Voice Of Workers

Voice Of Workers Voice Of Workers চ্যানেলটিতে মানুষের অধিকার লড়াইয়ের রাজনীতির কথা তুলে ধরতে।
বাম রাজনৈতিক বিকাশে

১০ লাখ টাকা পুঁজি থেকে ৫৫ কোটি টাকায় কারখানা বিক্রি—তবুও শ্রমিকদের পাওনা দেওয়ার টাকা নেই?লেখক : শ্রমিক নেতা হাসনাত কবির।...
03/09/2026

১০ লাখ টাকা পুঁজি থেকে ৫৫ কোটি টাকায় কারখানা বিক্রি—তবুও শ্রমিকদের পাওনা দেওয়ার টাকা নেই?

লেখক : শ্রমিক নেতা হাসনাত কবির।
সূত্র: ফেসবুক পোস্ট

সেঞ্চুরি এ্যাপারেলস লিঃ-এর শ্রমিকদের আইনগত পাওনা ও সার্ভিস বেনিফিট অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।
একজন গার্মেন্টস মালিক মাত্র ১০ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। বছরের পর বছর শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে সেই ব্যবসা বড় হয়েছে। আজ তিনি তার গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান ৫৫ কোটি টাকায় বিক্রি করেছেন। তার রয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকার এফডিআর, ধানমন্ডিতে বাড়ি, অন্যান্য সম্পদ, ব্যাংকে অর্থ—এমনকি তিনি বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছেন।
অথচ আজ শ্রমিকদের ন্যায্য সার্ভিস বেনিফিট ও আইনগত পাওনা দেওয়ার সময় বলা হচ্ছে—কারখানার মালিক নাকি দেউলিয়া হয়ে গেছেন!
কী আশ্চর্য যুক্তি!
যে মালিক ১০ লাখ টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন, বাড়ি-গাড়ি করলেন, ব্যাংকে টাকা জমালেন, বিদেশে আরাম-আয়েশের জীবনযাপন করছেন এবং কারখানা বিক্রি করে ৫৫ কোটি টাকা পেয়েছেন—তিনি শ্রমিকদের পাওনা দেওয়ার সময় কীভাবে দেউলিয়া হয়ে যান?
কারখানা বড় হয়েছে কার শ্রমে?
সম্পদ তৈরি হয়েছে কার ঘাম ঝরিয়ে?
মালিক কোটি কোটি টাকা লাভ করেছেন কার শ্রমের বিনিময়ে?
এই শ্রমিকদেরই শ্রমে!
তাই দেউলিয়ার গল্প, অজুহাত ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি বন্ধ করুন। মালিক সমিতির নেতাদের প্রতি স্পষ্ট কথা—শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনাকে অস্বীকার করার জন্য কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।
আমাদের দাবি—
✊ সেঞ্চুরি এ্যাপারেলস লিঃ-এর সকল শ্রমিকের সার্ভিস বেনিফিটসহ আইনগত সকল পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।
✊ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করে মালিকের বিদেশে বসবাস ও সম্পদ রক্ষার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
✊ কারখানা বিক্রির অর্থ ও মালিকের সম্পদের হিসাব যাচাই করে শ্রমিকদের পাওনা নিশ্চিত করতে হবে।
✊ শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কোনো টালবাহানা চলবে না।
শ্রমিকের ঘামে গড়া সম্পদের পাহাড় রেখে শ্রমিকদের পাওনা দিতে গিয়ে দেউলিয়া—এই গল্প আর চলবে না!
আইনগত সকল পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করো!
শ্রমিকের ঘাম-ঝরানো শ্রমের মূল্য দিতে হবে!
সেঞ্চুরি এ্যাপারেলস লিঃ-এর শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করো!
দুনিয়ার মজদুর এক হও! ✊

🚨 মিথ্যা মামলায় গীতা রানী কানুকে গ্রেফতারের তীব্র প্রতিবাদ জানাই—অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে!আজ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ...
02/09/2026

🚨 মিথ্যা মামলায় গীতা রানী কানুকে গ্রেফতারের তীব্র প্রতিবাদ জানাই—অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে!

আজ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ একাধিক সূত্র থেকে জানতে পারলাম, শ্রীমঙ্গল লেবার হাউজে হামলার অভিযোগে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের দায়ের করা মামলায় গীতা রানী কানুকে মৌলভীবাজার জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই গ্রেফতার অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং প্রশ্নবিদ্ধ।
লেবার হাউজের সামনের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, লেবার হাউজের ভেতর থেকে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বের হয়ে এসে গীতা কানুদের ওপর হামলায় অংশ নিচ্ছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও জনকলাল দেশোয়ারাকে লেবার হাউজের ভেতরে নিয়ে পাইপ দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী থাকার কথাও জানা যাচ্ছে। ঘটনার সময় পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিও ভিডিওতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেদিন লেবার হাউজ অভিমুখে মিছিলের কর্মসূচির যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু কোনো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত না করে একপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মিথ্যা মামলা দিয়ে শ্রমিক নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও গণতান্ত্রিক দাবির আন্দোলনকে দমন করার জন্য মামলা-গ্রেফতারের পথ বেছে নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হবে।

✊ আমাদের দাবি—
🔴 অবিলম্বে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার গীতা রানী কানুর নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে!
🔴 শ্রীমঙ্গল লেবার হাউজের ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত করতে হবে!
🔴 হামলা ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে!
🔴 চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে!
🔴 চা শ্রমিক ইউনিয়নে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অবিলম্বে আয়োজন করতে হবে!
মামলা-গ্রেফতার দিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন দমন করা যাবে না।

চা শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলবেই!
✊ গীতা রানী কানুর মুক্তি চাই!
✊ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করো!
✊ চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করো!
✊ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই!

#গীতা_রানী_কানুর_মুক্তি_চাই
#মিথ্যা_মামলা_প্রত্যাহার_করো
#চা_শ্রমিকের_মজুরি_৫০০_টাকা
#শ্রমিকের_অধিকার
#সুষ্ঠু_নিরপেক্ষ_নির্বাচন

✊ দায়িত্বের কাছে ব্যক্তিগত জীবন—বিপ্লবী আদর্শের পথেই আমার চলাবেশ কয়েক মাস যাবৎ ঢাকায় বাসদ কেন্দ্রীয় পার্টির বিভিন্ন কর্ম...
02/09/2026

