষে, কবি ইমতিয়াজ মাহমুদের ভাষায় বলি—
“যত দূরে যাও পাখি, দেখা হবে ফের,
স্বাধীন ঐ আকাশটা শেখ মুজিবের!”