09/10/2021
বিবাহ ও আইন .......................................
মুসলিম পারিবারিক আইনের ( শরিয়া)মুল ভিত্ত্বি প্রথমে কোরআন তার পর হাদিস এর পর ইযমা কিয়াস। এছাড়াও ঐতিহাসিক বিবর্তনের স্বাভাবিক নিয়মে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন,১৯৭৪/৭৫ সালে মুসলিম বিবাহ ও তালক রেজিস্ট্রেশন আইন,এবং বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯।
ইসলামে বিবাহ একটি এবাদত। মুসলিম আইন অনুসারে বিয়ে একটি দেওয়ানী চুক্তি হলেও এর অন্যতম প্রধান কারন বৈধ্য সন্তান জন্ম দান।অর্থাৎ পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত করা।এছাড়াও------------------।
♦ হিন্দুআইন হিন্দুদের ধর্মীয় ও ব্যাক্তিগত আইন।উত্তরাধিকার, বিবাহ,ভরনপোষন,দত্ত্বক,অভিভাবকত্ব, দান বা দেবোত্ত্বর হিন্দু পারিবারিক আইনে নিয়ন্ত্রণ হয়।
এছাড়াও বৌদ্ধ, জৈন,শিখ ও সাঁওতালদের ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য,।বাংলাদেশ, ভারত,নেপাল,মরিশাস, ও শ্রীলংকায় এ আইন প্রচলিত। তবে ব্রিটিশরা ভারত দখলের পর সতীদাহপ্রথা,ধর্মীয় স্বাধীনতা, বর্ণগত,বিধবা বিবাহ,অভিভাবক ও পোষ্য,উত্তরাধিকার,শিশুবিবাহ,বিদ্যার সাহায্যে অর্জিত সম্পত্তি,সম্পত্ত্বিতে হিন্দু নারীর অধিকার,পৃথক বাস ও ভরন পোষন আইনে পরিবর্তন ও সংস্কার এনে আইনি ধর্মে পরিনত করেছে।বাংলাদেশে সনাতন ধর্ম বিদ্যমান, তবে ২০১২ সালে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন পাস করেন।
♦ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা মুলত দুটি সম্প্রদায়ে বিভক্ত। ক্যাথলিক এবং প্রটেস্ট্যান্ট।ক্যাথলিকদের পারিবারিক আইনের প্রধান গ্রন্থ হচ্ছে,"কোড অব ক্যানন ল''যা মুলত বাইবেল থেকে নেয়া।আর প্রটেস্ট্যাণ্টরা হচ্ছে সংস্কার পন্থি। অর্থাৎ ব্রিটিশরা। এরা পারিবারিক আইন হিসাবে "সাকসেশন অ্যাক্ট "অনুসরণ করেন।আর বিয়ে হয় খ্রিষ্টান ম্যারেজ আইনে।এ আইনের কোথাও বিয়ের কোন সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি।আর ক্যাথলিদের বিয়ে হয় "ক্যানন আইনে",যাহাতে বলা হয়েছে বিয়ে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পবিত্র চুক্তি।অবশ্য উভয় সম্প্রদায়ের বিবাহ রেজিস্ট্রি বা নিবন্ধন হয়।
♦ কোর্ট ম্যারেজ আমাদের দেশে একটি বহুল প্রচলিত শব্দ।এটিকে অনেকে বিবাহ মনে করেন।কিন্তু এমন ধারনাটি ঠিক নয়।এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে যেটাকে কোর্ট ম্যারেজ বলা হয়। আসলে এটা কোন বিয়ে নয়, একটি ঘোষনা মাত্র, তাছাড়া কোর্ট ম্যারেজ বা কোর্ট তালাক আইন মন্ত্রনালয় অবৈধ ঘোষনা করে পরিপত্র জারি করেছে। অভিভাবকদের সাবধান হওয়া উচিৎ , ছেলে মেয়েরা কোর্ট ম্যারেজ করে ফেললে, সেখানে সিমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বৈধ্য বিয়ের ব্যবস্হা করে সরকার কতৃক নিয়োগপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার কথ্য ভাষায় (কাজী অফিসে) রেজিষ্ট্রেশন করে নেয়া। তা নাহলে যা জন্মাবে সব -------।
♦ বিশেষ বিবাহ আইন -১৮৭২ হচ্ছে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান এই তিন ধর্মের বিবাহ বাইরে আরেকটি আইন,যার মাধ্যমে বিবাহ করা যায়। এআইনের মুল উদ্দেশ্য হলো দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিবাহ আইন সম্মত করা। প্রচলিত ধর্মীয় আইনে ভিন্নধর্মীয় দুই ব্যাক্তির বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিশেষ আইনে বিয়ে করতে হলে দুপক্ষই কোন ধর্মের অনুসারী হতে পারবেনা। অর্থাৎ বর কনে দু পক্ষই ঘোষনা দিতে হবে যে - তারা কোন ধর্মের অনুসারী নয়।অর্থাৎ ধর্ম ত্যাগ না করে এ আইনে বিয়ে করা যায়না।যদি ধর্ম ত্যাগ না করে তা হলে বিয়ে অবৈধ। আমাদের দেশে অভিজাত শ্রেণীতে এবিয়ের সংখ্যা বেশি।এই ধরনের বিয়ের ডিভোর্স ও উত্তরাধিকার আইনের ক্ষেত্রে খ্রিষ্টান পারিবারিক আইন প্রযোজ্য।
♦ বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন২০১৭। সাবালকত্বের সংজ্ঞা বিভিন্ন ধর্মে ভিন্ন, তবে ১৮৭৫ সালের সাবালকত্ব আইনে ১৮ বছর হলেই সাবালক
আর ১৯২৯ সালে প্রণীত বাল্যবিবাহ আইনে বিবাহের বয়স ছেলে ২১ মেয়ে ১৮ বছর। এর থেকে কম বয়সে বিয়ে হলেই বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহ অবৈধ নয়,তবে শাস্তি যোগ্য অপরাধ। এর সাথে জড়িতদের বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে অপ্রাপ্ত বয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে আদালতের নির্দেশে বাল্যবিবাহ অপরাধ হিসাবে গন্য হবেনা।
বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই বিয়ের বয়স ছেলেদের ১৮ আর মেয়দের ১৪-১৬। বর্মানে সময়ের দাবী ছেলেমেয়েদের বিয়ের বয়স কমালে আর বাল্য বিবাহ নামক অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে সোনার বাংলাদেশ।
বিবাহের মতো পবিত্র বন্ধন সহজ হোক, বাল্যপ্রেম বন্ধ হোক।
প্রতিটি বিবাহ রেজিস্ট্রি ভূক্ত করে আইনগত অধিকার সূ প্রতিষ্ঠিত হোক।
অবৈধ কোর্ট ম্যারেজ বা কোর্ট তালাক কে না বলুন।
সংগৃহীত