✊ দায়িত্বের কাছে ব্যক্তিগত জীবন—বিপ্লবী আদর্শের পথেই আমার চলা

বেশ কয়েক মাস যাবৎ ঢাকায় বাসদ কেন্দ্রীয় পার্টির বিভিন্ন কর্মসূচিতে গেলে পার্টির নেতৃবৃন্দ ও অন্যান্য কমরেডরা একটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন—আমি নাকি দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছি।
তাঁদের উদ্বেগ, ভালোবাসা ও আন্তরিক কথাবার্তা আমাকে কিছুটা ভাবিয়ে তোলে। একইভাবে ভাতিজাদের বাসায় গেলে পরিবারের সবাই আমার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেন। একবাক্যে সবাই বলেন—
“আপনার বয়স হয়েছে। এখন বাসায় থেকেই সাংগঠনিক কাজকর্ম করুন। বাইরে এত বেশি থাকার প্রয়োজন নেই। আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”
আমি তাঁদের আমার দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা বলেছি। কিন্তু আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্যে সিনিয়রদের কথার ওপর আপত্তি করার রেওয়াজ খুব একটা নেই। তাই তাঁদের ভালোবাসা, উদ্বেগ ও পরামর্শকে সম্মান জানিয়েছি।
বাসায় যাওয়ার পর নাতি-নাতনিরাও তাদের নিজস্ব ভাষায় আমাকে বুঝিয়েছে—আমরা যে কাজ করছি, তা ভালো কাজ; তাই আমাদের প্রতি তাদের এক ধরনের মৌন সমর্থন রয়েছে।
আমার নাতি সৃজন ও স্বামীক ইতোমধ্যে আমাদের বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ ও শিশু-কিশোর মেলা সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করেছে। ওদের আগ্রহ ও সমর্থন দিন দিন বাড়ছে। আর সিজন ও সাহারান তাদের টিফিনের টাকার একটি অংশ আমার জন্য জমিয়ে রাখে। আমি বাসায় গেলে তারা সেই টাকা আমার পকেটে ঢুকিয়ে দেয়।
এই ভালোবাসা, এই বিশ্বাস—একজন রাজনৈতিক কর্মীর জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
সম্প্রতি ঢাকা পার্টির শিক্ষা শিবিরে অংশগ্রহণের পর বাসায় গেলে পরিবারের সদস্যরা আমাকে স্পষ্টভাবে বলেন—
“চিকিৎসা না করিয়ে ঢাকা থেকে কোথাও যাবেন না।”
কিন্তু কুমিল্লায় অফিস নির্মাণের কিছু কাজ চলছিল। তাই সেখানে ফিরে আসতে হয়েছিল। তবে দাদাদের কথা দিয়েছি—চিকিৎসা অবশ্যই করাব।

✊ বিপ্লবী রাজনীতির শিক্ষা—জনগণের সঙ্গে থেকেই সংগ্রাম
আমাদের বাসদ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক কমরেড খালেকুজ্জামান বারবার একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতেন—
একজন শ্রমিক বা দিনমজুরের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপন করতে হবে। শ্রমিক, গরিব কৃষক ও ক্ষেতমজুরের মাঝেই থাকতে হবে। তাদের সঙ্গে গণসংযোগ বাড়িয়ে তাদের সংগ্রামের অংশীদার হতে হবে—এটাই একজন বিপ্লবীর দায়িত্ব।
এই শিক্ষাই আমাদের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম ভিত্তি।
আমাদের বাসদ পার্টির নেতৃবৃন্দ ব্যক্তিগত সুবিধা-ভোগের রাজনীতি করেন না। পার্টির প্রতিষ্ঠাতা থেকে শুরু করে সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ—সবাই জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে, সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসা ও সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
অনেকেরই ধারণা, বিভিন্ন বাম সংগঠনের ফুলটাইম (সার্বক্ষনিক) কর্মীরা পার্টি থেকে নিয়মিত অর্থ পান। কিন্তু আমাদের বাসদ পার্টির প্রতিনিধি সভাগুলোতে কমরেড খালেকুজ্জামান বলতেন—
“যে কমরেড ফুলটাইম (সার্ক্ষনিক) রাজনীতি করতে চায়, তাকে এমন অন্তত ৫০ জন সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী তৈরি করতে হবে, যারা তার রাজনৈতিক কাজের প্রতি আস্থাশীল এবং প্রয়োজনে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকবে।”
শুধু সার্বক্ষণিক সময় থাকলেই বিপ্লবী রাজনীতি করা যায় না।
“অবসর আছে, তাই মন্দিরে বসে ঘণ্টা বাজাচ্ছি”—এভাবে বিপ্লবী রাজনীতি সম্ভব নয়।

রাজনীতি করতে হলে প্রয়োজন—
✊ সৃজনশীলতা
✊ জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক
✊ দায়িত্ববোধ
✊ আত্মত্যাগ
✊ সংগঠনের প্রতি শৃঙ্খলা
✊ এবং মানুষের আস্থা অর্জনের ক্ষমতা।

প্রত্যেক স্তরের কমরেডের মধ্যেই এই সৃজনশীলতা ও জনসম্পৃক্ততা গড়ে তুলতে হবে।
আমাদের অনেক বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনের রাজনৈতিক মত ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তারপরও আমাদের রাজনীতির প্রতি তাদের এক ধরনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে।
ঈদ, নববর্ষ, পূজা কিংবা অন্যান্য বড় উৎসবে তারা নিজেদের পরিবারের জন্য পোশাক কিনতে গেলে অনেক সময় পার্টির নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের জন্যও কিছু কিনে দেন। তাদের দেওয়া ভালোবাসার উপহার ফিরিয়ে দিলে তারা কষ্ট পান। তাই অনেক সময় শুভানুধ্যায়ীদের মন রক্ষার্থেই সেই উপহার গ্রহণ করতে হয়।
এটাই মানুষের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক—ভালোবাসার সম্পর্ক, বিশ্বাসের সম্পর্ক।

🏥 কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার অভিজ্ঞতা
এবার আসি আমার চিকিৎসার কথায়।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আমার মনে হয়েছে, এখানকার পরিবেশ আগের চেয়ে আরও রোগীবান্ধব। ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীদের আচরণ আন্তরিক।
রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও তারা রোগীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন এবং অভিজ্ঞতার আলোকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন।
আমাকেও কয়েকটি পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়।
ডাক্তার যখন জানতে চাইলেন—আমি কী করি এবং আমার আয় কেমন—তখন আমি আমার পরিচয় দিয়ে বললাম,
“আমি একজন সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মী। চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য—কোনোটিই করি না।”
এ নিয়ে কিছুক্ষণ আলোচনা হয়। পরে আমার আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনা খরচে করানোর ব্যবস্থা করেন।
পরীক্ষার ফলাফল দেখে মোটামুটি স্বস্তির খবরই পেয়েছি।
ডায়াবেটিসের বিষয়টি ছাড়া বড় কোনো জটিল রোগ ধরা পড়েনি। কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য চিকিৎসক ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
আলহামদুলিল্লাহ, মোটামুটি সব দিক থেকেই ভালো আছি।

