14/06/2024
নারায়নপুরের সামাজিক অবক্ষয় ও প্রেক্ষিতঃ
بسم اللّه الرحمن الرحيم, الحمد للّه رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبيّنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিক তার পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে। তবে সেই স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে যদি অন্যকারো ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে আঘাত করা হয় তাহলে তা নিয়ে কথা বলার অধিকারও সংবিধান দেয়। গতবছর ফেসবুকে একটা পোস্ট চোখে পড়েছিলো কুলামুয়া কালারচরে একটা তথাকথিত জয়গুরু গ্রুপের খানকাহ নিয়ে। পরে জানতে পারলাম এলাকার কিছু যুবক ও বয়স্করা মিলে সেখানে ধর্ম পালনের নামে গান-বাজনা করে তামাকপাতা খায় এটাই নাকি তাদের ধর্মীয় জীবন। তার কিছুদিন পরে গত ইদুল ফিতরের পরে নারায়নপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের নামে নামাজের সময়েও উচ্চস্বরে গান-বাজনা চালানোয় মসজিদে নামাজ আদায় করতে অসুবিধা হচ্ছিলো। সাম্প্রতিক সময়ে আরেকটা ফেসবুক পোস্টে দেখলাম একদল লোক দোকানে গিটার বাজিয়ে নাচের মাধ্যমে আল্লাহ নামের জিকির করা হচ্ছে (নাউজুবিল্লাহ)। এসব কার্যকালাপ যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে করতো তাহলে কিছু বলার থাকতো না, কিন্তু এসব কাজ করে সেগুলো প্রচার করে নানাভাবে সমাজে এর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে যা একজন মুসলিম হিসেবে মেনে নেয়া যায়না। এছাড়া প্রায়ই নানারকম মাদক সেবনসহ বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক ও অনৈসলামিক কাজের কথা শোনা যায়। যেসব অনৈতিক কার্যকলাপ আজ থেকে ১০/১৫ বছর আগের নারায়নপুর ইউনিয়নে দেখা যেতো না । সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হাদীসে রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেন আল্লাহ তা‘আলা মানুষদের থেকে জোর করে ইলম ছিনিয়ে নেবেন না; বরং আলিমদের উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই ইলম উঠিয়ে নেবেন। অতঃপর যখন কোনো আলিম বাকী থাকবে না তখন লোকেরা জাহিলদেরই নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। অতঃপর তাদের কাছে মাসআলা জিজ্ঞেস করা হবে, তারা না জেনেই ফাতওয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরাও গোমরাহ হবে, আর অপরকেও গোমরাহ করবে। রাসুলুল্লাহ সাঃ যেন আমাদের নারায়নপুরের বর্তমান অবস্থার কথাই হাদীসে বর্ণনা করেছেন। বিগত বছরগুলোতে নারায়নপুরে মৌলভী ওমর আলী, মাওলানা মোজাহার আলী, মাওলানা ইদ্রিছ আলী, মাওলানা হানিফ উদ্দিনসহ একদল মুহাক্কিক আলিম সমাজ ছিলেন ও তাদের সাথে এলাকার মুরুব্বী সমাজ ছিলেন এবং তাঁরা দ্বীনের ব্যাপারে আপোষহীন ছিলেন। এলাকায় কোনো অনৈতিক কাজ হলেই তাঁরা প্রতিবাদ করতেন, মানুষকে দ্বীনের নসিহত করতেন, যার ফলে তৎকালীন সময়ে এলাকায় সামাজিক শান্তি, নিরাপত্তা ও নৈতিকতা বিদ্যমান ছিলো। তারপরে ধীরে ধীরে এলাকার সেইসব নক্ষত্রগুলো হারিয়ে যেতে লাগলো। বেশিরভাগই মৃত্যুবরণ করেছেন। যে দু’একজন আছেন তাঁরাও একা হয়ে গেছেন , বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে গেছেন। তাদের পরে নারায়নপুরে আলিম সমাজ ও দ্বীনি মুহাব্বাত লালনকারী মুরুব্বীদের এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই আলিম শূন্য সমাজে কিছু মানুষ জাহিলদের পীর হিসেবে গ্রহণ করেছে সেই সুবাদে সেই জাহিল শয়তানরা ও তাদের অনুসারীরা বেশ পাকাপোক্ত জায়গা তৈরি করেছে। যদিওবা এখন বেশ কিছু তরুন দ্বীনি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন, কিন্তু সেসব তরুন আলেমরা প্রায় সবাই কেউ পড়াশোনা কেউ চাকরির সুবাদে এলাকার বাইরে থাকেন। আগের মত মসজিদ ভিত্তিক তাবলিগ জাম'আতের প্রচলনও নেই। এলাকার মসজিদ ভিত্তিক তাবলীগ জামা'আতের মুরুব্বীরাও কেউ মৃত আবার কেউ বয়সের ভারে ন্যুব্জ। কাজেই এলাকায় সামাজিক অবক্ষয়, অনৈতিক কাজ বেড়েই চলেছে । এভাবে চলতে থাকলে নারায়নপুরের বাসিন্দাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে। এর পরিণতি কি হবে তা কেউ জানেনা। অবস্থার প্রেক্ষিতে মনে হচ্ছে এই দুরাবস্থার সহসাই অবসান হচ্ছেনা। এই অবস্থায় করণীয় কী হতে পারে? দোয়া করা ছাড়া আর কি কোনো উপায় নেই?
Post Credit: Shah Wali Ullah