🏥 কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন
আমার কাছে হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতিও বেশ আধুনিক মনে হয়েছে। তবে রোগীর চাপ বিবেচনায় হাসপাতালের আসনসংখ্যা ও চিকিৎসাসেবা আরও বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।
কুমিল্লা বিভাগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে—নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন।
তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ—
জনসংখ্যা ও রোগীর চাপ বিবেচনায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হোক।

❤️ চিকিৎসা ব্যবসা নয়—চিকিৎসা মানুষের অধিকার
আমার আরেকটি আবেদন থাকবে—
দেশের প্রত্যেকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের জন্য কিছু শয্যা সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বিনা খরচে বা স্বল্প খরচে দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।
কারণ—
চিকিৎসা কোনো বিলাসপণ্য নয়। চিকিৎসা কোনো ব্যবসা হওয়ার কথা নয়। চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।
এই কথাটি বাস্তবে প্রমাণ করতে হবে।

🇧🇩 জনপ্রতিনিধিরা দেশের হাসপাতালেই চিকিৎসা নিন
আর একটি কথা বলতে চাই—
এই অঞ্চলের মাননীয় জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা যদি দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা গ্রহণ করেন, তাহলে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে এবং সেবার মান উন্নয়নে কর্তৃপক্ষও আরও বেশি গুরুত্ব দিতে বাধ্য হবে।
নিজেদের দেশের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
বিদেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে দেশের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের সক্ষমতাকে ছোট না করে, বরং দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

✊ শেষ কথা
আমার শরীর হয়তো কিছুটা শুকিয়েছে, বয়সও বেড়েছে। কিন্তু মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ, সংগঠনের প্রতি অঙ্গীকার এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এখনো শুকিয়ে যায়নি।
সংগ্রামের পথ সহজ নয়। বয়স, অসুস্থতা, আর্থিক সংকট—সবকিছুর মধ্য দিয়েই দায়িত্ব পালন করতে হয়।
মানুষের ভালোবাসা, সহযোদ্ধাদের বিশ্বাস, পরিবারের উদ্বেগ এবং শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতাই আমাদের এগিয়ে চলার শক্তি।
ব্যক্তিগত জীবন ক্ষণস্থায়ী—কিন্তু মানুষের মুক্তির সংগ্রাম চলমান।

✊ দায়িত্ব পালন করব, যতদিন শরীর সঙ্গ দেয়।
✊ মানুষের মাঝেই থাকব, মানুষের সংগ্রামের সঙ্গেই থাকব।
✊ বিপ্লবী আদর্শের পথ থেকে বিচ্যুত হব না।
সংগ্রাম চলবেই—মানুষের মুক্তির জন্য, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের জন্য।

— আবদুর রাজ্জাক
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের কথা¹: ভিহেল্ম লিবনেখট  ​[ফ্রেডরিখ এঙ্গেল্স: জন্ম ২৮ নভেম্বর, ১৮২০; মৃত্যু: ৫ আগস্ট ১৮৯৫। ৫ আগস্ট মার্...
02/09/2026

ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের কথা¹: ভিহেল্ম লিবনেখট

​[ফ্রেডরিখ এঙ্গেল্স: জন্ম ২৮ নভেম্বর, ১৮২০; মৃত্যু: ৫ আগস্ট ১৮৯৫। ৫ আগস্ট মার্কসবাদের অন্যতম রূপকার ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস এর ১৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ জার্মানির অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠাতা, মার্কস-এঙ্গেলস-এর ঘনিষ্ঠতম বন্ধু ভিলহেল্ম লিবনেখট-এর লেখা ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস কথা নামক সংক্ষিপ্ত জীবনীটি প্রকাশ করছি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসাবে। সম্পাদক]
​ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের মস্তিষ্কটি ছিল স্বচ্ছ ও সু-আলোকিত, সব রকম রোমান্টিক বা ভাবপ্রবণ কুহেলিকা থেকে মুক্ত। মানুষকেও বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টি রঙিন চশমা অথবা স্বপ্নবাষ্পের আস্তরণের মধ্যে দিয়ে দেখতেন না তিনি, দেখতেন নির্মল প্রোজ্জ্বল চোখ মেলে, সর্বদাই স্বচ্ছ উজ্জ্বল বায়ুস্তর ভেদ করে, স্পষ্ট করে, স্বচ্ছভাবে। তাঁর দৃষ্টি বস্তুবিশ্বের উপরিতলে মাত্র সীমাবদ্ধ থাকত না, প্রতিটি বস্তুর মর্মে পুরোপুরি প্রবেশ করে একেবারে তার শেষ দেখে ছাড়ত ওই স্বচ্ছ তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, কথাটির সত্যিকার ও স্বাভাবিক মানবিক অর্থে ওই 'অলোকদৃষ্টি', জননী প্রকৃতি খুব অল্প লোককেই জন্মসূত্রে যা দান করে থাকেন সেই মুক্ত দৃষ্টি ছিল এঙ্গেলসের চরিত্রের একটি মৌল লক্ষণ। প্রথমবার তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়ামাত্রই তাঁর এই বিশেষ চারিত্র্যলক্ষণটি আমার কাছে ধরা পড়ে।
​নীল জেনেভা হ্রদের তীরে ১৮৪৯ সালে গ্রীষ্মের শেষাশেষি তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। রাইখ সংবিধানের সপক্ষে আন্দোলনের ব্যর্থতার পর জেনেভায় আমরা কয়েকটি শরণার্থী কলোনি বসিয়েছিলাম।
​এর আগে নানা ধরনের কয়েকজন 'মহৎ ব্যক্তি'র সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত হবার সুযোগ ঘটেছিল আমার। এঁরা হলেন রুগে, হাইন্সেন, ইউলিউস ফ্রোবেল দ্রুভে এবং বাডেন ও স্যাক্সনি 'বিপ্লব'-এর অন্য বহুবিধ 'জননেতা'। কিন্তু এঁদের সঙ্গে আমার আলাপ-পরিচয় যতই ঘনিষ্ঠতর হয়েছিল ততই এঁদের গরিমা ম্লান হয়ে গিয়েছিল আমার কাছে, ক্ষুদ্রতর ঠেকেছিল লোকগুলিকে।
​আবহাওয়া যত ধোঁয়াশাচ্ছন্ন থাকে, মানুষ ও বস্তুকে ততই বড়ো দেখায়। ফ্রেডারিক এঙ্গেলসের সেই বিশেষ গুণটি ছিল যার বলে তাঁর স্বচ্ছ সুচোখের সামনে থেকে সকল ধোঁয়াশা লুপ্ত হয়ে যেত, মানুষ আর বস্তুকে হুবহু মানুষ আর বস্তুর মতোই দেখাত। এই গুণজাত তাঁর সেই অন্তর্ভেদী দৃষ্টিকে এবং তীক্ষ্ণ ও গভীর অন্তর্দৃষ্টির দ্যোতক সেই প্রখর বিচারক্ষমতায় প্রথম-প্রথম আমার অস্বস্তি জাগত, এমনকি মাঝে-মাঝে আহতও বোধ করতাম। এটা ঠিক যে রাইখ সংবিধানের সপক্ষে আন্দোলনের 'বীরবৃন্দ' যে এঙ্গেলসের চেয়ে আমাকে বেশি প্রভাবিত করতে পেরেছিলেন তা নয়, তবু আমার মনে হয়েছিল ওই আন্দোলনে বহু মূল্যবান শক্তির উপাদান এবং প্রচুর সোৎসাহ আত্মত্যাগ নিহিত থাকা সত্ত্বেও তিনি যেন গোটা আন্দোলনকেই খাটো করে দেখছেন।
​আবার ওই একই সঙ্গে, দক্ষিণ জার্মানির লোক না হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণদেশীয় জার্মানের শান্তসহিষ্ণু ভাব-এর যে-অবশেষ তখনও পর্যন্ত আমার মধ্যে বিদ্যমান ছিল (যা পরে ইংল্যান্ডে থাকার সময় আমার মধ্যে থেকে ঝেড়েপুঁছে সম্পূর্ণ সাফ হয়ে যায়) তা-ও ব্যক্তি ও বস্তু সম্পর্কে সাধারণ ধারণা গঠনের ক্ষেত্রে আমাদের ঐকমত্যে উপনীত হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। অবশ্য সব সময়েই যে সঙ্গে সঙ্গে আমরা একমত হতাম তা নয়। ইংল্যান্ডে শ্রমিক শ্রেণির অবস্থা বিষয়ে এঙ্গেলসের বইখানি আমি এর অনেক আগেই পড়েছিলাম এবং তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগ স্থাপিত হওয়ার ফলে তাঁর জ্ঞানের ঐশ্বর্য ও বৈচিত্র্যের ব্যাপারে সম্যক উপলব্ধি অর্জনেও সক্ষম হয়েছিলাম। ফলে এ-ব্যাপারটি লক্ষ্য করতে আমার বেশি দেরি হয়নি যে এঙ্গেলসের প্রতিটি মতামতের পিছনে দৃঢ় ও সুনির্দিষ্ট যুক্তি থাকত।
​নিচে থেকে উঁচুতে তাঁর দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে মনে হতো, বহু অসাধ্যসাধনের নায়ক এই ব্যক্তিটি আমার চেয়ে মাত্র বছর পাঁচেকের বড়ো। বস্তুত পাঁচটা বছর ছিল এক্ষেত্রে গোটা একটা শতকের সমান।
​শিগগিরই এটাও আমার নজরে পড়ল যে সামরিক ব্যাপারে তিনি রীতিমতো পারদর্শী। আলাপ-আলোচনার মধ্যে দিয়ে আমি জানতে পারলাম যে ইতিপূর্বে নিউ ইয়র্ক ট্রিবিউন পত্রিকায় হাঙ্গেরির বৈপ্লবিক যুদ্ধ সম্পর্কে যে-প্রবন্ধাবলি প্রকাশিত হয়েছিল, এবং যে-সব প্রবন্ধের বিশ্লেষণ ইত্যাদি সর্বদা সঠিক প্রমাণিত হওয়ায় সেগুলি হাঙ্গেরির সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ অফিসারের রচনা বলে একটা ধারণা চালু হয়ে গিয়েছিল, তা আসলে ছিল এঙ্গেলসেরই লেখা। অথচ তিনি নিজেই একদিন হাসতে হাসতে আমায় বলেছিলেন যে প্রবন্ধগুলি লেখার সময় অন্য খবরের কাগজের কাছে তথ্যের যে-মালমশলা ছিল তাঁর হাতে তার বেশি আর কিছুই ছিল না। আর ওই মালমশলা প্রায় সম্পূর্ণতই পাওয়া গিয়েছিল একমাত্র অস্ট্রিয়ান গভর্নমেন্টের কাছ থেকে, যে-গভর্নমেন্ট একেবারে জলজ্যান্ত মিথ্যে তথ্য সরবরাহ করছিল। বর্তমান স্প্যানিশ গভর্নমেন্ট কিউবার ব্যাপারে যা বলছে² হাঙ্গেরির ব্যাপারে অস্ট্রিয়ান গভর্নমেন্টও ঠিক সেই কথাই বলে চলেছিল তখন-অর্থাৎ কিনা, তারাই হরদম একতরফা জিতে চলেছে। কিন্তু এঙ্গেলস এক্ষেত্রে তাঁর সেই অলোকদৃষ্টিটি কাজে লাগালেন, লম্বাচওড়া বাতচিতের দিকে দৃকপাতমাত্র করলেন না। তাঁর মস্তিষ্ক থেকে তখনই রঞ্জনরশ্মি বিকিরিত হতে শুরু করেছে; আর আমরা জানি, ওই রশ্মিগুলি প্রতিসরণের তির্যকীকরণের অধীন নয়, 'ক' অক্ষরকে তারা 'গ' করে দেখায় না। সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে কোন-কোন বস্তু অপ্রয়োজনীয় মস্তিষ্কের রঞ্জনরশ্মির সাহায্যে এঙ্গেলস তা বুঝে ফেললেন এবং কোনো ধোঁয়াশা বা মরীচিকাকে তাঁকে পথভ্রষ্ট করতে দিলেন না, তিনি সেঁটে রইলেন যা প্রকৃত যা বাস্তব তার সঙ্গে-অর্থাৎ তথ্যের সঙ্গে। মৃত্যুর মুখে যতই তুড়ি বাজিয়ে মস্ত বীরপনা ফলিয়ে অস্ট্রিয়ান গভর্নমেন্ট তার 'ঘনাদা' সুলভ ঘোষণাপত্রগুলি প্রচার করুক না কেন, কিছু কিছু তথ্যের উল্লেখ না করে তাদের উপায় ছিল না। যেমন তাদের উল্লেখ করতে হতো যে-সব জায়গায় সংঘর্ষগুলো ঘটছে সে-সব জায়গার নাম, যুদ্ধের সূচনায় ও শেষে সৈন্যরা কোথায় ছিল ও কোথায় আছে তার খবর, সংঘর্ষের সময়নির্ঘণ্ট, সৈন্যচলাচলের খবর, ইত্যাদি, ইত্যাদি। আর খবরের এইসব টুকরোটাকরা আর খণ্ড ভগ্নাংশগুলো দিয়ে, এগুলোকেই জুড়ে জুড়ে স্বচ্ছ ও প্রোজ্জ্বল-দৃষ্টি চক্ষুষ্মান আমাদের ফ্রেডরিখ শিল্পী ক্যুভিয়ের মতো রণক্ষেত্রের ঘটনাবলির সত্যিকার চিত্রটি তুলে ধরতেন। রণক্ষেত্রের ভালো একটি মানচিত্রের সাহায্যে ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত তারিখ ও জায়গার নাম থেকে একেবারে গাণিতিক নির্ভুলতায় এই সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়েছিল যে 'বিজয়ী' অস্ট্রিয়ানরা ক্রমাগত পিছনে 'এগিয়ে যাচ্ছে' আর 'পর্যুদস্ত' হাঙ্গেরিয়ানরা ক্রমশ সামনে 'হটে যাচ্ছে'! ওই আঙ্কিক হিসেব এতই সঠিক ছিল যে কাগজপত্রে যেদিন প্রকাশিত হলো অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনী হাঙ্গেরিয়ানদের চূড়ান্তভাবে পরাস্ত করেছে তার পরদিনই অস্ট্রিয়ান বাহিনীকে সম্পূর্ণ ছত্রভঙ্গ অবস্থায় হাঙ্গেরি ছেড়ে পালাতে দেখা গেল। ...
​প্রসঙ্গত বলি, মনে হয় এঙ্গেলস যেন সৈনিক হবার জন্যে জন্মেছিলেন। তাঁর ছিল স্বচ্ছ দৃষ্টি, দ্রুত উপলব্ধির ক্ষমতা এবং ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ঘটনার মূল্য যাচাইয়ের শক্তি, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সামর্থ্য এবং অবিচল ধীরস্থির ভাব। পরবর্তীকালে সামরিক সমস্যাদি নিয়ে তিনি বেশ কয়েকটি উৎকৃষ্ট প্রবন্ধ লিখেছিলেন এবং ছদ্মনামে লিখলেও তার জন্যে প্রথম শ্রেণির সামরিক বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভ করেছিলেন। ওই বিশেষজ্ঞদের অবশ্য কোনোই ধারণা ছিল না যে আলোচ্য পুস্তিকাগুলির অজ্ঞাতপরিচয় লেখক-ব্যক্তিটি ছিলেন তখনকার দিনের সবচেয়ে 'কুখ্যাত' বিদ্রোহীদের একজন। ...
​লন্ডনে থাকতে আমরা ঠাট্টা করে এঙ্গেলসকে ডাকতাম 'জেনারেল' বলে। তাঁর জীবদ্দশায় যদি আর একটা বিপ্লব ঘটত তাহলে এঙ্গেলসের মধ্যে আমরা পেতাম সেনাবাহিনীর ও সামরিক বিজয়ের সংগঠক, সমরবিদ্যায় ধীমান কার্নোকে³।
​সুইজারল্যান্ডে সেবার অল্প কিছুকাল এঙ্গেলসের সঙ্গে কাটানোর পর পরের বছর লন্ডনে আবার তাঁর সঙ্গে দেখা। প্রথমে তিনি লন্ডনে চলে এসেছিলেন। এর পর থেকে তাঁর সঙ্গে আমার যোগাযোগ সর্বদা অক্ষুণ্ণ ছিল।
​বস্তুত, এঙ্গেলস লন্ডন ছেড়ে ১৮৫০ সালে ম্যানচেস্টারে চলে যান (আমি তখন বাস করছিলাম লন্ডনে) তাঁর বাবার ব্যবসায় যোগ দিতে। রাইনের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মতো এঙ্গেলসের বাবারও ইংল্যান্ডে একটি ব্রাঞ্চ অফিস ছিল। এঙ্গেলস কিন্তু প্রায়ই আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন লন্ডনে, কখনও কখনও কিছুটা দীর্ঘ সময়ের জন্যেও। মার্কসকে তিনি চিঠি লিখতেন প্রায় প্রতিদিন, আর ওই সব চিঠির যতখানি অংশ নিতান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপারে সীমাবদ্ধ থাকত না ততখানি মার্কস নিয়মিতভাবে আমাদের পড়ে শোনাতেন-আমাদের মানে, প্রায়ই পরিবর্তনশীল মার্কস গোষ্ঠীর অপেক্ষাকৃত বিশ্বাসযোগ্য সদস্যদের।
​এটা অবশ্য সত্যি যে মার্কসের সঙ্গে আমার সম্পর্ক যতখানি ঘনিষ্ঠ ছিল এঙ্গেলসের সঙ্গে কখনোই তা ছিল না। বারো বছর মার্কসের বাড়িতে আমি ছিলাম প্রায় প্রাত্যহিক অতিথি, পরিবারেরই প্রায় একজন সদস্য। তবে মার্কসের মৃত্যু আমাকে এঙ্গেলসের আরও নিকটবর্তী করে তুলেছিল।
​এঙ্গেলসকে তখন মার্কসের স্থানাধিকারী হওয়া ও তাঁর অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা ও আরব্ধ কর্ম পূরণের দ্বৈত কর্তব্য পালন করতে হচ্ছিল।
​আর একমাত্র তখনই তিনি, যিনি তার আগে পর্যন্ত (তাঁর নিজের ভাষায়) 'দোহার' মাত্র ছিলেন, দেখিয়ে দিলেন তিনি কতদূর কী করতে পারেন। দেখিয়ে দিলেন, তিনি 'মূল গায়েন'ও হতে সমর্থ।
​তার আগে বছর বিশেক সময় ধরে যে-কর্মশক্তিকে তিনি প্রধানত ব্যবসার কাজে লাগাতে বাধ্য হয়েছিলন, তা এখন পুরোপুরি পূর্বোক্ত দ্বৈত কর্তব্য সম্পাদনে নিয়োগ করলেন। পুঁজি বইটি যথাসাধ্য সম্পূর্ণ করলেন তিনি, তাঁর নিজস্ব বৈজ্ঞানিক রচনার কাজে আশ্চর্য কর্মশক্তির উদ্বোধন ঘটালেন এবং কাজ করার অসামান্য ক্ষমতার দরুণ এরই ফাঁকে-ফাঁকে তাড়াতাড়ি আন্তর্জাতিক চিঠিপত্র লেখালেখিরও উপযোগী সময় করে নিতে সক্ষম হলেন। আর, বলা বাহুল্য, এঙ্গেলসের সে-সব চিঠি সাধারণ চিঠি ছিল না, প্রায়ই সেগুলি হয়ে দাঁড়াত রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধ, পথনির্দেশ ও পরামর্শদানের নামান্তর।
​যেখানেই তাঁকে দরকার পড়ত সেখানেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন তিনি; চারপাশের সবাইকেই তিনি উদ্বুদ্ধ করে তুলতেন। উপদেশ দিয়ে, উপরোধ-অনুরোধ করে, সতর্কবাণী উচ্চারণ করে মৃত্যুর অল্প আগে পর্যন্তও সক্রিয় সৈনিক হিসেবে এঙ্গেলস অংশগ্রহণ করে গেছেন মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনে। আর সেই আন্দোলন কার্যকর করে তুলছিল এমন একটি আদর্শকে, তিনি ও তাঁর বন্ধু মার্কস ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের অগ্রদূত ভোরের হাওয়ার আভাস পেয়ে ১৮ ৪৮ সালের সূচনায় শ্রমিকদের কাছে একদা ঘোষণা করেছিলেন যার কথা, বলেছিলেন দুনিয়ার মজদুর এক হও!
​তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। দুনিয়ায় এমন কোনো শক্তি নেই যা বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ প্রলেতারিয়েতের গতি রোধ করতে পারে।
​১৮৯০ সালের ২৮ নভেম্বর আমরা লন্ডনে এঙ্গেলসের সত্তরতম জন্মদিবস উদ্যাপন করেছিলাম। সবচেয়ে খুশির, সর্বাপেক্ষা প্রাণোচ্ছল যৌবনকালে যতখানি তরতাজা, রঙ্গরসিকতায় ভরপুর আর লড়াইখেপা ছিলেন তিনি সত্তর বছরেও ছিলেন তা-ই। আর এর তিন বছর পরে কনকর্ডিয়া-হলে যখন তিনি বার্লিনের শ্রমিকদের বললেন⁴, 'কমরেডস, এ-বিষয়ে আমি নিশ্চিত যে ভবিষ্যতেও আপনারা আপনাদের কর্তব্য পালন করে যাবেন!' তখন যে হাজার-হাজার মানুষ উৎসাহভরে তাঁর কথা শুনছিলেন এবং ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় বিগলিত হয়ে দেখছিলেন তাঁকে, তাঁদের মধ্যে এমন একজনও ছিলেন না যিনি অবাক হয়ে বলেননি:
​'এই যুবাপুরুষটির কি ৭৩ বছর বয়স হতে পারে?'
​এর পর পুরো দুটো বছরও কাটল না। ১৮৯৫ সালের ৬ আগস্ট ব্রেমেনের বিরাট ট্রেড ইউনিয়ন উৎসব থেকে ফিরে এসে দেখলাম ফরওয়ার্ডস-এর সম্পাদকীয় দপ্তরে আমার ডেস্কের উপর পড়ে রয়েছে এই মর্মান্তিক টেলিগ্রামখানা:
​'গতকাল রাত্রি ১০:৩০-এ জেনারেল মারা গেছেন। দুপুর থেকে অচৈতন্য ছিলেন। দয়া করে ওল্ডেট ও জিঙ্গারকে খবরটা জানান।'
​ওল্ডেট (সৈনিক) মানে, আমি⁵।
​তার আগেই বসন্তকাল থেকে আমরা, অর্থাৎ জার্মানিতে তিন ব্যক্তি, জানতাম যে 'জেনারেল' গলনালির দুরারোগ্য ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। তাই এই আঘাত অপ্রত্যাশিত না হলেও এ ছিল বড়ো কঠিন আঘাত, বড়ো ভয়ঙ্কর আঘাত।
​এইভাবে নীরব হয়ে গেলেন তিনি, সেই বিরাট পুরুষ, মার্কসের সঙ্গে একত্রে যিনি বিজ্ঞানসম্মত সমাজতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছেন, প্রলেতারিয়েতকে শিক্ষা দিয়েছেন সমাজতন্ত্রের রণকৌশল, চব্বিশ বছরের তরুণ বয়সে যিনি রচনা করেছেন ইংল্যান্ডে শ্রমিক শ্রেণির অবস্থা শীর্ষক ধ্রুপদী গ্রন্থ, কমিউনিস্ট ইশতেহার-এর যুগ্ম-রচয়িতা যিনি, কার্ল মার্কসের 'দ্বিতীয় সত্তা' হিসেবে যিনি তাঁকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংঘের প্রাণদানে সহায়তা করেছেন, অ্যান্টি-ডুরিং বা চিন্তাশক্তির অধিকারী যে-কোনো মানুষের বোধগম্য স্ফটিক-স্বচ্ছ বিজ্ঞানের সেই বিশ্বকোষের রচয়িতা যিনি, পরিবারের উৎপত্তি ও অন্যান্য বহু গ্রন্থ, প্রবন্ধ ও সংবাদপত্রের নিবন্ধের যিনি প্রণেতা, সেই বন্ধু, উপদেষ্টা, নেতা ও যোদ্ধা মানুষটি আর নেই-তিনি প্রয়াত।
​কিন্তু যেখানেই শ্রেণি-সচেতন প্রলেতারিয়ানরা বেঁচে আছেন আর লড়াই করছেন সেইখানেই বেঁচে আছে, বেঁচে থাকবে তাঁর মর্মবাণী।
​সম্পাদকীয় টীকা:
১. সংশ্লিষ্ট রচনাটি ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত হয়। -সম্পা.
২. ১৮৯৫ সালে তৎকালীন স্প্যানিশ উপনিবেশ কিউবা দ্বীপে যে গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় তা দমন করার ব্যাপারে স্প্যানিশ গভর্নমেন্টের ব্যর্থতার কথাই এখানে পরোক্ষভাবে উল্লেখ করছেন লেখক। -সম্পা.
৩. লাজার নিকোলা কার্নো (১৭৫৩-১৮২৩) ফ্রান্সে বুর্জোয়া বিপ্লব সংগঠনের কালে ফরাসি রাজনীতিবিদ ও সেনানায়ক, বুর্জোয়া প্রজাতন্ত্রী। -সম্পা.
৪. ১৮৯৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বার্লিনে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের এক সভায় বক্তৃতা প্রসঙ্গে এঙ্গেলস এই কথাগুলি বলেন। -সম্পা.
৫. এই তিন ব্যক্তি হলেন যথাক্রমে ভিলহেলম লিবনেষ্ট, ফার্দিনান্দ অগাস্ট বেবেল এবং প. জিঙ্গার। -সম্পাদক।

02/09/2026

অবিলম্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অসম বানিজ্য চুক্তি বাতিল কর ------- বাসদ নেতা বিপ্লব

---------আইনভঙ্গ আর অরাজকতা --------কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, কেন্দ্রীয় সভাপতি, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট,,,,,,,একটা পু...
01/09/2026

---------আইনভঙ্গ আর অরাজকতা --------

কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, কেন্দ্রীয় সভাপতি, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট,,,,,,,

একটা পুরনো গল্প। এক ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছিল। বিচারকাজ চলার সময় জেরা করছেন আইনজীবী। ছিনতাইকারী আত্মপক্ষ সমর্থন করে বললো, আমি তারে খুন করতে চাই নাই, শুধু মোবাইলটা নিতে চাইছিলাম। কিন্তু উনি তো দিলেনই না, বরং আমার সাথে ঝামেলা লাগাইলেন। এমন চিৎকার, ধস্তাধস্তি শুরু করলেন যে রাস্তায় ঝামেলা লাইগা গেল। বাধ্য হইয়া নিজের জান বাঁচাইতে ছুরি মারছি। আমি খুনি না, উনি ঝামেলা না কইরা আপোষে মোবাইলটা দিয়া দিলে তো খুন হইতেন না।

ঢাকা সহ সারাদেশে ব্যাটারি চালিত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বিচলিত যারা তাঁরা কিন্তু এর কারণ ও সমাধানের বিষয় ভাবছে না। কেন লাখ লাখ বাহন রাস্তায় নেমে এলো, কারা তৈরি করে এসব, কারা চালায়, কারা চড়ে এসব বাহনে সেসব আলোচনা না করে উচ্ছেদ করো এসব জঞ্জাল, এদের কারনে রাস্তায় চলা যায় না, এরা বিদ্যুৎ সব খেয়ে ফেলছে, দুর্ঘটনা ঘটছে, ব্যাটারি ব্যবহার করে পরিবেশ দূষণ করছে এই সমস্ত অভিযোগ করা হচ্ছে এদের বিরুদ্ধে। ভাবছে একবারও কেন এত বেকার, কেন এরা রিক্সা চালায়, কতটা পরিবার চলে এদের আয়ে, কতটুকু বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এবং কত দাম দেয় সেই বিদ্যুতের, কত মানুষ ব্যবহার করে এসব বাহন, এইসব বাহন ছাড়া আর কোন বাহন আছে কি অল্প আয়ের মানুষদের জন্য? কোন ভাবনা নেই, দায়িত্ব নেই, আছে উচ্ছেদ করার বাসনা আর গাড়ির জন্য রাস্তাকে মসৃণ করার ভাবনা।

এরা ব্যাটারি ব্যবহার করে এবং এই ব্যাটারি পরবর্তীতে পরিবেশ দূষণ করে। কথাটা ঠিক। এর কারনে যদি এসব উচ্ছেদ করতে হয় তাহলে দেখা যাক, ব্যাটারি আর কোথায় কোথায় ব্যবহার হয়? বিআরটিএ ২০২৫ সাল পর্যন্ত যে হিসাব দিয়েছে তাতে দেখা যায়, বাসের সংখ্যা ৫৬,৮৬৬ টি, ট্রাকের সংখ্যা ১,৫৫,৫৫২ টি, প্রাইভেট কার ৪,২৫০৮৭ টি, মাইক্রোবাস ১৩২৩৭৯ টি, পিক আপ ১,৭০৩১৪ টি, এ্যাম্বুলেন্স ৮৯৮০ টি, হিউম্যান হলার ১৭৩৮৭ টি, মোটর সাইকেল ৪৭,০০,০০০ টি অর্থাৎ ৫৬ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬৫ টি নিবন্ধিত যানবাহন আছে। এর বাইরে অনিবন্ধিত যানবাহন যে কত তাঁর হিসাব এবং হদিশ নেই। এসব বাহনে কি ব্যাটারি ব্যবহার হয় না? এর বাইরে লঞ্চ স্টিমার, মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম, বাসা বাড়ির আইপিএস সমস্ত ক্ষেত্রেই ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল কোথায় লাগে না ব্যাটারি। এমনকি সোলার প্যানেল বসালেও তো ব্যাটারি লাগে। ব্যাটারি লাইফ শেষ হলে এগুলো তো ফেলতে হয়। ফলে সমস্যাটা সর্বব্যাপক কিন্তু দায়টা যেন ব্যাটারি চালিত রিক্সা আর ইজি বাইকের।

ব্যাটারি রিক্সা বিদ্যুৎ খেয়ে ফেলছে এই অভিযোগ উঠছে জোরেশোরে। কিন্তু ঘর ঠাণ্ডা করতে এসি চালালে কি বিদ্যুৎ লাগে না। একটা ২ টনের এসি যে বিদ্যুৎ খায় তা দিয়ে তো ৪ টি রিক্সা বা ইজিবাইক চলে অর্থাৎ কমপক্ষে ৪ টা পরিবারের ভরণপোষণ হয়। একজন মানুষের শান্তির ঘুম আর ১৬ জন মানুষের খাওয়া পড়া কোনটা বেশি দরকার?

বলা হচ্ছে এই রিক্সা চালকেরা বিদ্যুৎ চুরি করে, দাম দেয় না। কিন্তু বাস্তবে এরা প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের জন্য কমপক্ষে ২০ টাকা দেয়। ধনীরা কত দেন? প্রতি কিলোওয়াট ১১ টাকার কম। চার্জিং স্টেশন বিদ্যুৎ এর দাম কম দিলে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা দরকার সাথে সাথে যারা কোটি কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বাকি রাখে বা মেরে দেয় তাদের ব্যাপারেও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা দরকার।

এসব কোন কিছুর ব্যাপারে কোন আন্দোলন দেখা গেল না। একজন দাবী তুললেন, ব্যাটারি রিক্সা উচ্ছেদ করে দিতে হবে, অনেকেই তাকে সমর্থন দিলেন। তাতে উৎসাহিত হয়ে তিনি কর্মসূচি দিলেন রিক্সা থেকে ব্যাটারি খুলে নেয়ার। তিনি নাকি এসব ব্যাটারি গ্রামে পাঠিয়ে দেবেন। বিদ্যুৎ নিয়ে এতো ভাবনা যার তিনি কিন্তু বলতে পারলেন না, ধনীদের ঘরে ঘরে যে এতো এতো এসি চলে, প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে, সেগুলো খুলে বিদ্যুৎ বাঁচাবো। এই কথা বলার মন নেই বরং রাস্তায় তিন ঘণ্টা আন্দোলন করে ঘরে ফিরে এসি ছেড়ে গা ঠাণ্ডা করে, ফ্রিজ থেকে ঠাণ্ডা পানি খাওয়া তাঁর দরকার। কিন্তু এই প্রচণ্ড গরমে ঘামতে ঘামতে যে বয়স্ক মানুষটি সংসার চালানোর জন্য রাস্তায় গাড়ি চালান তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন যে ওরা বিদ্যুৎ খেয়ে ফেলছে।

বামপন্থী সংগঠন সহ যারা শ্রমজীবী মানুষের কথা ভাবেন তাঁরা বলেছেন, বিকল্প ব্যবস্থা না করে রিক্সা উচ্ছেদ করবেন না, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে নীতিমালা প্রণয়ন করুন, সাধারন মানুষের বাহনকে আধুনিকায়ন করার ব্যবস্থা করুন, লাইসেন্স প্রদান করুন, চালকদের প্রশিক্ষণ দিন। ১২ বছর ধরে আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনে বরিশালের ডাক্তার মনীষা, প্রকৌশলী রুমন সহ ১৯ জন, চট্টগ্রামে আল কাদেরি জয়, মেরাজ, মনির সহ ৭ জন, সিলেটে জাফর, প্রনব সহ ২২ জন দীর্ঘদিন জেল খেটেছে, ঢাকায় কাদির, জালাল, মামুন সহ ৭জন মামলার বোঝা কাঁধে নিয়ে আদালতে দাঁড়াচ্ছে, দিনাজপুরে কিবরিয়া দের হামলা, আহত করা হয়েছে কিন্তু এখনও কোন নীতিমালা প্রণীত হয় নি। ফলে ব্যাটারি খুলে দেয়ার কর্মসূচি করতে যাবেন না, জীবিকার উপর আঘাত আসলে রিক্সা চালকেরা রুখে দাঁড়াবে।

এই কথা শুনে একজন নামকরা মানুষ বললেন, কম্যুনিস্টগুলির রাজনীতি হলো যতো ধরনের আইনভঙ্গ আর অরাজকতা। আচ্ছা, বেশ ! তাঁর কথা মেনে গল্পের মত এখন দল বেঁধে রিক্সা চালকেরা গিয়ে বলুক, এই তো এনেছি রিক্সা, ব্যাটারি খুলে নিয়ে আপনারা জনসেবা করুন। তাহলে আইন রক্ষা আর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হতে পারতো। আর যদি বলে ব্যাটারিতে হাত দেবার আগে ভাববেন, আমাদেরও হাত আছে। আমাদের ভাত কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করলে হাত জোড় করে দাড়িয়ে থাকবো না কিন্তু বলে দিলাম। সমাধান তাহলে রাস্তাতেই হবে। এটা বললে তা হবে আইনভঙ্গ আর অরাজকতা !

এই তীব্র বেকারত্ব আর জীবন যাপনের ব্যয়, মানুষ বাঁচার চেষ্টা করছে নানাভাবে। তাদের পাশে না দাড়িয়ে যদি পিষে ফেলতে চায় কেউ তাহলে সেই কাজ কি আইনসংগত হবে?

01/09/2026

নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়া সত্বেও কেন কেন নিরাপদ নয়? জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত কর ------ নারী নেত্রী সুলতানা আক্তার, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা।

01/09/2026

সার সংকটের সমাধান ও বিদ্যুৎ সর্বদা সরবরাহ করার দাবিতে সিরাজগঞ্জে বাসদ নেতৃবৃন্দের ওপর বিএনপির সন্ত্রসীদের হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড নিখিল দাস বলেন-----------

🟥 শহীদ শাফী ইমাম রুমি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও শ্রদ্ধা নিবেদনশহীদ রুমির আত্মত্যাগ—মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক গ...
31/08/2026

🟥 শহীদ শাফী ইমাম রুমি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও শ্রদ্ধা নিবেদন

শহীদ রুমির আত্মত্যাগ—মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের প্রেরণা
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সাহসী তরুণ গেরিলা যোদ্ধা, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জ্যেষ্ঠ সন্তান শহীদ শাফী ইমাম রুমি (বীর বিক্রম)-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আজ ৩১ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬টায় আলোচনা সভা ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থান: ২নং রেলগেইট, জেলা সংগঠনের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম।
আলোচনা করেন—
আবু নাঈম খান বিপ্লব, সদস্য সচিব, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা
সুলতানা আক্তার, অর্থ সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটি
লাগারথা লিথি, সংগঠক
সাদিয়া আক্তার ঊষা, সংগঠক

নেতৃবৃন্দ বলেন :
শহীদ রুমি: তারুণ্যের সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক
১৯৫১ সালের ২৯ মার্চ জন্ম নেওয়া শাফী ইমাম রুমি ছিলেন জাহানারা ইমাম ও শরীফ ইমামের জ্যেষ্ঠ সন্তান। অত্যন্ত মেধাবী এই তরুণ ১৯৬৮ সালে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে প্রকৌশল শিক্ষায় ভর্তি হন। একই সময়ে তাঁর সামনে ছিল বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের উজ্জ্বল সম্ভাবনা। কিন্তু ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ ও নিরাপদ জীবনকে পিছনে রেখে তিনি বেছে নেন দেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম।
মুক্তিযুদ্ধের সময় রুমি ভারতের মেলাঘরে প্রশিক্ষণ নিয়ে ঢাকায় ফিরে ক্র্যাক প্লাটুনের সাহসী গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে বিভিন্ন অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ আগস্ট ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় পরিচালিত গেরিলা অভিযানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
২৯ আগস্ট গভীর রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রুমিদের এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে রুমি, তাঁর বাবা শরীফ ইমাম, ছোট ভাই জামীসহ কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাঁর বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের ছেড়ে দেওয়া হলেও রুমি আর ফিরে আসেননি। তাঁর ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে জাহানারা ইমামের স্মৃতিকথা ‘একাত্তরের দিনগুলি’-তে বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।
শহীদ রুমির আত্মত্যাগ শুধু একটি পরিবারের বেদনার ইতিহাস নয়—এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য একটি প্রজন্মের আত্মনিবেদনের প্রতীক।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য:
আলোচনায় নেতৃবৃন্দ বলেন, শহীদ শাফী ইমাম রুমির জীবন আমাদের দেখায়—দেশের স্বাধীনতা, মানুষের মুক্তি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা কখনো কেবল কথার বিষয় ছিল না; মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম তার জন্য জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছে।
তারা বলেন, শহীদ রুমির মতো অসংখ্য তরুণ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন একটি শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে। সেই স্বপ্ন আজও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। সাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্য, শোষণ, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, দুর্নীতি ও গণতান্ত্রিক অধিকার সংকটের বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মকে সংগ্রামে যুক্ত হতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জীবন ও সংগ্রামও আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। নিজের সন্তানকে মুক্তিযুদ্ধে হারানোর পরও তিনি থেমে থাকেননি। পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তিনি ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি গড়ে ওঠে।
তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা, শহীদদের আত্মত্যাগকে অবমূল্যায়ন করা কিংবা সাম্প্রদায়িক ও প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির বিস্তার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ইতিহাসের সত্যকে ধারণ করে তরুণ প্রজন্মকে মানুষের গণতান্ত্রিক ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে হবে।
শহীদ রুমির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমাদের অঙ্গীকার
শহীদ শাফী ইমাম রুমি এবং মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে বক্তারা বলেন—
শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলবে।
মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হবে।
সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, শোষণ-বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
শিক্ষা, কর্মসংস্থান, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে ছাত্রসমাজকে সোচ্চার হতে হবে।
শহীদ শাফী ইমাম রুমির আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকুক।
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সংগ্রামের চেতনা নতুন প্রজন্মের পথ দেখাক।
শহীদ শাফী ইমাম রুমি—তোমার আত্মত্যাগ আমরা ভুলব না।
দুনিয়ার মজদুর এক হও!
ছাত্র-জনতার ঐক্য গড়ে তোল!
মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা—জয় হোক!
শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ—প্রতিষ্ঠা করো!

Address

২নং রেলগেইট, নারায়ণগঞ্জ।
Narayanganj
১৪০০

Telephone

+8801961840110

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Voice Of Workers posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Voice Of Workers:

Shortcuts

Share